চন্দ্রিকা লেখা রাজকুমার রনি

রাত ১০ টা। পুরোনো আমলের এক বাংলোর সামনে এসে থামলো একটা গাড়ি। গাড়িটার ভেতর থেকে একে একে নেমে আসলো মামুন, এজাজ, রনি, ঝুম ও কেয়া। হাতে কিছু ল...

রাত ১০ টা। পুরোনো আমলের এক বাংলোর সামনে এসে থামলো একটা গাড়ি। গাড়িটার ভেতর থেকে একে একে নেমে আসলো মামুন, এজাজ, রনি, ঝুম ও কেয়া। হাতে কিছু লাগেজ ওদের। লাগেজ নিয়ে পা বাড়াল সামনে বাংলোর দিকে।বাংলোর সামনে এসে দাঁড়াল পাঁচজন। কেয়া : মামুন তুই কোথায় নিয়ে এলি আমাদের। বাংলোটা দেখেই তো ভুতুড়ে মনে হচ্ছে।কেমন গাঁ ছমছমে। মামুন : হুম, তার জন্যই তো এনেছি তোদের। তোকে আর ঝুমকে এখানকার ভুতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই। ঝুম : কি বললি তুই? এ ধরনের কথা বললে কিন্তু আমি এখনি চলে যাবো এখান থেকে। মামুন : যদি এতো রাতে ফিরে যেতে পারিস যা, কে আটকাচ্ছে তোকে? ঝুম : কি? ব্ল্যাকমেইল করছিস নাকি আমায়? আমার সাহস দেখতে চাস তুই? এজাজ : উফ্ আবার শুরু হয়ে গেল তোদের। দুজন কি ঝগড়া ছাড়া এক মূহুর্ত ও থাকতে পারিস না? ঝুম : আমি কি বললাম মামু,,,,,,,,! কেয়া : চুপ একদম চুপ! আর একটাও কথা না! ভেতরে চল এখন সারারাত এভাবে দাঁড়িয়ে তোদের ঝগড়া দেখতে পারবো না। এদিকে রনি যে ভাবনার সাগরে ডুবে আছে সেদিকে কারো খেয়ালই নেই। বাংলোটাকে মোটেও ভালো লাগে নি ওর। চাঁদের হালকা আলোয় বাংলোটাকে পুরো রাক্ষস পুরীর মতো মনে হচ্ছে। রনির মনে হচ্ছে বাংলোটা কোন অশনি সংকেত বহন করছে ওদের জন্য। কেয়ার ডাকে ভাবনার ছেদ ঘটল রনির। কেয়া : কিরে আজ সারারাত বাইরে থাকার প্ল্যান করেছিস নাকি?তাড়াতাড়ি ভেতরে আয়। কেয়ার ডাক শুনে চুপ করে কোন কথা না বলে ওদের পিছু পিছু চলল রনি। বাংলোটা দেখার পর থেকেই ওর মনে কোন অজানা ভয় কাজ করছে। বাংলোর কেয়ারটেকার এসে ওদের লাগেজ গুলো নিয়ে ভিতরে চলে গেল।ওরাও তার পিছু নিয়ে ভেতরে চলল সবার পিছনে রনি।সবাই একে একে ভিতরে ঢুকল কিন্তু রনি দরজায় পা রাখতেই শরীরে প্রচন্ড একটা ঝাঁকুনি অনুভব করল। সাথে সাথে পা টা তুলে নিল দরজা থেকে। এজাজ : কি হলো রনি?ভিতরে আসবে না? মামুন : রনি তোমার কি কোন সমস্যা হচ্ছে? আসার পর থেকে দেখছি কেমন যেন অন্যমনস্ক হয়ে আছো। রনি বিষয় টা গোপন করে বলল; রনি : কই কিছু নাতো।আসলে মাথাটা কেমন যেন ঝিমঝিম করছে,তাই আরকি অনেকটা পথ গাড়িতে করে এসেছি তো। ঝুম : রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে আমার কাছে মাথা ব্যাথার ঔষধ আছে।খাওয়ার সময় তোর রুমে দিয়ে আসবো। আর কোন কথা না বলে রনি ভিতরে পা বাড়াল। এবার আর কিছুই হলো না। কেয়ারটেকার ওদের রুম গুলো দেখিয়ে দিল। বাংলোতে প্রায় চৌদ্দ টার মতো রুম আছে। কিন্তু ওরা পাশাপাশি পাঁচটা রুম নিল। রুম গুলো পছন্দ হলো সবার বেশ সাজানো গোছানো। রুম গুলো দেখিয়ে কেয়ারটেকার চলে গেল ওদের খাবার তৈরি করার জন্য। এজাজ বলে দিল খাবার গুলো রনির রুমে দিয়ে যেতে। , আধঘন্টা পর কেয়ারটেকার লোকটি খাবার নিয়ে এলো। খাবারটা দিল রনির রুমেই। সবাই একসাথে খেতে বসল।কেয়ারটেকার লোকটি দূরে দাঁড়িয়ে আছে। কেয়া : আংকেল ওখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? আসুন না আমরা একসাথে খেয়ে নেই। কেয়ারটেকার : না মামুনি খাও তোমরা! তোমাদের একটা কথা বলার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। মামুন : কি কথা বলুন? কেয়ারটেকার : বাবা তোমরা যতদিন খুশি এখানে থাকতে পারো, তোমাদের কোন অসুবিধা হবে না।শুধু একটা অনুরোধ!,,,, বলতে বলতে থেমে গেল লোকটা! এজাজ একটু বিরক্ত হয়ে বলল! এজাজ : এত ভনিতা না করে আসল কথাটা বলুন তো। কেয়ারটেকার : এই বাংলোর শেষের যে রুমটা তাবিজ কবজ দ্বারা আটকানো ঐ রুমটার দিকে যাবে না আর রাতে কোন শব্দ হলে বাইরে বের হবে না।ঝুম আবার একটু কৌতুহলী মেয়ে, তাই জিঙ্গেস করল; ঝুম : কেন চাচা ঐ রুমে কি এমন আছে যে ওদিকে যাওয়া যাবে না। ঝুমের কথায় লোকটার চোখ বড় বড় হয়ে গেল।গলায় যেন আটকে গেল কথা। হনহন করে বেরিয়ে গেল রুম থেকে।যাওয়ার আগে বলে গেল,আমার কথা অমান্য করো না। তাহলে বিপদে পড়তে পারো। কেয়া : লোকটা খুব অদ্ভুত না? আসার পর থেকে এই প্রথম কথা বলল তাও আবার কেমন রহস্য করে। ঝুম : ঐ রুমে কি আছে সেটা তো আমি দেখবই। রনি : (কিছুটা রাগ দেখিয়ে) তোর সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি না করলে চলে না তাই না? আমরা জানি তোর খুব সাহস।কিন্তু এটাও ভুলে যাস না যে অধিক সাহস বিপদের লক্ষণ। এজাজ : এই ফালতু বিষয় নিয়ে আর একটাও কথা হবে না, অনেক রাত হয়ে গেছে খেয়ে যার যার মত শুয়ে পড়। ঝুম : আচ্ছা এই আমি চুপ!(ঠোটে আঙুল রেখে) একসাথে খাওয়া শেষ করলো সবাই । তারপর ঝুম খোঁচা মেরে একটা কথা বলল মামুন কে। ঝুম : ভাগ্যিস আমাদের সাথে পেটুক মামুন এসে ছিল। নয়তো কেয়ারটেকার যে খাবার এনেছিল তা নষ্ট হতো। মামুন : আমি কি তোদের মতো পাটকাঠি নাকি রে যে না খেয়ে থাকবো, আর তোরা যা কিপ্টা না খেয়ে টাকা বাচাস! কেয়া : মামুন এটা কিন্তু ঠিক বললি না। তোর এত খাওয়া এটা কিন্তু স্বাভাবিক মানুষের কাজ না। এজাজ : আমি কিন্তু মামুনের পক্ষে। কারন হাজার হলেও,,,,, রনি : চুপ! সবাই চুপ করো! যার যার রুমে গিয়ে ঝগড়া করো আমার এমনিতেই মাথা ব্যথা করছে তারওপর তোমাদের বিশ্বযুদ্ধ মোটেও ভালো লাগছে। আমি ঘুমাবো যাও সবাই। রনির কথায় এজাজ আর মামুন গিয়ে খাটের ওপর বসে পড়ল। ঝুম আর কেয়া হাটুগেড়ে খাটের নিচ দিয়ে ঝুকে কি যেন খুঁজছে। রনি : তোমরা কি পাগল হলে নাকি? কেয়া আপু ঝুম তোরা কি খুজছিস ওখান দিয়ে? ঝুম : দেখছি খাটের নিচে কোন মেয়েকে লুকিয়ে রেখেছিস নাকি যে আমাদের তাড়ানোর জন্য এত ব্যস্ত হলি। কেয়া : না রে ঝুম কেউ নেই। চল ঘুমাই।আজ আমরা একসাথে থাকবো নতুন জায়গা একা থাকা ঠিক হবে না। ঝুম : হুম! চলো। ঝুম আর কেয়া দুজনে চলে গেল। রনি : কি হলো আপনারা ওখানে বসে আছেন কেন যাও বের হও আমার রুম থেকে। এজাজ : আহারে রাগ করে না।আমরা আজ তোমার রুমে থাকবো। দেখি সত্যি কোন মেয়ে আসে কি না। বলেই এজাজ আর মামুন হাসতে লাগল। রনি : ঠিক আছে শুয়ে পড়ো। বলে দরজার কাছে চলে গেল আটকানোর জন্য।তখনই চোখ গেল শেষের রুমের দিকে।রাতের অন্ধকারে কি অদ্ভুত দেখাচ্ছে রুমটাকে।মনে মনে ভাবতে লাগল কি রহস্য আছে ঐ রুমে।আর ঝুম যা জেদি মেয়ে। ও নিশ্চয় ওর কৌতুহল দূর করতে একবার হলেও ওই রুমের দরজা টা খুলবে।নাহ ঝুমের ওপর নজর রাখতে হবে। পাশের রুমেই কেয়া আর ঝুম আছে। এজাজ : কি হলো।দরজায় হেলান দিয়েই ঘুমিয়ে পড়লে নাকি। মামুন : লাইট অফ করে শুয়ে পড়ো মাথাব্যথা কমে যাবে।মামুনের কথামত ঝুমের ঔষধ টা খেয়ে শুয়ে পড়ল রনি। হঠাৎ করেই রনির ঘুম টা ভেঙে গেল মনে হলো কেউ কান্না করছে। পাশে দেখল মামুন আর এজাজ ঘুমিয়ে আছে।ওদের কি জাগিয়ে তুলবে নাকি ভাবছে।না থাক আমি আমিই দেখি কোথা থেকে কান্নার আওয়াজ টা আসছে।মনে মনে ভাবল রনি।বিছানা থেকে নেমে পা টিপটিপে দরজা খুলে বেরিয়ে গেল বাইরে বেরিয়েই চমকে উঠল রনি। ঝুম আর কেয়ার রুমের দরজা খোলা। দ্রুত গিয়ে দরজায় উঁকি দিল। একি শুধু কেয়া ঘুমিয়ে আছে ঝুম কই। ঝুম নিশ্চয় কান্নার আওয়াজ টা শুনেছে। ও গেছে শেষের রুমটার দরজা খুলতে।মনে মনে ভাবল রনি, তারপর ঘুরেই দৌড় দিল শেষের রুমটার দিকে। , ঐ তো কোন নারী ছায়ামূর্তির মতো কিছু একটা হেঁটে যাচ্ছে দরজার দিকে। রনি ভয় পাওয়া সত্বেও পিছন থেকে নারীমূর্তিটার কাঁধে হাত রাখল। সাথে সাথে নারীমূর্তিটা পিছন ফিরে তাকালো। আধা অন্ধকারে রনি দেখতে পেল এটা ঝুম। কান্নার আওয়াজ ততক্ষণে থেমে গেছে। ঝুম পিছন ফিরে আচমকা রনি কে দেখে অনেকটা ভয় পেয়ে গেছে।চোখ মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে প্রায় চিৎকার দিতে যাচ্ছিল। , ঝুম : তুই এখানে এতরাতে? , রনি : ঠাস!!!!!!!! , রনি জোড়ে একটা চড় মারলো ঝুমের গালে। মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে কতটা খেপে গেছে। , রনি : এতরাতে এখানে আসার কি মানে? নিশ্চয় বন্ধ দরজাটা খুলতে আসছিলি? , ঝুম : (গালে হাত দিয়ে) আসলে এখান থেকে কান্নার আওয়াজ আসছিলো। তাই দেখতে আসছিলাম কে কাঁদছিল। , রনি : চুপ কেউ কান্না করেনি। এখন গিয়ে চুপ করে শুয়ে পড়বি চল! , ঝুম আর কোন কথা বলল না। দুজনে ফিরে চলল নিজেদের রুমের দিকে। অথচ ওরা খেয়ালই করলো না ওদের অলক্ষ্যে একটা রক্তাক্ত হাত প্রচন্ড বিক্ষোভে থাবড়া দিল ওই বদ্ধ দরজায়। তারপর আঁচড় কেটে নেমে গেল নিচের দিকে।শুধু রয়ে গেল রক্তাক্ত পাঁচটি আঙুলের চিহ্ন। , , সকালে রনির ঘুম ভাঙতেই দেখতে পেল পাশে এজাজ মামুন কেউ নেই। ওদের দেখতে না পেয়ে কেয়াদের রুমে উঁকি দিল, নাহ তাও নেই। এই সাঁঝ সকালে কোথায় গেল ওরা?মনে মনে ভাবল রনি তারপর ডাক দিল কেয়ারটেকার কে; , কেয়ারটেকার : বাবা কিছু বলবা? , রনি : চাচা আমার বন্ধুরা কই ওদের দেখতে পাচ্ছি না কেন? , কেয়ারটেকার : উনারা তো বাংলোর পিছনেই একটা নদী আছে সেখানে ঘুরতে গেছে তুমি ঘুমিয়ে ছিলে বলে ডাকে নি। আমাকে তোমার খাবার দিতে বলেছে। , রনি : ওহ। , কেয়ারটেকার : আচ্ছা বাবা তুমি রুমে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে নাও আমি খাবার নিয়ে আসছি। , আচ্ছা ঠিক আছে! বলে রনি রুমে চলে আসলো। মনে মনে ভাবল কেমন দায়িত্বহীন রে বাবা একজন কে ফেলে উনারা নদী দেখতে গেছেন।আসুক আজ সব কয়টার খবর আছে। , নদীর পাড়ে একসাথে হাঁটছে এজাজ মামুন ঝুম আর কেয়া। , ঝুম : ভালো করেছিস তোরা রনিকে রেখে এসে।(বেশ খুশি হয়ে) , কেয়া : কেন রনি আবার তোর কোন পাকা ধানে মই দিল যে রনি না আসায় এত খুশি। আর তোর গালে এমন দাগ পড়েছে কিসের? , ঝুম : এটা তো রনির কার,,,,,,,,,,(বলতে বলতে থেমে গেল ঝুম) , মামুন : রনির কারনে মানে? কি করেছে ও? , ঝুম : না মানে কাল আমার গালে মশা বসেছিল সেটা মারার জন্য রনি এত জোড়ে থাপ্পড় দিছিল যে মশার সাথে কাল খাবার পর ওর সাথে মজা করার প্রতিশোধ ও নিছে।(সত্য কথাটা চাপা দিল ঝুম) , এজাজ : আচ্ছা তোরা একটা টপিক পেলে সেটা ঘুটে যে পর্যন্ত গন্ধ বের না হবে তোরা ছাড়বি না তাই না। , মামুন : হা হা হা,,,,,টপিক থেকে আবার গন্ধ বের হয় কিভাবে? , এজাজ : সেটা বোঝার মত বুদ্ধি তোর ঘটে নেই, তুইতো শুধু খাওয়া ছাড়া অন্য কিছু বুঝিস না। , কেয়া : ইস কোথায় এসে পড়লাম, এজাজ তুই কথা ছাড়াতে গিয়ে আরো বেশি করে পেচাচ্ছিস!ঝুম চল আমরা বালির ওপর বাড়ি তৈরি করি। , ঝুম : ঠিক আছে! এজাজ আর মামুন জাজ ওরা বিচার করবে কারটা ভালো হয়! , মামুন : তোরা বাড়ি তৈরি কর আমি আর এজাজ ওদিকে ঘুরে আসি। , এজাজ আর মামুন একটু দূরে সরে এলো আর ঝুম কেয়া বালি খুড়তে লাগল। অপরদিকে রনি একা বাংলোতে বসে ছটফট করছে। , বালি তোলার সময় হঠ্যৎ করেই একটা কাঁচের বোতল উঠে এল কেয়ার হাতে। বোতলের মুখটা অদ্ভুত ভাবে আটকানো। কেয়া মন্ত্র মুগ্ধের মতো তাকিয়ে রইল বোতলটার দিকে। , ঝুম : আরে কি দেখছিস এমন করে বোতল টার দিকে। আমার কাছে দে খুলে দেখি! বলেই কেয়ার হাত থেকে ছো মেরে নিয়ে নিল বোতল টা। , কেয়া : না ঝুম এমন করিস না, আমাদের কোন বিপদ হতে পারে দেখছিস না বোতল টা অদ্ভুত। , কে শোনে কার কথা? কেয়াকে পাত্তা না দিয়ে বোতলের মুখটা খুলে দিল ঝুম। আর সাথে সাথে ঝটকা দিয়ে এক গরম বাতাস বেরিয়ে গেল বোতল থেকে।বাতাসের তীব্রতা এত ছিল যে ঝুম আর কেয়ারর চুল গুলো এলোমেলো হয়ে গেল। তারপরেই শুরু হলো তান্ডব।শান্ত নদীর ঘাট মূহুর্তেই পরিণত হলো এক নরক ক্ষেত্র। দিনের সূর্যের আলো ঢাকা পড়ে গেল ঘন কালো মেঘের আড়ালে। অন্ধকার নেমে এলো চারদিকে। তারসাথে শুরু হলো দমকা হাওয়া ও বালির ঝড়। বালির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঝুম আর কেয়া উড়না দিয়ে মুখ ঢাকারর চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু ঝড়ের কারনে পারছে না। দূর থেকে এজাজ আর মামুন হাত দিয়ে চোখ মুখ ঢেকে কেয়া আর ঝুমের কাছে আসার চেষ্টা করছে কিন্তু ঝড়ের কারনে এগোতে পারছে না। , ঝুম : কি হচ্ছে এসব? হঠাৎ করে এমনটা হওয়ার মানে কি? , কেয়া : আমি তোকে বলেছিলাম না এ বোতলের মুখ খুলিস না? তোর জন্যই হচ্ছে এসব(চিৎকার করে বলল কেয়া) , ততক্ষণে এজাজ আর মামুন কাছে চলে এসেছে ওদের। ওদেরকে নিয়ে দৌড়াতে লাগল বাংলোর দিকে।কিছুক্ষণ আসার পর আশ্চর্য হলো সবাই কারন এখানে সব স্বাভাবিক তাহলে কি হয়েছিল ওখানে? , বাংলোতে হাঁফাতে হাঁফাতে আসতে দেখে রনি জিঙ্গেস করল কিরে কি হয়েছে? মনে হয় যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে এলি? , ওরা সব খুলে বলল রনিকে। , রনি : তোরা সবাই ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নি।এক জায়গায় যাবো। তাড়াতাড়ি কর নয়তো ফিরে আসতে আসতে রাত হয়ে যাবে। , কেয়া : কোথায় যাবি? আর আমার জানামতে এখানে তো তোর আত্মীয় কেউ নেই। ঘুরতে যাবি নাকি কোথাও? , রনি : না! , এজাজ : তাহলে এই অচেনা জায়গায় কোথায় যাবে তুমি? , রনি : কেয়ারটেকারের কাছে খোঁজ নিয়ে জেনেছি এখান থেকে কিছুদূরে একটা তান্ত্রিক থাকে তার কাছেই যাবো এই শেষের রুমের রহস্য জানার জন্য।ঠিক আছে এখন সবাই ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নাও একটু পরেই বেরোবে। , , , বিকাল ৪ টা। সবাই রেডি যাওয়ার জন্য। শুধু বেঁকে বসল ঝুম ওর নাকি মাথা ব্যথা করছে তাই যাবে না।সবাই জোর করেও নিতে পারল না ওকে। ওর মাথা নাকি যন্ত্রণায় ছিড়ে যাচ্ছে। কি আর করা ওকে রেখেই চলে গেল সবাই। কিন্তু কেউ বুঝতে পারল না ঝুমের না যাওয়ার কারন মাথাব্যথা না। ওর আসল উদ্দেশ্য ওই শেষের রুমের বদ্ধ দরজা। প্রায় ১ ঘন্টা পর মামুন এজাজ রনি আর কেয়া তান্ত্রিকের বাড়ির কাছে এল। লোকজনে জিজ্ঞাসা করতেই দেখিয়ে দিল যে ঐ ঝুপড়িতেই তান্ত্রিক থাকে। সবাই দৌঁড়ে গেল তান্ত্রিকের কাছে। তারপর মামুন বলল; , মামুন : তান্ত্রিক মশাই আমরা খুব বিপদে পড়ে আপনার কাছে এসেছি, আজ সকালে আমাদের,,,,,,,, মামুন কে থামিয়ে তান্ত্রিক বলল; তান্ত্রিক : আমাকে বলতে হবে না আমি সব জানি। কেয়া : কি জানেন আপনি? তান্ত্রিক : আজ সকালে তোমাদের সাথে যা হয়েছে সব। অনেক বছর ধরে বোতলে বন্ধি থাকা একটি আত্মা কে তোমরা মুক্ত করেছো তারই তান্ডবের শিকার হয়েছিলে তোমরা। এজাজ : আপনি কি করে জানলেন আপনাকে তো আমরা কিছু বলিনি! তান্ত্রিক : শোন বাছা কিছু কিছু জিনিস আছে যা বলার অপেক্ষায় থাকে না। তোমাদের সাথে আজ যেটা ঘটেছে সেটা তো কিছুই না এরচেয়ে বড় বিপদ তোমাদের সামনে আসতে চলেছে। মামুন : কি সেই বড় বিপদ তান্ত্রিক মশাই? রনি : বাংলোটার সেই শেষের রুম! রনির কথায় আশ্চর্য হলো তান্ত্রিক। হুম তুমিই যথার্থই বলেছে তোমাদের সাথে খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে। আর সেটা তোমরা যে বাংলোতে আছো সেখানেই অবস্থান করছে ঐ শেষের রুমটায়। তোমরা শীগ্রই এই বাংলো ত্যাগ করে চলে যাও। , কেয়া : সেই খারাপ কিছুটা কি? দয়া করে আমাদের বলুন। , তান্ত্রিক : বহুবছর ধরে একটা আত্মা বন্ধি আছে ঐ রুমে, সে যদি মুক্তি পায় চরম বিপর্যয় নেমে আসবে তোমাদের ওপর বলতে বলতে থেমে গেলেন তান্ত্রিক। তার সারা শরীরর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল বন্ধ করে ফেলল চোখ। , এজাজ : কি হয়েছে ঠাকুর মশাই? আপনি এরকম করছেন কেন?তান্ত্রিক এবার চোখ খুলে বড় বড় করে তাকালেন সবার দিকে।তারপর বললেন ; তান্ত্রিক : সর্বনাশ হয়ে গেছে,ঘোর বিপদ তোদের সামনে, কেউ শেষের রুমের তাবিজ কবজ দ্বারা বদ্ধ দরজাটা খুলে দিয়েছে, মুক্ত করেছে ঐ ভয়ংকর আত্মাকে, এবার ধ্বংস হবে সবকিছু! মামুন : কে করেছে এমন? তান্ত্রিক : আমি তা জানি না। রনি : আমি জানি, ঝুম করেছে এমন ও মুক্ত করেছে আত্মাটাকে। তাড়াতাড়ি চল ঝুমের কোন বিপদ হওয়ার আগে আমাদের ঝুমকে বাঁচাতে হবে। তান্ত্রিক : তোমাদের জন্য আর ঐ বাংলোতে না ফেরাই ভালো চলে যাও এখান থেকে। , কেয়া : আমরা এতটা স্বার্থপর নই যে আমাদের বন্ধুকে বিপদে ফেলে পালিয়ে যাব। মরতে হলে একসাথে মরব। এজাজ : কেয়া রনি তাড়াতাড়ি চল যে করেই হোক আমাদের কে ঝুমকে বাঁচাতে হবে। চারজনে দৌঁড়ে তান্ত্রিকের ঝুপড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। তারপর গাড়িতে উঠে জোড়ে বাংলোর দিকে গাড়ি ছুটাল। ড্রাইভিং সিটে মামুন বসে আছে ওর পাশে বসেছে এজাজ। রনি আর কেয়া পিছনে বসেছে। মামুন আকাবাকা রাস্তায় এত স্পীডে গাড়ি চালাচ্ছে যে সিট বেল পড়ে থাকা সত্বেও রনি আর কেয়া একে অপরের সাথে ধাক্কা খাচ্ছে। বাংলো হতে প্রায় ১৫ মিনিটের দূরুত্ব বজায় রেখে হঠাৎ করেই গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেল।কি করবে ভেবে পাচ্ছে না ওরা, বাধ্য হয়ে বাকি পনেরো মিনিটের রাস্তা ওরা দৌঁড়ে আসতে লাগল। , বাংলোতে ফিরেই ওরা গেল শেষের রুমের দরজার দিকে। দূর থেকেই স্পষ্ট দেখতে পেল সবাই দরজাটা হাট করে খোলা। বারান্দায় পড়ে আছে কেয়ারটেকারের রক্তাক্ত দেহ টা। সাঁড়া গাঁয়ে আঁচড়ের দাগ আর রক্তে মাখামাখি। এজাজ লোকটার পাশে বসে নাকের কাছে হাত নিয়ে বলল; এজাজ : উনি তো মারা গেছেন। কেয়া ভয়ে পিছিয়ে গেল খানিকটা দূরে। মামুন আর রনি দৌড়ে গেল শেষের রুমটার দিকে, পিছন পিছন কেয়া আর এজাজ ও আসলো। রুমে এসে আশ্চর্য আর ভয় দুটোই একসাথে হলো। কারন রুমে কেউ নেই শুধু দেয়াল গুলোতে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ লেগে আছে। সম্ভবত এগুলো কেয়ারটেকার লোকটার রক্তের দাগ। রুমে কাউকে না দেখে কেয়া বলল; কেয়া : এখানে তো কেউ নেই তাহলে ঝুম কোথায় গেল। , মামুন : আমাদের সবগুলো রুম তন্নতন্ন করে খোঁজা দরকার। তোরা সবাই চারদিকে খুঁজে দেখ। , কেয়া : আমার মনে হয় আমাদের একা একা যাওয়া ঠিক হবে না কারন সেই আত্মাটা মুক্তি পেয়েছে ও আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে,তাই আমাদের একসাথে থাকতে হবে। , এজাজ : কেয়া ঠিক বলেছে।চল সবাই একসাথে খুঁজবো ঝুমকে। , , সবগুলো রুম খুঁজেও ঝুমকে কোথাও পাওয়া গেল না। সবাই হতাশ হয়ে বসে পড়ল মাটিতে। তখন রনি নড়াচড়া দিয়ে উঠল মনে হয় কিছু শোনার চেষ্টা করছে। রনি : আমি যা শুনছি তোমরা কি শুনতে পাচ্ছো? মাথা নাড়িয়ে না করল সবাই। , রনি : ঝুমকে মনে হয় পেয়ে গেছি। কারন ছাদ থেকে ঘুঙুরের আওয়াজ আসছে, সবাই ছাদে চলো। , ততক্ষণে রাতের আধার নেমে এসেছে, আধো অন্ধকারে ছাদের দিকে রওনা হলো সবাই। ছাদের যত কাছে যাচ্ছে ঘুঙুরের আওয়াজ ও তত তীব্র হচ্ছে। , কিছুক্ষণ পর সবাই ছাদে এসে তাজ্জব হয়ে গেল। আধো অন্ধকারে অস্পষ্ট ভাবে দেখল একটা নারীমূর্তি, গা ভর্তি গহনা গায়ে নাচের পোশাক, ঘুঙুর পায়ে নেচে চলেছে একতালে খোলা চুল গুলো এমন ভাবে সামনে ঝুলে আছে যে মুখটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। ঘুঙুর পড়ে নাচার কারনে পা থেকে রক্ত ঝরে পড়ছে। সোনালী ঘুঙুর গুলো রক্ত মেখে লাল বর্ণ ধারন করেছে। চারজনই অবাক ওরা! "এ কে? এভাবে এই ছাঁদে নাঁচছে কেন? আর পা থেকে রক্ত পড়ছে সেদিকে কোন হুশই নেই। কৌতুহল দূর করতে এজাজ মোবাইলেরর টর্চ অন করে মেয়েটির দিকে ধরতেই আতকে উঠল সবাই! ঝুম! একসাথে বলে উঠল সবাই। ঝুম এবার নাচ থামিয়ে এমন ভাবে গর্জন করে উঠল যে মনে হলো পুরো বাংলোটা কেঁপে উঠল মুহুর্তের জন্য। তারপর রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল; -- কোন সাহসে তোরা আমার নাচে বাঁধা দিলি, এবার তোদের সবাই কে মরতে হবে। আমার নাচে বাঁধা দেওয়ার একমাত্র পরিণাম হলো মৃত্যু। কেয়া এগিয়ে গেল ঝুমের কাছে।তারপর বলল। কেয়া : তুই কি পাগল হয়ে গেছিস?কি বলছিস এসব? দেখ ঝুম আমার দিকে তাকা! ঝুম কেয়ার দিকে এমন ভাবে তাকাল যেন চোখ থেকে আগুন বের হবে আর সেই আগুনে ভস্ম করে দিবে কেয়াকে। --- আমি ঝুম নই আমি চন্দ্রিকা! তোর সাহস হলো কি করে আমার গায়ে হাত দেয়ার।এবার তোদের সবাই কে মরতে হবে আমার হাত থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না তোদের।বলেই কেয়ার গলা চেঁপে ধরল ঝুম(চন্দ্রিকার আত্মা)। সবাই তখন বুঝতে পারল শেষের রুমের ঐ আত্মা টা আসলে চন্দ্রিকা। আর ও মুক্তি পেয়ে ঝুমের ভিতর প্রবেশ করেছে। আর চন্দ্রিকাই ঝুমের ভিতর প্রবেশ করে কেয়ারটেকার কে মেরেছে! , ঝুম(চন্দ্রিকা) কেয়ার গলা চেপে ধরে শূন্যে তুলে নিল।কেয়ার চোখ গুলো বড়বড় হয়ে গেছে, চোখ থেকে পানি ঝরছে। সবার প্রথমে এজাজ গেল ঝুমের হাত থেকে কেয়াকে বাঁচাতে। কিন্তু কেয়ার মতো একই ভাবে এজাজ কেউ গলা টিপে ধরে শুন্যে তুলে ফেলল ঝুম। মামুন আর রনি দৌড়ে গেল ঝুমকে ছাড়ানোর জন্য। কিন্তু হাজার জোড়াজুড়ি করেও ছাড়াতে পারছে না। ঝুমের গায়ে যেন অশুরের শক্তি। একসময় চোখ বন্ধ করে ফেলল কেয়া।ঝুম তখন কেয়াকে ছেড়ে দিল। কেয়ার দেহটা লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। এজাজের দম ও বন্ধ হয়ে আসছে এখন। এবার ঝুম মামুন কে হাতের ঝঁটকা দিয়ে এমন ভাবে ছুড়ে দিল যে দেয়ালে আছড়ে পড়ে মাথাটা ফেটে গেল। সাথে সাথেই জ্ঞান হারাল মামুন। রনি এখন একলা ঝুমের(চন্দ্রিকার) সাথে কিভাবে লড়াই করবে ভেবে পাচ্ছে না। আস্তে আস্তে এজাজ ও চোখ বন্ধ করে ফেলল। তাই ঝুম ওকে ছেড়ে দিল। কিন্তু এটা বুঝতে পারল না কেউ মারা যায়নি শুধু জ্ঞান হারিয়েছে। ঝুম এবার রনির দিকে এগোতে লাগল ক্রমশ। রনিও ভয়ে পিছনে যেতে লাগল। যেতে একসময় ছাদের কর্ণারে চলে এলো। পিছনে আর জায়গা নেই। রনি এবার মেনে নিল যে তার সময় শেষ। ঝুম একটা কুৎসিত ভাবে ভয়ংকর হাসি দিয়ে ধাক্কা দিল রনিকে। রনি ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে যাবার আগে মুহুর্তে কোনমতে ছাদের গ্রিলটা ধরে ঝুলে পড়ল। তীব্র রাগ ফুটে উঠলে ঝুমের মুখে। অশরীরী শক্তি খাটিয়ে হাতের মধ্যে একটা খেঁজুর গাছের কাঁটা আনল।তারপর আবার হাসতে হাসতে কাঁটাটা দিয়ে রনির হাতে আচড় কেটে লিখল মৃত্যু। তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠল রনি।সেই চিৎকার শুনে অট্টহাসি হাসতে লাগল ঝুম। তারপর কাঁটা টা গেথে দিল রনি বাম হাতে। রনির প্রায় জ্ঞান হারানোর উপক্রম হলো।কিন্তু না আমাকে এখন জ্ঞান হারালে চলবে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল রনি।তখনই ওর চোখ গেল ওর পাশেই একটা আলগা রড মরচে ধরা ঝুলে আছে।সামন্য মোচড় দিলেই ভেঙে যাবে। ডানহাতটা দিয়ে ছাদের কার্নিশের গ্রিল ধরে বাম হাতে যে হাতে ঝুম কাটা ফুটিয়েছে সেই হাতে রড টা ধরল রনি, ধরার সাথে সাথে সেটা খুলে ওর হাতে চলে এল।রডটা ক্যাচ করে এসে হাতে গাথা কাটার মধ্য খুট করে উঠল।ব্যথায় রনি রডটা ছেড়ে দিতে গিয়েও আকড়ে ধরল। ঝুম ততক্ষণে একটা ধারাল ছুড়ি নিয়েছে হাতে অশরীরী শক্তি দ্বারা। ছুড়িটা রনির ডানহাতে গাঁথার উঁচু করে ধরল। তখন রনি রডটা দিয়ে আঘাত করল ঝুমের মাথায়। আঘাত করার সময় কেঁপে উঠল রনির হাত।কারন আত্নাটা চন্দ্রিকার হলেও দেহটা ঝুমের। রনি কেঁদে ফেলল কষ্টে।তবে এ কষ্ট ব্যথার না এ কষ্ট মনের। প্রিয় বন্ধুকে কে মারতে চায়?রডের আঘাতে ঝুম জ্ঞান হারিয়ে ছাদে পড়ে গেল। রনি বহু কষ্টে আবার ছাদে উঠে এল। চিৎকার দিয়ে খেঁজুর কাটাটা টেনে তুলল হাত থেকে। তখন চোখ গেল মামুনের দিকে। মাথা থেকে অমেকটা রক্ত বেরিয়ে গেছে।ছাদের মেঝেটা লাল হয়ে গেছে রক্তে। চারজনই এখন বেহুশ। রনি কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। যেকোনো সময় চন্দ্রিকার আত্মা আবার ফিরে আসতে পারে। তখন দেখল এজাজের জ্ঞান ফিরে আসছে ধিরে ধিরে। ওদিকে রনির হাত থেকে সমানতালে রক্ত ঝড়ে পড়ছে সেদিকে যেন খেয়ালই নেই। এজাজের জ্ঞান ফেরার পর হয়তো বুঝতে পেরেছে এতক্ষণ কি ঘটেছে তবুও সবাই কে পড়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করল; , এজাজ : রনি কি ঘটেছে এতক্ষণ,? তোমার হাত থেকে তো রক্ত ঝড়ছে। , রনি : ও কিছু না! মামুন ভাই আর কেয়া আপুর অবস্থা তাড়াতাড়ি ওদের নিয়ে নিচে চল। , এজাজ মামুন কে কাঁধে তুলে নিল, আর রনি কেয়াকে নিয়ে চলল নিচে রুমে। রুমের ভিতর ফিরে ওদের জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করল দুজনে মিলে। কিন্তু কেউ ই চোখ খুলল না। রনির বিছানার চাদর টা উঠিয়ে ছিড়ে ফেলল, তারপর সেটা মামুনের মাথায় বেঁধে দিল।এজাজ কেয়াকে বারবার ডাকছে।কোন সাড়া নেই। হঠাৎ রনির মনে হলো ঝুমের কথা, ওতো ছাদে একা আছে। দৌঁড় দিল দরজার দিকে।পিছন থেকে এজাজ বলল; এজাজ : কোথায় যাচ্ছ? , রনি : ছাদে ঝুম একা আছে ওকে আনতে হবে। , এজাজ : আমি আসবো? , রনি : না তুমি ওদের পাশে থাকো!জ্ঞান ফেরার পর যদি কিছু দরকার হয়! বলেই রনি দৌঁড়ে দরজা পেড়িয়ে সিঁড়ি ডিঙিয়ে ছাঁদে উঠে গেল। ছাদে এসেই আরেকবার আঁতকে উঠল রনি। কেউ নেই ছাঁদে তাহলে ঝুম গেল কোথায়? হতাশ হয়ে ধপ করে হাটুগেড়ে ছাদে বসে পড়ল ও। , এভাবে কিছুসময় পার হবার পর রনির মনে হলো ওর পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। ঘুরেই দেখতে পেল ওর ঠিক মাথার ওপর কুড়োল হাতে ঝুম দাঁড়িয়ে আছে রনি পিছনে ফিরতেই দেখতে পেল ঝুম কুড়োল হাতে দাড়িয়ে আছে। রনি কিছু বলার আগেই ঝুম কুড়োলটা দিয়ে সোজা রনির উপর কোপ দিল। কোপটা লাগার আগেই রনি বসা থেকে শুয়ে পড়ে গড়িয়ে চলে গেল খানিকটা দূরে। ওর টার্গেট মিস হওয়ায় আবার ও ক্ষেপে গেল ঝুমের ভিতর থাকা চন্দ্রিকার আত্মা। আবার ও রনির দিকে এগোতে থাকল কুড়োল নিয়ে। রনি অন্যদিকে কোন রাস্তা না পেয়ে দৌঁড় দিল সিঁড়ির দিকে। ঠিক তখনি ছাদের সামনে জ্বলে থাকা বাল্ব টা ঝুমের ইশারায় খসে পড়ল সিঁড়ির সামনে।রনি দৌঁড়ে যাওয়ার সময় বাল্বটার ওপর পা লাগতেই ভেঙে সেটা ঢুকে গেল ওর পায়। প্রচন্ডা ব্যথা আর ভারসাম্য বজায় রাখতে না পেরে সিঁড়ি তেই পড়ে গেল রনি। তারপর গড়িয়ে এসে সোজা বাড়ি খেল একটা দেয়ালে।মাথায় প্রচন্ড একটা আঘাত লেগেছে। মাথায় হাত দিয়ে বুঝতে পারল মাথা থেকে রক্ত বের হচ্ছে।চোখের সামনে সবকিছু অন্ধকার হতে থাকল ওর।ঝাপসা চোখে শুধু দেখতে পেল কুড়োল হাতে ধিরে ধিরে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছে ঝুৃম।প্রাণপণে এজাজ বলে একটা চিৎকার দিয়েই জ্ঞান হারিয়ে ফেলল রনি। , , , সকালে যখন জ্ঞান ফিরল। দেখতে পেল পাশে এজাজ কেয়া আর রিদয় বসে আছে। ওর পাশেই মামুন কেউ শুইয়ে রাখা হয়েছে। রাতের কথা মনে পড়তেই শিউরে উঠল আবার। উঠে বসার চেষ্টা করল। কিন্তু মাথায় প্রচন্ড যন্ত্রণা হচ্ছে সারা শরীরে ব্যথা। হাতে মাথায় হাতে পায়ে সব জায়গায় ব্যান্ডেজ। নিশ্চয় রিদয় সব ঔষধ নিয়ে এসেছে। ক্ষীণ কণ্ঠে রনি বলল; , রনি : এজাজ ভাই কি হয়েছিল কাল রাতে?আর আমি বেঁচে আছি কিভাবে? , এজাজ : তুমি যখন মামুন আর কেয়ার কাছে আমাকে রেখে ছাদে যাও তখনি কেয়ার জ্ঞান ফিরে আসে। তাই আমি কেয়াকে মামুনের কাছে রেখে ছাদের দিকে যাই। তখনি তোমার চিৎকার শুনতে পাই। সেখানে যেয়ে দেখি তুমি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে আছো আর ঝুম কুড়োল হাতে তোমার দিকে আসছে। কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না তাই পাশে থাকা একটা ফুলদানী ছুড়ে দেই ঝুমের দিকে। ওটা ঝুমের মাথায় লাগায় ও জ্ঞান হারায় আর আমি ওকে রশি দিয়ে বেঁধে শেষের রুমে রাখি । তারপর রিদয়কে ফোন করে কিছু ঔষধ নিয়ে আসতে বলি। ও রাতেই রওনা হয়েছিল ভোরের আলো ফোটার আগেই চলে এসেছে। আর সারারাত ঐ শেষের রুম থেকে ঘুঙুরের আওয়াজ এসেছে।কথাগুলো একটানা বলে থামল এজাজ।তখন মামুন বলে উঠল : , মামুন : ও ঝুমকে এত কষ্ট দিচ্ছে। আমি কিছুতেই ছাড়ব না চন্দ্রিকাকে। , রিদয়: তোর আর এই অসুস্থ শরীর নিয়ে কিছু করতে হবে না যা করার আমরা তিনজনই করব। রনি তুই মামুনের পাশে থাকিস। , দরজার বাইরে কারো গলার আওয়াজ পাওয়া গেল। --- ভেতরে আসতে পারি? , এজাজ : আরে তান্ত্রিক মশাই আপনি?আসুন আসুন।দুজন চ্যালা কে সাথে নিয়ে রুমে ঢুকলেন তান্ত্রিক। , রিদয় : আমিই ডেকেছি উনাকে! , তান্ত্রিক : দেরী করতে চাইনা! কোথায় ঐ মেয়ে।তাড়াতাড়ি ওর দেহ থেকে আত্মাটাকে বিতাড়িত করতে হবে। কথাগুলো বলার সময় তান্ত্রিক চোখে মুখে এক ধরনের বিক্ষোভ ফুটে উঠল।সেটা কারো চোখে না পড়লেও রনি ঠিকি খেয়াল করল। তাহলে কি তান্ত্রিক কোন চালাকি করছে? সেদিনই বা কেন ঝুমকে একা ফেলে আমাদের চলে যেতে বলেছিল, আজই বা এত তাড়াহুড়া করছে কেন? তাহলে কি এর পিছনে তান্ত্রিকের কোন স্বার্থ আছে? ধুর আমি এসব কি ভাবছি! নিজে নিজেই মনে মনে কথাগুলো ভাবল রনি। ভাবনা থেকে বেরিয়ে তান্ত্রিকের দিকে তাকাতেই বুকের ভিতর ধক করে উঠল রনির। তান্ত্রিক কড়া দৃষ্টি তে রনির দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে চোখ পড়তেই তান্ত্রিক অন্যদিকে ফিরে তাকাল। , রিদয় : কি ভাবছেন তান্ত্রিক মশাই? চলুন এবার! , তান্ত্রিক : ও হ্যাঁ চলো। যাবার আগে আরেকবার কেমন যেন দৃষ্টি দিয়ে রনির দিকে তাকাল। , শেষের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে রিদয় এজাজ কেয়া তান্ত্রিক আর তার দুজন চ্যালা। রুমে ঢুকার আগে তান্ত্রিক তার পুটলি থেকে কিসের যেন তরল বের করে সবার গাঁয়ে সিটিয়ে দিল আর ধুলোর মতো কি যেন দিয়ে দরজার সামনে দাগ দিল। , কেয়া : এগুলো কি তান্ত্রিক মশাই? , তান্ত্রিক : তোমাদের গায়ে যেটা দিলাম সেটা একটা পবিত্র তরল। এটা নিলে কোন আত্মা তোমাদের ছুতে পারবে না। আর এই ধুলো ও পবিত্র এটার জন্য আত্মা কক্ষের বাইরে যেতে পারবে না। বলেই দরজা খুলে ভিতরে চলে গেলেন। পিছন পিছন সবাই ঢুকল। ভেতরে এসে সবাই ভয় পেয়ে গেল কিন্তু তান্ত্রিকের কোন পরিবর্তন দেখা দিল না হয়তো উনি জানতেন এমনটাই হবে। সারা রুমে শুধু রক্ত আর রক্ত। দেয়ালে রক্ত দিয়ে শুধু লেখা মৃত্যু। মেঝেতে পড়ে আছে কেয়ারটেকারের ছিন্নভিন্ন লাশ। হাত একজায়গায় মাথা একজায়গায়। ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠল কেয়া। রিদয় ওকে রুমের বাইরে পাঠিয়ে দিতে চাইলো, কিন্তু ও নিজেকে সামলে রুমে থেকে গেল।এজাজ আর কেয়া অবাক হলো কেয়ারটেকারের লাশ ছিল বারান্দায় এখানে এলো কিভাবে? সবাই কে দেখে ঝুম প্রচন্ড ক্ষেপে ওদের মারতে এল। কিন্তু গায়ে হাত দিয়েই দূরে ছিটকে গেল। কারো কোন ক্ষতি করতে না পেরে এবার দরজার দিকে দৌঁড় দিল ঝুম। সেখান থেকে ও ছিটকে আছড়ে পড়ল মেঝেতে। রিদয় তখন বলল; , রিদয় : কে তুই? কেন ক্ষতি করতে চেয়েছিস ওদের? , চন্দ্রিকা : বলব না (চিৎকার করে) , রনি ততক্ষণে খুড়িয়ে খুড়িয়ে হেঁটে দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কেউ ওকে দেখেনি। , তান্ত্রিক তখন ব্যাগ থেকে একমুঠো ধুলো ছুড়ে দিল ঝুমের ওপর। চন্দ্রিকার আত্মা চিৎকার করে উঠল। তারপর তান্ত্রিককের চোখের দিকে তাকাল, রনি দরজার বাইরে থেকে স্পষ্ট খেয়াল করল যে তান্ত্রিক আর চন্দ্রিকার আত্মার মাঝে চোখাচোখি হচ্ছে। মনে হয় চন্দ্রিকার আত্মা তান্ত্রিকের কাছে অনুমতি চাচ্ছে বলতে। , ঝুম : বলছি বলছি! আমাকে মেরো না, আমার নাম চন্দ্রিকা। বহু বছর আগেএই বাংলোটা ছিল জমিদার নাজমুল শাহ্ এর। আমি ছিলাম তার নাচনেওয়ালী। , এজাজ : তাহলে তুমি আত্মা হলে কিভাবে? আর এখানে তোমাকে বন্ধি করল কে? , চন্দ্রিকা : আমার ও স্বপ্ন ছিল আমি স্বামীর সংসার করবো।কিন্তু ওই নাজমুল শাহ তা হতে দেয়নি। ও যখন খুশি নাচাত আমাকে। ওর ইচ্ছের দাস ছিলাম আমি। কিন্তু নাজমুল শাহের এক দ্বাররক্ষী ভালোবাসতো আমাকে আমিও বাসতাম। তাই একরাতে দুজনে এখান থেকে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ি। নাজমুল শাহ ওকে গলা কেটে হত্যা করে আর আমাকে জীবন্ত এই ঘরে পুড়িয়ে মারে। তখন আমি এক প্রতিশোধী আত্মা হয়ে যাই। তখন নাজমুল শাহ এক তান্ত্রিক এনে আমাকে বন্ধি করে এখানে। প্রতিশোধের না নেওয়ার জন্য আজও আমার আত্মার মুক্তি ঘটেনি। নাজমুল শাহ কে না মারতে পারলেও তোদের মেরে আমার আত্মার শান্তি ঘটত। কিন্তু বাধা দিল ঐ ছেলেটা। দরজার দিকে দেখাল আঙুল তুলে রনিকে। , তান্ত্রিক : তোর অনেক কান্ড হয়েছে। এখন বন্ধি হতে হবে তোকেই পুটলী থেকে কাঁচের বোতল বের করে ঝুমের সামনে ধরল। আর কোন অমত না করে চন্দ্রিকার আত্মা ঝুমের দেহ ছেড়ে বোতলে ঢুকল। ঝুম লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। রিদয় এজাজ ওকে টেনে তুলে রুমে এনে শুইয়ে দিল। রনি মাথায় এখনো হাজার হাজার প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। চন্দ্রিকার আত্মা কোন প্রতিবাদ না করেই এত সহজে হার মেনে নিল। এসব যদি তান্ত্রিকের কাজ হয় তাহলে ও কেন সাহায্য করল? চন্দ্রিকার আত্মা নিয়ে চলে গেল তান্ত্রিক। , দুপুরে ঝুমের জ্ঞান ফিরে এল। হুশে এসেই প্রশ্ন করল আমি বিছানায় শুয়ে কেন আমার মাথায় ব্যান্ডেজ কিসের। ঝুমের কিছুই মনে নেই। সবাই মিলে শুরু থেকে সবকিছু খুলে বলল ওকে।সব শুনে ঝুম বলল; ঝুম : আমার কারনে তোদের মৃত্যু হতে পারত।কেমন অভাগা আমি (কেঁদে কেঁদে) , রনি : এসব কথা বাদ বাড়িতে সবাই চিন্তা করছে আমাদের জন্য আজই রওনা হব।সবাই সায় জানাল রনির কথায়। , বিকেলে গাড়িতে করে রওনা হলো ওরা বাসার উদ্দশ্যে। পিছনে ফেলো গেল ভয়াবহ এক অভিঙ্গতা। আর কিছু অজানা প্রশ্ন। কোন কি উত্তর নেই এই প্রশ্নগুলোর???

সমাপ্ত Ads:

COMMENTS

Name

অন্য বিষয়ের উপর লেখা ইবুক কবিতা গল্প/কবিতা লেখার প্রতিযোগিতা জীবনের সত্য ঘটনা থ্রিলার গল্প দেশের গল্প পিশাচ কাহিনী ভালোবাসার গল্প ভৌতিক গল্প রম্য গল্প রহস্য গল্প সায়েন্স ফিকশন হরর গল্প
false
ltr
item
Bengali pdf and story blog: চন্দ্রিকা লেখা রাজকুমার রনি
চন্দ্রিকা লেখা রাজকুমার রনি
https://4.bp.blogspot.com/-jSVyjIX2MSM/WlWeu6WsWuI/AAAAAAAAAgg/XMF-YGTG0FcpRR5HrS4dllB_Yp3HBT6DwCLcBGAs/s320/1515560396379.jpg
https://4.bp.blogspot.com/-jSVyjIX2MSM/WlWeu6WsWuI/AAAAAAAAAgg/XMF-YGTG0FcpRR5HrS4dllB_Yp3HBT6DwCLcBGAs/s72-c/1515560396379.jpg
Bengali pdf and story blog
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2018/01/blog-post_40.html
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2018/01/blog-post_40.html
true
7257552463787474279
UTF-8
Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy