অশুভ রাত - অর্নব শাহীন || থ্রিলার গল্প

গতবারের কেস সলভ করে অর্নব আর তার ফ্রেন্ড গুলো বেশ ভালোই ফুরফুরে মেজাজে আছে.. কারন তাদেরকে নিয়ে অনেকগুলো নিউজ কাভার করা হয়েছে। সেই ভুতুরে...


গতবারের কেস সলভ করে অর্নব আর তার ফ্রেন্ড গুলো বেশ ভালোই ফুরফুরে মেজাজে আছে..

কারন তাদেরকে নিয়ে অনেকগুলো নিউজ কাভার করা হয়েছে। সেই ভুতুরে বাড়ির কেস সলভ করে সবার মুখে মুখে এখন এই গোয়েন্দা টিমের নাম! আমি বসে আছি বারান্দায়। হাতে এক মগ ভর্তি গরম ধোয়া উঠা কফি সাথে সিগারেট! শীতের সময় সকালে বেশ চিন্তা ছাড়াই সময় কাটাচ্ছি। ফেবুতে লগিন করে নিউজফিড ঘাটছি এমন সময় বাসার কলিং বেল চিৎকার করে উঠলো। দরজা খুলে দেখলাম রিদয় লম্বু আর রনি দাঁড়িয়ে আছে।ওদের ভিতরে ঢুকিয়ে আমি দরজা লাগিয়ে ওদের কাছে গিয়ে বসলাম।

তারপর অর্নব কি করছিলি রে? (রিদয়)

কি আর নিশ্চয়ই গফের সাথে লাইন মারছিলো (রনি)

আরে ধুর আমি গফ কই পাবো? আর কেউ আসলেও গফ বানাবো না...একা আছি বেশ আছি। ভালোই তো জীবন কেটে যাচ্ছে আচ্ছা চুপ...শুন অর্নব ভাবছি আমরা সকলে মিলে কোথায় কিছুদিনের জন্য ঘুরতে গেলে কেমন হয়? (রিদয়)

ভাই এই শীতে আমার বাসার কম্বলের নিচে থাকতেই ভালো লাগে চুপ কর ব্যাটা... বেশ মজা হবে চল ঘুরে আসি (রনি)

আচ্ছা কই যাবি? কিছু ঠিক করেছিস? হুম আমাদের মহাস্থানে যাবো,ঘোরার জন্য বেষ্ট অনেক কিছু আছে দেখার মত (রিদয়)

হুম তা যাওয়া যায়,কবে যাবি তাহলে? ঠিক যখন করেই ফেলেছি তবে আজই দুপুর এ রওনা দেই কি বলিস? (রনি)

ঠিক আছে (রিদয়)

আচ্ছা তাহলে তোরা যা ব্যাগ প্যাক কর...আমরা স্টান্ডে দেখা করছি তাহলে আচ্ছা (রনি)

ব্যাকপ্যাক করেই রওনা দিলাম স্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে,যেয়ে দেখি লম্বু(রিদয়)

আর রনি দাঁড়িয়ে আছে। টিকেট ও কিনেছে দুপুড় ২টার বাস । হাতে মাত্র ৩০ মিনিট আছে । সবাই অপেক্ষা করছি। রিদয় উঠে গিয়ে কার সাথে জানো কলে কথা বলছে, আমি আর রনি বসে আছি। বেশ কিছুক্ষন পর রিদয় আসলো ।ওর মুখ কেমন গোমড়া হয়ে আছে।

কিরে ব্যাটা মুখ এমন বাংলারপাচের মতো ক্যান করে আছিস,গফের কাছে ধোলাই খাইছিস নাকি? (রনি)

আরে ধুর তুই শুধু গফ গফ ক্যান করিস? চুপ থাক। কিরে লম্বু কি হইছে? মামু ASP আদিত্ত রায়ের কল এসেছিলো (রিদয়)

তো কি হইছে? (রনি)

আমাদের আর্জেন্ট যেতে বলেছে! (রিদয়)

তাহলে আমদের ট্যুর ক্যান্সেল? (আমি) হুম,কিছু করার নেই চল আদিত্ত রায়ের কাছে যেতে হবে (রিদয়)

হুম । আমরা আদিত্ত রায়ের বাসায় বসে আছি।আদিত্ত রায় আমাদের সামনেই বসে আছে। সরি মিষ্টার রিদয় আপনাদের বিরক্ত করার জন্য,সাথে ব্যাগ দেখছি কোথাও যাচ্ছিলেন নাকি? (আদিত্ত রায়)

হুম আমরা ট্যুর এ যাচ্ছিলাম (রনি)

এক্সট্রেমলি সরি,আসলে ব্যাপার টা অনেক কমপ্লিকেটেড। এবারের কেস টা বেশ অদ্ভুত কেউ ভয়ে কেস টা নিতে চাচ্ছে না,এখন আপনারাই শেষ ভরসা, ইয়ে আসলে কমিশনার বেশ চাপ দিচ্ছে,৬টা খুন হয়ে গেছে কিন্তু কোন প্রুভ নেই, না আছে কোন ক্লু আসলে মার্ডার বললেও ভুল হবে... আচ্ছা ঘটনা খুলে বলুন কিছু বুঝতে পারছি না,কোথায় খুন হচ্ছে?(আমি)

খুন হয়েছে চুয়াডাঙ্গার আলিয়াপুর নামক এক গ্রামে সেই গ্রামে নাকি প্রতি আমাবস্যায় রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত একদল কুকুর দলবেঁধে গ্রামটি ঘিরে চক্কর দেয়।। অনেকেই সেই কুকুরের দলকে দেখতে পেয়েছেন।। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, তারা শুধুমাত্র আমাবস্যার রাতেই উপস্থিত হয় এবং সারা মাসে তাদের আর দেখা যায় না।। কয়েক যুবক মিলে একবার রাত করে তাদের দেখার জন্য প্রস্তুতি নেয়।। তাদের মাঝে ৬ জন কুকুরের কামড়ে মারা যায়।। তাদের মধ্যে যে বেচে ছিলো তার নাম রতন সে স্বীকারউক্তি দেয় যে, সেই সব কুকুরগুলো কালচে বর্ণের ছিলো, কারন অন্ধকারে তাদের স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না।। তারা একটা ছন্দ মিলিয়ে এক লাইনে হাঁটছিলো এবং তাদের প্রত্যেকের চোখ থেকেই এক প্রকার নীলচে আভা বের হচ্ছিল।

এটা তো নিছক কুকুরের কামরে মারা গেছে,মার্ডার এটাকে বলা যায় কী মিষ্টার আদিত্ত? (রনি)

আমিও তাই ভেবে ছিলাম ইয়ং বয়! এই ছবি গুলো দেখো নেও আদিত্ত রয় আমাদের হাতে কিছু ছবি দিলো! ছবি দেখে মনে হলো একটি হার্টবিট মিস হয়ে গেছে আমার । ৬জনের ই শরীরে মারাত্মক কামরের দাগ। কোথাও লোথাও আবার মাংস নেই হার দেখা যাচ্ছে,সব থেকে অদ্ভুত ব্যাপার যুবক গুলোর কারোর সাথেই মাথা নেই,গলার দিকে তাকালেই বুঝা যায় জবো করা হয়নি,বেশ শক্তিশালী কিছু তাদের মাথা টেনে ছিড়ে ফেলেছে! গলার কাছে কিছু দিয়ে পোচ দিলে সমান হয়ে চামড়া কেটে যাওয়ার কথা,কিন্তু চামড়া গুলো এলোমেলো হয়ে খুবড়ে খুবড়ে আছে যার থেকে স্পষ্টই বুঝা যায় এটা জবাই করা না!

সবাই চুপ চাপ বসেছিলাম,আদিত্ত রায় কাশি দিলেন নিরবতা ভাঙ্গার জন্য আসলে এটাকে সবাই ভুত বা জ্বিনের কাজ মনে করছে আর যদি কুকুরের কাজ হয়ে থাকে তাহলে কুকুর গুলো নিশ্চয়ই তাদের মাথা আলাদা করতে পারবে না,কারন কুকুরের গায়ে এত জোড় নেই ! (আদিত্ত রায়)

হুম বুঝতে পারছি! (রিদয়)

আচ্ছা আপনি কেস হ্যান্ড ওভার করার ব্যাবস্থা করুন মিষ্টার আদিত্ত রায়! (আমি)

ধন্যবাদ মিষ্টার অর্নব! আপনারাই আমার শেষ ভরসা ছিলেন! বাচালেন আমাকে! এত্ত খুশি হবার কিছু নেই মিষ্টার আদিত্ত! যাই হোক আমরা আসি তাহলে...কিন্তু আমরা যদি মারা পরি......(রনি)

রনিকে কথা শেষ না করতে দিয়েই রিদয় ওকে টেনে উঠালো! আমরা নিজের বাসায় বসে আছি,এবারের কেস টা অনেক বেশী কমপ্লিকেটেড! সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে,ইতিমধ্যেই আদিত্ত রায় কেস হ্যান্ডওভারের পেপারস পাঠিয়ে দিয়েছে। আচ্ছা তাহলে আমরা কখন যাচ্ছি? (রনি)

কাল ভোরেই যাচ্ছি প্রয়োজনীয় জিনিস সবাই ব্যাগে নিয়ে নে,আর রিদয় তুই অনলাইনে চুয়াডাঙ্গার টিকেট বুকিং করে দে প্লিজ!

>আচ্ছা ঠিকাছে আমি করে দিচ্ছি!

রাতে আর কেউ বাসা থেকে গেলো না! সবাই ঘুমেয়ে গেছে। গত দুই বছরে রাতে কখনোই ঘুমাতে পারিনি আমি,শেষ কবে ঘুমিয়েছি তাও মনে নেই আমার, বারান্দায় বসে আছি! তীব্র শীত! তার মধ্যে কানে হেডফোন আর হাতে গরম ধোয়া উঠা কফি সাথে সিগারেট,চাঁদ দেখে সময় কাটাচ্ছি,মোবাইলে অবিরিত কল আসছে বিরিক্ত লাগছে কে এত্ত কল দেয় আমাকে? নাম্বার না দেখেই মোবাইল অফ করে দিলাম।

রাত ৪ টায় ঘুমিয়েছিলাম তাই ভোরে উঠতে একটু কষ্ট হলো...উঠেই ফ্রেশ হয়ে সবাই বের হলাম! ৭.৩০ এর বাস। স্ট্যান্ডে সবাই দাঁড়িয়ে আছি। এত ঠান্ডা আগে কখনোই লাগেনি,সবাই বাসের জন্য অপেক্ষা করছি,মাথায় বেশ চিন্তা আসলেই কি কোন অশরীরির কাজ ওগুলো? নাকি এর পিছনে কোন খুনি চক্র জড়িত??? ঠান্ডায় যখন আমাদের জমে যাবার মতো অবস্থা তখন ই বাস এসে স্ট্যান্ডে থামলো! যার যার সিট খুজে আমরা বসে পড়লাম! এত্ত ঠান্ডা মনে হচ্ছে কোন চলন্ত ফ্রিজের মধ্যে আমরা ঢুকে পরেছি! আমি আর রনি একসাথে বসেছি রিদয়ের সিট আমাদের পিছনে! হঠাৎ রিদয় আমাদের ডাকলো

কিরে ব্যাটা ডাকিস ক্যান?

মামা দেখ কে আমার সাথে কে বসেছে! (রিদয়)

আরে এযে প্রেতাত্তা ভাই!!!( প্রেতাত্তা ভাইয়ের আসল নাম আসদুর রহমান শিপন,তার গবেষনার মূল বিষয় প্যারানরমাল এক্টেভিটি নিয়ে! গত বারের কেস এ প্রেতাত্তা ভাই না থাকলে ঝুমের জীবন টা ই বাচানো যেতো না! ভাই কেমন আছেন? এই তো ভালো আছি,বাসে এভাবে দাঁড়িয়ে কথা বলা টা বেশ রিস্ক! তার থেকে ভালো সিটে বসে কথা বলো! (প্রেতাত্তা)

জ্বি ভাই! কোথায় যাচ্ছেন আপনি? (রনি)

এই তো আমাদের পুরাতন বাড়িটাতে যাচ্ছি! অনেকদিন যাওয়া হয় না তো তাই! (প্রেতাত্তা)

আপনার পুরাতন বাড়ি কোথায় ভাই? (আমি)

বললে চিনবা ভাই? খুব ভিতরে,চুয়াডাঙ্গার আলিয়াপুর নামের এক গ্রামে! (প্রতাত্তা)

আরে কী বলো ভাই? আমরাও তো ওখানে যাচ্ছি (রিদয়)

আরে কি বলো?? সত্যি নাকি? তা কি কাজে যাচ্ছ? (প্রেতাত্তা)

রিদয় সব ঘটনা প্রেতাত্তা ভাই কে বুঝিয়ে বললো! প্রেতাত্তা ভাই বেশ উৎসাহ দেখাচ্ছে! আমাদেরও বেশ ভালো লাগছে! তো রিদয় তোমরা যে যাচ্ছ আলিয়াপুরে যেয়ে থাকবে কোথায়? ওখানে কোন রিসোর্ট নেই কিন্তু... (প্রেতাত্তা)

জানি না ভাই কোথায় থাকবো,আসলে ঠিক করিনি যেয়ে ঠিক করতে হবে... (রিদয়)

তাহেলে তো বেশ মুশকিল ভাই! এক কাজ করো আমার বাসায় আসো ওখানে কেস সলভ না হওয়া পর্যন্ত থাকতে পারবে কোন সমস্যা হবে না! (প্রেতাত্তা)

বাহ তাহলে তো খুব ভালো হলো ভাই! (রিদয়)

হুম বাস থেকে আমরা নেমে আমরা পথ না চিনলেও প্রেতাত্তা ভাই থাকায় কোন সমস্যা ই হলো না! যতক্ষনে আমরা আলিয়াপুরে গিয়েছি ততক্ষনন সন্ধ্যা হয়ে গেছে,এখন আমরা প্রেতাত্তা ভাইয়ের বাসায় বসে আছি!

হালকা খাওয়া শেষ করে সবাই বসে বসে আড্ডা দিচ্ছি তখন প্রেতাত্তার ভাইয়ের কাছে রিদয় জিজ্ঞেস করলো ভাই এই গ্রামের ব্যাপারে আমাদের একটু খুলে বলেন প্লিজ!(রিদয়)

দেখ রিদয় আসলে এই গ্রামে অনেক আগে থেকেই এই অদ্ভুত কুকুরের সমস্যা শুরু হয়! যতদূর আমি জানি প্রায় ৭ বছর আগে এখানে প্রথম ওই অদ্ভুত কুকুর গুলো আমাবস্যার রাতে দেখা যায়! মূলত হাকিম মিয়ার কারনেই এই সমস্যা শুরু হয়েছে! কারন হাকিম মিয়া ব্লাক ম্যাজিক করতো! অশুভ ছায়া এই গ্রামে পড়ে হাকিম মিয়া মারা যাবার পরে! সবাই তার উপরে অনেক ক্ষেপে গিয়েছিলো কারন সে সবার ক্ষতি করতো! কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলে নি কখনো! যখন হাকিম মিয়া মারা যায় তার মৃত শরীর নাকি একদম কালচে হয়ে যায়! আর তার মুখ নাকি ভয়ংকর রুপ ধারন করে! কেউ নাকি তার জানাজা পড়ার জন্য রাজি হয়নি! কারন সে গ্রামের প্রায় অধিকাংশ লোকের ই ক্ষতি করেছিলো! অতপর তার জানাজা ছাড়াই তাকে কবর দেয়া হয়! এর পর পর ই আমাবস্যার রাতে এই সমস্যা শুরু হয়! কিন্তু অন্যসব সময় এমন কি গভীর রাতেও এই সমস্যা হয়না একমাত্র আমাবস্যা ছাড়া! ওই কুকুর দেখে কেউ আমাবস্যার রাতে ঘর থেকে বের হতো না!(প্রেতাত্তা)

হুম তাহলে কী ব্যাপার টা আসলেই ভুতুরে নাকি কোন ক্রিমিনাল চক্রের কাজ? (আমি)

সেটা জানি না তবে যত দূর মনে হয় এটা আশরীরি কিছুর কাজ... (প্রেতাত্তা)

আচ্ছা হাকিম মিয়ার বাড়িতে যাওয়া দরকার! তার বাড়িতে কই? আর তার বাসায় কে কে থাকে? (রনি)

হাকিম মিয়া একাই থাকতো এই গ্রামে, তার মৃত্যুর পর কেউ তার বাড়িতে যায় নি ভয়ে! তালা লাগিয়ে দিয়েছে ! এখন ওভাবেই পরে আছে তার বাড়ি! (প্রেতাত্তা)

তার কবর কোথায় দেওয়া হয়েছে?? (আমি)

তার বাসার পাশেই (প্রেতাত্তা)

আচ্ছা বুঝতে পেরেছি (আমি)

যে যার যার মত রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে গেছে! এত্ত জার্নি করার পর ও আমার ঘুম নেই! বসে আছি আমি,ঠিক সময়েই আমরা এখানে এসেছি! আজ থেকে ৬ দিন পর আমাবস্যা! সব কিছু নিজের চোখে দেখা যাবে! আমার যত দূর মনে হয় এখানে হয়তো আমাবস্যা রাতে কোন জায়গা থেকে কুকুর দল বেধে আসে! আর ভোরে পালিয়ে যায়! আর এই ভুতুরে ঘটনাকে কাজে লাগিয়েছে কোন খুনি চক্র! অথবা... ঘুম থেকে উঠতে উঠতে সকাল ১০ টা বেজে গেলো! নাস্তা করে সবাই গ্রাম টা ঘুরে দেখতে বের হলাম । আসলে আমদের উদ্দেশ্য হাকিম মিয়ার বাড়ি! তার আগে আমরা গ্রামের সদরে গেলাম কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে! এক দোকানে আমরা দাঁড়িয়ে আছি! সেখানে টিভি ছাড়া সংবাদ দেখাচ্ছে,"নীলা নামের এক মেয়ে গত কাল থেকে নিখোজ,তার বাবার কাছে কল করে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করেছে কিডনাপার" খবরটা শুনে আমরা দাঁড়িয়ে গেলাম সবাই! সাথে সাথে আদিত্ত রায় কে কল দিলাম পুরো খবর ডিটেইল এ জানার জন্য! আদিত্ত রায় যা জানালো তা এমন--- মেয়েটা নাকি কোচিং এর জন্য বিকেলে বাসা থেকে বের হয়! কোচিং টাইম শেষেও যখন মেয়ে বাসায় ফিরে নি তখন বেশ খুজা খুজি করে তার বাবা! অতপর পুলিশে কমপ্লেইন করে! কিন্তু সেই রাতেই ৪ টার দিকে কিডনাপাররা নাকি তার বাবার কাছে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করে!" বেশ খারাপ লাগছে মেয়েটার জন্য! (সত্যি বলতে মেয়েটার ছবি যখন খবরে দেখলাম তখন বড় ধরনের ক্রাশ খেয়েছি) তাই বেশী বেশী খারাপ লাগছে,আহারে কত্ত সুন্দর মেয়েটা! সবাই হাকিম মিয়ার বাসার দিকে হাটা দিলাম। আমরা যেই রাস্তায় হাটছি তার বিবরন কিছু টা এমন রাস্তার দুপাশে ধান ক্ষেত! রাস্তার দুপাশ জুড়ে বড় বড় গাছ রাস্তা টাকে ছায়া দিয়ে ঘিরে রেখেছে! ইটের রাস্তা তাই হাটতেও সমস্যা হচ্ছে না!

হঠাৎ তীব্র হর্নের শব্দে রনি লাফিয়ে ধান ক্ষেতে পরলো আমরাও বেশ চমকে গিয়েছি! রিদয় রনির কাছে গেলো সাথে সাথে আর প্রেতাত্তা ভাই মাইক্রোর ড্রাইভারের উপর বেশ ক্ষেপে গেলো! ড্রাইভার কে উইন্ডো গ্লাস নামাতে বললেও নামালো না! এতপর ভাই কে অনেক কষ্টে ঠান্ডা করে আমরা আবার আমাদের গন্তব্যে হাটা দিলাম! ১৫ মিনিট হাটার পর আমরা যেই বাড়ির সামনে এসে দাড়ালাম সেটাকে বাড়ি না বলে ভুতের আসর বললেই ভালো হবে! ইটের একতালা বাড়ি বেশ খানিক টা জায়গা দখল করে আছে! দেয়ালের ফাটল থেকে নাম না জানা আগাছা জন্ম নিয়েছে! দেয়াল একদম কালচে হয়ে আছে শ্যাওলার জন্য!

আচ্ছা ভাই হাকিম মিয়ার কবর কোনটা? (রিদয়)

ওই তো ডান পাশে! (প্রতাত্তা)

আমরা সবাই কবরের পাশে যেয়ে দাড়ালাম!কবর এখানে সেটা বুঝা যাচ্ছে না! বুঝার উপায় ও নেই! রিদয় কে ডাক দিবো তখন খেয়াল করলাম রিদয় এর মুখ পুরো ঘেমে গেছে! এত্ত তীব্র শীতেও অর মুখ ঘামার কথা না! অস্থির ভাব ওর মুখের দিকে তাকালেই বুঝা যায়।

কিরে ক হয়েছে? ঠিকাছিস রিদিয় তুই ?(আমি)

নাহ,দোস্ত এখানে সত্যি অন্যকেউ আছে! আমি বেশ বুঝতে পারছি আমাদের এই বাসায় ঢুকা একদম বোকামি হবে। এখানে পরে আসবো আমরা চল এখান থেকে চলে যাই (রিদয়)

ধুর এত্ত দূর হেটে এসে আবার চলে যাবো? (রনি)

দেখ তোরা জানিস আমি এসব ব্যাপার আগে থেকেই অনুভব করতে পারি! (রিদয়)

রাখ তোর অনুভব (আমি)

প্রেতাত্তা ভাই চলো ভিতরে যাই! ভাই ও কেমন কাচুমাচু করছে ভিতরে যাওয়ার ইচ্ছা মনে হয় নেই ভাইয়ের! দেখো অর্নব তুমি জানো আমি প্যারানরমাল ব্যাপার গুলো নিয়ে গবেষনা করি! আমার এই জায়গা টা কেমন ভারি ভারি লাগছে! রিদয় ঠিকি ই বলেছে এখানে অন্যকিছুর উপস্থিতি আছে (প্রেতাত্তা)

এই সকালে ভুত কোথ থেকে আসবে ভাই? আপনারাও না,চলেন তো...(আমি)

আমি সোজা গিয়ে গেটের কাছে দাড়ালাম, দড়জায় তালা দেওয়া! জোড়ে লাত্থি দিতে গেইট ভেঙ্গে পরলো! আমরা সবাই ভিতরে ঢুকতে বিশ্রি ধরনের গন্ধ পেলাম! নাড়িভুড়ি মনে হচ্ছে গিট্টু লেগে গেছে! রনি তো বমি ই করে দিলো! রিদয় রনি কে নিয়ে বাইরে গেলো! আমি আর প্রেতাত্তা ভাই বাড়ি টা ঘুরে দেখতে দেখতে তালা দেওয়া আরো একটি রুম পেলাম! রুমের দরজার সামনে যেতেই গন্ধ এত্ত তীব্র হলো যে আমরা আর দাড়াতে পারলাম না! ওখান থেকে সরে আসলাম আমরা! মাঝের রুমে এসে দেখি রনি আর রিদয় দাঁড়িয়ে আছে! ওরা আমদের তারাতারি বের হতে বললো! এত জোড় করলো যে আমরা বের না হয়ে পারলাম না! প্রেতাত্তা ভাই আমার হাতে এক পান্ডুলিপি ধরিয়ে দিলো! আমি না দেখেই ওটা ব্যাগে ভরে নিলাম! দড়জা দিয়েই বের হতেই দেখলাম রিদয় রনির মাথায় পানি দিচ্ছি! আমার শরীর জানো জমে বরফ হয়ে গেলো! প্রেতাত্তা ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতাম সেও বেশ বড় শক খেয়েছে! দুজন দুজনের দিকে তকালাম!

আমাদের দেখেই রিদয় এগিয়ে এসে বললো কিরে দেখা শেষ সব কিছু?

তোরা না ভিতরে এসে আমাদের ডকে আনলি? (আমি)

ধুর আমি ভিতরে যাইনি,ক্যামনে যাবো বল? এই রনি তো বমি করতে করতে শেষ! ওর কাছ থেকে সরলাম কখন? (রিদয়)

কি বলো রিদয় তুমি আর রনি আমাদের পিছেই ছিলে,বলতে গেলে প্রায় আমাদের ঠেলেই বের করলে আর এখন বলছো তোমরা ভিতরেই যাওনি? দেখো ফান করছো না তো? (প্রেতাত্তা)

আরে না ভাই সত্যি আমরা এখানে ছিলাম! কসম করে বললাম (রনি)

তাহলে ভিতরে যারা ছিলো তারা কারা? (আমি)

আমি বুঝতে পেরেছি কি হয়েছে,চল এখনি এখান থেকে কেটে পরতে হবে! (রিদয়)

আমিও বেশ বুঝতে পারছি কি হয়েছে আসলে... (প্রেতাত্তা)

এরকম একটা ঘটনার শিকার হয়ে আমাদের কারোই মুখ থেকে কোন কথা বের হচ্ছে না । যে যার যার মতো হাটছি! ভাবছি ওরা যদি রিদয় আর রনি না হয়ে থাকে তবে কী আসলেই কোন অশরীরির মুখোমুখি হয়ে ছিলাম আমরা? আর তাছাড়াও রিদয় বা রনি মিথ্যা বলার মতো ছেলে না! মাথা ভর্তি চিন্তা নিয়ে কখন যে প্রেতাত্তা ভাইয়ের বাসায় এসে পড়েছি খেয়াল ই নেই । সবাই দুপুরের খাবার খেয়ে বসে আছি একত্রে,মনে একটাই প্রশ্ন সবার! কি হতে পারে? এই দিন দুপুরে ভূত? নাহ ব্যাপার টা আমি একদম ই মানতে পারছি না!

>প্রেতাত্তা ভাই? (আমি)

>হুম বলো অর্নব!

>ভাই ওরা কী আসলেই অন্যকিছু ছিলো?

>আমার তাই মনে হয়!

>ভাই রতন কে খুজে বের করতে হবে! (রিদয়)

>আচ্ছা ঠিকাছে তা খুজে বের করা যাবে,ব্যাপার না,সবাই এখন রেষ্ট করো! বিকেলে সবাই রতনের খোজে যাবো! (প্রেতাত্তা)

বিকেলে সবাই একসাথে বের হলাম,উদ্দেশ্য রতন কে খুজে বের করা! আমরা সবাই হাটছি ঠিক তখনি সেই মাইক্রো আমাদের ক্রস করে গেলো! বেশ অবাক লাগছে আমার কাছে ব্যাপার টা!এমন এক গ্রামে কাদের ই বা মাইক্রো থাকবে? আর কারাই বা মাইক্রো নিয়ে ঘুরবে? একসময় আমরা রতনের বাসা খুজে পেলাম! রতন আমাদের দেখে বের হয়ে এলো!

>আপনেরা আমারে ডাকছে নি ভাই? (রতন)

>হ্যা আমাদের একটু আপনার সাথে কথা বলা দরকার! অনেক জরুরী ব্যাপার! (রনি)

>আচ্ছা আহেন আমনেরা! ভিতরে আহেন! গরিবের বাড়ি,লজ্জা দিলেন ভাই! (রতন)

>আরে নাহ তেমন কিছু না রতন ভাই! (আমি)

>আচ্ছা এহন কন আমনেরা আমার কাছে কি জানবার চান? ( রতন)

>সেই রাতের ঘটনা সম্পর্কে আমাদের পুরোটুকু খুলে বলুন! (রিদয়)

অতপর রতন হুবুহু সেই ভাবেই বর্ননা দিলো ঘটনার যেমন টা আদিত্ত রায় আমাদের বলেছিলো!

>আচ্ছা আপনি বেচে ফিরলেন কিভাবে? আপনিও তো ওদের সাথেই ছিলেন! (রনি)

>আসলে ভাইজান আমি ওগো নিষেধ করছিলাম,কিন্তু কে হুনে কার কথা! পরে আমিও বাধ্য হইয়া যাই অগো লগে কিন্তু আমি বেকুব না ওগো মতো! (রতন) কথা টা বলেই রতন সাহেব তার শার্টের হাতা উঠিয়ে দিয়ে আমাদের একটা তাবিজ দেখালো!

>আপনি বলতে চাচ্ছেন এই তাবিজের কারনে ওরা আপনার ক্ষতি করতে পারেনি? (প্রেতাত্তা)

>জ্বে ভাইজান,এইডা আমি পীর সাহেবের তে নিছিলাম! প্রানে বাইচা গেছি,জীবনে আর নাহ ওইদিকে! (রতন)

>বেচে ফিরলেন কি করে আপনি? (রিদয়)

>ওই শয়তান গুলা যহন কুকুরের রুপ নিয়া বাইর হইছে তহন ই আমরা সবাই দেখার জন্যে সামনে যাই,আমি বরাবরই ভয় পাই বেশী! তেই আমি ছিলাম পিছে! কুকুর গুলান একলাইনে হাটতাছিলো,হঠাৎ একলগে সব কুকুর গুলা আমাগো দিকে তাকায়,আমার তো ভাইজান ভয়ে তখন ই প্রান যায় যায় অবস্থা! আচমকা কুকুর গুলান ওগো উপরা হামলা করে! আমার দিকে আইতে নিয়াও আইতে পারে নাই,এই তাবিজ আমারে প্রানে বাচায়া দিছে,আমি তহন প্রান ভয়ে ছুট দিলাম! এক ছুটে একেবারে বাড়িতে আয়া পরছি! (রতন)

>আচ্ছা ঠিকাছে ভাই সাবধানে থাকবেন আমরা আসি! (রনি)

>কিন্তু ভাইজান...... ( রতন)

>কি? (প্রেতাত্তা)




>ভাইজান আমি একেবারে স্পষ্ট দেখছি দুইচোখ দিয়া ওই কুকুর গুলান হাটতাছিলো একটা মানুষের মতো কিছু একটার পিছে,কুকুর গুলান ওই মানুষটার লগেই আইছিলো,হেরে মানুষ কইলেও ভুল হইবো! সে অন্যসবার মতো হাটতাছিলো না,কেমন জানি হাওয়াতে ভাসতে ভাসতে হাটতাছিলো! (রতন)

>কি বলছেন ভাই! আপনি ঠিক দেখেছেন তো? (রিদয়)

>হ ভাই এই নিজের দুই চোক্ষু দিয়া দেখছি,আর আপনেগো লগে মিছা কইয়া আমার লাভ কি হইবো কন ভাইজানেরা? (রতন)

>আচ্ছা আমরা আসি তাহলে (রিদয়)

>কিন্তু ভাইজান আপনেরা কারা? এটাই তো কইলেন না (রতন)

আমরা গোয়েন্দা! রতন আমাদের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলো! আমরা আমদের মতো হেটে চলে আসলাম! ইতি মধ্যে সন্ধ্যা নেমে গেছে! প্রেতাত্তা ভাইয়ের বাসায় ফিরে সবাই নিজ নিজ রুমে বসে রইলাম! বেলকুনিতে গিয়ে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে ধোয়া ছাড়ছি আর সব কিছু বুঝতে চেষ্টা করছি! রতনের কথা যদি সত্যি ই হয়ে থাকে তবে এর এমন কোন মানি নেই যে সে গুলো অন্য জগতের কিছু! বরাবরই আমার এসবে একদম বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয় না!এমনো হতে পারে সে কোন সিরিয়াল কিলার যার কিনা অনেক গুলো পোষা কালো রং এর কুকুর আছে! আর ওই কুকুর গুলো দিয়েই কোন এক কারনে মানুষগুলো কে হত্যা করছে! হয়তোবা রতন সাহেব অতিরিক্ত ভয় পেয়ে গেছিলো তাই তার ভয় পাওয়া মস্তিষ্ক কল্পনা করে নিয়েছে সেই খুনি টা হাওয়াতে ভেসে ভেসে হাটছে! সিগারেট শেষ! ভিতরে গেলাম তখন ই চোখে ব্যাকপ্যাক টা পরলো! সেই পান্ডুলীপির কথা যে একদম ই ভুলে গিয়েছিলাম! কি এমন থাকতে পারে পান্ডুলীপিতে? অনেক ভাবনা নিয়ে পান্ডুলীপি খুলে বসলাম! প্রথম পাতায় কিসব নকশা আকা! কিছুই বুঝতে পারলাম না! আস্তে আস্তে পান্ডুলীপির পাতা উল্টাচ্ছি! হঠাৎ মাঝের একটা পেজে চোখ আৎকে গেলো! গোটা গোটা হাতের লেখা স্পষ্ট ভাবে লিখা আছে "আজ অমাবস্যা,অপদেবীর নামে পূজা করা শেষ! আমি চাই অমরত্ব! আর তাই এর জন্য আমার নিজের দেহ ত্যাগ করা লাগবে এই রাতে! এরপর আমি হয়ে যাবো অপদেবীর একজন অনুসারী! তার শক্তি তে আমি পাবো অসীম শক্তির অধিকারী! প্রেত হয়ে প্রত্যেক বছরে ৬ টা করে মানুষ কে উৎসর্গ করা লাগবে মোট ৮ বছর এভাবে চললেই আমাকে অপদেবী খুশী হয়ে অমরত্ব দান করবে!"

লিখাগুলো আমি না থেমে পড়ে গেলাম! এর পরের পেজে অনেক হাবিজাবি নকশা আঁকা! আমি সম্পূর্নভাবে স্তব্দ হয়ে গেছি! তারমানে আসলেই এই কাজ হাকিম মিয়ার! তারমানে...তারমানে!!! নাহ আর ভাবতে পারছি না! এর তো কোন সমাধান নেই! আমরা এখানে কি ই বা করতে পারি! রাতে আর কাউকে কিছু বললাম না! । । সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে সবার সাথে চা খাচ্ছি!

>কিরে অর্নব তোর মুখ এমন শুকনো লাগছে ক্যান? (রিদয়)

>নাহ আসলে কাল রাতে...

>কী হয়েছে??? (রিদয়) আমি উঠে গিয়ে পান্ডুলীপি এনে ওদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে পড়তে বললাম! পড়া শেষে ওরা সবাই আমার মতোই চুপ হয়ে গেলো! কারো মুখে কোন কথা নেই! এভাবে বেশ কিছুক্ষন কাটার পর রনি বললো

>আমাদের এখানে আর কিছুই করার নেই! (রনি)

>হুম আমাদের ফিরে যাওয়াটাই ভালো হবে! (আমি)

>না অর্নব এভাবে আমরা চলে যেতে পারি না! কে জানে ওই প্রেত আরো কত মানুষের জীবন কেড়ে নিবে! আমরা থেমে থাকতে পারি না! (রিদয়)

>হ্যা ঠিক বলছো রিদয়! আমাদের এগুলো থামাতে হবে (প্রেতাত্তা)

>তোমরা তাহলে কি করতে চাচ্ছো? ( রনি)

> যা করার আমি আর রিদয় করবো! তোমরাশুধু আমাদের একটু সাহায্য করলেই হবে!(প্রেতাত্তা)

>কিন্তু ...

>না আর কোন কিন্তু না রনি (রিদয়)

>আচ্ছা তাই হবে (আমি) । । দুই দিন ধরে রিদয় আর প্রেতাত্তা ভাই কি সব নিয়ে অনেক ঘাটা ঘাটি করছে! আমাদের সাথে কথা বলার টাইম ও পাচ্ছে না তারা! বিকেলে আমি আর রনি হাটতে বের হলাম! গ্রামের সদরের দিকে যেতেই রতন সাহেবের সাথে দেখা হলো!

>আরে রতন ভাই যে... কেমন আছেন! (রনি)

> আরে আমনেরা এখানে,আহেন আহেন দোকানে আহেন,গরিবের লগে এক চুমুক চা খান! আমরা তার সাথে গিয়ে চায়ের দোকানে বসলাম! চা খাচ্ছি আমরা কিন্তু রতন সাহেব কে বেশ আনমোনা আর চিন্তিত মনে হচ্ছে!

>কি ব্যাপার রতন সাহেব কোন সমস্যা তে আছেন নাকি? (আমি)

>না ভাইজান কোন সমস্যা না (রতন) রতন জোড় করে তার মুখে হাসির ফুটিয়ে তুললো! বেশ শুকনো ধরনের হাসি,বুঝতে পারলাম সে আমাদের বলতে চায় না! তাকে আর জোড় না করে আমরা রতন সাহেবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে হাটা দিলাম! আমার ফোনে কল এসেছে! আদিত্ত রায় কল দিয়েছে!

>হ্যালো মিষ্টার অর্নব সব কিছু কেমন আগাচ্ছে? (আদিত্ত রায়)

>বলতে পারছি না ঠিক,হয়তো বা ভালো আবার খারাপ! (আমি)

>বুঝতে পারলাম না ঠিক মিষ্টার! ঝেড়ে কাশুন! >ঝেড়ে কাশলেও আপনি কিছু বুঝবেন না মিষ্টার আদিত্ত!

>আরে ভাই বুঝিয়ে বলুন!

>আচ্ছা শুনেন এখন আমরা ছায়ার জগৎ এ আছি! কিছুই পরিষ্কার না! যখন ই ছায়া কে ধরতে যাই তখনই ছায়া সরে যায়! ছায়া কে তো আর ধরা যায় না মিষ্টার আদিত্ত! (আমি)

>আপনার এই রহস্য আমি কিছুই বুঝি না! যাক গে...

>আচ্ছা নীলা নামের সেই নিখোজ মেয়েটার খোজ পাওয়া গেছে মিষ্টার আদিত্ত?

> নাহ,তেমন কিছু জানিতে পারছি না আমরা! তবে খবর এসেছে কিডন্যাপার রা কালো রং এর মাইক্রো ব্যাবহার করছে! (আদিত্ত রায়)

>ওহ আচ্ছা দেখুন তাহলে কি হয়,আর মেয়েটার খবর পেলে আমাকে জানাবেন (আমি)

>অবশ্যই! অবশ্যই! এখন রাখি মিষ্টার!

>ভালো থাকবেন! (আমি) । । বাসায় এসে আমরা রিদয় আর প্রেতাত্তা ভাই কে পেলাম না! এই সন্ধ্যায় তারা কোথায় গেছে কে ই বা জানে, কল দিলাম কিন্তু রিসিভ করলো না! আমি আর রনি গল্প করছি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে

>কিরে ব্যাটা অর্নব নীলা নামের মেয়েটাকে নিয়ে তুই এত্ত কিউরিয়াস ক্যান?

>মেয়েটা নিখোজ তাই,খারাপ লাগছে! (আমি)

>হুম ডালমে কুচ কালা হ্যায়!! ( রনি) আমাদের কথার মাঝে বাধ সাধলো রতন মিয়া! মনে হচ্ছে সে ছুটে এসেছে! হাপিয়ে গেছে!

>কি ব্যাপার রতন সাহেব? এমন সময় আসলেন যে হঠাৎ? (রনি)

>ভাইজান আমি আর না বইলা থাকবার পারতাছি না! অনেক বড় কাহিনী! আপনেরা গোয়েন্দা মানুষ! অন্য কাউরে বলি নাই... কে কি ভাইবা বসে কওয়া তো যায় না ভাইজান! (রতন)

> ভাইজান কষ্ট কইরা একগ্লাস পানি খাওয়ান,কলিজা শুকায়া গেছে! (রতন)

>মাফ করবেন ভাই আমাদের আগেই বুঝা উচিত ছিলো! আমি একগ্লাস পানি এনে রতন সাহেব কে দিলাম! এক নিশ্বাসে সব শেষ করে ফেললো রতন সাহেব!

>ভাইজান হুনেন ওইদিন আমার বাড়ির সামনে দিয়ে একটা বড় গাড়ি যায় কালা রং এর! আমার ক্ষেতে উপর দিয়া গাড়ি চালায়া গেছে,সব নষ্ট হইয়া গেছে! আমি ওই গাড়ি আটকানের চেষ্টা করি কিন্তু পারি নাই! রাগে আমি ওই গাড়ির পিছনে পিছনে যাই! দেহি যে দালান বাড়িতে গাড়ি থাইমা আছে,অনেক গুলা ব্যাটা লোক দাঁড়ানো! প্রায় ৫-৬ জন! আমি ভাবলাম এদের লগে কথা কইয়া পারুম না! তাই চুপ করে চলে আসি। মাঝরাতে একটা চিৎকার হুনলাম! অনেক ভয় পাইছিলাম! কইলজা আরেকটু হইলে বাইর হইয়া যাইতো! কোন রকম রাইত টা কাটাইলাম! পরের দিন আমি আমার ক্ষেতে কাম করতে গেলাম! আবার সেই কালা রং এর গাড়ীডারে দেখলাম! আমার কিয়ের জন্য জানো ব্যাপার ডা ঠিক লাগে নায়! কারন আমাগো গ্রামে কেউ আগে গাড়ি নিয়া আহে নায়! যেদিন আপনেগো লগে বইয়া চা খাইলাম সেদিন সকালে আমি ওই বাড়িতে যাই লুকায়া ! জানালা খুলা আছিলো! জানালা দিয়া উকি দিয়া দেহি একেবারে পরীর মতো একটা মাইয়ারে দড়ি দিয়া বাইন্ধা রাখছে! মাইয়টার হাতে কাটা দাগ অনেক গুলান! ভয়ে কাউরে কিছু কই নাই! কিন্তু আজকে একটু আগে যা দেখলাম তারপর আর নিজেরে থামায়া রাখতে পারলাম না ভাইজান! মাইয়াডারে বাচান আপনেরা! (রতন)

>কি দেখেছেন আপনি!!! (রনি)

>আমি জানালার পাশে গিয়া দাড়াইলাম,ওরা কথা কইতাছিলো! মাইয়াডারে মনে হয় ওরা তুইলা আনছে! তারা কইতাছিলো মাইয়ার বাপে টাকা দিতে দেরীকরছে তাই মাইয়া টার সর্বনাশ কইরা মাইরা ফেলবো! ( রতন) আমার বা রনির বুঝতে বাকি নেই মেয়ে টা কে! মেয়েটা নীলা ছাড়া আর কেউ না! রতন সাহেব কে কিছু কথা বলে আমরা তার কাছে থেকে বাড়ির ঠিকানা জেনে সেই বাড়ির উদ্দেশ্যে ছুটলাম! অন্ধকারের মাঝে হাটছি আমরা!

আমরা এখন সেই বাসার সামনে দাঁড়ানো! ভেতর থেকে একটা মেয়ের চাপা কান্নার আওয়াজ আসছে! নাহ আর দেড়ি করলে চলবেনা! রনি দড়জায় নক দিলো! বেশ কিছুক্ষন পর দুইজন এসে একসাথে দড়জা খুললো!

>কাকে চাই?

>যাদের কে দরকার তারা আমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে! (আমি)

>কারা আপনারা??

>গোয়েন্দা! (রনি) সাথে সাথে একজন আমাদের দিকে গুলি তাক করলো!

> কোন ধরনের চাকালি করবেন না! (কিডন্যাপার)

>ভয় দেখিয়ে লাভ নেই মিষ্টার! হঠাৎ জোড়ে গুলির আওয়াজ হলো!

হ্যা আর কেউ না রিদয় গুলি ছুড়েছে তাদের উদ্দেশ্য করে! আসার সময় আমি ম্যাসেজের মাধ্যমে রিদয় কে সব জানিয়ে দিয়েছিলাম! ইতিমধ্যে ভেতর থেকে আরো ৩জন বের হয়ে আসলো! ওদের সবার কাছে পিস্তল! তাদের মধ্যে একজন নীলার মাথায় পিস্তল ধরে রেখেছে! কি করবো এখন? নীলাকে যে বাচাতেই হবে! নিজের চোখের সমনে এভাবে একটা মেয়ে কে শেষ হতে দেখতে পারবো না! কি করার আছে আমাদের? চলে যাবো? নাকি নীল মেয়েটাকে বাচাবো? কি করবো আমরা! খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে! কি হবে বুঝতে পারছি না! রিদয় আমি বা রনি কেউ কিচ্ছু করতে পারছি না! কারন এতে নীলা মেয়েটার জীবনের শংকা আছে! যখন প্রায় হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো অবস্থা তখন ই প্রেতাত্তা নীলার মাথায় যে পিস্তল ঠেকিয়ে রেখেছিলো তার মাথায় সর্টগান ধরলো! প্রেতাত্তা ভাই এই বাড়ির পিছের দড়জা থেকে ঢুকেছে! পরিস্থিতি এখন সম্পূর্নভাবে আমাদের কন্ট্রোলে! কিন্তু বিপত্তি ঘটালো আমাদের দিকে পিস্তল তাক কারী এক কিডনাপার! প্রথম থেকেই তাকে আমার ঠিক লাগছিলো না! সে রনির মাথা কে টার্গেট করে ফায়ার করলো! রনি সরে যেতে পারলো না সময় মতো! কিন্তু টার্গেট মিস হয়ে রনির কাধে গুলি লাগলো! রনি কাধ ধরে সাথে সাথে বসে পরলো! আমিও পালটা গুলি করলাম কিডন্যাপার কে! হাটুতে গুলি করায় সে আর উঠে দাড়াতে পারলো না! বাইরে পুলিশের গাড়ির আওয়াজ পাচ্ছি তারমানে পুলিশ নিয়ে রতন এসে গেছে! যাক এখন আর চিন্তা নেই । পুলিশ তার ফোর্স নিয়ে ভিতরে ঢুকলো! কিডন্যাপারদের এরেষ্ট করে নিয়ে গেলো । রনি কে আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাবো কিন্তু এই গ্রামে হাসপাতাল নেই তাই পুলিশের সাহয্যে রনি আর নীলা কে হাসপাতালে পাঠানো হলো! । । আমরা সবাই বেশ রাত করে বাসায় ফিরলাম! প্রেতাত্তা ভাই আর রিদয় ভাই খাওয়া শেষ করেই ঘুম দিলো! আমিও বেশ ক্লান্ত কিন্তু ঘুম যে আমার কাছে ধরা দিবে না! ~ঘুম তুমি কার আকাশে উড়ো? তার আকাশ কী আমার থেকেও বড়?

সকাল হয়ে গেছে! আমরা নাস্তা সেরে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম! রনি কে দেখতে যেতে হবে! আপাদত আমরা বাসে আছি! ভাবছি সব কিছু আবারো! নীলা মেয়ে টাকে তার বাবা মা আজ নিতে আসবে! আদিত্ত রায়ের সাথে আমাদের কথা হয়েছিলো! আসলে আমরা নিজেরাও বুঝতে পারি নি যে কিডন্যাপের কেস এ আমরা জড়িয়ে যাবো তবে ভালো ব্যাপার হচ্ছে আমরা মেয়েটাকে বাচাতে পেরছি! সে যাই হোক আজ আবার আমাবস্যা! তাই রিদয় আর প্রেতাত্তা ভাইয়ের মুখের দিকে তাকালেই বুঝা যাচ্ছে তারা কতটা চিন্তায় আছে!

হাসপাতালের সামনে গিয়ে রীতিমতো ভড়কে গেলাম! কারন অনেক পুলিশ আর সাংবাদিক হাস্পাতালের সামনে! হয়তো মেয়েটাকে ৫ দিন পর পাওয়া গেছে তাই এই উত্তেজনা! আমাদের দেখেই সাংবাদিকরা পুরোপুরি আমাদের চেপে ধরলো! একের পর এক প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে আমাদের অবস্থা যখন কাহিল তখন পুলিশের সাহায্যে আমরা ভিতরে যেতে সফল হলাম! আগেই রনি কে দেখতে গেলাম! বেচারাকে দেখে বেশ খারাপ লাগছে তবে ডাক্তার বললো চিন্তার কোন কারন নেই! তবে বেশ কিছুদিন রনি কে রেষ্ট এ থাকা লাগবে! অতপর আমরা নীলার কাছে গেলাম! কেবিনে ঢুকতেই নীলার বাবা মা কে দেখলাম! তারা কাদছে অনেক! মেয়েটা আপাদত সুস্থ আছে! তবে ওর ও কিছু দিন রেষ্ট এ থাকা লাগবে! নীলার বাবা মা আমাদের কাছে কত্ত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো তার ইয়াত্তা নেই! অতপর অফিসারের সাথে কথা বলে নীলাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যাবস্থা করেদিলাম! কারন এখানে এত্ত দূরে রাখা আপাদত ঠিক হবে না মেয়েটার জন্য!

দুপুর গড়িয়েছে ইতিমধ্যে! আমরা আবার প্রেতাত্তা ভাইয়ের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম! বাসায় ফিরে রতন সাহেব কে ডেকে আনা হলো! দুপুরের খাবার খেয়ে আমরা বসে আছি!

>আচ্ছা রতন সাহেব! আপনি কুকুর গুলোর সাথে যাকে দেখেছেন সে ঠিক কোন আবস্থানে ছিলো আপনি কী মনে করতে পারবেন?(প্রেতাত্তা)

>হুম ভাইজান আমার একদম মনে আছে! (রতন)

>বাহ তাহলে সহজ হয়ে গেলো আমাদের জন্য! (রিদয়)

>রতন সাহেব আপনার সাহায্য কিন্তু আমাদের খুব ই দরকার! (প্রেতাত্তা)

>ঠিকাছে ভাইজান আমি যতদূর পারি করমু আপনেগো লাইগা! চিন্তা লইয়েন না! (রতন)

>আচ্ছা তাহলে আপাদত আপনি আমাদের সাথেই থাকুন! সন্ধ্যা হয়ে গেলে আমরা কাজে লেগে পরবো! (প্রেতাত্তা)

>আইচ্ছা ভাইজান! (রতন)

> রিদয় তুমি বরং আরেকবার দেখে নাও সব ঠিক ঠাক আছে কি না! (প্রেতাত্তা)

>আচ্ছা আমি কি কিছু করবো না? (আমি)

>নাহ তুমি আমাদের সাথেই থাকো তাহলেই হবে! (প্রেতাত্তা)

>হুম আচ্ছা!! পাশের বেলকুনিতে যেয়ে সিগারেট ধরালাম! ভাবছি আজ কী হবে! ভয়ংকর কিছু অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য হয়তো! যাক তখন কী হবে সেটা দেখা যাবে! সন্ধ্যা হয়ে গেছে! আমরা চুপচাপ ঘর থেকে বের হলাম! প্রেতাত্তা ভাইয়ের কাধে একটা ব্যাগ! সবার হাতেই একটা করে ফ্ল্যাশ টর্চ! সেই ভুতুরে ঘটনা গুলো যেখানে ঘটে আপাদত আমরা সেখানেই যাচ্ছি,যেতে যেতে আকাশ একদম নিকষ কালো হয়ে গেলো! এত্ত টা ঘুটঘুটে অন্ধকার যানো মনে হচ্ছে কবরের মধ্যে আমরা ঢুকে গেছি! আমরা যেখান টায় দাঁড়িয়ে আছি সেখানেই নাকি ভুতুরে ঘটনা গুলো ঘটে! রতন প্রেতাত্তা ভাই কে দেখিয়ে দিলো যেখানে সেই প্রেত টা দাড়িয়েছিলো! টর্চের আলো সেই জায়গায় প্রেতাত্তা ভাই গর্ত করে কি কি জানো রাখলো! এরপর একটা বৃত্ত একে সেখানে ক্রস একে দিলো! ঠিক সেইম কাজ টা রিদয় ও করলো! রিদয় এর থেকে কিছু টা দূরে বৃত্ত একেছে! রতন মিয়া চলে যেতে চাইলো! তাকে আমরা বিদায় দিলাম কারন তার যতটুকু করার সে তা আমদের জন্য করেছে! এখন শুধু অপেক্ষা সেই মুহুর্তের জন্য! আমরা সবাই বেশখানিকটা দূরে অবস্থান করলাম! চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি! প্রেতাত্তা ভাই আমার হাতে কালো রং এর মতো একটা ফিতা বেধে দিলো ফিতার সাথে কি সব লাগানো! ভাই আমাকে বললো যাতে আমি একটু দূরে দূরে থাকি কারন এসব ব্যাপারে আমার কোন অভিজ্ঞতা নেই! চারপাশে ঝিঝি পোকার ডাক! নিকষ কালো আধার! সবাই অপেক্ষা করছি! হঠাৎ করেই কেমন এক আওয়াজ শুনতে পেলাম! কেমন কুকুরের গড়গড় করার মতো শব্দ! শীতের দিন হওয়াতে কুয়াশা পরেছে! কিন্তু আগে তো এত্ত কুয়াশা ছিলো না! হঠাৎ এত্ত কুয়াশা কোথ থেকে এলো! সামনো জেনো কিচ্ছু দেখাই যাচ্ছে না! আমরা সেই বৃত্ত আকা স্থান টার ঠিক সোজা একটি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি! যেখান থেকে স্পষ্ট সব কছু দেখা যাচ্ছিলো! কিন্তু এত্ত কুয়াশা!!!

>ভাই কিসের জানো শব্দ হচ্ছে!! (আমি)

>হুম তুমি আপাদত কিচ্ছু করবে না!(প্রেতাত্তা)

>আচ্ছা! ঠিকাছে...... হঠাৎ কুয়াশা গুলো সরে যাচ্ছে! বেশ অন্ধকার হওয়া স্বত্তেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে বেশ বড় ধরনের কুকুরের দল এগিয়ে আসছে! অদ্ভুত ধরনের বড় সাইজের কুকুর! আমাদের দেশীয় কুকুর এত্ত বড় হয় না! অন্ধকারে কুচকুচে কালো কুকুর গুলো জানো মিলয়ে যাচ্ছে! কিন্তু শ'খানেক কুকুর চোখ জ্বলছে! নীলাভ এক ধরনের আলো ঠিকরে বের হচ্ছে! আমি মনে হয় স্তব্দ হয়ে গেছি! কিছু জিজ্ঞাস করবো তাও পারছি না!!! হঠাৎ বিকট এত চিৎকার সকলের নীরবতা ভেঙ্গে গেলো! কুকুর গুলো চোখের পলকেই উধাও হয়ে গেছে! সাথে সাথে রিদয় আর প্রেতাত্তা ভাই বৃত্তের সামনে গেলো! টর্চ মারতেই দেখলাম আধো কালো মানুষের আকৃতির মত কিছু একটা বৃত্তের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে! সে জেনো নড়তে পারছে না! ফ্লাশের টর্চ সেই প্রেতের মুখে ফেলতেই কুৎসিত এক মুখ দেখলাম! মনে হচ্ছে মুখের মাংস পচে গেছে! আরেকটু হলে মনে হয় জ্ঞান ই হারিয়ে ফেলতাম! কেমন অস্পষ্ট শব্দে প্রেত টা কি জানো বললো! পুরো টা না বুঝলেও এত টুকু বুঝলাম যে ওরে ছেড়ে দিতে বলছে

>তোর বিনাশ না করে দিব আমরা (প্রতাত্তা)

>কোন ভাবেই পারবি না আমাকে আটকাতে! সবাইকে মেরে ফেলবো আমি!! তোদের মেরে আমি আমার এত্ত বছরের সাধনা পূরন করবো! অমরত্ব লাভ করবো আমি বলেই প্রেত টা গগন কাপিয়ে হেসে উঠলো!

খেয়াল করলাম আবারো সেই গড়গড় শব্দ হচ্ছে! কিন্তু কুকুরগুলো তো আর নেই তবে এমন শব্দ কে করছে? পাশে ফিরতেই টর্চের আলোতে দেখলাম রিদয় এর মুখ কেমন জানো হয়ে গেছে! আওয়াজ টাও ওর কাছ থেকেই আসছে! চোখ কেমন বড় বড় হয়ে গেছে! আমার দিকে রিদয় ঘুরেই আমাকে ধরতে চেষ্টা করলো সাথে সাথে অদৃশ্য কিছুর বাধাতে রিদয় ছিটকে গেলো! প্রেতাত্তা ভাই আমাকে তার ব্যাগ থেকে কালো বোতল টা বের করে তার ভিতরে থাকা পবত্র পানি রিদয়ের শরীরে ছুড়ে দিতো বললো! আমিও তাই করলাম! পানি ছিটিয়ে দিতেই রিদয় মাটিতে লুটিয়ে পরলো! প্রেতাত্তা ভাই সাথে সাথেই ম্যাচ বক্স বের করে আগুন জ্বালিয়ে দিলো সেই বৃত্তে! আগুন জ্বলে উঠার সাথে সাথেই এই শীতের রাতেও আশে পাশের গাছ গুলো বাতাসে উপড়ে পড়ার অবস্থা হলো! খানিক ক্ষন পরেই সব কিছু জানো হাওয়াতে মিলিয়ে গেলো! প্রেতাত্তা ভাই বললো এখন আর কোন সমস্যা নেই! আমি ভাইয়ের কথা শুনে হাফ ছেড়ে বাচলাম! রিদয় কে মাটি থেকে তুলে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম! কিছুটা যেতেই দূর থেকে ফজরের আজানের শব্দ ভেসে আসলো! কোনমতে আমরা বাসায় গেলাম! ঘুম থেকে উঠেই দেখলাম রিদয় আর প্রতাত্তা ভাই আমার রুমে বসে চা খাচ্ছে!

>রিদয় এখন ঠিক আছিস তুই? (আমি)

>হুম রে ঠিক আছি! (রিদয়)

>আচ্ছা প্রেতাত্তা ভাই আপনি আমাদের টিমে জয়েন করেন প্লিজ! আপনি না থাকলে হয়তো এই কেস সল্ভ করতে পারতাম না আমরা! (আমি)

প্রেতাত্তা ভাই শুধু হাসলো যার অর্থ আমার কাছে একদম স্পষ্ট! ভাই আমাদের সাথেই জয়েন করতে ইচ্ছুক! অতপর আমরা ব্যাগ গুছিয়ে হাস্পাতালে গেলাম! রনি কে নিয়ে এবার সবাই ঢাকায় ফিরবো!

আমরা এখন বাসে আছি! রনিও এখন বেশ সুস্থ! রনি কে সব ঘটনা প্রেতাত্তা ভাই বুঝিয়ে বলছে! লং জার্নির পর আমরা ঢাকায় ফিরলাম! আদিত্ত রায় কে কিছুই জানানো হয়নি! আজ আর কেউ বাসা থেকে বের হলাম না! সবাই যার যার মতো রেষ্ট নিচ্ছি! পরের দিন সকালে আমরা থানায় গেলাম! আদিত্ত রায় এখন ঠিক আমাদের সামনেই বসে আছে!

>কেস সল্ভ করেছেন নিশ্চয়ই? (আদিত্ত)

>জ্বি এই রহস্যের সমাধান হয়ে গেছে! (রিদয়)

>তাহলে যা ভেবেছিলাম তাই এটা ভুতুরে কোন ঘটনা তাই তো? (আদিত্ত)

>জ্বি ঠিক ধরেছেন! (রনি)

>ঘটনা আমাকে খুলে বলুন প্লিজ!! (আদিত্ত)

আদিত্ত রায় কে সম্পুর্ন ঘটনা খুলে বললাম...আদিত্ত রায় আমাদের দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে আছে! সে পুরোপুরি ভড়কে গেছে এমন ঘটনা শুনে!

>আমি জানতাম শুধু মাত্র আপনারাই এই কেস সল্ভ করতে পারবেন!পাশা পাশি আপনারা কিডন্যাপিং কেস টাও সল্ভ করেছেন! আমি এই কিডন্যাপিং কেস সল্ভ হওয়ার পর পর ই আমি কমিশনার কে জানিয়ে দিয়েছিলাম! আগামী শুক্রুবার কমিশনার আপনাদের দেখা করতে বলেছে! আমাকে বাচালেন আপনারা! এই পেপারে সাইন করে দেন আপনারা প্লিজ! তাহলে আজ ই কমিশনারের কাছে অনুষ্ঠানিক ভাবে এই কেস সল্ভ হয়েছে তা জানিয়ে দিবো! সবাই সাইন করে পেপার টা আদিত্ত রায় কে ফিরিয়ে দিলাম!

>আচ্ছা আজ আসি তাহলে ভালো থাকবেন!(আমি) সবাই উঠে চলে যাচ্ছিলাম ঠিক তখনি আদিত্ত রায় আমাকে ডেকে বললো

>মিষ্টার অর্নব নীলার আম্মু আপনাকে দেখা করতে বলেছে! আপনার নাম্বার অনেক খুজেছে কিন্তু আপনি কি মনে করবেন তাই আর নাম্বার দেই নি! তার সাথে দেখা করবেন দয়া করে! (আদিত্ত)

আদিত্ত রায়ের মুখের হাসি কিসের ইঙ্গিত করছে তা বুঝতে আমার আর বাকি রইলো না! আমি আর কিছু না বলে আস্তে করে বের হলাম! সিগারেট জ্বালিয়ে সবার সাথে হাটছি! বেশ কুয়াশা পরেছে আজ! কুয়াশার মধ্যে ধোয়া ছাড়তে ভালোই লাগছে! সিগারেটের ধোয়া কুয়াশার সাথে মিশে যাচ্ছে! শীতের মধ্যে হাটতে মন্দ লাগছে না! আপাতত আমার গন্তব্য বাসার উদ্দেশ্যে!

(সমাপ্ত) Ads:

COMMENTS

Name

অন্য বিষয়ের উপর লেখা ইবুক কবিতা গল্প/কবিতা লেখার প্রতিযোগিতা জীবনের সত্য ঘটনা থ্রিলার গল্প দেশের গল্প পিশাচ কাহিনী ভালোবাসার গল্প ভৌতিক গল্প রম্য গল্প রহস্য গল্প সায়েন্স ফিকশন হরর গল্প
false
ltr
item
Bengali pdf and story blog: অশুভ রাত - অর্নব শাহীন || থ্রিলার গল্প
অশুভ রাত - অর্নব শাহীন || থ্রিলার গল্প
https://2.bp.blogspot.com/-DWQbVuzbwtU/WnSnZX79bTI/AAAAAAAAAis/Tjky7Edqhdg82W2opKCmrn8g3M7h1N60wCLcBGAs/s320/1516623806640.jpg
https://2.bp.blogspot.com/-DWQbVuzbwtU/WnSnZX79bTI/AAAAAAAAAis/Tjky7Edqhdg82W2opKCmrn8g3M7h1N60wCLcBGAs/s72-c/1516623806640.jpg
Bengali pdf and story blog
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2018/02/blog-post_2.html
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2018/02/blog-post_2.html
true
7257552463787474279
UTF-8
Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy