গল্প লেখা আসাদুর রহমান শিপন

অরিন্দম এই শীতের রাতেও প্রচণ্ড গরমে যেভাবে মানুষ ঘামতে থাকে ঠিক তেমনিই ঘামছে। অথচ অশনির কোনো সাড়াশব্দ নেই। শীতের রাত্রির এই নির্জনতায় সবাই...


অরিন্দম এই শীতের রাতেও প্রচণ্ড গরমে যেভাবে মানুষ ঘামতে থাকে ঠিক তেমনিই ঘামছে। অথচ অশনির কোনো সাড়াশব্দ নেই। শীতের রাত্রির এই নির্জনতায় সবাই ঘুমিয়ে আছে। হয়তো কেউ কেউ জেগে আছে। অরিন্দম জানে না। সে চারদিকে তাকায়। শীতার্ত পূর্ণিমার জ্যোৎস্না চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তার চোখের সামনে কেবলই গন্ধবিহীন জীবনের বিকলাঙ্গ উচ্ছ¡াস খেলা করছে। অরিন্দম জানে অশনি তাকে ভালোবাসে না। সে প্রেম করেও বিয়ে করেনি।

অরিন্দম একটি হাই স্কুলের অঙ্কের ও বিজ্ঞানের টিচার। তাদের পরিবারের মধ্যে সে-ই একমাত্র বিএসসি-বিএড করে মাস্টারিতে ঢুকেছে। সরকারি চাকরির অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু কোথাও হয়নি। তারপর তারই উপজেলার গগনময়ী হাই স্কুলে অঙ্কের ও বিজ্ঞান টিচার হিসাবে যোগ দেয়। ছাত্রছাত্রীরা তার খুব ভক্ত। বলে অরিন্দম স্যারের মতো এমন মানুষ হয় না। এতো সুন্দর করে ক্লাসে পড়ান। সবাই তার ব্যবহারে মুগ্ধ। অথচ অশনি তাকে ভালোবাসে না। ঘৃণা করে। পছন্দ করে না। অশনি কেন তাকে ভালবাসে না সে জানে না।

এই ঘনরাত্রির অনন্ত বেদনা বুকে নিয়ে অরিন্দম একটা ঘোরের মধ্যে ডুব দেয়। আজ জানতে চায় ভালোবাসার ঠিকানা কোথায় কিংবা ভালোবাসা নামক সোনার হরিণটা কেন পলাতক জীবনের মতো তার সাথে অদ্ভুত খেলায় মত্ত থাকে। এই খেলা তার আগামী জীবনের স্বপ্নকে কোথায় নিয়ে যাবে সে জানে না। কখনো জানতেও চায় না। মাথার উপরে পৌষের মায়াবী চাঁদটা যেন তার সাথে বিদ্রুপ করছে। এই পৌষালী নরম আলোর মাঝেও কেমন একটা অন্যরকম নিষ্ঠুরতা ফুটে উঠছে। আজকের এই পৌষের জ্যোৎস্না রাতে যেন কোনো রোমান্টিকতা নেই। নেই নিকট ভালোবাসারা কোমল স্নিগ্ধতা। অরিন্দম ভেবে পায় না কি করবে। চারপাশের সবকিছু আজ তাকে বার বার যেন বলছে, তুমি কি করবে? তোমার কি করার আছে? জোর করে কি ভালোবাসা হয়? জোর করেতো কস্মিনকালেও ভালোবাসা আদায় করা যায় না। তোমার ভালোবাসার প্রবহমান আবেগ যদি তোমার অশনিকে কাছে টানতে না পারে, তুমি কি করতে পারো? অরিন্দম চিন্তা করে দেখল সত্যিইতো তার কিছুই করার নেই। অথচ সে-তো অশনিকে জোর করে বিয়ে করেনি। পরিবারের মুরব্বিরা আলাপ-আলোচনা করেই তার জন্য বউ ঠিক করেছিল। সবাই তখন বলেছিল অশনি ভালো ঘরের মেয়ে। ওই বাড়ির মেয়েরা যেখানেই গিয়েছে সেখানেই ঘর আলো করেছে। ঘটক বলেছিল চিন্তা করতে হবে না। মেয়ের স্বভাব-চরিত্র যেমন ভালো তেমনি লক্ষী শান্ত মেয়ে। ঘটকের কথায় অরিন্দম আর মেয়ের কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। কেবল ছোট মামা বলেছিল ঘটকের সব কথাই ঠিক আছে। তবে মেয়ের রাগ খুব বেশি। তা-ও নাকি আবার প্রকাশ পায় না। অরিন্দম ছোট মামার কথা শোনে ভেবেছিল, এ আবার কেমন রাগ। যে রাগের প্রকাশ নেই তা আবার রাগ নাকি। এমন রাগ-অভিমান সবারই থাকে। মেয়েদের রাগ-অভিমান থাকলে মেয়েদের আরো সুন্দরই দেখায়। না থাকলেই বরং ভালো লাগে না। অন্যরকম দেখায়। বিয়ের পর দেখেছিল অশনি কথা খুব কম বলে। প্রয়োজনের বাইরে কোনো কথা বলে না। অনেক সময় বাড়িতে ওর উপস্থিতি বুঝাই যায় না। অশনির কথা বলা কম দেখে অরিন্দম কিছুই মনে করেনি। ভেবেছে সবে মাত্র বিয়ে হয়েছে। নতুন বউ। নতুন বউদের বেশি কথা বলতে নেই। তাতে সমাজের লোকেরা হাসাহাসি করে। যখন সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেবে তখন ভালোবাসার স্রোতস্বিনী জলধরার কল্লোলিত উচ্ছাসে চারদিক ভরিয়ে দেবে। তখন না হয় তার সাথে রং তামসা করা যাবে। অরিন্দম অনেক দূরের নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে ভাবে অশনি কি অনেক দূরের নক্ষত্রের সীমারেখার কাছাকাছি বাস করে। যার ক্ষীণ আলোর রেখা কেবলই দেখা যায়। দূরত্বের সীমারেখা পার হয়ে সে তার প্রিয়তম স্ত্রীকে স্পর্শ করতে পারছে না। এত দুঃসহ ভাবনার গভীর ডুবেও অরিন্দম কি মনে করে হেসে উঠে। ওর হাসির মাঝে ভালোবাসার উচ্ছাসিত বিলাসী উচ্ছাস নেই। আছে বেদনাময় বিদ্রুপের ভয়াবহতা। এই হাসির অন্তরালেই যেন লুকিয়ে আছে একজন বিরহী মানুষের দুঃখ কষ্ট ভরা সারা জীবনের নান্দনিক ব্যর্থতা। অরিন্দমের এখনো মনে আছে বিয়ে করার দুমাস পর হাসিমুখেই অশনিকে বলেছিল, তুমি এত কম কথা বলে থাক কি করে? আমরাতো কথা না বলে থাকতেই পারি না। অশনি অরিন্দমের কথার পিঠে প্রথমে কিছু না বলে কি যেন ভাবল। তারপর মুখে স্মিত হাসির রেখা টেনে বলেছিল সবাইকি আর সবার মতো হয়। সবাই যদি সবার মতো হতো, তাহলেতো আর জগৎ সংসারে এতো বৈচিত্র্যতার সমারোহ থাকতো না। কথাটা বলেই অশনি মুখ বন্ধ করে বসে থাকে। অরিন্দম নিজের বিয়ে করা বউয়ের দিকে কতক্ষণ তাকিয়ে থেকে কি যেন ভাবতে থাকল। এক সময় বলল, ঠিকই বলেছ সংসারে সবাই সবার মতো হয় না। একেক জন একেক রকম হয়। অরিন্দমের কথা শুনে তার কথার ধারেকাছে না ঘেঁষে অশনি বলে, তুমি আমাকে বিয়ে করতে গেলে কেন। আমার মতো মেয়ে তোমার জন্য মানায় না। তোমার প্রয়োজন ছিল আমাদের গ্রামের অরুণার মতো উচ্ছ¡ল একটা মেয়ে। যে সারাক্ষণ তোমার সাথে কথা বলত। ওর কথার কলরবে তুমি এক সময় বিরক্ত হয়ে বলতে, অরুণা তুমি এতো কথা বল কি করে? – অশনি তুমি আমার কথায় বিরক্ত হয়েছ, তাই না। – বিরক্ত হব কেন? বিরক্ত হবার কি আছে? – বিরক্ত না হলে তুমি তোমাদের গ্রামের অরুণার কথা এখানে তুলছ কেন? – বিশ্বাস কর আমি বিরক্ত হইনি। তুমি যেমন বউ চাও আমি সেরকম নই। তাই অরুণার কথা তুলছিলাম। আসলে আমাকে তোমার পছন্দ হয়নি। – কে বলেছে তোমাকে আমার পছন্দ হয়নি। কথার পিঠে কথা বললেই কি সবাই স্মার্ট হয়ে যায়। – স্মার্টনেসের কথাতো আমি বলছি না। আমার আর তোমার মধ্যে একটা মানসিক দূরত্ব হয়ে গেছে। সেই দূরত্বকে তুমি গোছাতে পার না বলেই মনে কর আমি কম কথা বলি। মূলত আমি কম কথা বলি না। তবে আমাদের গ্রামের অরুণার মতো বাঁচালও না। – তুমি আমার ওপরে রাগ করেছ। তাই এভাবে কথা বলছো। – বিশ্বাস করো আমি রাগ করিনি। আমি কেবল নিজেকে তোমাকে চেনাতে চেয়েছি। আর কিছু নয়। – তুমি কি মনে করো আমি তোমাকে চিনতে পারিনি? তোমাকে আমি ঠিকই চিনতে পেরেছি। – তুমি যদি আমাকে চিনতে পারতে, তাহলে বলতে না আমি এতো কম কথা বলি কি করে। – এবার বুঝলাম অশনি তুমি আমার ওপর রাগ করেছ। রাগ করেছ বলেই এতো কথা বলছ। – বিশ্বাস করো আমি তোমার ওপর রাগ করিনি। রাগ করলে আমি কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়ে পড়তাম। আমিতো তোমাকে চিনি। তুমি আদর সোহাগে আমার ঘুম ভাঙাতে। ঠিক করে বলতো আমি সত্যি কথা বলছি না। অরিন্দম অশনির কথার কোন উত্তর না দিয়ে বেদনার্ত মানুষের মতো তার বিয়ে করা বউয়ের দিকে অনেক্ষণ তাকিয়ে থেকে কেবল বলেছিল, বুঝলাম তুমি খুবই অভিমানী মেয়ে। তোমার ভিতরের প্রবেশ করতে না পারলে তোমাকে চেনা হবে না। তোমাকে চিনতে হলে তোমার অথৈ গভীরে ডুব দিতে হবে। তা-না হলে যে, তুমি চিরকাল আমার কাছে অচেনাই থেকে যাবে। অরিন্দমের কথার ধরন দেখে সেদিন অশনি কেবল হেসেছিল। সেই হাসির রেখায় কি ছিল সে কিছুই বুঝতে পারেনি। এমন আরো অনেক কথাই অরিন্দমের মনে হয়। মনের গভীরে যখন অশনির বিমূর্ত ব্যবহারগুলো তাকে পীড়া দিতে থাকে, তখন সে ভাবে এটাই তার নিয়তি। এর বাইরে আর কিছু নয়। নিয়তির হাত থেকে মানুষ কখনো মুক্তি পেতে পারে না। নিয়তিই মানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আজো অরিন্দমের মনে হয় সেদিন ছিল শরতের দারুণ জ্যোৎস্না রাত্রি। চাঁদের আলো যেন আষাঢ় শ্রাবণের বর্ষণের মতো পৃথিবীর সমস্ত পারাপারে ঝরে পড়ছিল। রাত তখন কতইবা হবে। সবে মাত্র সন্ধ্যা মিলিয়েছে। তরুণী রাত্রির শরীরে তখন গাঢ় অন্ধকারের গভীরতা গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছিল। একটু পরেই সহজ-সরল রমণীর মুখের মতো গোল চাঁদ পূর্বদিকের আকাশে উঁকি দিয়ে জানান দিচ্ছিল, আজ শরতের প্রথম পূর্ণিমা। যখন শরতের গোল চাঁদের আলো চরাচরের সমস্ত অন্ধকারকে তাড়িয়ে দিয়ে, আলোর ঝরনা ধারায় অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত্রির বিষন্নতায় দূর করে চারিধার আলোর উচ্ছলতায় ভরিয়ে তুলছিল, তখন তার রবীন্দ্রনাথের মতো মনে হয়েছিল, শরতের এমন জ্যোৎস্নাময় রোমান্টিক রাত্রিতে অশনিকে বলা যায় চল আজ আশপাশের কোনো খোলা মাঠে আমরা গিয়ে বেরিয়ে আসি। আদিম উষ্ণতায় ভরিয়ে তুলি আমাদের জীবনের নির্লিপ্ত ভালোবাসাকে। সে নিজের মনের ভাবনাকে ভেতরে না রেখে অশনিকে বলে ফেলল, তার মনের ভেতরে ঘুরে বেড়ানো কথাগুলো। অশনি অরিন্দমের মনের কথা শুনে মুখে নির্লিপ্ততার হাসির রেখা টেনে বলেছিল, তুমি পাগল হলে নাকি। চারপাশের মানুষ কি ভাববে। – পাগল হবো কেন? চারপাশের মানুষের কথা যখন বলছ, তখনতো বলতে হয় চারপাশের মানুষতো ভালো করেই জানে তোমার আমার মধ্যে একটি মানসিক দূরত্ব রয়ে গেছে। – চারপাশের মানুষ আমাদের নিয়ে এমন চিন্তাভাবনা করে তুমি বুঝলে কি করে? – মানুষের মুখের দিকে তাকালেই বুঝা যায় মানুষ আমাদের নিয়ে কি ভাবে। – আমাদের চারপাশের মানুষ আমাদের নিয়ে কি ভাবে তা আমি বুঝি না কেন। – এটা তোমার ব্যাপার। তুমি বলতে পারবে কেন আমাদের সম্পর্কে মানুষের মনোভাবটুকু বুঝতে পার না। – তুমি আমাকে কি মনে কর। ভাব আমি কিছুই বুঝি না। – আমি তোমাকে নিয়ে কি ভাবি তা যদি অনুধাবন করতে পারতে, তাহলে আজ আমাকে তোমার সাথে এভাবে কথা বলতে হতো না। তোমার কি বিয়ের আগে অন্য কোনো মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল। যাকে নিয়ে যেখানে সেখানে মনের আনন্দে স্বপ্নীল উন্মাদনায় হারিয়ে যেতে। আমি একজন স্কুল মাস্টার। চলমান আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া আমার মধ্যে নেই। আমার মতো পুরনো কালের চিন্তাভাবনা সম্পন্ন পুরুষকে কোনো নারী ভালোবাসবে বল। আচ্ছা আর বলতে হবে না। কোথায় যাবে বলেছিলে না? চল সেখান থেকে ঘুরে আসি। আজ না হয় না গেলাম। তোমার আমার কথা শুনে দেখ শরতের আলোক রাশি ম্নান হয়ে গেছে। এই ম্নান আলোর বেদনায় ডুবে গিয়ে আমরা কিছুই পাব না। কোনো দিন যদি মন চায় শরতের কোনো জ্যোৎস্না রাত্রিতে হারিয়ে যেতে সেদিন না হয় হারিয়ে যাব। অরিন্দমের ভাবনায় ছেদ পড়ে কোনো এক রাত জাগা পাখির করুণ আর্তনাদের শিহরণে। সে বাস্তবে ফিরে আবার অশনিকে ডাকতে থাকে। গলা ছেড়ে ডাকতে ডাকতে নিস্তব্ধ রাত্রির এই বিষন্নতায় নিম্নজিত হতে থাকে। তারপর গভীর আকুলতায় জ্যোৎস্না জড়ানো রাত্রির অসীম অন্ধকারে কি যেন খুঁজে ফেরে। খুঁজতে খুঁজতে এক সময় ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ঠিক তখনই জীর্ণ ঘরের বারান্দার চারদিকের নীরব শূন্যতায় যেন চরম হাহাকারময় বাতাস বয়ে যায়। অরিন্দমের যখন ঘুম ভাঙে তখন সবেমাত্র ভোর হয়েছে। অনুভব করে শরীরে কিসের যেন নরম ছোঁয়া লাগছে। সে আধো ঘুমের মধ্যে একবার চোখ মেলে আবার ঘুমিয়ে থাকতে চাইলো। কিন্তু অরিন্দম আর ঘুমাতে পারল না। কে যেন তাকে অনবরত ধাক্কা দিচ্ছে। সেই ধাক্কার দোলায় তার মনে হলো, সে কখনো কখনো স্বপ্নের ঘোরে রাতের স্বপ্নকেও সত্য বলে ধরে নেয়। শেষে দেখে বাস্তবে তার জীবনে এমন কোনো ঘটনা ঘটেইনি। যাকে সে একটু আগে বাস্তব বলে ধরে নিয়েছিল। এটাও তেমনই অবাস্তব স্বপ্নের ছোঁয়া হতে পারে। অরিন্দম যখন পুরোপুরি ভাবে জেগে ওঠে দেখল তার সামনে অশনি বসে আছে। সে-ই এতক্ষণ ধরে তাকে ধাক্কাচ্ছিল জাগানোর জন্য। অরিন্দম আবার ভাবনায় ডুব দেয়। ভাবে কি দেখছে। অশনি তার সামনে বসে আছে। তাকে জাগাচ্ছে। সে বিশ্বাস করতে পারছে না। ভাবলো এমন তো হবার কথা নয়। যাকে সারা রাত আকুল স্বরে এতো ডাকাডাকি করেও জাগাতে পারেনি, সে কি করে এত আদর-সোহাগ করে তাকে ডাকছে। অরিন্দম নিজের শরীরে চিমটি কাটে। দেখে, ও জেগেই আছে। স্বপ্নের মধ্যে নেই। কোনো কিছু ভুল দেখছে না। অরিন্দম অবাক নয়ন মেলে অশনির দিকে তাকিয়ে রইল। দেখে অশনির চোখে প্রত্যাশার ভালোবাসার রূপালী মাছেরা খেলা করছে। অশনি অরিন্দমকে এভাবে ওর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলে, তুমি আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছ কেন। মনে হয় আজ নতুন করে দেখছ আমাকে। অরিন্দম অশনির কথার উত্তরে কি বলবে ভাবতে থাকে। ভাবতে গিয়ে তার মনে হলো এখন তাকে বলা যায়, আমি তোমাকে ভালোবাসি তাই এভাবে তাকিয়ে আছি। সে গত রাত্রির কথা আর তুলল না। তুলে আর কি হবে। শুধু তিক্ততাই বাড়বে। অশনি একটা অব্যক্ত হাসির রেখা ঠোঁটের কোণায় ফুটিয়ে তুলে বলে, আমি জানি তুমি আমাকে খুব ভালোবাসো। – যদি বুঝ আমি তোমাকে এতো ভালবাসি তারপরও কেন তুমি আমার হয়ে ওঠো না। – এটা তোমার সমস্যা। তোমার ভুল ধারণা। তুমি আমাকে চিনতে পার না। তাই আমাকে নিয়ে এতো দুশ্চিন্তা কর। – আমি না হয় তোমাকে চিনতে পারি না। তুমি কি আমাকে চিনতে পেরেছ। – তোমাকে চিনব না কেন। অবশ্যই তোমাকে চিনতে পেরেছি। তুমি একজন ভালোমানুষ। এর বাইরে আর কিছু নও। অরিন্দম অশনির কথা শুনে বিস্ময়ভূত হয়ে ভাবতে থাকে, যাকে সারারাত ডাকাডাকি করেও জাগাতে পারিনি, যার জন্য সারারাত বারান্দায় ঘুমাতে হয়েছে, সেই নারীই কি-না বলে তাকে খুব ভালোবাসে। সে অশনির কথার কোনো উত্তর দেয়নি। কথার উত্তর দিয়ে কোনো লাভ নেই। অরিন্দম অশনির কথার গভীরে প্রবেশ না করে, কেবল ভাবতে থাকে এই নারী অদ্ভুত। তাকে বুঝতে হলে ওর অতল গভীরে ডুব দিতে হবে।

অরিন্দম অশনিকে কিছু না বলে ঘুমানোর ঘরে প্রবেশ করে বিছানায় শুয়ে পড়ে। ভাবতে থাকে সারারাত তার ঘুম হয়নি। এখন ঘুমাতে হবে। গত রাত্রির না হওয়া ঘুমটুকু পুষিয়ে নিতে হবে।

সমাপ্ত Ads:

COMMENTS

Name

অন্য বিষয়ের উপর লেখা ইবুক কবিতা গল্প/কবিতা লেখার প্রতিযোগিতা জীবনের সত্য ঘটনা থ্রিলার গল্প দেশের গল্প পিশাচ কাহিনী ভালোবাসার গল্প ভৌতিক গল্প রম্য গল্প রহস্য গল্প সায়েন্স ফিকশন হরর গল্প
false
ltr
item
Bengali pdf and story blog: গল্প লেখা আসাদুর রহমান শিপন
গল্প লেখা আসাদুর রহমান শিপন
https://1.bp.blogspot.com/-KnuMZy3mMrQ/Wm6BAJBKC0I/AAAAAAAAAhw/xQRCyd_Nj6ggfpz_T5XvfJ6SpFUQ-RSJgCLcBGAs/s320/1516623987782.jpg
https://1.bp.blogspot.com/-KnuMZy3mMrQ/Wm6BAJBKC0I/AAAAAAAAAhw/xQRCyd_Nj6ggfpz_T5XvfJ6SpFUQ-RSJgCLcBGAs/s72-c/1516623987782.jpg
Bengali pdf and story blog
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2018/01/blog-post_97.html
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2018/01/blog-post_97.html
true
7257552463787474279
UTF-8
Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy