পিশাচ সাধক লেখক অনুপ চৌধুরি মিদুক

পিশাচ কাহিনীঃ- আচ্ছা বাবা,ভূত বলতে সত্যি কিছু আছে না কি? >>হ্যাঁ রে বাবা আছে। >>কিন্তু আমি বিশ্বাস করিনা।যত্তসব আজগুবি! &...


পিশাচ কাহিনীঃ-
আচ্ছা বাবা,ভূত বলতে সত্যি কিছু আছে না কি? >>হ্যাঁ রে বাবা আছে। >>কিন্তু আমি বিশ্বাস করিনা।যত্তসব আজগুবি! >>শোন বাবা,আমরা তান্ত্রিক বংশের।আমাদের এটা মানতেই হবে। >>তুমি মানলেও আমি মানি না।আমি ঘুমাতে গেলাম। >>আচ্ছা যা।আর শোন আজকে রাত্রে আমি থাকছি না। আজকে সাধনার দিন।কাল ভোরে ধ্যান ভাঙ্গলেই চলে আসব। >>আচ্ছা সাবধানে যাও। তারপরের দিন....... >>বাবা শুনছো? >>হ্যাঁ,দুর্জয় বল বাবা। >>আজ সকালে বোস বাড়ি থেকে ৪ জনের লাশ পেয়েছে। উফফফফফ!কি নৃশংসভাবেই না মেরেছে ওদের।দেখলেই কেমন শিউরে উঠে শরির টা। বাবা,উদের নাকি ভূত মেরেছে।সত্যিই কি ভূত আছে? >>আমি তো বললাম,ভূত আছে।তাছাড়া ওই বাড়িতে কে বা থাকে বল।আর শুধু শুধু মারতে যাবে কেনো ওদের। ওদের ভূতই মেরেছে। >>আচ্ছা বাবা,তুমিতো বড় তান্ত্রিক,তাহলে তুমি ওই ভূতদের ধরছো না কেনো? >>ওরে বোকা,ওই ক্ষমতা আমার নেই রে।থাকলে ঠিকই ধরতাম। >>বাবা,আমাকেও তোমার মতো মন্ত্র শেখাবা?আমিও তান্ত্রিক হতে চাই।আর তোমার থেকে বেশী সাধনা করে ওই ভূতগুলো ধরতে চাই। প্রায় ছয় বছর কেটে গেছে।দুর্জয় এখন মস্তবড় তান্ত্রিক। কিন্তু আজ অবধি বোস বাড়ির সেই ভূতগুলোর রহস্য সে ধরতে পারেনি।অবশ্য সে জেনে গেছে,ওগুলো ভূত না।ওগুলো পিশাচ, নর খাদক পিশাচ।কারো পালিত পিশাচ,যাদের ওই বোস বাড়ির অভ্যন্তরে লুকিয়ে রেখেছে কোনো পিশাচ সাধক তান্ত্রিক।আর ওই বাড়িতে মানুষের আগমনি বার্তা পেলেই ওদের ওপর লেলিয়ে দেয় সেই পিশাচ গুলোকে।কিন্তু কে সে তান্ত্রিক?আর কেনই বা এই নির্মম কাজ করছে ও। >>তপু,অনেকদিন তো হলো,এইবার চল না কোনো হানটার্স জায়গা থেকে ঘুরে আসি। >>তোর মাঝে মাঝে কি হয়রে বলতো।সামনে এক্সাম,আর তোর সখ জেগেছে হানটার্স পেলেস থেকে ঘুরে আসার।মনে রঙ্গ ধরেছে। >>আবে!চুপ সাইলেন্ট কিলার।ওরা কিছু বলার আগে তুই বাম হাত ঢুকিয়ে দিস কেনো বলতো।সবার মতামত তো জানতে দে আগে। >>সাদিক মাম্মা!তুই ঠিক বলেছিস।এক্সামের আগে এইরকম একটা এডভেঞ্চার করে আসলে মন্দ হয় না।তুকে চুম্মা! >>তপু তুই কি বলিস....... >>আমি আর কি বলবো বল......আমি নিজেও সেটা চাইছিলাম। তাছাড়া অনেকদিন হলো,প্যারানরমাল নিয়েও কাজ করা হয়নি। জং ধরে পড়ে আছে সব।সবকিছু চালু করে দেই। >>তাহলে সাইলেন্ট কিলার কে আমাদের এই মহা অভিযানে রিটায়ার্ড করা হোক,কি বলিস তোরা? >>ওইইইই!তোরা মজা করবি,আর আমি এইখানে পড়ে মরবো সেটা তো হবে না অনিক বাছাধন। আর তোরা আমাকে এইসব সাইলেন্ট কিলার ফিলার বলে ডাকবি না তো।আকাশ!কত সুন্দর একটা নাম থাকতে তোরা কি আওল ফাওল নামে ডাকিস... >>তো তপু,তুই ডেট টা ঠিক কর।আর আকাশ ওরফে কিলার তুই একটা পেলেস ঠিক কর। >>ওররররে,আর তোরা দুজন মুড়ি খাবি নাকি? >>নারে কিলার,জিনিসপত্র রেডি করতে বের হবো আমরা।একদিনের জন্য বাসায় যাচ্ছি,সাদা কাকের পালক আর হোয়াইট ম্যাজিক ইনক আনতে।যে কোনো সময় কাজে দিতে পারে। >>ওকে মাম্মু,তোরা যা।সাবধানে যাবি,আর আমরা তার ভেতর সেইরকম ভয়ংকর হানটার পেলেস খুঁজে ফেলি। সাদিক,তপু,অনিক,আকাশ চার জনেই খুব ভালো বন্ধু।ভয়ংকর সব অভিযানে যাওয়া তাদের প্রধান নেশা।হয়তো কোনো একদিন পেশাও হয়ে যেতে পারে।চার জনেই ফিজিওলজি নিয়ে পড়ছে,কিন্তু সেটা নাম মাত্র।কেউ জানেনা তারা ফিজিওলজির পাশাপাশি অদৃশ্য মহাজাগতিক কিছু বস্তু নিয়ে কাজ শিখছে।তার মধ্যে তপু একমাত্র ব্যক্তি যে,হোয়াইট ম্যাজিক এবং ব্লাক ম্যাজিক দুটোই জানে। সাদিক খুব ভালো আর্টিস্ট।সে খুব ভালো এবং নিখুত ভাবে পেন্টাকল আঁকতে পারে।আকাশ,তার পঞ্চ ইন্দ্রীয়শক্তি এতই প্রখর যেকোনো পূর্ব ঘটমান ঘটনা অনুধাবন করতে পারে এবং তৎক্ষনাত উপস্থিত কোনো বস্তুর আগমন ধরতে পারে।দলের চারজনের মধ্যে অনিক হলো একমাত্র বিপদের সাহায্যকারি।তার অদৃশ্য করার জলই অনেক সময় ঘোরতর বিপদ থেকে সবাইকে বাচাঁয়। >>এই তপু,কোনো ভয়ানক জায়গায় তো খুঁজে পাচ্ছিনারে। >>ভালো করে দেখ,পেয়ে যাবি।তুই খুঁজে পেলেই আমি ডেট টা বলে দিচ্ছি। >>আচ্ছা আজকে যে নিউজ পেপারে জায়গাটা দেখলাম,সেখানে যাবি? >>কোন জায়গা?আমি খেয়াল করেনি রে... >>বলিস কি!তুই দেখ পেপার টা।একরাতেই অমানবিকভাবে ৪ জনের খুন হয়েছে।এর আগেও নাকি অনেকবার এইরকমভাবে আরো অনেকের খুন হয়েছে। >>দে তো পেপার টা। >>নে দেখ। >>বোস বাড়ি!এইটাতো আমার অনেক আগে শোনা একটা বাড়ি। শুনেছি বাড়িটি অনেক ভয়ানক।ওই এলাকায় সবচেয়ে বেশী মার্ডার হওয়া বাড়ি। >>তাহলে এইখানে গেলে কেমন হয় ? >>এই জায়গাতেই আমারা যাবো।পেলেস চয়েস ডান। তারপরের দিনই সাদিক আর অনিক ফিরে আসলো।সাদা কাকের পালকটা সত্যিই অসাধারণ।আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বস্তু সাদা কালি।একটা শূন্য বোতল,কিন্তু তার ভেতর যে কালি আছে বোঝাই যায় না।এক কাবুলি ওয়ালানাকি সাদিককের চারুকার্যেখুশি হয়ে জিনিসগুলো উপহার দেয়।প্রথমে পাগল ভাবলেও বস্তুগুলোর আশ্চর্য গুণ দেখে সাদিক নিজেই অবাক হয়ে যায়। তারপর থেকে সাদিক অনেক খুঁজেছে সেই কাবুলি ওয়ালাকে।কিন্তু পায়নি। সাদিক অনিক ফিরে আসতেই বোস বাড়ি নিয়ে আলোচনায় বসল। সাথে সাথে সবাই মত দিল। >>তাহলে সামনে ২৩ তারিখে রওনা দেওয়া যাক। সবাই একসাথে বলে উঠল,”অবশ্যই” ...”হিপ হিপ হুরররররররে” দেখতে দেখতে গন্তব্য সময়টা এসে গেলো।সবাই একঝাক উত্তেজনা নিয়ে বোস বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। এদিকে দুর্জয় কোনো কুল কিনারায় বের করতে পারছেনা। মানুষগুলো কত নৃশংসভাবে মারা যাচ্ছে।কিচ্ছু করতে পারছেনা সে।সে তার পরের দিনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে লাগলো।কারণ কালকেই অমবস্যা।সে কিছু কারণ খুঁজে না পেলেও,কোনদিনে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে তা ঠিকই ধরতে পেরেছে।অমবস্যা আর পূর্ণিমা তিথিতেই এসব মানুষদের খুন করা হয়েছে।তাই আজকে থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করছে,যাতে কালকের সেই অভাগা যে কালকের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে তাকে বাঁচাতে পারে। >>বাবা,কালকে আমি বাসায় থাকছিনা।কালকে এক বন্ধুর বাসায় ঘুমাতে হবে।সে অনেক অনুনয় করেছে, তাই হ্যাঁ বলে দিয়েছি। >>আচ্ছা সে না হয় বুঝলাম,কিন্তু বাবা,আমিও যে কাল থাকবোনা। কাল যে অমবস্যা,ধ্যান করতে হবে। >>আরে কিচ্ছু হবে না।ঘর তালা মেরে রেখে গেলেই হয়। আর নেওয়ার মতো কিই বা আছে। >>আচ্ছা ঠিক আছে।যে তুই ভালো বুঝিস সেটাই কর। দুর্জয় জানে,তার বাবা তাকে কখনো ওই বোস বাড়ির ধারের কাছেও ঘেষ্টে দিবেনা।তাই বন্ধুর বাড়িতে যাবে বলে মিথ্যা বলল।তাছাড়া তার আর বলার ও কোনো উপায় ছিলো না।যাই হোক একটা টানটান উত্তেজনা নিয়ে কালকের সেই চরম মুহুর্তের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। আজ অমবস্যা।দুপুরের মধ্যেই তপুরা পৌছে গেলো।সাজানো গোছানো একটা এলাকা।নাম আনন্দপুর।কিন্তু সেই গ্রামে যে একটুকও আনন্দ নেই তা এলাকার মানুষের চেহারা দেখেই বুঝা যাচ্ছে।তারাও আন্দাজ করতে পেরেছে,তাদের এই করুণ অবস্থার কারণ। >>কাকু এদিকে একটু শুনবেন? >>হ্যাঁ,বাবারা বলো। >>আসলে কি,বোস বাড়ি টা কোন দিকে বললে একটু ভালো হয়। লোকটা হঠাৎ কেমন যেনো আতকে উঠল।ভয়ের একটা স্পর্শ ছাপ তার মধ্যে দৃশ্যমান। >>বাবা,তোমরা কি এলাকায় নতুন? >>জ্বী,কাকু।আমরা বাড়িটা নিয়ে রিসার্চ করার জন্য এসেছি। >>বাবা,তোমরা যেখান থেকে এসেছো,সেখানেই ফিরে যাও। মৃত্যুর রহস্যপুরী হলে এই বোস বাড়িটায়।ভুলেও ওই জায়গায় যেও না।বাঁচতে হলে এক্ষুনি চলে যাও। >>কাকু,আপনি ভয় পাবেন না।আমাদের কিচ্ছু হবেনা। শুধু বাড়িটি কোথায় এইটুকু বলুন। >>তোমরা যেহেতু মরণ খেলায় নেমেছো,আমার আর কিছু বলার নেই।শুধু এইটুকুই বলবো,সময় থাকতে ফিরে যাও। তাদের পাশেই দুর্জয় দাড়িয়ে দাড়িয়ে তাদের কথোপকথন শুনছিলো এতক্ষন। যেই মাত্র তপুরা ঠিকানা নিয়ে রওনা দিতে যাবে,তখনি দুর্জয় তাদের পিছন থেকে ডাক দিলো। >>আমি কি আপনাদের সাহায্য করতে পারি?(দুর্জয়) >>কে আপনি?(তপু) >>আমি দুর্জয়,একজন তান্ত্রিকের ছেলে। >>ও আচ্ছা।তো আপনি আমাদের কি সাহায্য করবেন? >>আসলে,আমিও অনেকদিন থেকে এই রহস্য উদঘটনের চেষ্টা করছি।কিন্তু প্রতিবারই ব্যার্থ হয়েছি।আপনাদের দেখে একটু ভরসা পেলাম।তাই আপনাদের সাহায্য হাত বাড়ালাম। সবাই একটু ভাবলো,তারপর অনিক বললো.. >>আচ্ছা,আপনি কি কোনো কিছু আঁচ করতে পেরেছেন কি যে এই মৃত্যুর সাথে কি জড়িত। >>হুমমম।আসলে এটা ভুতের কোনো কাজ নই।এগুলো কারো পালিত পিশাচ।কেউ একজন তান্ত্রিক এই পিশাচ পালছে আর পিশাচ সাধনা করছে।মৃত্যুগুলোও একটা নির্দিষ্ট দিনে এবং নির্দিষ্ট সময়ে করা হয়ে থাকে।দিনগুলো হলো অমবস্যা আর পূর্ণিমা তিথি এবং ঠিক আড়াইটা প্রহরে মৃত্যুলিলা শুরু হয়। সবাই পিশাচের কথা শুনে একটু ভড়কে গেলো।কারণ পিশাচ খুবই শক্তিশালী এবং মুহুর্তেই হাওয়া হয়ে যেতে পারে।আর আছে তাদের ভয়ংকর নখ। যা সহজেই কারো শরীরে ভেদ করতে পারে।তাদের জন্য দরকার শক্তিশালী পেন্টাকল অর্থাৎ কোনো ব্ল্যাক আর্ট বা হোয়াইট আর্ট।যা সাদিক অতটা পারেনা। >>আপনারা কা কিছু ভাবছেন? দুর্জয়ের কথায় সবাই আবার বাস্তবে ফিরে আসলো। >>আসলে পিশাচের জন্য পেন্টাকল কিভাবে আকতে হয়,তা আমার খুব বেশী জানা নেই। >>কি বলেন!তাহলে নির্ঘাত মৃত্যু ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমি জানি,কিন্তু তার জন্য সাদা কাকের পালক আর অদৃশ্য সাদা কালি লাগবে।কিন্তু সেগুলো আমার কাছে নেই।খুব দুর্লভ ওগুলো। ওগুলো শুধুমাত্র প্রাচীন মিশরের কাবুলি ওয়ালাদের কাছে থাকে। খুব কম ভাগ্যবানই তাদের সাথে সাক্ষাৎ পায়। মুহুর্তে সাদিক লাফিয়ে উঠলো।কারণ সে ভাগ্যবানদের মধ্যে সেও একজন। কারণ তার কাছে বস্তুগুলো আছে। >>আমার কাছে আছে ওগুলো। >>সত্যিই! >>হ্যাঁ সত্যি। সাদিক তার ব্যাগ থেকে বের করে দেখালো।দুর্জয় অবাক নয়নে তাকিয়ে আছে ওগুলোর দিকে।সত্যিই সেও ভাগ্যবান,কখনো ভাবেনি সে এগুলো দেখতে পাবে।তাও খুব কাছে থেকে। >>তাহলে আমরা সাকসেসফুল।(তপু) >>হ্যাঁ।দুর্জয় উত্তর দিলো। খুব সহজেই দুর্জয় তপুদের সাথে মিশে গেলো।আর রাত নামার অপেক্ষা করতে লাগলো সবাই। সন্ধ্যে না হতেই অমবস্যার কালো অন্ধাকার ছায়া নেমে এলো।দিনের বেলায় বাড়িটিকে একদমই বোঝা যায় না ভয়ংকর বলে।কিন্তু এই অন্ধাকারে বাড়িটিকে সত্যিই ভীষন ভয়ংকর লাগছে।তার ওপর গা ছমছম করা পরিবেশ। চারদিকে ঘন গাছপালায় ঢাকা।ঝিঝি পোঁকারা একসুরে ডেকেই যাচ্ছে।এইরকম পরিবেশে সবারই গা কেঁপে উঠলো। কিন্তু কেউই দমে যাওয়ার পাত্র নই।সবাই এই রহস্যর শেষ খেলা দেখতে এসেছে।তাই সবাই এগুতে লাগলো বাড়িটির দিকে। বাড়ির ভেতরটা অনেক গোছালো।এতদিন খালি পরে থাকার পরেও বাড়ির ভেতর এত ছিমছাম পরিবেশ সত্যিই অবাক করার মতো।তবুও সেই পুরনো ভ্যাপসা গন্ধটা ঠিকই নাকে এসে লাগছে। সবাই ঘুরে ঘুরে বাড়ির চারদিক ঘুরে দেখতে লাগলো।আর তখনি ঠিক আকাশ একটা জায়গায় এসে দাড়িয়ে পরে আর খুব মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। >>এই সবাই এদিকে আইতো।(আকাশ) >>কিরে কি হয়েছে?(সাদিক) >>এই জায়গায় পেন্টাকল আঁকতে হবে।(আকাশ) >>কি বলছিস!কিছু বের করতে পেরেছিস নাকি?(অনিক) >>হুমমম।এই জায়গায় ওই পিশাচ সাধক তার পিশাচকে ছেড়ে দেয়।আর এইখানেই সবাইকে খুন করা হয়েছে। >>তুমি ঠিকই বলেছ।এই জায়গায়ই প্রতিবারই সবার লাশ পাওয়া গেছে।ঠিক এই জায়গায়।সত্যি তোমার স্মরণ শক্তি অতুলনীয়।(দুর্জয়) >>কিন্তু সেই পিশাচ সাধক কোথায় লুকিয়ে থাকে আমি ধরতে পারছিনা। তার ক্ষমতার বলে সে তার বিচরন জায়গাগুলো মুছে দিয়েছে।আমি কিছুতেই ধরতে পারছিনা। >>চিন্তা করিস না।যেটা বের করতে পেরেছিস ওইটাই অনেক। আমাদের আর জায়গা পছন্দ করতে হলো না পেন্টাকলের জন্য। ঠিক একটা জায়গা আমাদের ধরিয়ে দিয়েছিস।এর থেকে বেশী আর কি লাগে।(তপু) >>তাহলে এখনই পেন্টাকলের কাজ শুরু করা যাক,কি বলো সবাই?(দুর্জয়) হ্যাঁ,অবশ্যই,সবাই সমসরে উত্তর দিলো। দুর্জয় আর সাদিক পেন্টাকলের কাজে লেগে গেলো।দুর্জয় সব কিছু সাদিক কে দেখিয়ে দিচ্ছে আর নিজের কাজেও মন দিচ্ছে। সাদিকও ওর কথা মতো আর্ট করতে লাগলো।প্রায় ঘন্টা খানেকবাদে পেন্টাকলের প্রথম ধাপ শেষ করলো।এইবার সাদা কাকের পালক ও অদৃশ্য সাদা কালির কাজের পালা।পুনরায় সেই আর্টের ওপর আবার আর্ট করতে লাগলো।খুব আশ্চর্যের বিষয়,যখনই সেই আর্টের ওপর আবার আর্ট করা হচ্ছে,তখনই সেই সাদা কাকের পালক আর কালির প্রভাবে পেন্টাকলটা যেনো জীবন্ত হয়ে উঠছে।কিন্তু পরক্ষনেই তা হাওয়াই মিলিয়ে যাচ্ছে।বুঝায় যাচ্ছেনা এখানে পেন্টাকল আছে। যেহেতু একটাই কাকের পালক,তাই দুজনেই একজনের পর আরেকজন এইভাবে বিশ্রাম নিয়ে কাজ করছে। রাত ১০•১৪ বাজে,পেন্টাকলের কাজ শেষ।এইবার দুর্জয় আর তপুর কাজ।কিন্তু কাজটা শুধুমাত্র তখনই,যখন পিশাচ তা পেন্টাকলে প্রবেশ করবে।তার আগে কিছুই করতে পারবেনা।কিন্তু পিশাচকে পেন্টকলে আনতে হলে কেউ একজনকে পেন্টাকলে প্রবেশ করতে হবে।তা না হলে পিশাচ প্রবেশ করবে না।এইবার সমস্যায় পরলো এইটা নিয়ে। >>কি করা যায় বলতো সবাই?এই মুহুর্তে আমি আর দুর্জয় পেন্টাকলে প্রবেশ করতে পারবো না।(তপু) >>হুমমমম,ঠিক।কিন্তু অনিক ও পারবেনা।কারণ সেই মুহুর্তে তার হোয়াইট ওয়াটার আমাদের সবারই লাগবে।(দুর্জয়) বাকি আছে সাদিক আর আকাশ।কিন্তু সাদিক এই কাজ পারবেনা, কেননা,পেন্টকলটি তারই আঁকা।তাই শেষ পর্যন্ত আকাশকেই পেন্টাকলে রাখার জন্য ঠিক করা হলো।তাছাড়া আকাশের কোনো বস্তু উপস্থিতির লক্ষণের উপর স্মৃতিসরণের ক্ষমতা বিদ্যামান।তাই সহজেই সে পিশাচের উপস্থিতি বুঝতে পারবে। রাত প্রায় ১২•৫৬ বাজে।সবাই অপেক্ষা করতে লাগলো সেই চরম মুহুর্তের জন্য। আকাশ তার পঞ্চ ইন্দ্রীয় শক্তি সতর্কতার সাথে খোলা রেখেছে। সবার চোখেই ঘুম নেই।যেই মাত্র ২ টা বাজলো,সবাই আকাশ বাদে হোয়াইট ওয়াটার দিয়ে আদ্শ্য হয়ে গেলো।কেনোনা সাদিক কে অদৃশ্য করে ফেললে পিশাচ তাকে দেখতে পাবে না।ফলে পিশাচ পেন্টাকলে প্রবেশ করবে না। হঠাৎ করেই বাড়ির দেওয়াল ঘড়িটা বিকট শব্দে ঘন্টা বাজতে লাগলো।সাথে সাথে আকাশও কেমন যেনো নড়ে ওঠলো। বুঝতে পারলো সেই কাঙ্খিত সময়টি এসে গেছে।পিশাচ এসে গেছে। পুরো রুমে কেমন পঁচা একটা গন্ধ। সবাই বুঝতে পারলো পিশাচের আগমন।হঠাৎ দেখল আকাশ পেন্টাকল থেকে বেড়িয়ে আসছে।সাথে সাথে দুর্জয় কি যেনো বলে পেন্টাকলে ছাইজাতীয় পদার্থ ছুড়ে মারল।আর সাথে সাথে পিশাচের অবয়বটি ফুটে উঠল।পিশাচটি পেন্টাকলে আটকে আছে।তপু আর দুর্জয় বির বির করে হোয়াইট ম্যাজিক উচ্চারণ করতে লাগলো। কিন্তু পিশাচটিকে পেরে উঠতে পারছেনা।পিশাচটিকে কেউ একজন তা উপর শক্তি আরোপ করছে।যার জন্য পিশাচটিকে কাবু করতে পারছে না। খানিক বাদেই আকাশ বলে উঠল….. >>সাবধান,সময় কিন্তু কম।পিশাচের উপর পিশাচ সাধকের আত্ন ভর করেছে।খুব শক্তিশালী হয়ে উঠছে।পেন্টাকলের পশ্চিম মুখে ফাটল ধরবে একটু পরে। কথাটি বলেই অজ্ঞান হয়ে যায় আকাশ। সাদিক বেগতিক বুঝতে পেরে ছুটে যায় পেন্টাকলের পশ্চিম মুখে।যেই মাত্র আর্ট করতে যাবে,তখনি কয়েক হাত দূরে ছিটকে দূরে সরে যায়।প্রচন্ড ব্যাথা পেয়ে সাদিক সেখানেই থমকে যায়।এদিকে তপু আর দুর্জয় কিছুতেই পেরে উঠতে পারছেনা সেই পিশাচের সাথে।মুহুর্তে দু্র্জয় তপুকে ধক্কা মেরে ফেলে দেয়। তপু বুঝতে পারে দুর্জয় নিজের জীবন বাজিঁ রাখতে যাচ্ছে। কিন্তু তপু অসহায়,তার আর কিছুই করার নেই। সে দেখল দুর্জয় ছুটে যাচ্ছে পেন্টাকলের দিকে আর বির বির করছে সেই ভয়ংকর মন্ত্রটা।যা একবার আটকে গেলেই মৃত্যু নিশ্চিত।আর অনিক হোয়াইট ওয়াটারের সাহায্য সাদিক কে নিরাপধ জায়গায় নিয়ে আসল। দুর্জয়ের চোখ রক্তবর্ণ ধারণ করেছে।লুটিয়ে পড়ছে আস্তে আস্তে। কিন্তু থেমে নেই তার মুখ।বির বির করতে করতে একবার তাকাল তপুদের দিকে।দেখলো তপু ছোটে আসছে।কি যেনো ছাই জাতীয় পদার্থ ছুড়ে মারতে সেও লুটিয়ে পরল। প্রায় ১০ মিনিট পর,সবাই দেখল পেন্টকলটি জ্বল জ্বল করে আগুনে পুড়ে যাচ্ছে।দুর্জয় সেই দিকে তাকিয়ে খুব দুর্বল হাসি হাসছে। বুঝতে আর বাকি রইল না,তাদের জিত হয়েছে। কিন্তু সেই পিশাচ সাধকটি কোথায়!তাকে কেউ কোথাও দেখছে না। >>এই আকাশ কোথায় যাস?(অনিক) কোনো জবাব না দিয়ে সোজা সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলো। সবাই তার পিছু পিছু হাটতে লাগলো ।সাদিক তো হাটতেই পারছেনা।তপুর কাঁধে ভড় দিয়ে হাটছে। দেখল মেঝের উপর হাজারো রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।সামনে কার যেনো লাশ।পুড়ো গন্ধ বের হচ্ছে।ধপ করে দুর্জয় মেঝেতে বসে গেলো।সবাই অবাক হয়ে গেলো।দেখলো দুর্জয় কাদঁছে। কি সান্তনা দিবে পাচ্ছে না কেউ।হঠাৎ দুর্জয় চিৎকার করে বলল…
*কোনো পিশাচ সাধক আমার বাবা হতে পারে না।*
সমাপ্ত


সার্চ ট্যাগস
বাংলা গল্প
bangla horror
bangla golpo kobita blog
bangla ebook and pdf
bangla horror golpo
bangla pdf download
bengali horror story
নতুন লেখককের গল্প সমূহ
ভালবাসার গল্প
রোমান্টিক গল্প Ads:

COMMENTS

Name

অন্য বিষয়ের উপর লেখা ইবুক কবিতা গল্প/কবিতা লেখার প্রতিযোগিতা জীবনের সত্য ঘটনা থ্রিলার গল্প দেশের গল্প পিশাচ কাহিনী ভালোবাসার গল্প ভৌতিক গল্প রম্য গল্প রহস্য গল্প সায়েন্স ফিকশন হরর গল্প
false
ltr
item
Bengali pdf and story blog: পিশাচ সাধক লেখক অনুপ চৌধুরি মিদুক
পিশাচ সাধক লেখক অনুপ চৌধুরি মিদুক
https://3.bp.blogspot.com/-j8Vqhzduqnw/Ws3wlhNVbdI/AAAAAAAAAr0/V5BPi-CWa7kd2C2gm9K9cIlYYeoltMU5gCLcBGAs/s1600/1519962389862.jpg
https://3.bp.blogspot.com/-j8Vqhzduqnw/Ws3wlhNVbdI/AAAAAAAAAr0/V5BPi-CWa7kd2C2gm9K9cIlYYeoltMU5gCLcBGAs/s72-c/1519962389862.jpg
Bengali pdf and story blog
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2017/10/blog-post_13.html
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2017/10/blog-post_13.html
true
7257552463787474279
UTF-8
Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy