মৃত্যুর বাণ লেখা তাসফিয়া তানহা ঝুম

সত্যি ঘটনা অবলম্বনেঃ- ঝুম : মা আর কত দূর আর কতখন লাগবে যেতে।আমার খুব কষ্ট হচ্ছে মা। লিলি (ঝুমের মা) : (কান্না জড়িত গলায়) এই তো সোনা আমর...


সত্যি ঘটনা অবলম্বনেঃ-
ঝুম : মা আর কত দূর আর কতখন লাগবে যেতে।আমার খুব কষ্ট হচ্ছে মা।
লিলি (ঝুমের মা) : (কান্না জড়িত গলায়) এই তো সোনা আমরা চলে এসেছি আর একটু হলেই পেয়ে যাবো।কিচ্ছু হবে না তোর।
ঝুম : আমার খুব কষ্ট হচ্ছে মা সারা শরীরে ব্যথা করছে আর কাটা কাটা বিঁধছে। (ব্যথায় কোকিয়ে বললো ঝুম)
আঁচলে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে লাগলো ঝুমের মা। এম্বুলেন্সের সামনে সিটে বসে মেয়ের কথা শুনে শিহাব সাহেব (ঝুমের বাবা) ও কেঁদে ফেললো। ২ মেয়ের মধ্যে এক মেয়ে কে অনেক আগেই হারিয়েছে ৮ বছর আগে ঝিলিক মারা যায় ঝিলিক ঝুমের বড় বোন। ৮ বছর পর আবার সেই একি ঘটনা। সেই একি অসুখে অসুস্থ্য তাদের ছোট মেয়ে ঝুম।
ভাবতে ভাবতে এম্বুলেন্স এসে থামলো ক্লিনিকের সামনে। রাত ১০ টা বেজে গেছে। ওয়াডবয় আর নার্স ট্রলিবেড নিয়ে এসে ঝুমকে নিয়ে গেলো ভেতরে।ডাক্তার সব কিছু ঝুমের মায়ের থেকে শুনে কিছু টেস্ট করতে দিয়ে ঝুমকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পারিয়ে দিলো। বেডে দেওয়া হয়েছে ঝুম কে। রাতের মধ্যেই সব টেস্ট শেষ করে রিপোর্ট দেখলো ডাক্তার। ডাক্তার রফিক ইসলামের চেম্বারে ডাক্তারের সামনে বসে আছে ঝুমের মা বাবা।রিপোর্ট বার বার চেক করে দেখছিল রফিক সাহেব। শিহাব সাহেব : কি দেখলেন ডাক্তার সাহেব। ডাক্তার : আমি রিপোর্ট দেখে অবাক হচ্ছি ঝুম এত অসুস্থ্য অথচ রিপোর্ট একদম নরমাল।কোথাও কোনো সমস্যা নেই।বিন্দু মাত্র প্রব্লেম নেই।তবুও আমি আরেক বার নিজে হাতে সব কিছু পরীক্ষা করে দেখবো।

রাত্রি ৩ টা বেজে গেছে ঝুমের ঘুম বেশিক্ষণ টিকে নাই।৩০ মিনিট ঘুমিয়েই আবার ব্যথায় কান্না শুরু করে দিয়েছিল।ডাক্তার রফিক আশ্চর্য হয়ে যায় রিপোর্ট দেখে তাই সেই রাতেই আমার সব কিছু নতুন করে পরীক্ষা করে।কিন্তু আবারো একি রিপোর্ট। দোটানায় পরে গেলো সকল ডাক্তার।যেখানে কোনো রোগ নেই সেখানে চিকিৎসা করবে কি করে। ফজরের আযান দিয়ে দিয়েছে।সারা রাতে সবাই খুব ক্লান্ত। ডাক্তার ও হার মানার পাত্র নয় তাই কিছুটা সময় চেয়ে উনি বাড়ি চলে গেলো। মেয়ের চিন্তায় ঘুম নেই ঝুমের মা বাবার। ঝুম : (কেঁদে কেদে মাকে জড়িয়ে ধরলো।)মা অনেক তো হলো।এবার তুমি আর বাবা একটু ঘুমাও মা।(চোখের পানি মুছে) এই দেখো আমি ঠিক আছি।আমি এখন একটু ভালো আছি বাবা তুমি আর মা ঘুমাও। মেয়ের জেদের কাছে হার মেনে বাধ্য হয়ে ঘুম না এলেও পাশের বেডে শুয়ে পরলো তারা। ঝুম : (মনে মনে) আমি জানি মা আমার সময় শেষ হয়ে গেছে।আমিও আপুর মত তোমাদের ছেড়ে ঐ দূর আকাশের তারা হয়ে যাবো।কিন্তু আমি কি করে থাকবো মা একা একা অন্ধকার কবরে।আমি তো অন্ধকারকে ভয় পায়। আমি তো রাতে একা থাকতে পারিনা।(ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো ঝুম)কি জানি মা কোন চোর তোমার আর বাবার সুখের ঘরে তোমাদের সন্তানদের চুরি করতে ঢুকেছে।আপু কে নিয়ে গেছে এবার আমাকে নিয়ে যাবে। মিস করব তোমাদের খুব। ঝুমের কান্নার আওয়াজ পেয়ে ঝুমের বাবা মা উঠে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলেন।তারাও কাঁদছিল খুব। ঝুম : বাবা,,, শিহাব সাহেব : হ্যাঁ মা বল, ঝুম : আমার একটা শেষ ইচ্ছা পূরণ করবে তোমরা। লিলি : ঝুম এমন করে বলিস না।বল কি চায় তোর। তুই যা চাইবি আমি এনে দেবো তোকে। ঝুম : আমি জানি আমার বাবা মা আমি যা চাইবো এনে দিবে। কিন্তু এটা কেমন ভাবে নিবে তুমি আমি জানিনা। শিহাব সাহেব : বল তুই মা কি চায় তোর। ঝুম : বাবা আমি আমার কয়েক জন বন্ধুকে দেখতে চায়। আমি জানি আমার সময় খুব কম আমি তাদের দেখতে পাবো না আর কোনো দিন।তুমি তাদের বলবে কি আমার সাথে দেখা করতে খুব তাড়াতাড়ি। লিলি : ঠিকানা দে আর নাম বল ঝুম তাদের। ঝুম : শুধু কল দাও তাদের মধ্যে একজন কে তাহলেই হবে। নাম্বার ০১৭৭...........৫ এটা রিদুর নাম্বার। মানে হৃদয়ের নাম্বার।তুমি রিদুকে কল দিয়ে বলো যে আমি অসুস্থ্য ও যেন রনি,এজাজ,অর্ণবকে নিয়ে আজকের মধ্যে চলে আসে।আর এই টা ০১৯..........৬ এটা কাজলের নাম্বার। বাবা আমি কাজল কে ভালবাসি। শুধু একবার ওদের আমি দেখতে চায়।

ঝুমের মা বাবা আর কোনো কথা না বলে হৃদয়কে কল দিলো। ঝুমের সব কথা খুলে বলে । হৃদয় দুঃখ প্রকাশ করলো ঝুমের কথা শুনে।দেরি না করে হৃদয় কল দিলো এজাজ,রনি আর অর্ণব কে। রনি,হৃদয়,এজাজ,অর্ণব আর কাজল সবাই চলে এলো বিকেলের মধ্যে। ডাক্তার রফিক সব রিপোর্ট আবার চেক করেও কিছু না পেয়ে হতাশ হয়ে ঝুমের রিলিজ করার কথা বলে দিলো। সবাই ঝুমের কেবিনে ঢুকে দেখে অবাক। রনি : (ফিসফিস করে) এজাজ ভাই ঝুম কে দেখে মনে হচ্ছে না ও অসুস্থ্য।

এজাজ : সেটাই তো দেখছি।কিন্তু ঝুমের বাবা মিথ্যা বলবেন কেন। ঝুম : কি হলো তোমরা কি ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে। কাজল : কেমন আছো ঝুম ঝুম : হিহি ভালো। তোমরা সবাই কেমন আছো। হৃদয় : (ঝুমের মা কে উদ্দেশ্য করে) আন্টি ঝুমের কি প্রব্লেম এটা এখনো কি ডাক্তার বলেনি। , লিলি : না বাবা ৩ বার সব কিছু পরীক্ষা করেও কিছু ধরা পরেনি।কিন্তু ঝুমের সারা গায়ে ব্যথা আর কাটা কাটা বিধে। দিন দিন ফুলে যাচ্ছে কিছু খায়না।গালে লাল লাল দাগ হয়ে উঠছে।অনেক জায়গায় দেখিয়েছি ডাক্তার কিন্তু, (বলেই কেঁদে ফেললো ঝুমের মা) অর্ণব : আমি একটা কথা বলি আন্টি। লিলি : হ্যা বাবা বলো। অর্ণব : জানিনা আপনারা বিশ্বাস করবেন কি না। আন্টি আমার মনে হয় একবার ঝুমকে কবিরাজি চিকিৎসা করা দরকার।অনেক কিছুই তো করলেন এবার না হয় এটা করেন।কারণ ডাক্তার তো কিছু ধরতেই পারছেনা। কাজল : হুম, ঠিক বলেছো। আমার চেনা একজন আছে যিনি অনেক কিছু জানে।

এজাজ : তাহলে আর দেরি না করে চলেন এখনি নিয়ে যাই ঝুমকে। ক্লিনিক থেকে রিলিজ করে কাজলের চেনা এক কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলো ঝুমকে।সবাই বলে কবিরাজ নাকি জ্বিন পোষণ করে আর তাদের দিয়েই নাকি তিনি মানুষের সেবা করে। আসনে বসা মাঝ বয়সি কবিরাজ ঝুমের মুখের দিকে একবার তাকিয়ে মুখ নিচু করে ফেললো। শিহাব সাহেব : কি দেখলেন কবিরাজ।কি হয়েছে আমার মেয়ের।

কবিরাজ : নিয়ে এসছেন ঠিকি কিন্তু শেষ করে নিয়ে আসলেন।(করুণ কন্ঠে) কথাটা শুনে সবাই চমকে উঠলো। লিলি : কি বলছেন কি কবিরাজ সাহেব আপনি। কবিরাজ : হ্যা মা আমি ঠিকি বলছি।তোর মেয়ের সাধারণ কিছু হয়নি।অকে কিছু করা হয়েছে। কাজল : মানে, কিছু মানে কি। হৃদয় : একটু খুলে বলেন চাচা।

কবিরাজ : ওর জীবন মৃত্যুর জন্য কুফুরি কালাম করে বাণ মেরেছে কেউ।যার জন্য ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে আপনার মেয়ে। এই জন্য কোনো ডাক্তার ওর রোগ ধরতে পারেনা। আজ কাল অনেকেই এটা বিশ্বাস করেনা।তবে আমি করি!! কথা গুলো শুনে সবাই অবাক হলো কিন্তু এজাজ আর রনি মানতে নারাজ।

রনি : কি বলেন আপনি কবিরাজ চাচা এমন কিছু হয় নাকি।

এজাজ : যদি এমন কিছু থেকেও থাকে তাহলে এতো টুকু মেয়েকে কে কি করে করতে পারে এমন কিছু।কি ক্ষতি করেছে ও। শিহাব সাহেব : সজ্ঞানে এমন কারো ক্ষতি করিনি কবিরাজ সাহেব যে এমন খারাপ কাজ করেছে সেটার প্রতিশোধ নিতে।

ঝুম কোনো কথা না বলে চুপ করে সবার কথা শুনছিল।মনে মনে ভাবছিল ওর বড় বোন কেউও কি এই ভাবে কেউ মেরেছে।তার পরে কি এবার ওর নিজের পালা। সবাইকে সামনে বসিয়ে রেখে কবিরাজ তার সাথে থাকা জ্বিন দিয়ে কিছু ময়লা জিনিস সামনে এনে ফেললো। সবাই ভয় পেয়ে গেলো। একটা কাঠি দিয়ে কবিরাজ সেগুলো কে আলাদা আলাদা করে দেখালো।এক দেখাতে ঝুম আর ঝুমের মা চিনে গেলো সেখানকার এক টুকরা কাপুড়।ওটা ছিল ঝুমের ব্যবহার করা ওড়নার টুকরা।

কবিরাজ : এই দেখুন এই চুল আপনার মেয়ের, এখানে ওর নখ,চুল,কাপড়,কাফনের কাপড়,সুচ আর মাটি দিয়ে করা।এটা অনেক আগে করা প্রায় পচে যাচ্ছে।এটা আস্তে আস্তে পচে যাবে আর আপনার মেয়ে মৃত্যুর কোলে চলে যাবে।এই জিনিস গুলা আপনার বাড়ির মাঝ উঠানে পুতে রেখেছিল।যে পুঁতেছে সে আপনাদের কাছের আর চেনা মানুষ। শুধু তাই নয় এই একি ভাবে মৃত্যু হয়েছে আপনাদের বড় মেয়ের। কবিরাজের কথা গুলা শুনে সবার শরীর হিম হয়ে আসছিল।অবাক হয়ে গেলো সবাই।কারণ ঝুমের বোনের মৃত্যুর কথা উনার জানার কথা না।

কবিরাজ : জানিনা আল্লাহ কি করবে। আপনারা এই জিনিষ নিয়ে বাড়ি চলে যান। গিয়ে দেখুন মাঝ উঠানে মাটি খুড়া। এই জিনিষ গুলা ওখান থেকেই তুলা।এই গুলা ওখানেই পুড়িয়ে ফেলবেন।তার পর আল্লাহ যা করে আর কি।কিন্তু সাবধান এই গুলা পুড়ানোর সময় ভয় পাবেন না।অনেক শব্দ হবে আর অন্য কিছু অনুভব ও করতে পারেন।

কবিরাজের কথা মত সবাই ঝুমকে নিয়ে বাড়ি চলে এলো। আস্তে আস্তে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। সবাই এসে মাঝ উঠানে দেখলো সত্যি মাটি খুড়া। ঐ জিনিস গুলা সেখানে রেখে আগুন ধরিয়ে দিলো। ভেজা ভেজা জিনিষ আর এক মুঠো জিনিষ অথচ এতো আগুন আর শব্দ শুনে সবাই একটু ভয় পেয়ে গেলো। আর কোথাও কিছু না হলেও পাশের ২ টা এতো জরে দুলছিল যে সবাই একটু বেশি ভয় পেয়ে গেলো। কিন্তু মন শক্ত করে কাজ শেষ করলো সবাই।আগুন নিভে যাবার পরপরি ঝুম জ্ঞান হারায়। পরেরদিন কিছুটা সুস্থ্য হয় ঝুম।এজাজ,রনি,হৃদয়,অর্ণব আর কাজল যে যার বাড়ি চলে গেলো।

কিছু দিন যাবার পর আবারো সেই একি ভাবে অসুস্থ্য হয়ে যায় ঝুম।এবার আর রেহায় মিলেনি ঝুমের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে হারিয়ে গেলো দূর অজানায় ঝুমের প্রাণ পাখি। ঘটনাটা সম্পূর্ন সত্যি,শুধু নাম আর কিছুটা সাজিয়ে দেএয়া।কখনো এমন কিছু করবেন না যাতে আপনার জন্য অন্য কারো প্রাণ চলে যায়।আপনার কাছে হয়তো তার মূল্য নেই। কিন্তু তার পরিবারের কাছে প্রিয়জনদের কাছে তার অনেক মূল্য।কুফুরি কালামকারি কে আল্লাহ কখনো মাফ করবেন না। ভালো থাকুন সবাই। ভালো রাখুন সবাইকে।
সমাপ্ত Ads:

COMMENTS

Name

অন্য বিষয়ের উপর লেখা ইবুক কবিতা গল্প/কবিতা লেখার প্রতিযোগিতা জীবনের সত্য ঘটনা থ্রিলার গল্প দেশের গল্প পিশাচ কাহিনী ভালোবাসার গল্প ভৌতিক গল্প রম্য গল্প রহস্য গল্প সায়েন্স ফিকশন হরর গল্প
false
ltr
item
Bengali pdf and story blog: মৃত্যুর বাণ লেখা তাসফিয়া তানহা ঝুম
মৃত্যুর বাণ লেখা তাসফিয়া তানহা ঝুম
https://2.bp.blogspot.com/-r1gpHOF5t2Y/Wm6JA2kq33I/AAAAAAAAAiA/52HVkcbr2hwqCNMoY09ZrUnr9zA4FqXuACLcBGAs/s320/1516623259563.jpg
https://2.bp.blogspot.com/-r1gpHOF5t2Y/Wm6JA2kq33I/AAAAAAAAAiA/52HVkcbr2hwqCNMoY09ZrUnr9zA4FqXuACLcBGAs/s72-c/1516623259563.jpg
Bengali pdf and story blog
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2018/01/blog-post_59.html
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2018/01/blog-post_59.html
true
7257552463787474279
UTF-8
Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy