ভূত-গোয়েন্দাদের ট্যূর প্রোগ্রাম লেখা তাসফিয়া তানহা ঝুম

হৃদয় ; কিরে কখন আসবি তোরা? মামুন ; তোর কি মনে যে তোর বাড়ি আমার টয়লেটের পিছনে যে ভ্যান্টিলেটার দিয়ে মাছির মতো উড়ে যাবো। হৃদয় ; এমন করে বলছি...

হৃদয় ; কিরে কখন আসবি তোরা? মামুন ; তোর কি মনে যে তোর বাড়ি আমার টয়লেটের পিছনে যে ভ্যান্টিলেটার দিয়ে মাছির মতো উড়ে যাবো। হৃদয় ; এমন করে বলছিস কেন আমি কষ্ট পাচ্ছি । মামুন ; সরি ভাউ আরে পাগলু বুঝিস না কেন একেক জন একেক যায়গা থেকে এসে এক যায়গায় উপস্থিত হবে ঢাকায়। তারপর এক সাথে যাবো। তাও কি কাছে ঘরে বাড়ি সবার বল।ওদের তাও ঢাকার আশেপাশে বাড়ি আমার শুধু ঢাকা থেকে দূরে। হৃদয় ; ওকে ভাউ বুঝতে পারছি। এবার বল কে কে আসছিস। মামুন ; কে কে আবার ঘুরে ফিরে সেই আদমের দল। হৃদয় ; আদমের দল মানে! মামুন ; মানে হল গিয়ে আমি,শিপন,অনুপ আর এজাজ। হৃদয় ; আর মেয়েদের মধ্যে কে কে? মামুন ; মাইয়্যা গো মধ্যে শিপা আর আলো যাবে।ওরা নাকি নাটোর আছে কোন কাজে তাই এক সাথেই নাটোর থেকে গাড়িতে উঠবে আমাদের সাথে। হৃদয় ; আর ঝুম।ঝুম আসবে না,, মামুন ; দিলি তো কাউয়ার কাউয়া মন খারাপ করে,, হৃদয় ; আমি আবার কি করলাম । মামুন ; ঝুমের কথা তুলে।ভাই ঝুম যাবে না... হৃদয় ; কেন আসবে না ও।আমায় কি তাহলে ফাঁকি দিলো। মামুন ; তোরি তো বইন তুই কস তাই তোকেই বাশ দিয়েছে। হৃদয় ; আচ্ছা দাড়া কল লাগাই বেটিরে,, মামুন ; আরে দাড়া দাড়া হেই বেটি যাইতোনো।হের বাপ আসবে ৬ বছর পর বিদেশ থেকে বাড়িতে।তা না হলে নিয়ে আসতাম। হৃদয় ; আচ্ছা ভাউ তাইলে তাড়াতাড়ি চইলা আসো। আমি ওয়েট করতাছি। . মামুন ; ওকে ভাই,, এখন বাই। হৃদয়, মামুন,শিপন,এজাজ,ঝুম,অনুপ,শিপা,আলো,,, এরা সবাই ফেসবুক ফ্রেন্ড। হৃদয়ের বাড়ি বগুড়া মহাস্থানগড়। কাজের ফাঁকে একটু সময় বের সবাই এক সাথে ঘুরতে যাবে মহাস্থানগড়। চলুন দেখা যাক এই কয় পাগলের ট্যুর পোগ্রাম,,

এজাজ ; কি গো শিপন কাকা আর কত খন।তুমি কি মেয়ে মানুষ নাকি হু যে সাজুগুজু করতে ২ ঘণ্টা লাগছে।উফফ আমি সেই সকাল ৮ টা থেকে বসে আছি এখন ১০ টা বাজতে চলছে,,কচু । শিপন ; তুই কোথায় কচু লাগাচ্ছিস রিসান (এজাজ),,,,,,বাথরুম থেকে বের হতে হতে বলল শিপন। এজাজ ; এতো কথা শুনতে পেলে না কচুটাই শুনতে পেলে । শিপন ; স্যরি বাপ,,বুঝিস তো কাজের চাপ কতটা। এজাজ ; ( বিরক্ত হয়ে) কাজের না তোমার ইয়ের চাপ,,,ছাই। , শিপন ; কিসের চাপ হুম। , এজাজ ; ইইইই তোমার ডিমের চাপ,, , শিপন ; হা হা হা হা। তুই ও না।ওকে চল আমি রেডি। , অনুপ ; হ্যলো মামুন ভাই আমি তো পৌছে গেছি। মামুন ; ভাই তুই এতো তাড়াতাড়ি বগুড়া কি করে পৌছালি ।তাও আবার আমাদের রেখে একা। অনুপ ; আরে ধুর আমি তো ঢাকা এসে পৌছালাম । তোমরা কতখনে এসে পৌছাবে। মামুন ; অহ তাই বল।আমি এই তো আর ১০ মিনিট পর পৌছে যাবো। আর কে কে এসছে। অনুপ ; ভাই এখন আমি একাই আছি। মামুন ; আচ্ছা দাড়াও আমি আসছি। আম্মু,, হুম বল একটা কথা ছিল, এক কথা কয়বার বলবি। রাগ করছ কেন? ঝুম আমি কাল সকাল ৮ টার আগে সব কাজ করে দিবো তুই চিন্তা করিস না বাবু। লাভ ইউ আম্মু। ঝুম ; কি মশাই কখন আসবেন। মামুন ; আমার সাথে কথা বলিস না। ঝুম ; কেন। মামুন ; তুই বুঝছিস না।ঝুম চল না যায়,,তুই ছাড়া আমার ভালো লাগবে না। ঝুম ; আহ হা হা এমন ভাব করছে জেনো বাকিরা সবাই গফ বা বউ নিয়া যাচ্ছে যে উনার দিল ফেটে যাচ্ছে। মামুন ; আচ্ছা বাই পরে কথা হবে এখন গাড়ি থেকে নামবো। । ঝুম ; ওকে বাই। একে একে শিপন,এজাজ আর মামুন এসে পৌছালো অনুপের কাছে। সবাই ডাইরেক্ট বগুড়ার বাসে উঠতে চাইলো কিন্তু অনুপ রাজি হল না। শিপন ; কি হল অনুপ তুমি ডাইরেক্ট গাড়িতে যাবে না কেন। অনুপ ; ভাইয়া আমার একটু ৫ মিনিটের কাজ আছে রাস্তায় টায় লোকাল বাসে গেলে একটু সুবিধা হবে।প্লিজ,, মামুন ; কোন জায়গাতে কাজ হুম। অনুপ ; সিরাজগঞ্জ,,, মামুন ; সিরাজগঞ্জ! শিপন ; কি ব্যাপার মামুন হাসি হাসি মুখখানা এমন কালো মেঘ নামলো কেন সিরাজগঞ্জ এর কথা শুনে,,,,,, এজাজ ; হা হা হা হা ও তুমি বুঝবে না কাক্কু,,, মামুন ; ?? শিপন ; আরে গাধার ডিম যখন বুঝবই না তাইলে এমন কথা কস ক্যান। এজাজ ; আরে কোকিলের ডিম জানো না আমার ভাস্তির বাসা সিরাজগঞ্জ। শিপন ; ভাস্তি,,তাও সিরাজগঞ্জ,, তাও আবার তোর।। আগে জানতাম না তো। এজাজ ; কাকা ঝুমের বাসা সিরাজগঞ্জ। শিপন ; ও তাই বল।।এবার বুঝছি দিলে কোথায় ছুড়ি বিঁধলো। মামুন ; উফফ অনেক বক বক হয়েছে এবার চলেন হজ্ঞলে বাস এসে গেছে। অনুপের কথায় লোকাল বাসেই উঠতে যাচ্ছিল সবাই। শিপন,মামুন আর এজাজ বাসে উঠে গেলো কিন্তু অনুপ নিচে দাড়িয়ে কাউকে জেনো দুই হাত তুলে ইশারা করছিল। এজাজ ; আরে ওই কিউটের ডিব্বা গার্ল ফ্রেন্ড কে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে না করলে সাথে নিয়া চল। (বাসের মধ্যে থেকে বলল এজাজ) কাঁধে ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে আসছে অর্নব অনুপ Arnob কেই হাত নাড়াচ্ছিল।অর্নব দৌড়ে এসে অনুপকে জড়ায় ধরলো।অর্নব বাকিরা বাস থেকে নেমে এলো। এজাজ ; কিরে শাহিন (অর্নবের নিক নেম শাহিন) তুই নাকি যাবি না। তয় আইলি ক্যান। শাহিন ; আরে ভাই লাইফে অনেক কাজ করার সময় পাবো কিন্তু তোমাদের সাথে ঘুরতে যাবার সময় পাবো না।তাই মিস করলাম না।লোভে পরে চলে এলাম।একেতো এক সাথে বেড়াতে যাওয়ার লোভ তার উপর আবার মহাস্থানগড়। কত নাম শুনেছি কিন্তু যাওয়া হয়নি।আর তাছাড়া ফেসবুকে দিন রাত সন্ধ্যা তারাকে মানে হৃদয়কে এতো গুতাই আজ না হয় রিয়েলিটিতে গুতাই আসি।হাহাহা,,, সবাই এক সাথে হেসে উঠল। আশেপাশের সবাই তাকিয়ে ছিল ওদের দিকে।কি জানি তারা মনে মনে কি ভাবছিল। ভাবছে হয় পাগলের দল নয়তো বন্ধুদের আড্ডা আর মজা করা। এক সাথে সবাই মজা মজা করতে করতে বাসে উঠল। যদিও লোকাল বাস কিন্তু প্রথম যাত্রী নেওয়াতে সবাই সিট পেলো বসার।শাহিন আর শিপন এক সিটে, মামুন আর এজাজ এক সিটে বসলো। কিন্তু অনুপ একা পরে গেলো। শিপন উঠে অনুপের কাছে যেতে চাইলো কারণ সবার মধ্যে অনুপ সবার ছোট একা একা ওর খারাপ লাগবে।শিপন উঠে যাবার আগেই একটা মেয়ে গিয়ে অনুপের পাশে বসে পড়ল।অনুপের চোখ তো আকাশে উঠার অবস্থা হল। অন্য মেয়েকে বসতে দেখে অনুপ একটু বিরক্ত হল। শিপন ও নিজের সিটে বসে গেলো। অনুপ একবার আড় চোখে মেয়েটাকে দেখল।মুখটা ভালো দেখা যাচ্ছে না।দুই পাশের চুলে মুখ ঢেকে গেছে।কারণ নিচু হয়ে মেয়েটা ফোন গুতাচ্ছিল। অনুপ নিজের ফোন পকেট থেকে বের করে ফেসবুকে লগইন করল।চ্যাট গ্রুপে অনুপের sms দেখে এজাজ, শাহিন, শিপন আর মামুন হেসে দিলো। অনুপের এসএমএস অনুপ ; আমি কি পাপ করছিলাম ভাই সকল যে আমাকে একা একটা মেয়ের কাছে বসতে হল।তোমরা তো জানো মেয়েতে আমার চুলকানি।😔 শিপন ; আরে আরে অনুপ আমি যাচ্ছিলাম তো কিন্তু তার আগেই বসে পরল।পাবলিক বাস তুলে তো দিতে পারিনা। শাহিন ; আরে ভাউ মেয়েটাকে আমার কাছে পাঠায়ে দাও।আর মেয়েটা তো তোমার কলে চরছে না যে চুলকানি হবে 😜 মামুন ; আচ্ছা খারা আমি আসছি ওখানে তুই এখানে বস। এজাজ ; থাক থাক আমি থাকতে আমার ভাস্তির জায়গায় অন্য কেউ বসবে এটা হবার নয়।আমিই বসছি।সবাই ডাটা অফ কর। সবাই ডাটা অফ করল কিন্তু মামুন বার বার ফেসবুকে তার সেনোরিতা আশায় ঘুরাফিরা করতে লাগলো। এজাজ নিজের সিট থেকে উঠে এসে অনুপের সিটের পাশে দাঁড়াতেই অনুপ দাঁড়ালো। অনুপকে দাড়াতে দেখে মেয়েটা মাথা তুলে তাকালেন। মেয়েটার দিকে তাকাতেই এজাজের চোখ জেনো চরক গাছ হয়ে গেলো। মুখ দেখার সাথে সাথে এজাজ প্রজাপতির মত উড়ে নিজের সিটে এসে বসে পরল।এজাজের এমন আচরণ দেখে পাশের সিটে থেকে মামুন,শিপন আর অনুপ অবাক হয়ে গেলো। মেয়েটা অনুপের মুখের দিকে তাকালেন। মেয়েটা ; কোন সমস্যা ভাইয়া? অনুপ ; 😒😒 না আপু। মেয়েটা ; দাঁড়ালেন যে তাই।উনি কে হয় আপনার? অনুপ ; কে? মেয়েটা ; যিনি এখানে এসে দাড়িয়ে ছিল আর আমায় দেখে পালালেন। অনুপ ; (মনে মনে) তাই তো তাই তো এজাজ ভাই পালালেন কেন ইনাকে দেখে! মেয়েটা ; o hello কি ভাবছেন। অনুপ ; উম,,কই কিছু না।উনি আমার ফ্রেন্ড। অনুপের কথা শেষ না হতেই মেয়েটা উঠে দাড়াল। অনুপ ও একটু উঁচু হয়ে দেখল কোথায় যাচ্ছে মেয়েটা। মেয়েটা ; এই ছেলে এই এই ছেলে তোমার কি মনে হয় যে আমি ভুত হয়ে গেছি হ্যা যে আমাকে দেখে ভুত দেখার মত দৌড় দিলে। মেয়েটার কথা শুনে বাসের সবাই অবাক হয়ে গেলো। বেশি অবাক হল শিপন,মামুন, শাহিন আর অনুপ।হা করে তাকিয়ে রইলো সবাই মেয়েটার দিকে। অবশ্য তাকিয়ে দেখার মতই রুপ।লম্বা লম্বা চুল খোলা দুধে আলতা গায়ের রং। আকাশী কালারের ড্রেসে যেনো পরীর মত লাগছে।মেয়েটার কথায় ধ্যান ভাঙলো শাহিন আর এজাজের। মেয়েটা ; এই যে আপনি,, (শাহিনকে উদ্দেশ্য করে) ইনি কি আপনার কেউ হয়। (এজাজকে দেখিয়ে বলল) শাহিন ; হুম, ও আমার বন্ধু। মেয়েটা ; অহ, তাহলে ওই সিটের ছেলেটাও কি বন্ধু। শাহিন ; হ্যা। মেয়েটা ; তাহলে আপনি যদি ওখানে বসেন তাহলে কি আপনার প্রব্লেম হবে। শাহিন ; আরে না না,,, হেসে দিয়ে শাহিন উঠে আসছিল। কিন্তু এজাজ হাত চেপে বসাতে গেলো শাহিনকে।তখনি মেয়েটা হাতের ব্যাগ দিয়ে এজাজের হাতের উপর আঘাত করল।এজাজ শাহিনকে ছেরে দিলো আর একবার ঢক গিলল।বাসের সবাই আর না দেখলেও অনুপ, মামুন আর শিপন নিজেদের সিটের উপর উঁচু হয়ে দেখছিল মেয়েটার কান্ড।মেয়েটা একবার মুখ ঘুরাইতে সবার সাথে চোখাচোখি হল।ওর চোখে চোখ পরতেই যে যার সিটে বসে পরল। শাহিন এসে অনুপের কাছে বসলো। ,সবার মনে একি প্রশ্ন হচ্ছিল কে মেয়েটা। মেয়েটা এজাজের পাশে বসে পরল। এজাজ ; সরি তাহি। মেয়েটা মুখ ফুলিয়ে বসে রইলো। এজাজ ; তাহি সরি বলছি তো। তাহেরা ; কিসের স্যরি (একটু জোরে) এজাজ ; শশশ,,,চুপ আস্তে কথা বলেন এবার ম্যাম। তাহেরা ; কোথায় যাচ্ছেন শুনি? এজাজ ; শ শ শ তাহেরা ; শ শ কি? এজাজ ; না মানে শশুড় বাড়ি। তুমি কই যাও? তাহেরা ; অহ 😔 বিয়ে করেছো। এজাজ ; হ্যা। তাহেরা ; বউ কই? এজাজ ; বউকেই আনতে যাচ্ছি।তুমি কই যাচ্ছো? তাহেরা ; কই আবার তুমি শশুর বাড়ি যাচ্ছো আর আমি বাবার বাড়ি। মানে বাড়ি যাচ্ছি। এজাজ ; (মনে মনে) এ যদি বাড়ি যায় তাহলে তো ও রাজশাহী যাবে। ইয়াল্লা মরছি আমি,,শিপা আর আলো ও তো নাটোর থেকে উঠবে।আর আলো তো হাতি থুক্কু তাহি কে চিনে।ছবি দেখেছে। তাহেরা ; এই এজাজ কি ভাবছ। এজাজ ; উম,,কই না কিছু না। তাহেরা ; তুমি কি ভুলে গেছো পুরানো সেই দিনের কথা। তাহেরা কথাটা বলতেই এজাজ ঘার ঘুরিয়ে তাহেরার দিকে তাকিয়ে রইলো। তাহেরা আর এজাজ একি কলেজে পড়ত।বন্ধু থেকে আরো গভীরে চলে গিয়েছিল তাদের রিলেশন। কিন্তু মাঝ পথে এসে তাহেরা কেমন যেনো পাল্টে গেলো। এজাজ অনেক চেস্টা করেছিল রিলেশন টিকিয়ে রাখতে কিন্তু এক তরফা তো আর প্রেম হয় না।বাধ্য হয়ে হাল ছেরে দিয়েছিল।প্রায় ৩ বছর পর দেখা হল আবার। এই তিন বছরে পুরানো কষ্টই হয়ত ভুলতে এজাজ ফেসবুকে আলোকে ভালবেসে ফেলে।আলো অনেক লক্ষি মেয়ে। নিজের আগে সব সময় এজাজ কিসে ভালো থাকবে সেটা নিয়ে ভাবে।মাঝে মাঝে ফেসবুক পাড়ার সব লাভার হিংসেই মরে যায় ওদের প্রেম দেখলে। রাস্তায় অনেক জ্যাম তাই যেখানে রাতে পৌছানোর কথা সেখানে সকাল ৮ টায় পৌঁছালো সবাই।বাস এসে সিরাজগঞ্জ কড্ডায় দাঁড়ালো। অনুপের কথা অনুযায়ী সবাই এখানেই নামলো। শুধু বিপত্তি হল তাহেরাকে নিয়ে।কারণ পরে এজাজ সত্যি কথাটা বলে দিয়েছে যে তারা বন্ধুর বাড়ি ঘুরতে যাচ্ছে।আর যেহেতু একি রাস্তায় তাই তাহেরাও নেমে গেলো। গাড়ী থেকে নেমে এজাজ তাহেরাকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। শিপন ; অনুপ কি কাজে নেমেছ এবার তো বল। অনুপ ; আরে দাড়াও দাড়াও। শাহিন ; কি ব্যাপার মামুন ভাই এদিক সেদিক তাকাচ্ছেন যে।কারো কি আসার কথা আছে। মামুন ; ( মন খারাপ করে) না ভাই এতো ভালো কপাল আমার না। একটা কাজ করি এখানে যেহেতু নেমেইছি এখানেই কিছু খেয়ে নিলে হয় না কি। তাহেরা ; হুম ভাল আইডিয়া। অনুপ ; আ আ আগে আমার কাজটা শেষ করি হ্যা তার পর খায়। শিপন ; ডাল মে কুচ কালা হে অনুপ।মিটমিট করে হাসছ কি ব্যাপার ভাই। এজাজ ; দেখ ছোকড়া যদি ভাবিস আমাদের কিডন্যাপ করবি তাহলে তুই ডাহা ফেল মারবি। অনুপ ; হাহাহাহাহা কিডন্যাপ,, তাও আবার আমি,, ওরে ভাই বাতাস এলে উড়ে যায় আমি আর সেই আমি এই দেহ আর বুদ্ধি নিয়া কি কইরা কিডন্যাপ করব এত্ত গুলান মানুষ কে হুহ। কথা বলতে বলতে অনুপের ফোন বেজে উঠলো। একটু ফাকে এসে রিসিভ করলো অনুপ।কার সাথে যেন হেসে হেসে কথা বলছিল আর আড় চোখে সবার দিকে তাকাচ্ছিল।কিন্তু হঠাত মুখে যেন এক রাশ মেঘ নেমে এলো অনুপের। ফোন রেখে সবার সামনে মাথা নিচু করে হঠাত অনুপ কাদো কাদো গলায় সবাইকে সরি বলল। অনুপের সরি বলাতে সবাই অবাক হয়ে চেয়ে রইলো অনুপের দিকে শিপন : কি হল অনুপ,, কে ফোন করেছিল। অনুপ : ( মাথা নিচু করে) আসলে আমি নিজের কাজের জন্য না একজন আমাকে এখানে আসতে বলেছিল। তার কথাতেই আমরা লোকাল বাসে উঠেছিলাম। শাহিন : কে সে,,, আর এসব কথা আমাদের আগে বলিসনি কেন অনুপ। সবাই এবার একটু রেগে গেলো অনুপের উপর কিন্তু বেশি কিছু বলল না। এমনিতেই অনুপ নিজে বোকা হয়ে যাওয়ায় প্রায় কেঁদে ফেলেছে।সবার বকাঝকাতে অনুপ বলতে লাগলো কার কথাতে ও এমন করেছে।ঠিক তখনি একটা মেয়ে ছুটে এসে দুই হাত দিয়ে অনুপের দুই গাল ধরে বলতে লাগলো মেয়ে : উলে উলে প্রায় কেঁদে ফেলছে দেখি ছেলেটা।হিহিহিহি তুমি তো দেখছি ছিস কাঁদুনে। সবাই চোখ বড় বড় করে মাথা বারিয়ে দিলো অনুপের দিকে । অনুপের চোখ জেনো বেরিয়ে আসছিল মেয়েটার কান্ড দেখে। মুখের কথা জেনো হারিয়ে গেছে অনুপের। এক ঝটকায় মেয়েটার হাত সরিয়ে দিয়ে পিছিয়ে গেলো অনুপ। অনুপ ; আরে কে আপনি। এই ভাবে গায়ে পরে কথা বলছেন কেন। মেয়ে ; ওহ হ,, আমি তো ভুলেই গেছি তোমার মেয়েতে চুলকানি। তবে যায় বল তোমার গাল হেব্বি হেব্বি কিউট। অনুপ ; এ এ এই মেয়ে চুপ কি যাতা বলছেন। সবাই এতোখন চুপ করে ছিল। কেউ এখনো মেয়েটার মুখ দেখেনি শুধু অনুপ ছাড়া।এবার সবাই মেয়েটার সামনে এলো। শুধু মাত্র তাহেরা বাদে সবাই জোরে হেসে দিলো। সবাই মেয়েটার সাথে হ্যান্ড শেক করল। এজাজ : এই বুড়ি এটা কেমন প্ল্যান হ্যা।আমরা তো প্রায় বোকা বনে চলে গিয়েছিলাম। মামুন ; বাবু থ্যংক ইউ এত্ত গুলা শিপন ; এতোটা সারপ্রাইজ হব ভাবতেই পারিনি। শাহিন ; এই ম্যাম খালি হাত কেন। যাবে না তুমি হু তাহেরা : আরে কিছুই বুঝতে পারছিনা। কে এই মেয়ে।কিছু তো বল তোমরা। অনুপ : আ আ আ আ (চিৎকার দিলো অনুপ) মেয়ে ; এ এ এই চুপ চেঁচাচ্ছিস ক্যান গাধা। লোকে ভাব্বে কিডন্যাপ করছি তোকে। অনুপ : চেঁচাবো না তো কি করব হু আমার মাথা তাল গোল পাকিয়ে যাচ্ছে। আবারো সবাই এক সাথে হেসে উঠলো। তাহেরা আর অনুপ তাকিয়ে ছিল সবার দিকে অবাক চোখে। এহেম এহেম,,, অনুপ তুমি কার কথায় সবাইকে এখানে নামিয়েছ বলত। অনুপ ; মানে আরে মানে মানে তুমি ঝুম। হুম আমি ঝুম.. শিপন ; তার মানে অনুপ তোমার কথায় আমাদের সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিল।কিন্তু নিজেই সারপ্রাইজ হল। অনুপ ; আরে হুয়া আমি বাড়িতে থাকতেই ঝুম ইনবক্সে আমায় বলে যে এখানে নামতে।।ও আমাদের সাথে দেখা করবে।কিন্তু এখানে আশার পর কল করে বলল যে আসবে না।তাই আমি ভয় পেয়ে গেছিলাম যে সবাই কে কি বলবো এখন।আসলে আমি আগে কখনো ঝুমকে দেখিনি তা ছাড়া ছবিও দেখিনি তাই চিনতে পারিনি।কিন্তু তোমরা চিনলে কি করে। মামুন ; সবাই এর আগে ঝুমের ছবি দেখেছে। তাই চিনতে পেরেছে।আচ্ছা এবার চলো সবাই কিছু খেয়ে নেই।দেরি হয়ে যাবে নয়তো পৌছাতে। এজাজ ; এই ওয়েট ওয়েট,, এবার দেখছ মামুনের মুখে কত কথা ফুটেছে।কি ভাউ এবার তো হাসো। ঝুম ; কাকা এটা কেমন কথা হল। তুমি মামুন কে ভাই বললে কেন হু এজাজ ; উফসস ভুলেই গেছি।।সরি বেটা,, শাহিন ; ও ভাই বোনেরা চল রে চল পেটের মধ্যে মারামারি শুরু হয়ে গেছে। ঝুমের ফোনে একটা কল এলো রিসিভ না করে কেটে দিয়ে সবাইকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকল ঝুম।প্রতিটা টেবিলে ৪ টা করে চেয়ার হলেও একটা বড় টেবিলে ৮ টা চেয়ার দেওয়া আর টেবিলে সাজানো নানা রকমের খাবার।ঝুম আগে আগে গিয়ে সেই টেবিলেই বসলো। শাহিন ; টেবিলটা কি আগে থেকেই বুক করা ছিল। ঝুম ; হ্যা, টেবিলটা আগে থেকেই বুক।আর এই খাবার গুলা সব আমার আম্মুর হাতের রান্না মামুন ; তোর আম্মু কি এই রেস্টুরেন্টে রাঁধুনি 😛 ঝুম ; এয়া,,চুপ আম্মু শুনতে পাবে তোর কি মনে হয় আমার আম্মু এই খানে রান্না করে,আম্মু এগুলা বাসা থেকে রান্না করে এনেছে তোদের জন্য।আমি বলেছিলাম সকাল ৮ টার আগে রান্না শেষ করে এখানে পৌছাতে।আম্মু এই সব কিছুর ব্যবস্থা করেছে। আর আম্মু এখন বাইরে দাড়িয়ে আছে ঐ দেখ,,( বাইরে ইশারা করে দেখাল) ৩য় বারের মত আবার সবাই অবাক হল এই কথা শুনে। ঝুম : কি হল এই ভাবে হা করে আমার দিকে চেয়ে আছো কেন সবাই।রিয়েল উনি আমার আম্মু। দাড়াও আমি ডেকে আনছি। ঝুম উঠে গিয়ে ঝুমের মা কে ডেকে নিয়ে এলো। সবার সাথে পরিচিত সবার পর এক সাথে উনিও খেয়ে নিলো। সব চেয়ে এবার বেশি চুপচাপ হয়ে গেলো মামুন।কারণ যদি ভুলে হলেও ঝুমের মা জেনে যায় যে ও ঝুমকে ভালবাসে তাহলে রক্ষে থাকবে না আর।ঝুমের কাছে অনেক বার শুনেছে উনি অনেক রাগি। সবাই খাওয়া শেষ রেস্টুরেন্টের বাইরে বেরিয়ে এলো। সবাই প্রায় জানে ঝুমের মা খুব রাগি কোনো অন্যায় দেখলেই ঝুমকে মারতেন। কিন্তু এখন উনাকে দেখে ঠিক তার উল্টা মনে হচ্ছে।মা মেয়ের সমর্পক দেখে মনে হচ্ছে বন্ধুর মত।এতটা রাগী হলে কখনো কেউ মেয়ের ছেলে বন্ধুদের সাথে দেখা করতে দিতেন না।তাও আবার এমন সারপ্রাইজ ভাবে।মুখে কিছু না বললেও মনে মনে সবার এটা নিয়ে প্রশ্ন জাগল।তবে একটা জিনিস সবার চোখ এড়াল না।ঝুমকে উনি এমন ভাবে আদর করছে প্রতিটা মুহুরতে জেনো একটু পরেই ঝুম একে বারে চলে যাবে আর ঝুম যখন হেসে হেসে কথা বলছিল তখন এক পলকে তাকিয়ে থেকে নিজের মেয়েকে দেখছে। সবার ভাবনার অবসান ঘটালেন ঝুম। ঝুম :এই যে আপনারা এবার বেরিয়ে পরেন দেরি হয়ে যাচ্ছে। মামুন ; বেরিয়ে পরেন মানে,, তুমি যাবে না। ঝুম ; ( মন খারাপ করে) না আমি যাবো না।শুধু একবার তোমাদের দেখবো বলে তাই।জানি না আর কখনো দেখার সুযোগ পাবো কি না। (কথাটা বলার সময় ঝুম কেঁদে ফেললো) শিপন ; ঝুম আমরা ভাবছি তুমি যাবে।চলো না খুব মজা হবে।আন্টি ঝুমকে যেতে দেন না প্লিজ। ঝুমের মা ; বাবা ওর যাওয়াতে আমার কোনো আপত্তি নেই।কিন্তু মামুন হয়ত বলেছে তোমাদের আজ ওর বাবা আসবে বিদেশ থেকে অনেক বছর পর।এমন অবস্থায় না পরলে নিশ্চয় যেতে দিতাম। আজ আমার মেয়েটার হাসি খুশি ৫০% ৫০% হয়ে গেছে। না পারছে এখানে থেকে যেতে না পারছে তোমাদের সাথে যেতে। কথা গুলা বলার পর ঝুমের মা কেমন জেনো দমে গেলো। জেনো কিছু অনেক কিছু লুকাচ্ছে সবার থেকে।যেহেতু নিতান্তই ঝুম যেতে পারবে না তাই বাধ্য হয়ে সবাই ডাইরেক্ট বগুড়ার বাসে উঠে পরল।মামুন বার বার ঝুমের দিকে তাকাচ্ছিল।মন জেনো ঝুমকে ছেরে যেতেই চাইছিল না।এই কয়েক মুহুরত সবার কাছে যেন স্বপ্নময় হয়ে গিয়েছিল।ঝুমকে ছেরে যেতে সবারি খুব খারাপ লাগছিল।বাসে উঠার পর যখন সবাই জানালা দিয়ে ঝুমকে টাটাটা দিচ্ছিল তখন ঝুম ওর আম্মু জরিয়ে ধরে কেঁদে দিলো। ক্ষণিকের আনন্দ যেন এক নিমিষে দুঃখে পরিণিত হল।কিন্তু যেতে তো হবেই সবাইকে।মামুন সিটে থেকে বাসের দরজায় এসে দাড়িয়ে বিদায় জানালো ঝুমকে।বাস চলে যাবার পর ঝুম আর ওর আম্মু বাসায় চলে যায়। গাড়ী ছুটে চলেছে এক মনে।হৃদয় বার বার সবাইকে কল দিয়ে জালাচ্ছে কখন আসবে কখন আসবে বলে।মামুন চুপচাপ বসে ছিল শাহিনের পাশে। অনুপ আর শিপন ফোনে গেম খেলা শুরু করে দিলো জয়েন্ট লুডু গেম।এবারো তাহেরা এজাজের পাশে বসেছে।গাড়ী যত এগিয়ে যাচ্ছে ততো গভীর হচ্ছে এজাজের টেনশন। আলো যদি দেখে তাহেরা এজাজের পাশে বসে সারা রাস্তা এসেছে তাহলে আদৌ টিকবে কিনা ওদের রিলেশন তার গ্যারান্টি নেই।গাড়ী ঢুকে পরেছে নাটোর বাইপাস দিয়ে।এজাজের বুকের ধুপধাপ আওয়াজ জেনো বেরেই চলেছে।আর কয়েক মিনিট পরেই পৌছাবে মাদ্রাসামোড়ে। তাহেরা সেখানেই নেমে যাবে আর সেখান থেকেই আলো আর শিপা উঠবে। সব ভাবনার ছেদ ঘটলো এজাজের তাহেরার ডাকে.. তাহেরা ; কি ব্যাপার চুপ আছো যে।এখনি তো নেমে যাবো। এজাজ ; ইয়ে ,,ভালো থেকো তাহি নিজের খেয়াল রেখো। তাহেরা : ভালো,, জানো এজাজ ভালো থেকো কথাটা না খুব কঠিন।মাত্র কয়েক অক্ষরের কথা কিন্তু এতটা কস্ট যে এই কথাতে যাইহোক একটা কথা বলবো। এজাজ ; (একটা দম ফেলে) হুম বল। তাহেরা : বলেছিলাম কি আমি যে বাসায় যাচ্ছি এটা এখনো জানায়নি বাসায়।যদি তোমাদের আপত্তি না থাকে তাহলে আমি কি যেতে পারি তোমাদের সাথে বগুড়া। কথাটা শুনার পর এজাজের বুকের মধ্যে জেনো বেলুন ফুটে যাবার মত ফট করে উঠল। সেটা খুশিতে,টেনশনে,না ভয়ে সেটা এজাজ ও বুঝে উঠতে পারলো না। এজাজের এমন মুখের অবস্থা দেখে তাহেরা বুঝে গেলো যে এজাজ চাইনা ও যাক। তাহেরা ; সরি এজাজ মনে হয় তোমার কাছে ভুল আবদার করে ফেললাম। এজাজ : না মানে,, হয়েছে কি, তাহেরা : থাক,,, কিছু বলতে হবে না।সরি এজাজ : তাহেরা আসলে আমাদের সাথে আরও দুই জন মেয়ে যাবে,, আলো আর শিপা।আমি আলো কে,,, তাহেরা ; আলো,,, তুমি কি ওকে ভালোবাসো। তাহেরার কথা শেষ না হতেই বাস থেমে গেলো। এজাজ বাস থেকে নেমে বাইরে এলো। তাহেরাও নিজের ব্যাগ নিয়ে নেমে এলো। বাস ১৫ মিনিটের জন্য বিরতি দিলো। বাস থেকে শিপন,মামুন,শাহিন,অনুপও নেমে এলো। আলো আর শিপা ফোনে কথা বলে সবার সাথে মিলিত হল।তাহেরা সবার থেকে বিদায় নিয়ে চলে চাচ্ছিল।কিন্তু পিছন থেকে কারো ডাকে দাড়িয়ে গেলো তাহেরা। আলো : তাহি আপু,, আলোর ডাকে তাহেরা এগিয়ে এলো। এজাজ সহ বাকি সবাই আলো আর তাহেরার দিকে তাকিয়ে ছিল। আলো :আপু আপনি চলে যাচ্ছেন কেন যাবেন না আমাদের সাথে। তাহেরা : (একটা হাসি দিয়ে) না আপু আমি তো বাসায় যাচ্ছি। বাসে দেখা সবার সাথে। আলো : তাতে কি চলেন না ঘুরে আসি। আলো : না গো তোমরা যাও। কথা শেষ না হতেই বিরতির টাইম শেষ। সবাই বাসে উঠে গেলো। আলো আর তাহেরা তখনো কথা বলছিল।বাসের মধ্যে থেকে হেল্পারের ডাক এলো। তাহেরা যেতে রাজি না হওয়ায় তাকে ছেরেই চলে এলো আলো।। তাহেরা কে বিদায় দিয়ে চলে এলো সবাই। এবার শিপা আর শাহিন এক সিটে বসলো অনুপ আর শিপন এক সিটে বসলো। মামুন একাই এক সিটে বসে ছিল আলো গিয়ে মামুনের পাশে বসে পরল।সবাই বুঝতে পেরেছে আলো রাগ করেছে এজাজের উপর। তাই মামুন উঠে আসছিল। কিন্তু আলো উঠতে দিলো না মামুনকে। আলো : মামুন তুমি উঠে গেলে আমি নেক্সট স্টপেজে নেমে যাবো। মামুন : কি যাতা বলছ আপু।রিয়েলি তাহেরা,, আলো ; চুপ,, আমি কি কিছু বলেছি। এজাজ ; আলো প্লিজ, শিপন : এজাজ তুই বসে পর।সবাই দেখছে এটা পাবলিক প্লেস। এজাজ আর কথা না বারিয়ে অন্য সিটে গিয়ে বসে পরল।গাড়ি বগুড়ায় পৌঁছাতে রাত হয়ে গেলো। হৃদয় সবার জন্য স্টপেজে ওয়েট করছিল।রাত ৮ টা বেজে গেছে। শীতের রাতে রাত ৮ মানে অনেক রাত।গাড়ি থেকে সবাই নামতেই হৃদয় দৌড়ে এসে শিপন কে জরিয়ে ধরল।আচমকা শিপন একটু ভয় পেয়ে গেলো। ঘুরে হৃদয় কে দেখে সবাই খুব খুশি হল।একটা গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে এসছিল হৃদয়। সবাই গাড়িতে উঠে বসলো। কিন্তু শিপন উঠেনি। সবাই ভাবল হয় তো কিছু কিনতে হয় তো কোনো দোকানে গেছে।তাই সবাই বসে রইলো। ১-২ করতে করতে ১০ মিনিট পার হয়ে গেলো কিন্তু শিপনের কোনো পাত্তা নেই। মামুন : কি ব্যাপার দাদা কই গেলো। হৃদয় : আচ্ছা তোরা বস আমি দেখছি।নতুন জায়গা হয় তো রাস্তা হারিয়ে ফেলছে। শিপা : হৃদয় সামনে তাকা মনে হচ্ছে কিছু একটা হয়েছে। হৃদয় : হুম তাই তো দেখছি লোক ভিড় করেছে আসো তো দেখি। সবাই গাড়ি থেকে নেমে ভিড়ের কাছে এগিয়ে গেলো। হৃদয় ভিড় ঠেলে ভিতরে গেলো। চারিদিক লোক ঘিরে রেখেছে শিপন আর একটা মেয়েকে।কেউ কেউ কোনো কথা বলছে না।শিপন আর মেয়েটা দুজন দুজনার মুখের দিকে শুধু তাকিয়ে আছে।মেয়েটার মুখ দেখে মনে হচ্ছে খুব রেগে আছে আর চোখ দিয়ে রাগে পানি পরছে।আর শিপনের মুখ দেখে মনে হচ্ছে অপরাধ না করেও শাস্তি পাচ্ছে।পাশে দাড়িয়ে থাকা লোক গুলো শুধু মিটমিটিয়ে হাসছে। হৃদয় : আরে শিপন ভাই কি হয়েছে। হৃদয়কে দেখে জেনো শিপন দেহে প্রাণ ফিরে পেলো। শিপন : হৃদয় তুমি এসছো। দেখো না এই মেয়েটার সাথে না দেখে একটু ধাক্কা লেগে গেছে। আমি বুঝতে পারিনি।সরি বলছি তাও ছাড়ছেই না।বলছে এখন আমাকে নাকি কান ধরে উঠ বস করতে হবে। হৃদয় ; এয়া ওকে আমি দেখছি। অদ্রি আমি ওর হয়ে সরি বলছি। ও আমার বন্ধু আজ প্রথম এসছে এখানে সরি অদ্রি। অদ্রি : এই হৃদয়আ তুমি কথা কবা না কইলাম।আমারে বেটা ছেলি হই ধাক্কা দিলো কেন হু। আলো : আপি বলছে তো ও দেখতে পায়নি। অদ্রি : আ আ আ আ আমি জানিনা আমি কিছু বুঝি না ওকে কও কান ধরতে। শিপন ; মহা বিপদে পরলাম তো। এজাজ ; এই ওয়েট ওয়েট ওয়েট,, আমার কাকু কান ধরলে আমার মানে লাগবে। তাই কাকুর হয়ে যদি আমি কান ধরে উঠ বস করি তাহলে কি হবে আন্টি। অদ্রি : 😠😠 আন্টি, আমাকে তোমার আন্টি মনে হচ্ছে। এজাজ : এই মরছে আবার রাগছে।কি যে করি। মামুন : এর সাথে কি কেউ আসেনি। হৃদয় : ( ফিসফিসিয়ে)ভাই এই মেয়ে একাই ১০০। অনুপ : আমি ভাই দুরেই থাকি ঘাড়ে চাপলে বিপদ। শিপা : ভিতু। যা তুই গাড়িতে গিয়া বস। শাহিন : আচ্ছা আচ্ছা দাড়াও আমি দেখি। আচ্ছা আপু আমি এক বার না যদি সবাই সামনে ৩২ বার কান ধরে উঠ বস করি তাহলে কি শিপনকে ছেড়ে দিবা। অদ্রি : দাড়াও ভেবে দেখি,,,,,(ভাবলো),,, হুম ওকে তুমিই করো। শাহিন : আচ্ছা করছি দাড়াও,,, (একটু ফাকে শিপন, এজাজ,অনুপ,শিপা,আলো, মামুন আর হৃদয়কে ডেকে বলল যে তোমরা সবাই গিয়ে গাড়িতে বসো আর ডাইভারকে বলো গাড়ি চালু করতে।আমি উঠা মাত্র টেনে চলে যাবে। হৃদয় : কি করবা ভাউ। শাহিন :কান ধরবো। যাও বলছি সবাই। শাহিনের কথা মত সবাই গাড়িতে গিয়ে বসলো। ডাইভার গাড়ি চালু করল। অদ্রি ; কি হল ওরা চলে গেলো কেন। শাহিন : না মানে হাজার হলেও ওরা আমার বন্ধু ওদের সামনে লজ্জা পাবো তাই তারিয়ে দিলাম। অদ্রি ; ওহ আচ্ছা এবার ধরো। আশে পাশের সবাই হা করে তাকিয়ে আছে শাহিন আর অদ্রির দিকে। শাহিন কান না ধরে আগে নিচে বসলো এক সেকেন্ড দেরি না করে শাহিন অদ্রির দুই গাল হাত দিয়ে ধরে দুইটা কিস করে দে দৌড়।শাহিন দৌড়াতে দৌড়াতে বলতে লাগলো মুখে ৩২ টা দাত নিয়ে কিস করছি। আই লাভ ইউ বেবি উম্মা, আর কে ধরে অকে সোজা এক দৌড়ে গাড়িতে উঠে বসলো শাহিন।অদ্রির অবস্থা দেখে দেখে সবাই হেসে দিলো। সবাই বলতে লাগলো এই প্রথম কেউ অদ্রিকে জব্দ করল।সবার হাসি দেখে অদ্রি খুব রেগে কাঁদতে কাঁদতে বাসায় চলে গেলো। শাহিন গাড়িতে উঠতেই গাড়ি খুব জরে ছুটতে লাগলো। শাহিনের হাসি জেনো থামছেই না। মামুন : এএএএএএএই চুপ এত হাসি কেন।কি করছো সেটা বল। শাহিন : হাহাহা দুই গালে দুইটা কিস কিস করে পালায়ছি হিহিহিহি। হৃদয় : কিহ্ শাহিন : হুম হিহিহিহি। হৃদয় : ভাই দাত গুলা ঢিক। কাল যে কি হবে কে জানে। শিপন : কি মেয়ে রে বাবা।আচ্ছা কে গো মেয়েটা হৃদয়। হৃদয় : কাল সকালেই টের পাবা ভাই কে ও। বাড়িতে পৌছে সবাই হৃদয়ের মা বাবা আর বোনের সাথে পরিচিত হয়ে নিলো। ফ্রেশ হয়ে সবাই হালকা খেয়ে নিলো। মামুন সবার কিছু ছবি তুলে ফেসবুকে ঝুমকে দিলো। ঝুম ফেসবুকে নেই দেখে মামুন ও বেরিয়ে এলো। মনে মনে ভাবলো হয়ত ঝুমের বাবা এসছে তাই ব্যস্ততা। রাত ১ টা অব্দি আড্ডা দিলো সবাই। হৃদয় : এই আসরে ঝুমকে খুব মিস করছি।বুড়িটা এলে হেব্বি মজা করতো। আচ্ছা যায় হক অনেক রাত হল এবার ঘুমাবে চলো সবাই। শিপন,মামুন,এজাজ,অনুপ আর শাহিন হৃদয়ের সাথেই ঘুমাবে বলে ওর ঘরেই শুয়ে পরল।শিপা আর আলো হৃদয়ের বোনের সাথে এক ঘরে শুয়ে পরল।সবাই যার যার বাড়িতে একা একা ঘুমালেও কোলবালিশ ছাড়া চলেই না।কিন্তু আজকে তো আর সবাইকে কোলবালিশ দেওয়া সম্ভব না।জেগে থাকা অবস্থায় কেউ কোনো কেরামতি না দেখালেও ঘুমানোর পর শুরু হয়ে গেলো কেরামতি। বাসায় কোলবালিশ একপাশে থাকতো কিন্তু এখানে তো দুই পাশেই মানে যারা মাঝ খানে শুয়েছে তারা দুই দিকেই পেয়েছে।সবাই যেহেতু একি নৌকার মাঝি তাই কারো তেমন অসুবিধা হয়নি।কিন্তু একজনের একটু প্রব্লেম হয়েই গেলো। অনুপ কেরামতি পা ছরাছরিতে একটু বিরক্ত হল ঘুমের ঘোরে ঘুম ভেংগে যাওয়ায় দুস্টু বুদ্ধি চাপলো মাথায় অনুপের।কেউ যাতে গায়ে পা চাপা না দেই সেই জন্য এক জনের পায়ের সাথে আরেক জনের পা বেধে রেখে দিলো গামছা জামা যা পেছে হাতের কাছে তাই দিয়েই।ওর পাশে থাকা শিপন কে ঠেলে বেশি জায়গা করে নিয়ে আরামছে ঘুমিয়ে গেলো। শাহিনের গলা ফাটানো চিৎকারে ঘুম থেকে জেগে উঠল সবাই শাহিনের চিৎকারে ধরফরিয়ে উঠে বসলো সবাই কিন্তু কেউ পা নারাতে পারলো না। কারণ অনুপ সবার পা আগেই বেধে রেখেছে। শাহিনের দিকে তাকিয়ে বাকি সবাই চেঁচিয়ে উঠলো। শিপন ভয়ে কম্বলে নিজের মুখ লুকিয়ে ফেললো। কারণ হল অদ্রি। অদ্রি একটা কলা হাতে নিয়ে শাহিনের পাশে বসে কলা ওর মুখে চেপে ধরেছে।সবার চেঁচামেচি শুনে হৃদয় বাইরে থেকে রুমে এলো। হৃদয় সবার আগে ঘুম থেকে উঠেছিল প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে । হৃদয় দৌড়ে এসে দেখে অদ্রির কান্ড।ঘুমের ঘোরে এমন হওয়ায় অনুপ উঠে দেয়ালে পিট ঠেকিয়ে বসে আছে।এজাজ খাটের সাথে পা গুটিয়ে অদ্রির দিকে তাকিয়ে আছে।শিপন ভয়ে নিজের মুখ লুকিয়ে ফেলেছে আর ঘুম বাবু মামুন একবার তাকিয়ে দেখে আবার নাক ডাকা শুরু করে দিলো। হৃদয় হাসিতে গরাগরি খাবার অবস্থা। তাড়াতাড়ি এসে অদ্রিকে কোলে করে নামালো বিছানা থেকে।অদ্রি হৃদয়ের ভাস্তি হয় সম্পর্কএ বয়স কেবল ৭ বছর। হৃদয়ের বাড়ির পেছনেই অদ্রির বাড়ি অদ্রির বড় ভাই সোহেল আর হৃদয় সারাক্ষণ প্রায় এক সাথেই থাকে।সম্পর্ক চাচা ভাতিজা হলেও বন্ধুর মত।অদ্রি ৭ বছরের বাচ্চা মেয়ে হলেও অনেক দুস্টু আর ট্যাটন। কোনো মতে জোর করে হৃদয় অদ্রিকে বুঝিয়ে বাড়ি নিয়ে গেলো। অদ্রি চলে যাওয়ার সময় বার বার বলছিল আমি ওর ৩২ দাত ভেংগে দিবো। সবাই এক সাথে হ হ হ করে হেসে উঠল। আলো আর শিপা ও এসে এক সাথে আড্ডায় মজে গেলো। শীতের সকাল এই সকাল বেলা চা হলে মন্দ হয় না। শিনহা( হৃদয়ের বোন) সবার জন্য চা নিয়ে এলো। ৮ কাপ চা ছাড়াও শিনহা আরও দুই কাপ বেশি নিয়ে এসেছে। শিপা : শিনহা এক কাপ তোমার বাট আরেক কাপ কার কার। শিনহা : আপু আরেক কাপ সোহেল কাকার। মানে অদ্রির ভাইয়ের। মামুন : সোহেল মানে,, অনুপ : আরে ভাউ সোহেল হল গিয়ে গ্রুপের সেই sohel kinght.. এজাজ : তাই নাকি। অনুপ : হু বলতে বলতেই সোহেল আর হৃদয় চলে এলো। সবার সাথে পরিচিত হয়ে চায়ের আড্ডায় বসলো সবাই। মামুন : এই এই ভাই সকল ওয়েট ওয়েট। একটা কথা তো ভুলেই গেছি সবার পা কে বেধে দিয়েছিল। শাহিন : আরে হুয়া কে করছে এই কাজ। কেউই শিকার করল না। আলো : একটা কথা,, সবার পায়ের বাঁধন খুলার সময় যার পা খোলা ছিল সেই বেধেছে। অনুপ : (মনে মনে) এই মরেছি।মাইয়্যা মাইনসের ক্যান এতো কথা বুলা লাগবে। আলোর কথা শুনে সবাই চোখাচোখি করে অনুপের দিকে তাকালো।কারণ অনুপের পা খুলা ছিল। সবার তাকানো দেখে অনুপ এক লাফে বিছানা থেকে নেমে এলো। অনুপ : সরি কি করব ঘুমাতে পারছিলাম না ঘোড়ার লাথিতে ( সবাই চোখ পাকালেন অনুপের দিকে) তাই বেধে দিয়েছিলাম। সবাই এক সাথে তেরে এলো অনুপের দিকে,, অনুপ ; আরে আরে খারাও খারাও সবাই।সবাই আমার এই মশার মত দেহটারে পিটাইলে আমি মইরা যাবু ভাই।আমি এখনো বিয়ায় করি নাই। জীবন তো একটাঈ তাই না। সবাই হেসে উঠল অনুপের কথা শুনে,, ( চলেন আমরাও একটু হাসি।হেহেহেহে) সবাই এক সাথে খেয়ে একটু ঘুরতে বের হল। বাড়ির পাশের রাস্তায় আসতেই সবার চোখ পরে অদ্রির উপর।অদ্রি দৌড়ে আসছিল সবাই দিকে।অদ্রির আসা দেখে শাহিন সবার পিছে গিয়ে দাঁড়ালো। অদ্রি সোজা এসে শিপনের সামনে দাঁড়ালো দুই হাত মাজাই দিয়ে। সোহেল ; অদ্রি তুই বাসায় যা। আমরা সবাই ঘুরতে যাচ্ছি। অদ্রি : তুমি কথা কইবা না মিয়া।আর এই যে (শিপনকে উদ্দেশ্য করে) তুমি কি ভাবছো তোমার শাস্তি মাফ। না মাফ না। শিপন : আবার শাস্তি,, ওকে বলেন আপনার কি শাস্তি আছে আমার জন্য। সোহেল : ভাই ও খুব জেদি আম্মু কে ডাকি খারান। শিপন : আরে না দেখি কি শাস্তি দেই।অদ্রি বলো কি শাস্তি। অদ্রি : এক ঘন্টা দাত বের করে হাসতে হবে। সবাই অবাক শিপন : এটা আবার কেমন শাস্তি আর তা ছাড়া কারণ ছাড়া তো হাসা যায় না সোহেল শিপনের কানে কানে কিছু একটা বলল।তার পর শিপন এগিয়ে গিয়ে অদ্রির গাল ধরে একটা মিস্টি হাসি দিয়ে গালে ছোট্ট চুমু একে I love u বলে দিলো। অদ্রি একবার শিপনের দিকে আর একবার বাকিদের দিকে তাকিয়ে দিলো এক ভৌঁ দৌড়। বাকিরা সবাই হা করে তাকিয়ে রইলো শুধু শিপন আর সোহেল হাসতে লাগলো। এজাজ ; কিরে ভাই শাহিন তুই কি রাতে তেতো কিস করছিস ওরে যে রেগে গেছিল। কাকা কিস করল কিছু বলল না। শাহিন ; দেখতাছি তো তাই ভাই। সোহেল : হাহাহাহাহা আরে এটারও কারণ আছে। শিপা : কি কারণ,, সোহেল : কারণটা হল গিয়ে,,আমি প্রায় ফেসবুকে ঢুকলে অদ্রি আমার পাশে শুয়ে থাকতো। আর নিউজ ফিডে শিপনের অনেক ছবি দেখেছে।ওর হাসি নাকি খুব পছন্দ অদ্রির। বাজারে কাল রাতে ধাক্কা খাবার পর অদ্রি শিপনকে চিনে যায়।তারপর হৃদয় কে দেখে বেশি সিউর হয়।শাহিন কিস করার রেগে গেছিলো। এবার বুঝেছো কাহানী। শিপন : অদ্রি রিয়েলি অনেক কিউট,, বড় হলে বউ বানিয়ে নিয়ে চলে যেতাম । শিপনের কথায় সবাই এক সাথে হেসে ফেললো। হৃদয় : এবার যাওয়া যাক তাহলে।আগে কোথায় যাবে ঘুরতে সেটা আগে বল সবাই। মামুন : আমার মনে হয় আগে মহাস্থানগড় গেলে ভালো হয়।আমরা তো বেশি সময় পাবো না এখানে থাকার তাই না। আলো : হুম।জানুয়ারিতে ক্লাস শুরু ফুল্লি অফিস অন। অনুপ : আজকে তো ২৮ তারিখ (নভেম্বর এর ২৮,কিন্তু আমি ডিসেম্বর করলাম) আর ৩ দিন পরেই নতুন বছর শুরু। শিপা : আচ্ছা হৃদয় গোকুল থেকে মহাস্থানগড় কত দুরে। হৃদয় : বেশি দুরে না মাত্র ৬ মাইল।এই তো গাড়ি চলে এসছে চলো সবাই। হৈ হৈ মজা করতে করতে সবাই পৌছে গেলো মহাস্থানগড়। গাড়ি থেকে নেমে সবাই এক সাথে আগে মাহিসওয়ারের মাজার ঘুরে দেখলো।এক সময় বলা হতো বগুড়া বাংলার রাজধানী। সারা দেশ জুরে এখনো সুনাম ছড়িয়ে আছে বগুড়ার দই।মাজার দেখার পর এক এক করে সব জায়গা ঘুরে দেখতে লাগলো। এবার সবাই এসে দাড়িয়েছে পরিত্যক্ত একাটা কুয়ার পাশে। লোকে বলে এই কুয়ার পানি দিয়ে নাকি বহু বছর আগে মৃত ব্যক্তিদের বাঁচানো যেতো। কিন্তু একবার চিলের মুখে থেকে গরুর মাংস পরার পর এটার গুন নস্ট হয়ে যায়।সবাই চারিদিক ঘুরে ফিরে দেখছিল। কিন্তু অনুপ এক মনে দাড়িয়ে আছে কুয়ার পারে।খুব মনযোগী হয়ে কিছু জেনো ভাবছে অনুপ। হৃদয় : এই অনুপ কি ভাবছিস এখানে দাড়িয়ে। আরে কাঁদছিস ক্যান তুই। অনুপ : কিছু না ভাই চলো।(চোখ মুছতে মুছতে) হৃদয় : আমার কাছে লুকাচ্ছিস। বল কি হয়েছে। অনুপ : (হৃদয়কে জরিয়ে কাঁদতে লাগলো অনুপ) স্নেয়ার কথা খুব মনে পরছে। জানো ভাইয়া এই কুয়া দেখে না খুব হিংসে হচ্ছে।মনে হচ্ছে যদি আগের মত এখনো এই কুয়ার গুন থাকতো তাহলে এই কুয়ার পানি দিয়ে আমি আমার স্নেয়াকে বাঁচাতাম। খুব যতনে আগলে রাখতাম বুকের মাঝে। বলতে বলতে অনুপ কেঁদে ফেললো। বাকিরা সামনে থেকে ডাকছিল।হৃদয় কোনো মতে অনুপকে সামলে নিলো। সবাই এক সাথে এবার জাদুঘর দেখতে যাবে বলে এগুচ্ছিল কিন্তু এজাজের চোখ আটকে গেলো আলোর দিকে। একটা গাছের নিচে দাড়িয়ে একটু দুরে আলো একটা ছেলের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে। এজাজ বাকিদের সেদিকে খেয়াল করালো। শিপা : ছেলেটা কে,,, এজাজ : জানিনা, কিন্তু চেনা চেনা লাগছে। সোহেল : হয়তো ওর পরিচিত কেউ। শাহিন : কেমন জেনো চেনা চেনা লাগতাছে। মামুন : আমারও, শিপন : সবারি যেহেতু চেনা চেনা লাগছে তাহলে সবারি পরিচিত। হৃদয় : কাছে গিয়ে দেখি চলো। সবাই ওদের দিকে যেতে লাগলো। আলো ছেলেটার সাথে একটা সেলফি টুললো।তাতে কারো মাথা ব্যথা না হলেও এজাজের জেনো বুকের বাম পাশে বিঁধল ধক করে। হৃদয় : আপনাকে কোথায় জেনো দেখেছি। (আলোর সাথের ছেলেটাকে বলল) আলো : এই এই বলবে না কে তুমি। এজাজ : ( অভিমানী সুরে) বলবে না কেন,, এজাজ ভাই আমি আলোর এক্স বয় ফ্রেন্ড ছেলেটার কথা শুনে এজাজের মন খারাপ হয়ে গেলো। কিন্তু আলো খুব হাসছিল। এজাজ মন খারাপ করে চলে যাচ্ছিল তখনি কোথা থেকে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে এসে কথা বলতে লাগলো সবার সাথে,,,ওদের কথা শুনে থেমে গেলো এজাজ।ঘার ঘুরিয়ে পিছে তাকালো।আলো চোখ বাঁকিয়ে তাকিয়ে রইলো এজাজের দিকে। মামুন : (এজাজের হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো)আরে ভাই কোথায় চলে যাচ্ছো। আলো : অতিত তো সবারি থাকে এজাজ তোমারও তো ছিল তেমন আমারও আছে।না হয় আহনাফ ও ছিল আমার অতিতে। কিন্তু বত্তমানে তো তুমি আছো। এজাজ মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইলো। সবাই এক সাথে হ হ করে হেসে দিলো। এজাজ যেনো বকা বনে চলে গেলো। এজাজ : (রেগে) এইইইই চুপ চুপ,,শালা তোদের কি মনে হচ্ছে আমি জোঁকার হু হেহে করে হাসছিস সবাই।কাহিনি কি সেটা বল। সোহেল : হিহিহি ভাই এ হচ্ছে আহনাফ আমাদের গ্রুপের সেই কিউট বয় আহনাফ। এজাজ : অহ তাই বল।আমি তো ভাবছি,,,really.. শিপা : মহারাজা ভাবছিল যে আহনাফ আলোর আগের প্রেমিক। হিহিহি এজাজ :... অনুপ : এই এই সবাই এই দিকে তাকাও এবার। (বাকি দুজনের দিকে ইশারা করে) বলতো এরা কারা, শাহিন :পরিচয় করা ভাই। আহনাফ : আমি বলছি।ও হচ্ছে রনি,,(অচিন দেশের রাজকুমার রনি) আর ও হচ্ছে রনির বউ তিশা। শিপন : ভাই আমাদের না কইয়া বিয়া কইরা ফেললা।এই ছিল তোমার মনে।এচ্ছি এচ্ছি, রনি : না ভাই আসলে আমরা আজকেই বিয়ে করেছি। ওর বাড়ি এখানেই।তিশা আর আমার রিলেশন ফেসবুক থেকে। হৃদয় : এখানে বাসা। আজ বিয়ে করেছ।আবার ঘুরতেও এসছো। কিছু বুঝলাম না ভাই। রনি : এটা ভাবছেন যে পালিয়ে বিয়ে করছি তাও এই এলাকার মেয়ে তবুও এখানেই আছি তাই তো। আলো : হুম তাই, রনি : তিশা ওর মামার কাছে বড় হয়েছে।মা বাবা অনেক আগেই এক্সিডেন্ট করে মারা গেছে। ওকে বাসায় রেখে প্রায় ওর মামা আর মামি ঘুরতে যায়। আর এই ফাকে পাড়ার বাজে ছেলেরা অকে খুব বিরক্ত করে।মামীর জেনো চোখের বিষ।আমি একটা ভালো জব পেয়েছি তাই অকে বিয়ে করে নিয়ে যাবো বলে এসেছি। এতখনে ব্যাপারখানা বুঝতে পারলো সবাই। কিন্তু তিশার মুখের দিকে তাকিয়ে সবার মনের মধ্যে কেমন জেনো হাজারো প্রশ্ন জাগলো।মনে মনে ভাবলেও কেউ কাউকে কিছু বলল না কারণ মেয়েটা কস্ট পেতে পারে বা রনি কিছু মনে করতে পারে। শিপন মামুনের হাত ধরে পাশে একটা বাদামওয়ালার পিছে নিয়ে গেলো। মামুন : কি হয়েছে শিপন ভাই। শিপন : মামুন মেয়েটাকে দেখেছো। মামুন : হুম ভাই দেখলাম। কেমন জেনো একটু মনে হলো।কিন্তু কিছু বলতে পারলাম না যদি কিছু মনে করে। শিপন : হুম সেম,,আচ্ছা তোমার কাছে কি রকম লাগলো মামুন। মামুন : কেমন কেমন জেনো। মনে হচ্ছে ফ্যাকাসে ফ্যাকাসে চেহারা। জেনো গায়ে রক্ত কম। শিপন : ঠিক বলেছো।আরেকটা জিনিস খেয়াল করেছো ওর দাত গুলা। মামুন : না ভাইয়া দাত খেয়াল করিনি। শিপন : ওর দা, কথা শেষ না হতেই এজাজ ডাক দিলো শিপন আর মামুন কে। আর কিছু না বলে ওরা সবার কাছে চলে গেলো। হৃদয় : কি ব্যাপার হু ফাকে গিয়েছিলে কেন।হু,, মামুন : আরে ভাও বুঝোনা কেরে রনির বউকে দেখে আমার আমার বউয়ের কথা মনে পরে গেলো। তাই শিপন ভাইকে মনের দুঃখ কইতাছিলাম। হৃদয় : হইছে ইরি পাম দিয়া। মিয়াঁ ভাই চলেন এখন জাদুঘর ঘুরে দেখে আসি। সবাই এক সাথে জাদুঘর দেখতে যাচ্ছিল।কিন্তু তিশা যেতে চাইছিল না।সবাই জোর করেই প্রায় নিয়ে গেলো। গেটে এসে দেখে সাইনবোর্ড ঝুলানো জাদুঘর বন্ধ রাখা আছে। জাদুঘর মেরামত কাজ চলছে। সবার মন বেজার হয়ে গেলো। কিন্তু সবাই খেয়াল করে দেখলো তিশা জেনো বন্ধ থাকায় খুশি হয়েছে। কেউ কিছু বলল না।পরবর্তী প্ল্যান গোবিন্দভিটা ঘুরে দেখার। সবাই মজা করতে করতে যেতে লাগলো। তখনি বেপাত্তা তিশা।সবাই অবাক হয়ে গেলো চোখের পলকে কোথায় চলে গেলো মেয়েটা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর দেখা গেলো তিশা একটা পানির বোতল নিয়ে খেতে খেতে আসছে।সবার ধরে জেনো জান ফিরে পেলো। রনি রেগে গিয়ে বকতে লাগলো তিশা কে। রনি : কোথায় গিয়েছিলে তুমি হ্যা।না বলে কেউ এই ভাবে যায়। তিশা : সরি কোক খেতে ইচ্ছে করছিল খুব তাই ওই পাশের দোকানে গিয়েছিলাম কোক কিনতে। কথাটা জেনো সবার কানে বজ্রপাতের মত আঘাত করলো একে অপরের চোখে চোখ রাখলো। আহনাফ : কি বলছো তিশা আমরা তো তোমার হাতে পানির বোতল দেখালাম একটু আগে। শিপা : হুম আমিও দেখেছি। শিপন : আমরা সবাই দেখেছি তিশা। তিশা : কি বলছেন ভাইয়া এ এ এই দেখুন কোক আমার হাতে,,আপনারা ভুল দেখেছেন। রনি : তিশা ওরা না হয় ভুল দেখেছে কিন্তু আমিও তো পানির বোতল দেখলাম। তিশা : আমার না হাসি পাচ্ছে এবার,,আমি কি ভুত যে জাদু দিয়ে বদলে দিলাম। আলো : ভুল দেখছি মনে হয় সবাই। কিন্তু মাত্র এক মিনিট ও হয়নি এর মধ্যে তুমি কি করে ওই পাশের দোকানে গিয়ে কোক নিয়ে চলে এলে।আমরা তো খুজছিলাম কই দেখলাম না তো। তিশা : কি আশ্চর্য এমন বলছেন কেন সবাই। আচ্ছা চলেন আমার সাথে চলেন দোকানী কে জিগায়লেই জানতে পারবেন সবাই। শাহিন : না থাক না হয়েছে হয়েছে দেরি হয়ে যাচ্ছে চলো সবাই। সোহেল : আচ্ছা আহনাফ তুমি কেন এসছিলে সেটা তো বললে না। আহনাফ : হিহিহি ওই যে রনির কাজে হেল্প করতে।মানে ওর বিয়ের জন্য। গল্প করতে করতে সবাই পৌঁছে গেলো গোবিন্দভিটাতে।এবার সবাই এক সাথে না থেকে দুই তিন জন করে ভাগ হয়ে গেলো। এক দলে এজাজ,শিপন,মামুন আর আলো,, আরেক দলে,শিপা,হৃদয়, অনুপ,সোহেল আর আরেক দলে আহনাফ, রনি, তিশা আর শাহিন গেলো। তিন দল তিন দিকে ঘুরতে গেলো। প্রায় এক ঘন্টা ঘুরার পর ফোনে আলাপ করে এক সাথে সবাই গেটে পৌছালো। শিপন : এই দাড়াও মামুন আসেনি তো। হৃদয় : আসেনি মানে কই গেলো। এজাজ : জানিনা বলল যে ওই দেওয়ালের ওই পাশ থেকে একটু ঘুরে আসি। হৃদয় : ওহ আচ্ছা।দাড়াও আমি কল করি অকে। (এই মূহূর্তে আপনার কাং্খিত নাম্বারে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না) আরে মামুনের ফোন তো অফ বলছে। এজাজ : কিহ বলছো। শিপন : আচ্ছা দাড়াও খুঁজে দেখি। হৃদয় আর সোহেল সবাই কে এখানেই দাড়াতে বলে ওরা খুঁজতে গেলো কারণ নিজ এলাকা আর চেনা ওদের তাই। সামনে অনেকটা জায়গা খুঁজেও পেলো না মামুনকে হৃদয় আর সোহেল সবাই খুব টেনশনে পরে গেলো। একেতো খুঁজে পাচ্ছে না তার উপর আবার ফোন অফ।মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিটে কি এত দুরে চলে যাবে। মানুষি তো ভুত তো আর নয়।বিকেল গড়িয়ে যাচ্ছে।সবাই এবার এক সাথে খুঁজবে বলে রেডি হল।শিপন বার বার রনির বউয়ের দিকে তাকাচ্ছিল। কিন্তু এ তো এখানেই আছে। হৃদয় : আশেপাশে নেই। এই অল্প সময়ে গেলো কই।সোহেল তুই সবাইকে নিয়ে বাড়ি যা।আর হুয়া কাউকে কিছু বলিস না।সবাই টেনশন করবে। আমি দেখছি কি করা যায়। শিপন : সবাই বাড়ি যাবো মানে।কেউ যাবো না আমরা। হৃদয় মামুনকে না নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারিনা আমরা। হৃদয় : শিপন মামা মেয়েরা আছে সাথে জায়গাটা এতটা ভালো না সন্ধ্যার পর। এজাজ : একটা কাজ করা যাক মেয়েদের নিয়ে সোহেল,অনুপ, আর রনি বাড়ি যাক আর আমি,শিপন কাকা শাহিন তোমার সাথে থাকছি। শাহিন : সেটাই ভালো। আলো : আমরাও থাকি না। এজাজ : শুনলে না হৃদয় কি বলল।কথা না বাড়িয়ে যাও এখন আমরা আছি। আলো : বিলাইয়ের মত খ্যাঁক করে উঠবে না।: এজাজ : আরে হৃদয় : আরে চুপ করবি তোরা।আলো আমার কথা শুনো।তোমরা ওদের সাথে বাড়ি চলে যাও প্লিজ। আর কেউ কথা না বলে শিপন, এজাজ,হৃদয় আর শাহিন বাদে বাকিরা বাড়ি চলে গেলো। শীতের দিন আর ছোট বেলা। খুব দ্রত সন্ধ্যা নেমে আসছে এক দিকে শাহিন আর শিপন আর অন্য দিকে হৃদয় আর এজাজ খুঁজতে লাগলো। শিপন বার বার ট্রাই করছে ফোনে বার বার অফ বলছে নাম্বার। সন্ধ্যা হয়ে গেছে মসজিদ থেকে আযান শুনা যাচ্ছে।মেইন গেট থেকে অনেক ভিতরে চলে এসছে ওরা।চারদিক দিয়ে ঘুরে এক জায়গাতেই এসে দাড়িয়েছে ৪ জন। সামনের ঢিবির ওপার থেকে কারো গলার আওয়াজ শুনা যাচ্ছিল। ৪ জনেই দৌড়ে গেলে সেখানে। আবছা অন্ধকার হয়ে এসছে চারিদিক। একটা ছেলে কাউকে জেনো ডাকছিল ভাইয়া উঠেন উঠেন বলে। শিপন এগিয়ে গেলো। শিপন : কি হয়েছে ভাই। শিপনের গলা শুনে ছেলেটা চমকে উঠল। ছেলেটা : আমি কিছু করিনি আমি কিছু করিনি ভাইয়া।(ভয় পেয়ে গেলো ছেলেটা। ছেলেটা উঠে দাড়াতে সবাই দেখতে পেলো নিচে মামুন পরে আছে।শাহিন আর এজাজ গিয়ে মামুনকে ডাকতে লাগলো। হৃদয় : আপনি কে,, কি করেছেন অকে। ও জ্ঞান হারালো কি করে,,(রেগে গিয়ে হৃদয় ছেলেটার কলার চেপে ধরলো) শিপন : হৃদয় উনাকে ছাড়ো উনাকে কথা বলতে দাও। আপনার নাম কি? ছেলেটা : আমার নাম তাহমিদ ভাইয়া।আমি ৫ মিনিট আগে এখান থেকে বের হতে গিয়ে দেখি উনি এখানে পরে আছে।অনেক ডাকছি কিন্তু সাড়া দিচ্ছে না।আমি চিনি না উনি কে। এজাজ : এই হৃদয় কথা বাদ দে আগে মামুনকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে চল। তাহমিদ : আমি কি যেতে পারি আপনাদের সাথে। শিপন : ওকে চলো। সবাই মামুনকে নিয়ে হাসপাতালে গেলো। বাড়িতে জানিয়ে দিলো মামুনকে পেয়েছে। এজাজ, শাহিন,শিপন আর হৃদয় মামুনের পাশে দাড়িয়ে ছিল।তাহমিদ বাইরে দাড়িয়ে ছিল। এর ফাকে তাহমিদ ফেসবুকে লগইন করলো। গ্রুপ চ্যাটের ছবি দেখে তাহমিদ থমকে গেলো। ছবি দেখতে দেখতে তাহমিদ রুমের মধ্যে গিয়ে বার বার ওদের ৪ জনের মুখের দিকে তাকাচ্ছিল। তাহমিদ : ( এজাজকে বলল) ভাই এই ছবির ছেলেটা কি আপনি। এজাজ : আরে হ্যা।এটা গোবিন্দভিটাতে তোলা ছবি।গ্রুপে দিয়েছি ঝুম আর বাকিদের দেখানোর জন্য। তাহমিদ : ভাইয়া আমি আহনাফ তাহমিদ আমি বগুড়াতেই পড়াশুনা করি। তাই ঘুরতে এসছিলাম এখানে। সবার পরিচিত হল তাহমিদ। মামুনের জ্ঞান ফিরলে অকে নিয়ে সবাই বাড়ি চলে এলো। রাস্তায় সবাই অনেক বার মামুনকে জিজ্ঞেস করেছিল কি হয়েছিল ওর।কিন্তু মামুন কিছু বলেনি। শুধু একবার অনুপ আর শিপার নাম নিয়েছিল।অনেক জিজ্ঞেস করেও কেউ আর কিছু জানতে পারেনি। বাড়িতে পৌছাতে রাত ৮ টা বেজে গেছে। হৃদয় ইশারাই মামুন কে কিছু না জিজ্ঞেস করতে মানা করে দিলো। কেউ কিছু বলল না। কিন্তু মামুন শিপা আর অনুপকে দেখে খুব খারাপ আচরণ করলো ওদের সাথে।এতে সবাই অবাক হয়ে গেলো। মামুনকে শান্ত করে বিছানার একপাশে বসালো হৃদয়। সবাইকে কে চুপ করে থাকতে বলল হৃদয়। কথার মাঝে জেনো কেউ কথা না বলে সেটাও মানা করে দিলো হৃদয়। মামুনের সামনে একটা চেয়ার পেতে বসলো হৃদয় মামুনের ডান হাত খুব আলতো করে দুই হাত দিয়ে ধরলো হৃদয়। মাথা নিচু করে ছিল মামুন। হৃদয়ের ডাকে মাথা তুলে হৃদয়ের দিকে তাকালো মামুন। হৃদয় : আমাদের সবার মাঝে থেকে চলে গেছিলিস ক্যান।কি হয়ে ছিল তোর। মামুন : (চুপ) হৃদয় : তুই না বললেও আমি কিন্তু জেনে নিতে পারবো। আমি চাইনা কথা গুলা অন্য কারো মুখ থেকে শুনি।তাই তুইই বল মামুন কি হয়েছিল। মামুন না বললেও সব জানতে পারবে হৃদয় কথাটা শুনে সবাই তেমন অবাক হল না।কারণ অন্য জগত নিয়ে কিছু না অনেক কিছুই জানা আছে হৃদয়ের।আর সেটা নিয়ে গবেষণা করে চলেছে হৃদয়। তার কিছু লাইভ ভূত গোয়েন্দা(ভৌতিক গল্প) গ্রুপে দিয়েছে হৃদয়। তাই সবাই জানে হৃদয়ের কথা। অনেক বার বলার পরেও মামুন কিছু বলল না।হৃদয় ও আর জোর করলো না। সবাই খেয়ে নিয়ে শুয়ে পরল।সারা দিন ঘুরার কারণে ক্লান্ত সবাই।শুয়া কালকের মত আজকেও এক রুমে শুয়ে পরেছে ছেলেরা নিচে শুবে তাও আলাদা রুমে কেউ শুবে না। তাই ছেলেরা এক রুমে আর শিপা,আলো আর তিশা শিনহার সাথে শুয়ে পরলো।ক্লান্ত তাই শুয়ে পরা মাত্র ঘুমিয়ে গেলো সবাই।খাটের উপর শিপন,অনুপ,শাহিন আর রনি,তাহমিদ শুয়েছে আর নিচে মামুন,হৃদয়, এজাজ, আর আহনাফ শুয়েছে।সবাই ঘুমিয়ে গেলেও হৃদয় এখনো জেগে আছে।মানুষ ছাড়া ২য় জগতের কিছু আশেপাশে থাকলে হৃদয় সেটা বুঝতে পারে।আর সে যে এখনো এই রুমেই আছে সেটা হৃদয় টের পেয়ে গেছে।নিজেকে নিয়ে ভয় না।বন্ধুদের নিয়ে ভয়ে হৃদয় ঘুমাতে পারছে না।কখনো উপলদ্ধি করতে পারছে যে খুব কাছ দিয়ে চলা ফেরা করছে আবার কখনো মনে হচ্ছে সে চলে গেছে।এতটা শীতেও হৃদয় খুব ঘেমে গেছে।মামুন হৃদয়ের পাশে শুয়েছে। মাথা উঁচু করে হৃদয় বার বার সবাই কে দেখছিল।ঘরে জিরো পাওয়ারের আলো জলছিল।।এজাজ নরেচরে শুতে হৃদয় আবার মাথা তুলে দেখতে লাগলো। হালকা আলোয় হৃদয়ের চোখ খাটের দিকে গেলো। আচমকা একটু ভয় পেয়ে গেলো হৃদয়। মনে হচ্ছে খাটের উপরে কোনো মেয়ে চুল ঝুলিয়ে মাঝখানে শুয়ে আছে। নিজের চোখ দেখেছে ভেবে হৃদয় উঠে বসলো আরেকটু হেলে এগিয়ে এসে দেখে হৃদয় সিউর হল যে ভুল কিছু দেখেনি।সত্যি এটা মেয়ে মানুষের চুল ঝুলছে খাটের উপর থেকে।ঠিক যেন ভেজা চুল মেলে দিবার মত।হৃদয় ঘার ঘুরিয়ে পিছে তাকিয়ে দেখলো দরজা লাগানো। সামনে তাকাতেই দেখে মেয়েটা উঠে বসে আছে বিছানার উপর। কিন্ত উল্টা দিক হওয়ায় হৃদয় শুধু পেছনে চুল ছাড়া কিছুই দেখতে পাচ্ছে না।এখন কিছু করতেও পারছেনা যদি ও উপরে শুয়ে থাকা কারো ক্ষতি করে দেই।না জানার ভান করে হৃদয় শব্দ না করে শুয়ে পরলো। ইচ্ছে করে হৃদয় মামুনকে এরিয়ে এজাজকে খুব জোরে চিমটি কাটলো।এজাজ ঘুমের মধ্যেই আহ করে উঠে আবার ঘুমিয়ে গেলো। এই সুযোগে হৃদয় কথা বলে উঠলল। হৃদয় : কিরে মশা কামড়াচ্ছে।দাড়া কয়েল জালিয়ে দেই। বিছানার দিকে চোখ না দিয়ে হৃদয় সোজা ক্যারেন্টের সুইচ অন করালো। বিছানায় তাকিয়ে দেখে কিছুই নেই।সব ঠিক আছে। কিন্তু হৃদয় বুঝতেই পেরেছিল এটা ধাধা না সত্যি ছিল।এবার আর আলো নিভালো না হৃদয়। জালিয়েই শুয়ে পরলো। সব ঠিক হয়ে গেলেও ঘুনাতে পারছিল না হৃদয়। অনেকখন পর একটু চোখ লেগে আসছেই ক্যারেন্টে চলে গেলো। বুঝতে পারলেও চোখ খুলতে পারছিল না ঘুমে হৃদয়। তখনি গায়ে কেমন ঠান্ডা হাওয়া এসে লাগলো যেমন ফ্রিজ খুললে লাগে। চোখ খুলতে না পারলেও হৃদয় বুঝতে পারছিল কেউ একজন বাইরে বের হলো।খুব কস্টে চোখ খুলে দেখে দরজা খোলা।হয়তো কেউ বাইরে গেছে ভেবে আবার চোখ বুজে রইলো। তখনি কিছু একটা মনে পরতেই ঘার ঘুরিয়ে দেখলো বাইরে উঠানে আলো জলছে। কিন্তু রুমে ক্যারেন্ট নেই।মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে রাত ২ টা বাজে।মোবাইলের আলো জালাতেই ক্যারেন্টের আলো চলে এলো। হৃদয় : নাহ আর চুপ করে থাকলে চলবে না।কিছু একটা হচ্ছে এখানে আমাকে জানতেই হবে সব কিছু। যখন থেকে ওরা ৩ জন আমাদের সাথে এসেছে তখন থেকে প্রব্লেম হচ্ছে।,, উফ ধুর আমি কি ভাবছি এসব। ওরা তো আমার মতোই সাধারণ মানুষ। কিন্তু আমি যা বুঝতে পারছি দেখতে পেয়েছি তা তো ভুল নয়। উঠে দেখি তো কে গেছে বাইরে। হৃদয় উঠে দেখলো শাহিন নেই।ভাবলো হয়তো টয়লেটে গেছে।কিন্তু ও তো অনেকক্ষন হল জেগে আছে এত খন কি করতে শাহিন বাইরে। হৃদয় ও উঠে বাইরে এলো। টয়লেটের দিকে তাকিয়ে দেখলো আলো জলছে না ভিতরে। ভিতরে আলো জললে বাইরে থেকে বোঝা যায়।হৃদয় এগিয়ে গেলো টয়লেটের সামনে। দরজা সরিয়ে দেখলো কেউ নেই। হৃদয় পিছনে ঘুরতেই কারো কথা বলা আর হাসির শব্দ পাচ্ছিল।তখনি মনে হল তাহমিদ বাইরে থেকে রুমে ঢুকলো। হৃদয় : তাহমিদ বাইরে থেকে রুমে গেলো আমি তো অকে শুয়ে দেখে এলাম এখনি।আর বাইরে এলেও তো টয়লেটে আসবে।দেখিতো রুমে। রুমে যাবার জন্য পা বারাতেই হৃদয় শাহিনের গলা শুনতে পেলো। পিছনে তাকালো কিন্তু কাউকে দেখতে পেলো না। কথার শব্দকে অনুসরণ করে হৃদয় খুঁজতে লাগলো শাহিনকে। শাহিন : হিহিহিহি সরি সোনা। কি করবো বলো। তোমার পরীক্ষা চলছে তুমি তো আসতে পারতে না। হৃদয় : শাহিন কার সাথে কথা বলছে।ফোনে কথা বলছে নাকি। শাহিন : আচ্ছা চলো বাইরে শীত পরতেছে খুব। সবাই তো ঘুমিয়ে পরেছে। তুমি যখন এসেই পরেছো এই বাকি রাত টুকু আমার পাশে শুবে চলো। আমি যে রুমে শুয়েছি ওখানে শুধু ছেলেরা শুয়েছি আর মেয়েরা অন্য রুমে। হৃদয় : হোয়াট, এসেছে মানে,,, কে এসেছে কাকে বলছে শাহিন এসব।আমাকে দেখতেই হবে। শাহিন : আরে ধুর পাগলী এখন চলে যাবে কেন। প্লিজ মৌমি এত রাতে যাবার কি দরকার চলো ভেতরে চলো আমি হৃদয় কে ডাকছি। হৃদয় : মৌমি,, মৌমি এত রাতে এখানে কি করে আসবে।গেট তো এখনো তালা দেওয়া। নাহ এ মৌমি না। হৃদয় আরেকটু এগিয়ে দেখে শাহিন বাড়ির মধ্যে একটা বড় আম গাছের আড়ালে দাড়িয়ে একটা মেয়ের সাথে কথা বলছে।হৃদয় মেয়েটার মুখ দেখতে পাচ্ছিল না।শুধু সাদা একটা ওড়না এক পাশ থেকে দেখা যাচ্ছিল আর পুরা দেহ শাহিনের আড়ালে। পেছন থেকে হৃদয় শাহিনকে ডাক দিলো। হৃদয় : শাহিন তুই ওখানে কার সাথে কথা বলছিল। হৃদয় শাহিনকে ডাকতেই মেয়েটা জেনো গাছের আড়ালে চলে গেলো। শাহিন : ওহ তুই।দেখনা দোস্ত মৌমি এসছে।কখন থেকে বলছি রুমে চলো যাচ্ছেই না।বলছে তুই রাগ করবি। হৃদয় : মৌমি তাও আবার এত রাতে।কই কোথায় ও শাহিন : এই তো এ (অবাক হয়ে) আরে এখানেই তো আচ্ছা দারা মনে হয় দুস্টুমি করে লুকিয়েছে। হৃদয় : আরে কেউ নেই এখানে শাহিন।চল এখান থেকে। শাহিন : দোস্ত তোর কি মনে হয় আমি পাগল। মৌমি আমাকে ফোন করেছিল।আর এখানে ও আছে।দাড়া আমি বের করছি।লুকিয়ে আছে গাছের আড়ালে। হৃদয় : আহ শাহিন চল কেউ নেই। শাহিন : মৌমি মজা নিও না বের হয়ে এসো। দেখো হৃদয় রেগে গেছে,,(শাহিন আম গাছের চারিদিক খুঁজেও পেলো না মৌমিকে।খুব অবাক হয়ে গেলো।)হৃদয় জোর করে শাহিনকে ধরে রুমে নিয়ে গেলো। ফিসফিসিয়ে শাহিনের কানে কানে হৃদয় বলল এই কথা জেনো ও আর কাউকে না বলে। ঘাড় নারিয়ে হ্যা বলে মন খারাপ করে শাহিন গিয়ে শুয়ে পরলো। হৃদয় শাহিনকে শুয়ে দিয়ে দরজা লাগাতে গেলো। নিজের অজান্তেই হৃদয় আম গাছের দিকে তাকালো। আবার দেখতে পেলো সেই সাদা ওড়না। গাছের আড়াল থেকে আস্তে আস্তে বেরিয়ে এলো মেয়েটা। হৃদয় ভয় না পেলেও অনেকটা ঘাবড়ে গেলো। অস্ফুট ভাবে মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো হৃদয়ের,,, (আলো) নামটা।কারণ গাছের আড়াল থেকে সাদা ড্রেস পরা আলোয় বেরিয়ে আসলো। হৃদয় আলোর চোখের দিকে এক পলকে তাকিয়ে থেকে আয়তাল কুরসি পড়া শুরু করলো। আলো ও এক ভাবে তাকিয়ে ছিল হৃদয়ের দিকে।আয়তাল কুরসি পড়া শেষ হতেই হৃদয় বিসমিল্লাহ্ বলে দরজা লাগাতে যাচ্ছিল ঠিক তখনি পিছন থেকে কেউ হৃদয় কে খুব জোরে ধাক্কা দিলো। নিজেকে সামলাতে না পেরে দরজার সাথে মাথা লেগে গেলো হৃদয়ের।ধাক্কাটা এত জোরে ছিল যে ১০-১৫ জন এক সাথে ধাক্কা দিয়েছে।হৃদয় বুঝতে পেরেছে এটা সাধারণ মানুষের কাজ না।কপালে হাত দিয়ে সাথে সাথে হৃদয় বাইরের দিকে তাকালো। বুকের মধ্যে ধক করে উঠল হৃদয়ের। কারণ শিপন আম তলার দিকে খুব দ্রত হেটে যাচ্ছে।হাত বারিয়ে ডাকতে গিয়েও কি মনে হয়ে হৃদয় পিছে ফিরে দেখে শিপন বিছানার উপর বসে হৃদয়ের দিকে তাকিয়ে হাসছে।আবার বাইরে তাকালো হৃদয় নাহ কেউ নেই। না আলো না শিপন.. রুমের সবাই উঠে বসে আছে।এত শীতেও হৃদয় ঘেমে একাকার। আহনাফ : কি হয়েছে ভাই। হৃদয় : কই কিছুনা।সবাই বসে আছো যে। শিপন : খুব জোরে আওয়াজ হল উঠে দেখি তুমি দরজা ধরে দাড়িয়ে আছো কি হয়েছে। তাহমিদ : কোনো প্রব্লেম নাকি ভাই। হৃদয় : (চুপচাপ) এজাজ : কি রে চুপ কেন। হৃদয় : আরে আর কইও না ঘুমের ঝুলে ধাক্কা খেয়েছি দরজার সাথে। শাহিন : কিছু হয়নি ভাই ঘুমা তো সব।রাত ফুরিয়ে যাচ্ছে।(শাহিনের মুখে জেনো ভয়ের ছাপ।) মামুন : হুম ঘুমায় যাও সবাই। হৃদয় মনে মনে আবার কিছু দোয়া দূরুদ পড়ে বিসমিল্লাহ্ বলে দরজা লাগিয়ে দিলো। রাত প্রায় শেষের দিকে ৩;৩০ বেজে গেছে।নানা রকম চিন্তায় যেন দম বন্ধ হয়ে আসছিল হৃদয়ের। সবাই আবার বিভোরে ঘুমিয়ে গেছে।শুধু জেগে আছে শাহিন আর হৃদয়। দূর মসজিদ থেকে ভেসে আসছে আযানের সুর। এবার একটু নিশ্চিন্তে ঘুমালো হৃদয়। মেয়েলি কন্ঠের ডাকে ঘুম ভাংল হৃদয়ের।ধরফরিয়ে উঠে বসালো। হৃদয়ের মা : কি রে এই লাফা উঠলু কি জন্যে (আঞ্চলিক ভাষা) হৃদয় : কো কিছুনা। কি হইছে ! হৃদয়ের মা : সবাই উঠে বসে আছে বাইরে উঠানে রোদে।তুই একুনো ঘুম পারতিসু রাইতে কি করচু। হৃদয় : এই তাকেই কইছে মা,, খালি বক বক ।আচ্ছা আপনি যান ওদের চা দেন আমি আসছি। হৃদয় রুম থেকে বের হয়ে দেখে ঠিক যেমন ফ্যামিলি ফটো তুলে সেই রকম পজিশনে কেউ চেয়ার কেউ মুরা কেই খেজুর পাটিতে বসে হাতে চায়ের কাপ আর বিস্কুট রোদ পোহাচ্ছে।ফ্রেশ হয়ে এসে হৃদয় ও আড্ডায় বসে পরলো। সবাই এতটা খুশি যে রাতে কিছু ঘটে গেছে কেউ জানেই না।কিন্তু আলো খুব চুপচাপ হয়ে বসে আছে। হৃদয় : ( মনে মনে ভাবছিল) রাতের কথা আর ঘটনা সবাইকে কি খুলে বলবো। না না থাক সবাই ভাববে আমি পাগলের প্রলাপ বকছি মজা নিবার জন্য।কিন্তু শাহিন,, শাহিন ও তো কিছুটা জানে।আমার কেন জানি মনে হচ্ছে এখনো অদ্ভুত কিছু আমাদের আশেপাশে আছে।আমাদের কারো কি কোনো ক্ষতি করতে এসছে।কে ও কেন এমন করছে।নাহ এদের কিছু এখনি জানানো যাবে না।আমাকে আগে এর রহস্য খুঁজে বের করতে হবে। তাহমিদ : এই হৃদয় ভাইয়া কি ভাবছেন এত হুম,, আপনার ফোন বাজছে। তাহমিদের কথাতে ভাবনার অবসান হলো হৃদয়ের।ফোন হাতে নিয়ে দেখে ঝুম কল করেছে। একটু ফাকে এসে রিসিভ করলো। হৃদয় : হ্যালো, বল পাগলী। ঝুম : তোরা এমন কেন রে ভাইয়া। হৃদয় : হিহিহিহি এমন কেমন হু। ঝুম : সব কয়টা এক সাথে হয়েছিস বলে কেউ আর ফেসবুকে আসছিস না। আমার কিছু ভালো ভালো ভালোঈ লাগছে না । হৃদয় : সরি বাবু, ঝুম : বাবু বাবু কইলি। মামুনের থেকে একটু দুরে গিয়া ক নাইলে তোর মাথা ফাটাতে পারে। হৃদয় : হুম। ঝুম : কি করছিস সবাই,,, হৃদয় : এইতো সবাই বসে আছে। ঝুম : তোর কি মন খারাপ। হৃদয় : কই না তো,, কেন ঝুম : না তোর কথাতে কেমন কেমন মনে হচ্ছে। হৃদয় : (ঝুমকে কি কিছু বলবো। নাহ ও কি করবে ও তো এখানে নেই আর ও নিজেই তো ভয়ে মরে) ঝুম : ও হ্যালো কি হলো?! হৃদয় : ঝুম একটু হেল্প করবি প্লিজ, ঝুম : হেল্প, তাও আমি। আমি করবো কেন।তোর ওতো গুলা বাদর বাদরনি গেছে তোর কাছে তারা থাকতে আমি, হৃদয় : তোর মাথা হেল্প করবি কি না বল। ঝুম : ওকে করুম।বল কি করতে হবে। হৃদয় : আমার বাড়িতে আসতে হবে তোকে। আর আসবি কাল সকালে, ঝুম : এমন ভিক্ষা চাইলি ফকির যা আমার ঘটে নেই। আমি গেলে তো আগেই যেতাম এখন কি করে যাবো দোস্ত। হৃদয় : আবে ফুরকানি রানী আমি জানি জানি তোর রাজ্যে কোনো ফকির সত্যি সত্যি ভিক্ষা পাবে না।তাই সত্যি না আমাকে মিথ্যা মিথ্যা ভিক্ষা দে মা, ঝুম : মা কইলি এচ্ছি। মিথ্যা ভিক্ষা মানে। হৃদয় : আরে ভিক্ষা করতে গেলে ভিখারিরা তো মা অথবা বুবু কইয়াই ডাকে। মিথ্যা ভিক্ষা মানে আমি এখানে এখন সবাইকে বলবো আগামীকাল সকালে তুই আসবি।আজকে বিকেলে সবাই চলে যাবে। যদি আমি বলি আগামীকাল সকালে তুই আসবি তাহলে সবাই থেকে যাবে আজকের রাতটা। আমার খুব দরকার আজকের রাতটা এখানে সবাইকে রাখার।প্লিজ ঝুম তুই শুধু মামুনকে একটু ফোনে বল যে তুই কাল সকালে আসবি। ঝুম : হুম বুঝলাম তোর কথা।মানে আমাকে মিথ্যা বলে ওদের ওখানে কাল অব্দি রাখতে হবে।সে না হয় রাখলাম। কিন্তু এটা বল কি সেই খুব জরুরী কাজ যার জন্য ওদের রাখতেই হবে। হৃদয় : সব কথা আমি তোকে sms করে বলছি ফোনে বলা যাবে না।আগে তুই মামুনের সাথে কথা বল আমি অকে ফোন দিচ্ছি। ঝুম : ওকে দে,,, হৃদয় ফোন নিয়ে গিয়ে মামুন কে দিলো। হৃদয়ের কথা মত ঝুম মামুনকে বলল কাল সকালে ও গোকুল(হৃদয়ের বাড়ি) পৌছে যাবে।তাই আজকেও জেনো সবাই থেকে যায়। মামুন সহ সবাই খুব খুশি হলো ঝুমের আসার কথা শুনে।সবাই থেকে যেতে চাইলেও আলো আর শিপা থাকতে চাইছিল না কারণ ওদের বাড়ি থেকে বার বার ফোন করছে। সবাই মানিয়ে নিয়ে একটা দিন থাকার জন্য ফোনে রাজি করালো আলো আর শিপার বাড়ির লোককে। রাতে চারপাশ যতোটা ভয়ানক হয়ে গেছিল দিনে তার লেশ মাত্র নেই।হৃদয় বাজার করার অজুহাত দিয়ে আজকে সোহেলের সাথে সবাইকে ঘুরতে পাঠাতে চাইলো। কিন্তু ছেলেরা যেতে চাইলো না।সবাই বায়না ধরলো সবাই বাজার করতে যাবে।কিন্তু হৃদয় ও নাছোড় বান্দা।জিদ করে করে সোহেলের সাথে সবাইকে ঘুরতে পাঠালো। হৃদয় বাজারে গিয়ে নিজের কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস আর রান্নার জিনিস কিনে নিয়ে গেলো। বাজার থেকে ফিরে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে কি জেনো করছিল। হৃদয়ের মা কয়েক বার ডেকে গেছে সাড়া দেইনি।তিনি ভাবলেন হয়তো ঘুমিয়ে গেছে।২ ঘন্টা পর সবাই বাড়িতে এলো। এসে দেখে হৃদয় দরজা লাগিয়ে ঘুমাচ্ছে। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর ঘুম ঘুম চোখে দরজা খুলে দিলো হৃদয়। হৃদয় সবাইকে ঘরে ঢুকতে মানা করলো। বলল দুপুরের খেয়ে বেহুলা লক্ষিন্দারের ঘর দেখতে যাবে।কাল সময় কমের জন্য দেখতে পারেনি। কেউ আপত্তি করলো না।খেয়ে বেরিয়ে পরলো। সারা বিকেল ঘুরে বাসায় আসার সময় চটপটি, আর ফুসকা খেয়ে বাড়ি ফিরলো সবাই। বাড়ি ফিরতে ফিরতে প্রায় রাত ৮ টা বেজে গেলো। এরি মধ্যে মামুনের ফোনে ঝুমের কল,, মামুন :হ্যালো বাবু বলো। ঝুম : আমি কাল সকালে না আজ রাত ১২ টার আগেই পৌঁছে যাবো। সোহেল কে বলা আছে আমাকে নিতে আসবে স্টপেজে। তোমরা প্লিজ ঘুমিয়ে যেওনা। মামুন : ঠিক আছে বাবু,,কিন্তু শুধু সোহেল কেন আমরাও যাবো আনতে ওকে। ঝুম : না শুধু সোহেল আসবে আর কেউ না ওকে। মামুন : আমিও যায় না ঝুম ,, ঝুম : বাংলা কথা বুঝিস না,,, মামুন : রাগ করো ক্যান ঝুম : যাহ আমি যাবোই না। মামুন : এই না না আমি বা কেউ তোকে আনতে যাবে না। শুধু সোহেল যাবে,,,,হয়েছে। ঝুম : হুম । মামুন : তুই একবার আয় তোর সব রাগ আমি বেলুনের মধ্যে ভরে আকাশে উড়িয়ে দিবো। ঝুম : আমি কি বসে থাকব। আমি তোর চুলে আগুন ধরিয়ে দিবো। মামুন : এমন বলিস ক্যান কস্ট পাই ঝুম : ঢং বাই এখন। মামুন সবাইকে জানিয়ে দিলো ঝুম রাত ১২ টার আগেই চলে আসবে। হৃদয় : তাহলে আজ না ঘুমিয়ে এক সাথে চল সবাই আমার রুমে আড্ডা দেই।আর ঝুম আমাকে বলেছিল ও সোহেলের সাথে আসবে।চল সবাই খেয়ে নেই। আহনাফ : পরে খায়।ঝুম এলে এক সাথে খাবো সবাই এজাজ : হুম গুড আইডিয়া। হৃদয় : ওকে সবাই ভিতরে চল বাইরে শীত লাগছে খুব। ছেলে মেয়েরা সবাই হৃদয়ের রুমে গেলো গেলো। কিন্তু রনি আর তিশা বারান্দায় দাড়িয়ে রইলো। ওদের পেছনে দাড়িয়ে ছিল হৃদয়। হৃদয় : কি রে রনি ভেতরে চল। রনি : হুম যাচ্ছি তুই যা দোস্ত,, হৃদয় : তোদের কি মন খারাপ। ও বুঝতে পেরেছি আসলে নতুন বিয়ে নতুন বউ কোথায় একা সময় কাটাবি তা নয় আমাদের ভেড়ার দলে পরে সব শেষ । তিশা : ভেড়ার দল হিহিহিহি । রনি : কি যে বলিস না তুই দোস্ত। শাহিন : কিরে তোরা কি আসবি না ভেতরে। হৃদয় : আসছি আসছি, হুম চল রনি তিশা চলো ভেতরে চলো। হৃদয় রনি আর তিশার পিছনে দাড়িয়ে ছিল। তিশা আগে ঢুকতে গেলো ভিতরে কিন্তু কিছু একটা শক্ত জিনিসের সাথে ধাক্কা খাবার পর যেমন ছিটকে পরে তিশা ঠিক তেমন ছিটকে এসে রনির গায়ে পরলো। রনি : কি হয়েছে তিশা। হৃদয় : কি হলো তিশা। শরীর ঠিক আছে তো। ভেতর থেকে সবাই বাইরে বেরিয়ে এলো শোরগোল শুনে। শিপন : কি হয়েছে। হৃদয় : জানিনা তিশা কেমন করে উঠল। তিশা : না না আমি ঠিক আছি হঠাৎ কেমন করে উঠে ছিল মাথার ভেতর। তিশা কথাটা বলে রনির চোখের দিকে কেমন এক করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। হৃদয় : ( মনে মনে) আমার যা বোঝার ছিল বুঝে ফেলেছি রনি আর তিশা। এই রনি চল চল তিশাকে ভেতরে নিয়ে চল। তিশা : না না আমি একটু বাইরেই থাকতে চাই। আলো : আরে পাগলী মেয়ে এসো আমি তোমায় নিয়ে যাচ্ছি আসো। সবার জোরাজোরিতে তিশা ভেতরে যেতে রাজি হলো।দরজার সামনে পা রাখতে খুব ভয় পাচ্ছিল তিশা।কিন্তু এবার আর কোনো প্রব্লেম হল না।রনিও ভেতরে গেলো। তিশাকে আলো একটা চেয়ারে বসিয়ে দিলো। বাইরে হৃদয় ওর মা বাবা আর বোনকে খেয়ে ঘুমাতে বলে দিলো। শীতের ঠান্ডা হাওয়া রুমের ভেতর ঢুকছিল তাই হৃদয় দরজায় ছিটকানি আটকিয়ে দিলো। সবার মুখ হাসি খুশি কিন্তু শাহিন,রনি আর তিশার মুখে জেনো কালো মেঘ নেমে ছিল। মামুন : সবাই কি চুপ করে থাকবে।চলো গান নিয়ে আড্ডা দেই। অনুপ : গান নিয়ে আড্ডা, মামুন : হুম গান নিয়ে আড্ডা। আমরা ২ দলে ভাগ হয়ে যাবো এক দলের একজন একটা গান করবে সে যেখানে গানটা শেষ করবে ওপর দলের লোক সেই গানের শেষ অক্ষর দিয়ে গান করবে,,ওকে। শাহিন : ওকে রাজি,,, আলো : এও আমি মামুনের দলে,,, একে একে সবাই বলল আমি মামুনের দলে আমি মামুনের দলে, মামুন : এই চুপ সবাই আমার দলে হবি তো আরেক দলে কে হবে।আচ্ছা এটা বল তো সবাই আমার দলে হবি ক্যান। হৃদয় : হাহাহা আমি বলি আমি বলি,,,গ্রুপে ঝুম বলেছিল একদিন তোর সাথে গানের গেম খেললে তুই নাকি বানিয়ে বানিয়ে মিলিয়ে মিলিয়ে গান লিখে ফাস্ট হস। তাই,,, মামুন : যাহ সবাই দেখছি চালাকি টা জেনে গেছে,,,হিহিহি হৃদয় : উম হু ছি ছি এমন গন্ধ কিসের,, অনুপ : ওয়াক এচ্ছি এজাজ : কিসের গন্ধ এমন,, শাহিন : ছি ছি মনে হয় কেউ দুস্টু বায়ু ছেড়েছে,,ছি আলো : দুস্টু বায়ু শিপা : উমহ কি গন্ধ শিপন : দুস্টু বায়ু কি রে ভাউ। বাংলায় বল। আহনাফ : হিহিহি হেহেহেহে দুস্টু বায়ু চিনে না। শিপন :.. এজাজ : দুস্টু বায়ু,, হেহেহেহে হৃদয় : আচ্ছা আচ্ছা চুপ চুপ আমি পারফিউম স্প্রে করছি। হৃদয় একটা পারফিউম স্প্রে করে দিলো সারা ঘরে।দুস্টু বায়ু দুস্টু বায়ু নিয়ে সবাই খুব মজা করছিল।কিন্তু পারফিউম স্প্রে করার সাথে সাথে রনি আর তিশা হঠাৎ বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো। তিশা আর রনির চোখ মুখের অবস্থা কেমন ভয়ানক হয়ে গেলো। রনি ধাক্কা দিয়ে হৃদয়কে ফেলে দিলো। সবাই অবাক হয়ে গেলো রনি আর তিশার এমন আচরণ দেখে। সবাই রনিকে ধরতে গেলো সবাইকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে লাগলো রনি আর তিশা। শিপন : আরে আরে কি হচ্ছে এসব। রনি তিশা কি হয়েছে এমন করছো কেন তোমরা। তিশা : এএই কি ক্ষতি করেছি হু কি ক্ষতি করেছি। কিছু করিনি এখনো কিছু না।তুই এটা কি স্প্রে করলি আমাদের সারা গা জলে যাচ্ছে আ আ আ, তিশা আর রনির কন্ঠ কেমন অদ্ভুত শুনালো।মনে হচ্ছে খুব চাপা কন্ঠে এক সাথে অনেক জন কথা বলছে।সবাই ভয় পেয়ে গেলো। হৃদয় : তোরা কেউ রনি আর তিশার গায়ে হাত দিচ্ছ না। আমার সাথে যা কিছু হয়ে যাক না কেন কেউ দরজা খুলবি না কেউ না।সবাই বিছানার উপর উঠে যা আর যা যা হয় সেটা শুধু দেখে যা। তাহমিদ : কি বলছো কি হৃদয়। রনি আর তিশা এমন করছে কেন। হৃদয় : যেটা বলছি সেটা কর সবাই।এরা রনি আর তিশা না ওদের আত্মা কথাটা শুনে সবার বুকের মধ্যে ধপ করে উঠল। এত দিন শুধু আত্মাদের নিয়ে গল্প কাহিনি লিখেছে সবাই।আজ সত্যি সত্যি দেখবে এটা ভাবতে পারেনি কেউ। হৃদয়ের কথা মত সবাই বিছানার উপর উঠে বসলো। তিশা সবার কাছে নিজেদের প্রাণ ভিক্ষা চাইবার জন্য এগিয়ে গেলো কিন্তু বিছানার সাথে ওর শরীর ঠেকতেই অনেকটা দুরে ছিটকে পরলো তিশা। এতে রনি আর তিশা আরও বেশি রেগে গেলো। রনি রাগে তেরে গেলো হৃদয়ের দিকে। তখনি হৃদয় আবার সেই পারফিউম রনি আর তিশার দিকে স্প্রে করালো। পিছাতে পিছাতে রনি আর তিশা রুমের এক কোণে চলে গেলো। হৃদয় ওদের ২ জন কে মাঝখানে রেখে একটা বৃত্ত একে দিলো পারফিউম দিয়ে।এক নিমিষে রনি আর তিশার চেহারা কেমন পাল্টে গেলো। চোখের নিচে কালি পরেছে,চুল কাকের বাসার মত শরীরের অনেক জায়গায় কেটে রক্ত ঝড়ছে রনি আর তিশা বৃত্তের মধ্যে থেকে বের হতে পারছিল না। এবার সবাই বিছানা থেকে নিচে নেমে এলো। সবাই তিশা আর রনির দিকে এক পলকে তাকিয়ে রইলো। তিশা রনির বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদছিল। রনির হাত পায়ে যেখানে যেখানে রক্ত বের হচ্ছিল তিশা খুব আলতো করে ছুঁয়ে দিচ্ছিল আর কাঁদছিল। এমন করুন দৃশ্য দেখে সবাই কেঁদে ফেললো। তিশা : আ আ আমি সবার পায়ে পরি দয়া করুন আমাদের। আমাকে যা শাস্তি দিবার দিন কিন্তু অকে ছেড়ে দেন।ওর খুব কস্ট হচ্ছে। (হাত জোর করে কাঁদছিল তিশা) রনি : না না তোমরা ওর কথা শুনো না।আমাকে না প্লিজ হৃদয় তুমি তিশাকে ছেড়ে দাও।আমার ভুলের মাশুল ও কেন পাবে। তিশা সরি। আমাকে ক্ষমা করে দাও।আমার জন্য এমন হল তোমার। হৃদয় : ভুলের মাশুল,, কিসের ভুল। এজাজ : দাড়াও দাড়াও ,, রনি রনি তোর এমন কি হল।আমরা কিছু বুঝতে পারছিনা রনি।আমাদের সত্যি খুব কস্ট হচ্ছে তোদের এমন দেখে।কি হয়েছে রনি বলনা। মামুন : হৃদয় ওরা আমাদের তো কোনো ক্ষতি করেনি ছেড়ে দাও ওদের। হৃদয় : ওরা ক্ষতি করেনি বলছিস তোরা।কি জানিস তোরা কিচ্ছু না কিচ্ছু না।শাহিনকে জিগা কি করেছে ওরা।তারপর নাহয় বাকিটা আমি বলবো। , শিপন : শাহিন কি হয়েছে রে। শাহিন : থাক না এসব।হৃদয় ছেড়ে দাও ওদের। শিপা : শাহিন বল কি হয়েছে। অনুপ : আচ্ছা আহনাফ তুই তো ওদের সাথে এসছিলি বিয়েতে তুই সব কিছু লুকালি কেন। আহনাফ : বিশ্বাস কর আমি কিছু জানতাম না।আর ওরাও আমার কিছু করেনি। তাহমিদ : শাহিন কি হয়েছে বল। মামুন : চুপ করে আছিস কেন শাহিন। হৃদয় : তুই বলবি না আমি বলবো শাহিন। শাহিন : আমিই বলছি,, । গতকাল অনেক রাতে আমার ফোনে অরিন্তির(মৌমি) কল আসে।অরিন্তি আমাকে বলল যে ও এখানে এসেছে।এতে আমার একটু ও অবাক লাগেনি।আমি অকে দেখার জন্য কাছে পাবার জন্য এতটা ব্যাকুল হয়ে গেছিলাম যে সব ভুলে গিয়েছিলাম এত রাতে অরিন্তি এখানে কি করে আসবে তাও একা আর অচেনা জায়গায়। অরিন্তি আমাকে বাইরে যেতে বলে আমি গিয়ে দেখি ও উঠানে আম গাছের নিচে দাড়িয়ে ছিল।অনেকক্ষণ কথা বলার পর হৃদয় সেখানে যায় গিয়ে আমাকে বুঝায় কেউ নেই।সত্যি তখন অনেক খুঁজেও আমি অরিন্তি কে পাইনি।রুমে এসে দেখি ফোনে ওর কোনো কল নাম্বার নেই। এসব কথা সবাইকে বলতে মানা করেছিল হৃদয়। হৃদয় : শুধু কি শাহিনের সাথে হয়েছে, মামুন নিখোঁজ হবার পিছেও ওরা ছিল। মামুন :.. এজাজ : কিরে মামুন সত্যি নাকি? মামুন : জানিনা এর পিছে ওরা ছিল কি না। আলো : তুই সবার থেকে কই চলে গিয়েছিলিস। মামুন : গোবিন্দভিটা থেকে ফিরার পথে মনে হল কেউ আমায় কিছু দিয়ে ঢিল মারলো।সাইডে তাকিয়ে দেখি ঝুম। আহনাফ : ঝুম মামুন : হুম ঝুম। আংুল দিয়ে ইশারা করছিল ওর কাছে যেতে।আমি ভেবেছিলাম সারপ্রাইজ দিবার জন্য হয়তো এসেছে ঝুম।আমি ওর পিছু পিছু যায়। শিপন কে বলেই গেছিলাম একটু আসছি। কিন্তু বলিনি যে ঝুমের কাছে যাচ্ছি।আমি যতই ওর দিকে যাচ্ছিলাম ততোঈ ও দৌড়ে পালাচ্ছিল।। এক সময় একটা দেওয়ালের আড়ালে গিয়ে দেখি কেউ নেই।হঠাৎ মাথা ঘুরে গেলো জ্ঞান হারায়। জ্ঞান ফিরে দেখি হাসপাতালে। সবাই ভাববে আমি ঝুমকে মিস করে ফেলেছি একটু বেশি তাই এমন হয়েছে।রাগাবে ভেবে কাউকে কিছু বলিনি। হৃদয় : এবার বল তোরা কিসের জন্য আমাদের ইমোশনাল নিয়ে খেলা করলো ওরা।সেই সময় যদি মামুনের কাছে তাহমিদ না যেত তাহলে কি হত।যদি কাল রাতে আমি শাহিন কে দেখতে না পেতাম তাহলে কি হত।শুধু কি তাই,,আমি রাতে ঘুম থেকে জেগে দেখি উপরে তোদের মাঝে একজন মেয়ে চুল খুলে শুয়ে ছিল।শাহিনের কাছে যেতে গিয়ে দেখি অনুপ ঘরে ঢুকছে।কিন্তু ও অনুপ নয়।শাহিনকে রুমে আনার পর বাইরে তাকিয়ে দেখি আম তলায় আলোর রুপ নিয়ে দাড়িয়ে আছে আর আমি দরজা আটকে দিতে যাবার সময় আমাকে খুব জোরে ধাক্কা দিয়েছিল শিপন মামার রুপ নিয়ে।আমার সেই ধাক্কায় আওয়াজে তোরা সবাই জেগে গেছিলিস। পিছনে তাকিয়ে দেখি শিপন বিছানাতে। কিসের জন্য এমন করেছে বলতে বল। রনি : ( কস্ট ভরা মুখে)বিশ্বাস কর সবাই আমি কারো ক্ষতি করতে চাইনি।আমি দেখেছিলাম মামুন বার বার ঝুমের কথা বলছিল যে যদি ঝুম আসতো খুব মজা হতো। তাই ভেবে ছিলাম যদি কিছুক্ষণের জন্য ঝুমের রুপ নিয়ে মামুন কে খুশি করা যায় কিন্তু কিছু দুর যাবার পরেই মাগরিবের আযান পরে যায়। তখন তিশা আর থাকতে পারেনি।ওটা তিশা ছিল। ঠিক তেমনি শাহিনের সাথে হয়েছিল।এগুলা তিশা করতে চাইনি শুধু আমার অনুরোধমত করেছিল।আমি চেয়েছিলাম আমার বন্ধুরা একটু খুশি থাক।আর হৃদয় তুই বিছানাতে যাকে দেখেছিলিস ঠিকি দেখেছিলিস ওটা তিশা ছিল।তিশা আমাকে ছাড়া ঘুমাতে পারেনা তাই আমার কাছে এসে ছিল। শাহিনকে রুমে আনার পর আমি রুম থেকে বের হতে যায় তিশা ঠিক আছে নাকি দেখার জন্য আমি একটু জোরে বের হতে লেগেছিলাম তখনি হৃদয়ের সাথে ধাক্কা লাগে।ও ব্যথা পায়।সরি রে দোস্ত। রনি আর তিশার কথা শুনে হৃদয় হাটু গেড়ে নিচে বসে পরে।অঝোরে কাঁদছিল সবাই। রনি : জানিস তো দোস্ত আমি আমার কথা রেখেছি। আমি বলেছিলাম তোদের সাথে ঘুরবো। আমি আমার কথা রেখেছি।তোদের সারপ্রাইজ দিবো ভেবেছিলাম তিশাকে এনে।এনেওছি কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে আনতে পারিনি(কাঁদছিল রনি আর তিশা) । আমি তিশাকে নিতে ওর বাসায় যায়।গিয়ে দেখি তিশাকে ওর মামী খুব মারছে।আমি ধরতে যায়। যেখানে খুব বড় ঝামেলা হয়ে যায় তিশার মামা আমাকে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে সেখানেই আমার মৃত্যু হয়।তিশা ওর মামা মামীর দিকে রুখে যেতেই তারা তিশাকেও মেরে ফেলে।ওদের বাড়ির পিছে আমাদের দুজনের লাশ পুঁতে রেখেছে।আমাদের অতৃপ্ত আত্মা মুক্তি পাইনি। আহনাফ কে আমিই ডেকে ছিলাম।আমার খুব ইচ্ছে ছিল সবাইকে দেখার তাই এই লোভ সামলাতে পারিনি। তিশাকে জোর করে নিয়ে এসেছিলাম।আমার এই ভুলের শাস্তি আমাকে দাও কিন্তু তিশাকে ছেড়ে দাও প্লিজ। ও খুব অসহায়। বেচে থাকতে এক বিন্দু সুখ পাইনি এখন মরেও যন্ত্রণা ভোগ করছে আমার জন্য। রনির কথা শুনে সবার জেনো বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো। হৃদয় মাটিতে বসে ২ চোখ বন্ধ করে অনেকক্ষণ বসে ছিল। সবাই শুধু চুপচাপ দেখছিল।প্রায় ১০ মিনিট পর হৃদয় উঠে দাড়ালো। হৃদয় : আমায় ক্ষমা করে দিস রনি,, সরি তিশা। রনি তোরা মুক্ত বেরিয়ে আয় ওখান থেকে।, চলে যাবি তোরা রনি। রনি : হুম রে দোস্ত চলে যেতে হবে।এখন আর এই জগতে আমরা থাকতে পারবো না।১২ টা বেজে গেছে আরেকটু পর ঝুম আসবে। আমার খুব ইচ্ছে ঝুমকে দেখার।শুধু আমি না তিশারও খুব ইচ্ছে ঝুমকে দেখার।কারণ আমার গল্পে ঝুম আমার বন্ধু ছিল এক সময় একটু হিংসে ও করেছিল। ঝুম এলে আমরা অকে দেখেই চলে যাবো।, রনির কথা শেষ না হতেই হৃদয় রনিকে জরিয়ে ধরতে গেলো। কিন্তু রনি জেনো হাওয়া হয়ে আছে। ধরতে পারছে তাকে। হৃদয় : রনি এটা কি হল।আগে তো ধরতে পারতাম। তিশা : এখন আর পারবেন না ভাইয়া।কারণ আপনার মন্ত্র বলে আমাদের সব শক্তি শেষ।। হৃদয় : আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছে এখন। প্লিজ প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দে রনি।আমি এমনি হতভাগা বন্ধু যে তোদের এত কস্ট দিলাম আর তোদের ইচ্ছেটা পূরণ করতে পারছিনা।ঝুম আসছে না । এজাজ : ঝুম আসছে না মানে। হৃদয় : হুম ঝুম আসছে না।ঝুম আমার কথা মত অভিনয় করেছে শুধু।যদি ঝুম এই কথা না বলতো তাহলে সবাই আজ চলে যেতে। তোমাদের আজ রাত রাখার জন্য আমার এই কাজটা করে দিয়েছে ঝুম।আজ না থাকলে আমি প্রমাণ করতে পারতাম না এই সব। তোমাদের সকালে ঘুরতে পাঠায়ে আমি এক হুজুরের থেকে পানি পরা নিয়ে এসে সারা ঘরে দেই।পরানো চক দিয়ে খাটের চারিদিক দাগ দিয়েছি।আর এই পারফিউম টাও মন্ত্র করা।সারা ঘর মন্ত্র করেছি কিন্তু দরজার কাছে একটা পাটকাঠি মন্ত্র করেছিলাম যেটা পেরিয়ে তিশা ভেতরে ঢুকতে পারেনি।পরে সবার আড়ালে ওটা সরিয়ে ফেলি আর তিশা রনি ভেতরে ঢুকতে পারে।। রুমে দুস্টু বায়ু টাও আমারি কারসাজি। মামুন : আমার একটা কথা ছিল। এজাজ : কি কথা,, মামুন : আমরা তো চাইলে রনি আর তিশাকে মুক্ত করতে পারি।আমরা ওদের লাশ তুলে দাফন করতেই পারি। রনি : নাহ না এই কাজটা করো না প্লিজ। মামুন : কেন রনি,, তিশা : আমাদের দাফন করলে দুই কবরে করা হবে। আর দাফন করার পর যদি আমরা দুজন এক না হতে পারি।তার চেয়ে আমরা এমনি থাকবো। আমরা তো কারো ক্ষতি করবো না বা করছি না। কেউ আর কিছু বলল না।রাত প্রায় শেষ। রনি আর তিশা সবার থেকে বিদায় নিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো। বাকিটা সময় সবাই চুপচাপ বসে কাটিয়ে দিলো। সকালবেলা সবাই উঠানে দাড়িয়ে ছিল। শিনহা আর হৃদয়ের বাবা মা সবাইকে বার বার রনি আর তিশার কথা জিজ্ঞেস করছিল। শিপা চুপটি করে জবাব দিলো ওরা রাতে জরুরী ভাবে রাতে চলে গেছে।মামুনের ফোন বেজে উঠল একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে। হাতে ফোন নিয়ে দাড়িয়ে রইলো মামুন রিসিভ না করে। এজাজ : কিরে মামুন কার ফোন রিসিভ করছিস না ক্যান। মামুন : জানিনা কে।অপরিচিত নাম্বার। আলো : আরে পাগলা রিসিভ কর ঝুম ও তো হতে পারে। সবার কথাতে মামুন পরের বার রিসিভ করলো। ওপাশ থেকে এক জন ছেলে মানুষের কন্ঠ ভেসে এলো ওপাশ থেকে অপরিচিত কন্ঠ শুনে মামুনও একটু ঘাবড়ে গেলো। মামুন : হ্যালো কে বলছেন? আমি শিহাব রাহমান,,আপনার সাথে আমার কিছু কথা ছিল। মামুন : হ্যা বলুন। লোকটার সাথে মামুন খুব হাসিখুশি ভাবে কথা বলছিল সবার থেকে একটু দূরে গিয়ে তাই কেউ বুঝতে পারছিল না কি কথা হচ্ছে (আমিও কিন্তু শুনতে পাইনি ) কথা শেষে মামুন সবার কাছে ফিরে এলো। মামুন : সবাইকে আমার কিছু কথা বলার ছিল। হৃদয় : কি কথা? তাহমিদ : কে ফোন করেছিল ভাইয়া। মামুন : বলছি।আচ্ছা আমরা এখান থেকে কখন বের হচ্ছি সেটা আগে বলো সবাই। এজাজ : সকালের খেয়েই বেরিয়ে পরতে হবে। মামুন : যদি এখান থেকে বাসায় না গিয়ে আমার সাথে আর একটা দিন অন্য জায়গায় কিছুক্ষণের জন্য সবাই যাও তাহলে কি প্রব্লেম হবে। শিপন : অন্য জায়গায়। অন্য জায়গা বলতে কোথায় মামুন। মামুন : উম্ম সেটা হল গিয়ে,,, ঝুমের বাসায়। অনুপ শাহিন তাহমিদ আহনাফ এজাজ আলো শাহিন শিপন শিপা হৃদয় (সবাই অবাক) মামুন ; কি হল সবাই হা করে আছো কেন।মাছি ঢুকবে তো। হৃদয় : নাহ কেউ যাবেনা।কেন যাবে সবাই ও এসছিল কি আমাদের বাসায়(হৃদয় কিন্তু পাক্কা হিংসে )আসেনি।তাই আমরাও যাবো না।(মন বলছে ছুটে যায় আর মুখ বলছে যাবো না।কি ভ্যাগ হুম ) মামুন : আমরা তো সবাই জানি ঝুম কেন আসতে পারে নাই। শাহিন : আমি যাবো না। আমার ইচ্ছা নাই ঝুমের মায়ের হাতে মাইর খাওয়া।উনি হেব্বি রাগী।(সবাই এক মত।কি বিপদ কি বিপদ) মামুন : আরে এমন ভাবছিস কেন সবাই।জানিস কে কল করেছিল। আহনাফ : কে? মামুন : ঝুমের বাবা। আলো : কিহ! মামুন : হুম,, উনি বলছেন আমাদের সবাইকে যেতে আর বলেছেন যেন আজ রাতেই পৌছে যায়।কাল ১ তারিখ। পহেলা জানুয়ারি,,কাল ঝুমের জন্মদিন। কিন্তু হ্যা উনি বারন করেছে আমাদের যাবার কথা যেন ঝুম না জানে। হৃদয় : কিন্তু আমরা তো চিনি না ওর বাসা। মামুন : আমরা এখানে আসার আগে ঝুমের সাথে যেখানে দেখা করেছিলাম সেখানেই নামবো আর আংকেল আমাদের জন্য গাড়ি পাঠাবে বলেছে। এজাজ : তাহলে তো চিন্তা নেই।এখনি খেয়ে বেরিয়ে পরি। সবাই রাজি কিন্তু আলো, শিপা আর তাহমিদ যেতে পারবে না।কারন আলো আর শিপার বাসা থেকে বার বার ফোন করছে আর তাহমিদের বাসায় যেতে হবে আজকেই।তাই সোহেল,হৃদয়,এজাজ,শাহিন,অনুপ, আহনাফ, মামুন আর শিপন যাবে।খেয়ে রেডি হয়ে বেরিয়ে পরলো সবাই। মাঝ রাস্তায় আলো, শিপা আর তাহমিদ নেমে গেলো। গাড়ি এসে কড্ডায় থামলেন। রাত হয়ে গেছে অনেক।মামুন ফোন দিলো ঝুমের বাবা কে।গাড়ি চলে এলো। ঝুমের বাসায় পৌছাতে রাত ১১;৩০ বেজে গেছে।সবাই গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করলো। মনে হচ্ছিল সারা বাড়িতে কেউ নেই।কিন্তু দরজা খুলে রাখা।সারা বাড়ি অন্ধকার। সবাই ভেতরে ঢুকতেই আলো জলে উঠল। সবাই অবাক হয়ে গেলো সারা বাড়ি খুব সুন্দর করে সাজানো ফুল আর রংি ন বেলুন দিয়ে।ঝুমের মা আর বাবা এসে সবার সাথে পরিচিত হল। ১১;৫৫ বাজে আর ৫ মিনিট পর ঝুমের জন্মদিন। সারপ্রাইজ দিবে বলে ঝুমকে কেউ জানায়নি।ঠিক ১২ টাই সবাই ঝুমকে চমকে দেবারজন্য এক সাথে ঝুমের রুমে ঢুকে আলো জালিয়ে হ্যাপি বার্থডে! বলে উঠল। কিন্তু আলো জালিয়ে ঝুমকে সারপ্রাইজ করতে গিয়ে উল্টে সবাই সারপ্রাইজ হয়ে গেলো। রুমে কোথাও ঝুম নেই।বাথরুমেও নেই।হয়তো লুকিয়ে আছে ভেবে সবাই ডাকতে লাগলো কিন্তু কোনো সারা নেই।৩০ মিনিট পার হয়ে গেছে।এবার সবার মধ্যে ভয় চলে এলো। ঝুমের রুমের সাইডে বেলকোনিতে গেলো মামুন।সামনে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় কাউকে জেনো দেখা যাচ্ছে।সবাই দৌড়ে নিচে গেলো। বাগানে একটা ব্রেঞ্চের উপর বসে হাসছে ঝুম। দেখে মনে হচ্ছে কারো সাথে কথা বলছে ঝুম। ঝুমের বাবা : ঝুম ওমন করছে ক্যান। শাহিন : ওরা ২ জন এখানেও। হৃদয় : হাহাহাহাহা খুব ভালো হয়েছে । ওরা এসছে বলে। ঝুমের মা : কি বলছো তোমরা। কাদের কথা বলছো। মামুন : আরে আন্টি দেখতে পাচ্ছেন না রনি আর তিশাকে। ঝুম তো রনি আর তিশার সাথে গল্প করছে। হৃদয় সবার দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলল হয়তো ঝুমের মা বাবা দেখতে পাচ্ছে না ওদের কিন্তু আমরা সবাই দেখতে পাচ্ছি।হৃদয় সব কথা খুলে বলল উনাদের। সবাই এক সাথে গিয়ে ঝুমকে উইশ করলো।সবাইকে দেখে ঝুম চমকে গেলো আর খুব খুশি হল। কিন্তু রনি আর তিশা একটু ভয় পেয়ে গেলো। তিশা রনির পিছে লুকিয়ে গেলো। রনি : স্যরি প্লিজ ক্ষমা করে দিও।আমি আসতে চাইনি কিন্তু তিশা খুব মন খারাপ করে ছিল।ওর ইচ্ছা ঝুমকে দেখবে। আমি ওর মন খারাপ করা সয্য করতে পারিনা।প্লিজ মাফ করে দিস সবাই। এজাজ : আমরা রাগ করিনি বরং খুশি হয়েছি। থ্যান্কস দোস্ত। লাভ ইউ.. রনি : লাভ ইউ টু দোস্ত। সবাই এক সাথে ঝুমের জন্মদিন পালন করলো খুব মজা করলো বাকি রাত টুকু। রনি আর তিশাকে শুধু মাত্র তার বন্ধুরা ছাড়া আর কেউ দেখতে পায়না। চলতি পথে বন্ধুর সাথে ঝগড়া, মাস্তি,রাগ অভিমান সব হবে তাই বলে মাঝ পথে হাত ছেড়ে কখনো চলে যেওনা। ভালো থেকো তুমি, ভালো থেকো তোমরা সবাই।
Ads:

COMMENTS

Name

অন্য বিষয়ের উপর লেখা ইবুক কবিতা গল্প/কবিতা লেখার প্রতিযোগিতা জীবনের সত্য ঘটনা থ্রিলার গল্প দেশের গল্প পিশাচ কাহিনী ভালোবাসার গল্প ভৌতিক গল্প রম্য গল্প রহস্য গল্প সায়েন্স ফিকশন হরর গল্প
false
ltr
item
Bengali pdf and story blog: ভূত-গোয়েন্দাদের ট্যূর প্রোগ্রাম লেখা তাসফিয়া তানহা ঝুম
ভূত-গোয়েন্দাদের ট্যূর প্রোগ্রাম লেখা তাসফিয়া তানহা ঝুম
https://3.bp.blogspot.com/-ADIxFCTV4Ac/WjKhQVbJxJI/AAAAAAAAAe0/hw8hEaheFzAsFGcytCbCZFfRMyhOXM0nwCLcBGAs/s320/1513267428494.jpg
https://3.bp.blogspot.com/-ADIxFCTV4Ac/WjKhQVbJxJI/AAAAAAAAAe0/hw8hEaheFzAsFGcytCbCZFfRMyhOXM0nwCLcBGAs/s72-c/1513267428494.jpg
Bengali pdf and story blog
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2017/12/blog-post.html
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2017/12/blog-post.html
true
7257552463787474279
UTF-8
Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy