অন্যরকম রহস্য লেখা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন

রাত এগারোটার একটু বেশি হবে। আবির দৌঁড়ে রুমে ঢুকেই বিছানাতে শুয়ে পরে।কী ব্যাপার! হঠাৎ করেই এভাবে আবির রুমে ঢুকেই বিছানাতে হেলিয়ে পরবে এটা ক...

রাত এগারোটার একটু বেশি হবে। আবির দৌঁড়ে রুমে ঢুকেই বিছানাতে শুয়ে পরে।কী ব্যাপার! হঠাৎ করেই এভাবে আবির রুমে ঢুকেই বিছানাতে হেলিয়ে পরবে এটা কখনোই ভাবিনি।আমি পাশেই বসে। পাশে টেবিলটা ছিলো ওখানেই বসে ফেসবুক ঢুঁ মারছি।দৌঁড়ে আসার সময় দরজাটা লাগতে ভুলে গিয়েছিলো রুমের।

মোবাইলের স্ক্রিনের মনোযোগ আমার, প্রশ্ন করলাম, কি করে আবির হঠাৎ এভাবে দোঁড়ি এলে কেনো? প্রশ্ন করার পর একটু অপেক্ষা করার পরেও কোনো সাড়া শব্দ বা প্রশ্নের জবাবও পেলাম না। চেয়ারটা ঘুরিয়ে ওর মুখি হয়ে আবারও প্রশ্ন করলাম।

কি রে আবির এভাবে দৌঁড়িয়ে এলি কেনো? কোনো প্রবলেম হয়েছে কী? বিছানাতে শুয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে আবির। ব্যাপারটা ভালো ঠিকছে না। চেয়ার থেকে উঠে ওর মাথার পাশে গিয়ে বসলাম।

পানি, একটু পানি দে আগে।

বাড়তি কোনো প্রশ্ন না করে টেবিলে রাগা জগ থেকে গ্লাসে করে পানি এনে আবির কে দিলাম। এক নিঃশ্বাসে পুরো পানি খেয়ে একটু জিরিয়ে নিয়ে আমার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে।

ওর চাহনি দেখে মনে প্রশ্ন ঘুরপাক করছে অবিরত। কি করছি আমি? ও এভাবে তাকিয়ে আছে কেন?

তুই না আমার রুমে! তাহলে এখানে কিভাবে?

ওর প্রশ্ন আর ওর চোখে ভয়ের ছাপ সব কিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে মাথায় কোনো প্রবলেম আছে নিশ্চই।না হলে এমন আজীব প্রশ্ন করবে কেন? আমি তো আমার রুমেই ফেসবুক নিয়ে গুঁতাগুঁতি করছি।তাহলে ওর রুমে গেলাম কখন? --আমি নিজেকে কন্ট্রোল করে বললাম। আরে! আমি তোর রুমে যাবো কী করে পাগল।দেখলি তো আমি এখানে বসে আছি। আবির চিন্তায় পড়ে গেলো। তাও আমার থেকে ওর চোখ সরছে না। --তাহলে আমার রুমে তুই যাস নি? -প্রশ্নই আসে না।আর যদি যেতাম তো তুই কি আমাকে এখানে দেখতি? একটু ভেবে উত্তর দিলো আবির ---তা অবশ্য ঠিক তবে আমি তো তোকে দেখেছি আমার রুমে। মেজাজ এবার ভালো ঠিকছে না আমার।বার বার বলার পরেও সে বলছে আমাকে দেখেছে ওর রুমে। --ঠিক আছে আমাকে দেখেছিস ভালো কথা।আমাকে তো গত একবছর ধরে দেখে এসেছিস।তো এখন দেখার পর দৌঁড় দেওয়ার কী আছে? আমি কী মানুষ না? নাকি এলিয়েন বা ভূত? আর আমাকে তোর রুমে দেখে দৌঁড়ে আমার রুমেই আসার মানে কী বলত আবির। আবির এবার তটস্থ হয়ে গেলো।দোস্ত কি হয়েছে একটু খুলে বল শোনি। আবির তখন বললো আগে চল আমার রুমে। ঠিক আছে গেলাম।দুইজন গিয়ে ওর রুমের ভেতর ঢুকে ভেতরটা পায়চারি করছি।কোথাও কেউ নেই।তবে টেবিলে থাকা জগের পানি মেঝেতে পড়ে আছে। --পানি নিচে পরেছে কেনো? বাচ্চা নাকি তুই? প্রশ্নের জবাব পেলাম না। আবিরের মনোযোগ অন্য দিকে।রুমের বাতরুমটার দিকে এগোচ্ছে সে আস্তে আস্তে। --কি হলো বাতরুমে যাচ্ছিস কেন? ও তখন হাতের ইশারায় আমাকে বললো চুপ করতে। ওর চোখেমুখে ভয়ের আবেশ পাচ্ছি। একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে বাতরুমের দিকে।কিন্তু আমি ওর টেবিলটার পাশেই ছিলাম। পিছন ফিরে বলল চল আমার সাথে। কী? বাতরুমে আমি যাবো কেন? আরে কিছু না এতো কথা বলিস না আমার সাথে আয় একটা জিনিস দেখবি। ধুর ওর যে কী হলো আল্লায় জানে। গেলাম ওর কথা মতো।আস্তে করে ও বাতরুমের দরজায় গিয়ে নক করলো। আজীব তো! রুম ওর ও একা থাকে।আর কেউ না।তাহলে সে বাতরুম নক করবে কেনো? মনে বিভিন্ন অদ্ভুত প্রশ্ন।বিয়ে করে ফেলল নাকি আমাদেে না জানিয়ে? কারণ এই যুগের ছেলে মেয়েদের বিশ্বাস করা খুব কঠিণ। তাও কিছু বললাম না।আবির নক করলো বাতরুমের দরজাতে।কিন্তু কোনো সাড়া শব্দ নাই।তবে ভেতর থেকে পানি পরার শব্দ পাচ্ছি নিশ্চিত। জানি না আমি আদৌ কী হয়েছে আবিরের সাথে। ---পানি পরার টপটপ শব্দ ভিতর থেকে তখনও আসছে।আবির ভেতরে কে? প্রশ্ন করলাম আমি। --একদম চুপ কোনো কথা বলবি না আপাতত। -হুম।তবে কৌতুহল নিয়ে আবার জিজ্ঞেস করলাম নিস্তেজ গলায়, এই ভেতরে কে রে? --চোখ বড় বড় করে আবির আমার দিকে চেয়ে বলল, আরে চুপ করত! --মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলাম আর এগোলেম না ওর সাথে। আবির গিয়ে বাতরুমের দরজায় নক করল। অবাক তো! ভেতরের পানি পড়ার শব্দ প্রথম নক করার সাথে সাথেই বন্ধ! রহস্যময় ঠেকছে। কিরে পানি পড়া বন্ধ হলো কেন? দোস্ত চল আর এক মিনিটও এখানে থাকতে পারব না। --আরে বলবি তো কি হয়েছে। না বললে যাবো না একদম। ---তুই তোর রুমে চল আমি ওখানে গিয়ে সব খোলে বলছি তোকে। বলেই তাড়াহুড়া করে সে নিজের রুম থেকে বেরিয়ে গেল।আমিও ওর পিছন পিছন ছুঁটলাম। একা থেকে কি করব এখানে যার রুম সেই নাই। আবির আমার রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। --আরে আমাকে রেখেই কি দরজা বন্ধ করে দিবি নাকি?যাহ্ বাব্বা আমার রুম আমাকে বাহিরে রেখেই সে দরজা লাগিয়ে দিচ্ছে! কি হলো হঠাৎ করে আবিরের।ওর আচরণ এমন বদলে গেল কেন? মনে মনে ভাবছিলাম। ---ভেতরো ঢুকবি নাকি বন্ধ করে দিবো দরজা! বেশ সাহস তাই না তোর? --সাহস! সাহসের প্রশ্ন আসছে কেন? বললাম আবিরকে। আচ্ছা সেই যাইহোক।ভয় পেলে চলে না।পুরুষমানুষ ভয় করলে মানুষ হিজরা বলবে সালা। আচ্ছা এবার বল কি হয়েছিল তোর রুমে যার কারণে রুম থেকে দৌঁড়িয়ে চলে এলি তার পর আমাকে নিয়ে গেলি আবার তোর রুমে বাতরুমে পানি পরার শব্দ কি ব্যাপার বলত আবির। --হুম বলছি।একটু আগে যখন আমি দৌঁড়ে তোর রুমে এসেছিলাম তখন আমার রুমে কোনো এক অবয়ব ঢুকেছিল। ---অবয়ব! মানে অশরিরী! তার মানে প্যারানরমাল কোনো ঘটনা? -ঠিক ধরেছিস। ---তুই কি আদি যুগে আছিস নাকি আবির? এসব কেউ বিশ্বাস করে নাকি? তুই ও নাহ্ আরে রুমে যাহ্ তো। --জানি তুই বিশ্বাস করবি না।তাই তো তোকে আমার রুমে নিয়ে গেলাম দেখলি তো বাতরুমের ভেতরে পানির শব্দ। আমি তো বাহিরে তাহলে ভেতরে কে? --ঠিকই তো! ভেতরে কে প্রশ্নটা আমার ভেতরেও জাগল।যাইহোক বুঝতে দিইনি আবিরকে।ওর সাথে এমন ভাব করছি যেন কোনো কিছুই হয়নি।আর কথাবার্তা এমন করে বলছি যেন অবয়বটা নিছক তার দেখার ভুল ছিল। কিন্তু আবির কিছুতেই রাজী না আমার কথায়। সে কিছু একটা দেখেছে এটাই।অন্যকিছু মানতে রাজী না।আমিও বললাম, আচ্ছা ঠিক আছে।ওটা যদি ভূত বা অন্য কিছু হয় তোর মতে তো আমরা রুমে যাওয়ার পর আমাদের কিছু করল না? প্রশ্নটা করার পর সে একটু চুপ।সত্যিই তো এসব ভূতের কাজ তো মানুষের ক্ষতি করা তবে আমাদের কোনো কিছু করল না কেন? যদিও আমি আবিরকে নানান কথা দিয়ে তার কথার বিপরীতে ছিলাম।বুঝাতে চাইছিলাম এসব ভূত বলতে কিছুই নেই।কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমিও কিন্তু ভয় পাচ্ছি।কারণ আবির যখন তার রুম থেকে চলে এসেছিল তখনও আমি ওর রুমে। আমি বের হতে যাবো এমন সময় বাতরুমের দরজাটা আপনাআপনিই খোলে কিছু বের হয়ে গেল আমার আগেই।হঠাৎ বাতাসের মতো হাওয়ার ছুঁয়া লাগল আমার গা তে, একটা অবয়ব।নারী না পুরুষ ঠিক বলতে পারছি না।তবে কিছু তো নিশ্চই ছিল যা প্যারানরমাল জগতের সাথে সংযুক্ত। যুক্তি পাশেই অযুক্তি বাক্যটার স্থান।আর রহস্য ঘিরে যেসব দুনিয়ায় বসবাস করি সেখানে অযুক্তি কতকিছুই হতে পারে তা হয় তো আমি আপনি এই রহস্যটার সঠিক ব্যখ্যা হয় তো দিতে পারব না।বা পারলেও কিছু ঘটনা লোক চোখের আড়ালেই থাকতে বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ঠিক এই ঘটনার একটা হয় তো ঘটেছে আবির এর সাথে। আবির চোখ মুখ কথার ধরন বা ভাষ্য মতে তার সাথে ঘটে যাচ্ছে তার সঠিক ব্যাখ্যা হয় তো আমি দিতে পারব না।তবে এটাও তো অমান্য করতে পারব না যে সৃষ্টি জগতে প্রবলেম হলে তার সমাধানও আছে।থাকবে।তবে সমাধানটা খোঁজে বের করতে হবে। -তোর রুমে যখন কিছু প্রবেশ করে তা তুই ঠের পাচ্ছিস আবার বেরিয়ে গেলেও আন্তাজ বা অনুভূব করতে পারছিস তবে তুই কি কখনও দেখেছিস ওটা কি? মেয়ে নাকি পুরুষ নাকি চোর বা অন্য কিছুও তো হতে পারে। --আমার অজান্তে ভয় ঢুকে যায় দোস্ত।যেন শরীরে কোনো বল শক্তি নাই।অদ্ভুত রকম দুর্বল লাগে যা ওটা প্রবেশ করার আগে লাগে না। --তবে তুই কি কখনও দেখিস নাই ওটা দেখতে কেমন? তার মানে এটা ভৌতিক কিছু না তোর মনের ভুল হতেও পারে।বা অন্য কারও রুমে যাওয়া আসার শব্দ তুই শোনেছিস। --তোর কথাই না হয় মানলাম। তবে তোকেও তো নিয়ে গিয়েছিলাম আমার রুমে সেদিন।বাতরুমের ভেতরে কে ছিল? প্রশ্নটার উত্তর কিন্তু আমার জানা নাই।তাই তটস্থ হয়ে এড়িয়ে গেলাম। কিন্তু আবির আমাকে এড়িয়ে যেতে দিচ্ছে না কোনো মতেই।ব্যাখ্যা চাইছে এর। কারণে সে ইতিমধ্যে পর্যায়ক্রমে ঘটনার সম্মুখীন হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। যাইহোক আমিও আর কথা বাড়াতে চাইছি না ওর সাথে। কথা বাড়ালে সে যুক্তি দেখাবে সেইদিনের বাতরুমের ব্যাপারটাকে। আপাততদৃষ্টিতে তার কথাই মেনে নেওয়া ছাড়া আর কিছু করার নাই।আবির এর কথা মেনে নিচ্ছি এমন কিন্তুও না আমিও কিছুটা কনফিউজড আছি আদৌ কি ভৌতিক কিছু ঘটছে ওর সাথে? তর্ক বিতর্ক করতে করতেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো।সেইদিন শীত ছিল বললে ভুল হবে না।তবে বেশি শীত তেমনও কিন্তু না।শীতের আবেশ রেশটা সন্ধ্যার সাথে এসে মিল বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। ফ্ল্যাটের কেয়ার টেকার রফিক কাকা। সব সময় বন্ধুসুলব আচরণ করেন।আমি আর আবির অবশ্য উনার সাথে সময় হলেই গল্প করি। বুড়ো হয়েছেন রফিক কাকা।কাকা বলেই সম্বোধন করে থাকি উনাকে।নামায পড়েন পাঁচ ওয়াক্ত।ধার্মিক ব্যাপারে তিনি অটুট।কোনো অবহেলা করেন না ধর্মের নীতি নিয়ে।এক কথায় ধার্মিক লোক বললেই চলে। বিকালে তর্কবিতর্ক করে আবিরকে নিয়ে বের হলাম বাজারে যাবো।রুমে তরকারি নাই।আর কিছু কিনাকাটিও করতে হবে। আবির আর আমি একই ফ্ল্যাটে থাকি।তবে দুইজনের দুইটা রুম।আবির বেসরকারি একটা কম্পানিতে চাকরিরত আছে। অনেক ভালো আবির।দেখতে একদম হিরো বললেও মন্দ হবে না।ওদিকে আমিও একটা ছোট্ট ব্যবসায় জড়িত আছি ঢাকাতে।সেই সুবাদে এই ফ্ল্যাটে উঠেছিলাম আমি। বেশ কমাস পর আবির এর সাথে রুম সেয়ার হয় আবির এর সাথে।দুইবছর ধরে আছি ওর সাথে।একটা ভালো সম্পর্ক এবং ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। রুম থেকে বেরিয়ে কি কি লাগবে তার একটা লিস্ট করে নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম বাজারের উদ্দেশ্যে।মেইন গেটেই রফিক কাকার সাথে দেখা। সালাম দিলাম।জবাব নিয়ে বললেন। কি রে আবির, সাইফুদ্দিন কোথায় যাও হচ্ছে বাপজানে রা...? আবির জবাব দিল। ---এই তো কাকা।বাজারে যাচ্ছি। তোমার শরীর ভালো তো? --রফিক কাকা নরম সুরে বললেন "কি আর ভালো বল! বেশ কদিন যাবত দিনগুলো খারাপ যাচ্ছে।কি জানি, বুড়ো হয়েছি বলে নাকি দুনিয়ার প্রতি মায়া আকর্ষণ সব চলে যাচ্ছে বলে। --আমি তখন বললাম। কি যে বলেন কাকা। সবাই তো এই পৃথিবীটাতে আজীবণ থেকে যেতে চাই।আর আপনি বলছেন মায়া উঠে গেছে পৃথিবীর প্রতি। --কাঁশি দিয়ে মুচকি হাসির ছলে রফিক কাকা বললেন "কিছুদিন যাবত রহস্যের মধ্যে আছি।তাই এই কথাটা। মন চাইছিল এই চাকরিটা ছেড়ে দিব কিন্তু গত পনেরো বছর যাতব এই বাড়িটা দেখা শোনা করি।বাড়িটার প্রতি মায়া জন্মে গেছে।আর মালিকও আমাকে ছাড়তে নারাজ। ---একটু রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি রফিক কাকার কথাবার্তা শোনে।তাই প্রশ্ন করলাম কাকা "তো ব্যপার কি হঠাৎ এই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা কেন? --আচ্ছা চল চল...দেরি হয়ে যাচ্ছে। বাজারে যেতে হবে। --মাথায় ইশারা করে আবির কে বুঝালাম "হ্যাঁ চল। ওদিকে রফিক কাকা কিছু বলতে গিয়েও পারল না, আমাদের তাড়াহুড়া দেখে। কিছু তো একটা আছে।তা তিনি আমাদের সাথে সেয়ার করতে চাইছেন। দেখা যাক কি বলে রফিক কাকা। পরে শোনে যাবে।এখন বাজারে যেতে হবে। নিশ্চিত বলতে পারছি না।তবে আমার কেন জানি মনে হচ্ছে রফিক কাকার না বলা কথাটার সাথে প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায় কিনা। রফিক কাকার পাশ কাটিয়ে চলে এলাম।আর তিনিও ব্যস্ত হয়ে গেলেন অন্য কাজে।আমরাও বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় কিছু ক্রয় করে আবারও রুমে ফেরার পথে দেখা রফিক কাকার সাথে।আমাদের দাঁড় করিয়ে বললেন "বাবা তোমাদের সাথে কিছু দরকারি কথা বলার ছিল। ---আবির রফিক কাকার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন আচ্ছা কাকা।বলুন। --রফিক কাকা বললেন।নাহ্! এখন না।আমার একটু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি আছে একটু পরে তোমাদের রুমে যাবো। --আমি বললাম। তাই ভালো হবে।আজ জম্পেশ রান্না হবে।দাওয়াত অগ্রীম তোমাকে। মুচকি হেসে উত্তর দিলেন। ঠিক আছে।আজ না হয় তোমাদের সাথেই খেলাম।তবে রফিক কাকার মুচকি হাসির মধ্যেও লুকায়িত রহস্যের ছাপ। রুমে এসে রান্নায় মন দিল আবির।গত কয়েকদিনের ঘটে যাওয়া প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া ঘটনার কথা ভুলে গিয়েছে এমনিও না।সে বৃহস্পতিবার আমার সাথে ঘুমিয়েছিল।ওর রুম দুইদিনের জন্য ফাঁকা মাঠে পরিণত হয়েছে। রাত দশটা। দরজায় নক করল। টকটক শব্দ হচ্ছে।আমি আর আবির টিভি দেখছি।টাইটানিক মুভিটা। অসাধারণ মুভিটা।শেষ দিকে এসে চোখের পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না।পরিস্থিতি এমন হয়ে গেছে যে আবিরের চোখের পানি মুছে দিতে রুমালটা দিলাম। ---আবির মুভি থেকে চোখ সরিয়ে আমাকে বলল দরজাটা খোলে দে দোস্ত।আমি যেতে পারব না। তার কথা মতোই দরজাটা খোলে দিলাম। রফিক কাকা এসেছে। এসেই কেমন যেন দৌঁড়ানি ভাব নিয়ে আমার রুমে প্রবেশ করল। ---আমি উনার এই অবস্থা দেখে চেয়ারে বসতে দিলাম। কি হয়েছে কাকা? প্রবলেম হয়নি তো? আবির টিভি দেখা বন্ধ আমাদের কথোপকথন এ মন দিল। --হুম।আমি আমারও প্রশ্ন। রফিক কাকা আমাদেে দিকে তাকিয়ে বললেন। দুইদিন আগে আমি ফ্ল্যাটের গেইটের সামনেই ছিলাম।রাত সম্ভবত বারোটার কিছু পর।হঠাৎ কয়েকটা ছায়ামূর্তি মতো গেইট ভেদ করে ফ্ল্যাটে দিকে চলে যাচ্ছে। --কী বললেন? ছায়ামূর্তি? তাও কয়েকটা? ---রফিক কাকা মাথা নাড়িয়ে সাই দিলেন। কয়েকটা বলতে চারটার মতো ছায়ামূর্তি। তবে তাদের আকৃতি দেখিনি। --আবির বলল। আকৃতি দেখেননি? আরে হ্যাঁ আপনি তো বলেছেন ছায়ামূর্তি গুলো গেইট দিয়ে প্রবেশ করেছে। ---আমিও এই ছায়ামূর্তি গুলোর গেইটে ঢুকে যাওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মনে। ওরা কিভাবে প্রবেশ করল? গেইট বিনা খোলা ছাড়া। --রফিক কাকা আরও বললেন।হ্যাঁ এই প্রশ্নটা আমারও।তবে আমি এই পরিস্থিতি নতুন দেখছি না।বছরের এই শীতের সময়গুলোর মধ্যে বিশেষ করে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতেই আমি মাঝেমধ্যেই এমন ছায়া মূর্তিগুলোকে দেখি। আবিরের চোখেমুখে গাম ঝরছে।তার মানে আবির এর রুমে যে ছায়ামূর্তি গুলো প্রবেশ করে এগুলোর সাথে কী রফিক কাকার দেখা ছায়ামূর্তি গুলোর যোগসুত্র আছে? --আমি রফিক কাকাকে বললাম।আচ্ছা কাকা ব্যপারটা একটু খোলে বলুন। তোমাদের এই ফ্ল্যাটে উঠার আগে এই তোমরা যে রুমে আছো এই রুমে দুইজন ছেলে থাকত। এখানে থেকেই লেখাপড়া করত ওরা। প্রায় পাঁচ বা ছয়মাস পর হঠাৎ একদিন অন্য রুমের ছেলেগুলো জড়ো হয়ে আমার কাছে আসে।কারণ গত একদিন যাতব নাকি ঐ রুমটা থেকে কাউকে বের হতেও দেখেনি বা প্রবেশ করতেও দেখেনি। ব্যাপারটা খটকা লাগার মতোই। গেলাম সবাইকে নিয়ে।গিয়ে দেখি দরজা ভিতর দিয়ে লক করা।বেশকিছুক্ষণ দরজা নক করার পরেও দরজা না খোলাতে শেষমেষ দরজা ভাঙার ব্যবস্থা করলাম। কিন্তু ভিতরে গিয়ে যা দেখলাম তা এখানে আসা সবাইকে থমতে দিয়েছিল। বিছানাতে ঘুমন্ত অবস্থায় নিথর দেহদুটো পড়ে আছে।পুলিশকে খবর দেওয়া হলো।পুলিশ এসে লাশগুলো ময়না তদন্তের জন্যে নিয়ে যান। এবং ওদের খোঁজ খবর ঠিকাণা চান আমার কাছে। আমিও ওরা যে পরিচয়ে আমার সাথে ফ্ল্যাটে থাকার কন্ট্রাক্ট করে সেই নথিপত্র দিলাম। কিছুদিন পর পুলিশ এসে জানিয়ে গেল এই ঠিকানায় নাকি এমন কোনো লোক নেই।আর ময়না তদন্তের রিপোর্টে জানা যায় ওদের মৃত্যু স্বাভিক। কিন্তু কেমনে সম্ভব? স্বাভিক বলে কী দুইজন এক সাথে মারা যাবে? কিন্তু এর কোনো সমাধান আজও বের করতে পারেনি পুলিশ বা আমি। তবে বিস্মিত হই তখন যখন শোনি ওদের কোনো ঠিকানায় নাই।তাহলে ওরা কি? মানুষ? মানুষই তো।তাহলে ঠিকাণা মনে হয় ভুয়া ঠিকাণা দিয়েছে। পুলিশ দুইটা লাশের পরিবারকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পায়নি তাই বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে আখ্যা করে। ঠিক এর একমাস পর থেকেই ঐ চারটা ছায়ামূর্তির আবিরভাব ঘটে। প্রতিদিন দেখতাম আগে ওরা মেইন গেট ভেদ তরে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করছে।কোনো বাঁধা বিপত্তি ছাড়াই। তারপর অবশ্য ছায়ামূর্তি গুলো কোথায় যেত তা জানি না।কারণ ওদের পিছনে গিয়ে কোথায় যাচ্ছে তার খোঁজ নেওয়ার মতো সাহস পাচ্ছিলাম না। আজও এই ছায়ামূর্তি গুলো দেখি।তবে আগের মতো প্রতিনিয়ত না।শীতের সময় আসে ওরা। --আবির এবার সব বুঝতে পেরেছে।তার রুমে যে ছায়ামূর্তি প্রবেশ করে ওটা এই ছায়ামূর্তি গুলোর একটা.... আমিও মাথায় ইশারা দিয়ে বললাম।আবির বুঝেছিস কিছু? আবির, হ্যাঁ বুঝেছি। ওদিকে রফিক কাকা আমাদের বললেন
সাবধানে থেকো বাপজান......
সমাপ্ত Ads:

COMMENTS

Name

অন্য বিষয়ের উপর লেখা ইবুক কবিতা গল্প/কবিতা লেখার প্রতিযোগিতা জীবনের সত্য ঘটনা থ্রিলার গল্প দেশের গল্প পিশাচ কাহিনী ভালোবাসার গল্প ভৌতিক গল্প রম্য গল্প রহস্য গল্প সায়েন্স ফিকশন হরর গল্প
false
ltr
item
Bengali pdf and story blog: অন্যরকম রহস্য লেখা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন
অন্যরকম রহস্য লেখা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন
https://2.bp.blogspot.com/-LXVvm47Afc8/Wnfc6YuQYII/AAAAAAAAAkA/PAS_YZbq6KUYB2917pvpf9yHozJGm0WgwCLcBGAs/s320/1517803638840.jpg
https://2.bp.blogspot.com/-LXVvm47Afc8/Wnfc6YuQYII/AAAAAAAAAkA/PAS_YZbq6KUYB2917pvpf9yHozJGm0WgwCLcBGAs/s72-c/1517803638840.jpg
Bengali pdf and story blog
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2017/12/blog-post_7.html
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2017/12/blog-post_7.html
true
7257552463787474279
UTF-8
Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy