অন্ধকারের যাত্রী - অর্নব শাহীন || রহস্য গল্প

সকালের ঘুমের বারোটা বাজিয়ে মোবাইল চিৎকার করছে,এই অসময়ে কে কল দিলো? ভাবতে ভাবতেই অর্নব ফোন রিসিভ করলো। হ্যালো দোস্ত কে? আরে ধুর হালা আম...



সকালের ঘুমের বারোটা বাজিয়ে মোবাইল চিৎকার করছে,এই অসময়ে কে কল দিলো? ভাবতে ভাবতেই অর্নব ফোন রিসিভ করলো।

হ্যালো দোস্ত

কে?

আরে ধুর হালা আমি তাহমিদ

কোন তাহমিদ?

অর্নব লাথি খাবি কিন্তু,ইমপরটেন্ট কথা আছে তোর সাথে

কী বল বেটা,ঘুমের বারোটা বাজায়া এখন ইমপরটেন্ট কথা বলতে আসছোস। বইলা ফেল।

তুই শুনেছিস ৪৭/২ এ আবারো ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেছে?

নাতো!

জানবি ক্যামনে? খবর দেখস তুই?

আচ্ছা যাই হোক তো আমি কি করমু বল!

দোস্ত অই বাড়ি টা কী আসলেই হন্টেড?

আমি কি জানি? বাদ দে বাসায় আয় সামনা সামনি কথা বলি আচ্ছা

"অর্নব শখের গোয়েন্দা,আজ পর্যন্ত অনেক রহস্য পেয়েও কেন জানো কোন রহস্যের জট খুলতে পারেনি,ওর সাথে আছে তাহমিদ,রনি আর রিদয়,এরা জানো রহস্যের জট খুলতে গিয়ে আরো জট পাকিয়ে ফেলে,তাই বেশ কিছু দিন গোয়েন্দাগিরি বাদ দিয়ে সবাই নিজের চড়কায় তেল দিচ্ছিলো"

অর্নব উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করলো,এর মধ্যেই দরজায় বেল বাজলো। আমি গিয়ে দরজা খুললাম। দরজার বাইরে রিদয় তাহমিদ আর রনি দাড়িয়ে আছে।

>কিরে বাইরে দাড়ায়া থাকবো আমরা (রিদয়)

>আরে না না দোস্ত আয় তোরা হুম তো সবাই নাস্তা করছস নাকি?

>আরে বাদ দে তো আর্নব তোর নাস্তা,এবার সিরিয়াস হ। ব্যাপার টা অনেক জটিল ৪৭/২ এ একটার পর একটা ভয়ংকর লাশ পাওয়া যাচ্ছে আর সবাই বলছে এটা ভুতের কান্ড! আমাদের ব্যাপার টা দেখতে হবে। (রনি)

>......... (আমি)

> দেখ অর্নব চুপ থাকিস না,অলরেডি ৫ টা খুন হয়েছে,আমরা এভাবে বসে থাকতে পারি না (রিদয়)

>দোস্ত চুপ ক্যান তুই? (তাহমিদ)

তো কি করবো আমরা? যেখানে সরকার ই ব্যাপার টা ইনভেষ্টিগেশন করছে সেখানে আমাদের কী করার আছে? আর আজ পর্যন্ত আমরা যে কটা কেস সলভ করতে গিয়েছি সব গুলোই গিট্টূ পাকিয়ে ফেলেছি,করব টা কী আমরা? আমাদের দিয়ে হবে না তাহমিদ সজোড়ে আমার পিঠে ঘুষি দিয়ে বসলো।

>সালা তুই নিজেরে কী মনে করছ?

শার্লোক হোমস? দ্যাখ আমরা কোন কেসে সফল হইনি এই বলে যে এই কেসের রহস্য বের করতে পারবো না আর কোন গ্যারান্টি দিতে পারবি তুই? দ্যাখ আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে।

তাহমিদের ঘুষি খেয়ে আমার দম যায় যায় অবস্থা, সালা একটা দানব (মনে মনে বললাম) ওর আরেক ঘুষির ভয়ে রাজি হয়ে গেলাম আমি তো আমরা যে কেস টা নিবো এর জন্য তো আগে আমাদের পারমিশন লাগবে?

> এই নে পারমিশন পেপার।

(রিদয় ওর ব্যাগ থেকে একটা খাম বের করে অর্নবের দিকে এগিয়ে দিলো)

হুম তো আমাদের সব ভিক্টীমের নাম আর এড্রেস লাগবে।

রিদয় তুই সবার ফাইলের কপি নিয়ে আয় থানা থেকে।

ঠিকাছে দোস্ত।

আচ্ছা যাই তাইলে আমি (রিদয়)

ওই রিদয় দাড়া আমিও যামু তোর সাথে। (রনি)

আচ্ছা চল

ওরা চলে গেলো থানার উদ্দেশ্যে।

তাহমিদ দোস্ত?

>হুম... চল আমাদের বের হতে হবে।

> কই যাবি?

>......

অর্নব কে আর বেশি কিছু জিজ্ঞাস করলাম না কারন ও প্রয়োজন ছাড়া কন কথা বলে না। তাই ওকে জিজ্ঞাস করা টাই ভুল হবে চুপ চাপ অর্নবের পিছু পিছু গেলাম টাক্সি!!!

মামা যাবেন?

কই?

ফার্মগেইট।

হুম উঠেন মামা।

>আমরা এখন ওই হন্টেড বাড়িতে যাবো?

>হু

> তোর মাথা নষ্ট?

>...

>তোর এই চুপ করে থাকার অভ্যাশ টা বাদ দিবি?

>...

অতপর আমরা ফার্মগেইট এ দাড়িয়ে আছি,কিন্তু যকেই বলি ৪৭/২ বাড়ি টা কোথায় সেই আমাদের দিকে এমন ভাবে তাকায় যেনো পাগল দেখছে।

এই শহরের মানুষ ভুল ঠিকানা দিতে বেশ পচ্ছন্দ করে আমরাও এর শিকার হলাম ৩ বার।

দুপুর বেলা আমরা লাঞ্চ করে বসে আছি। >দোস্ত আমরা ইচ্ছা করলেই থানা থেকে এড্রেস টা নিতে পারতাম ( তাহমিদ)

>হুম কিন্তু তার প্রয়োজন নাই।

আমি এখানে বাড়ি টা ঘুরে দেখতে আসি নাই,যদিও বা প্লান ছিলো কিন্তু আগে সবার কাছে এই বাড়ির ব্যাপারে খোজ নিতে হবে।

>হুম তাহলে চল,কিন্তু দোস্ত আমাদের জিজ্ঞাস করতে হবে অনেক বয়স্ক যারা আছেন তাদের কাছে। কারন তারা ভুল তথ্য দিবে না। (তাহমিদ)

>হুম চল তাহলে।

আমরা সারাদিন ঘুরে সন্ধ্যায় এক টং এ গেলাম। এক বুড়ো লোক চা বানাচ্ছে >চল দোস্ত একটু চা খাই আচ্ছা চল (তাহমিদ)

চাচা দুই কাপ চা দেন

আচ্ছা বাবারা বসেন আপনারা।

চা খেতে খেতে চাচার সাথে কথা বলা শুরু করলো তাহমিদ।

>চাচা আপনি কী এখানেই থাকেন?

>হ বাবা,জন্মের পর থেইক্কা ই এহানে থাহি।

>চাচা আমরা আসলে একটা ব্যাপারে খোজ নিতে আসছি,কিন্তু কেঊ আমাদের তেমন গুরুত্ব দেই নি।

>কী ব্যাপারে বাবা?

>আসলে আমরা ৪৭/২ বাড়িটার ঘটনা জানতে চাচ্ছিলাম।

চাচা তাহমিদের কথা শুনে আমাদের দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে রইলো।

>বাবারা হুনেন ওর বাড়ী অভিশপ্ত,কাউরে ছাড়ে না ওই মরন বাড়ি।

>চাচা ওই বাড়ির ঘটনা কী?

> শুনেন তাইলে বাবারা

আজ থেকে ৪৮ বছর আগে ওর বাড়িতে এক পরিবার থাকতো। মেয়েটার স্বামি থাকতো বিলেতে। মেলা বড়লোক আছিলো। আর তহনকার সময়ে চুড়ি ডাকাতি অনেক বেশি হইতো। মাইয়াটার ২ ডা ফুটফুটা বাচ্চা আছিলো, এক রাইতে কারা জানি আইসা পুরা বাড়ি লুট কইরা যাই। মাইয়াটারে ধর্ষন কইরা ফ্যানের লগে লটকায়া রাইখা গেছিলো। আর বাচ্চা দুইটারে জবো করছিল। এতটুকু বলে চাচা থামলো।

এরকম নিষ্ঠুর ঘটনা শুনে তাহমিদ কেপে উঠলো।

এরপর চাচা?

বাবা হুনো তার মেলা দিন পরে ওই বাড়ীতে নতুন লোক আহে থাকার জন্য।কিন্তু কেউ আর ওই বাড়ীতে টিকতে পারে নায়,ওই মাইয়াটার আত্মা মাইরা ফেলছিলো ওগো এরপর ভয়ে ওই বাড়ির দিকে কেউ সকাল বেলাও তাকাইতো না। কিন্তু মেলা দিন পরে গত একমাসে ৫ টা মানুষ রে মাইরা ফেলছে ওই মাইয়ার আত্মা। কি দরকার এত্ত সাহস দেহানোর কও বাবা? কার মায়ের কোল জানি খালি হইয়া গেলো রে বাবা...

এত্তক্ষন আমি চুপচাপ ঘটনা শুনলাম,চাচাকে বিল দিয়ে সিগারেট জ্বালিয়ে হাটা দিলাম।

>অর্নব

>বল

>ব্যাপার টা বেশ ভয়ংকর রে...

>হাহাহা বেকুবের মত কথা বলিস না। এই যুগে ভুত আসবে কোথ থেকে?

>কিন্তু মামা...

>বাসায় যাওয়া যাক চল...

বাসায় ফিরেই রিদয়ের ঝারি শুনলাম >কই ছিলি তুইইইইই?? সারা টা দিন এখানে কাটায়া দিলাম!

>আরে দোস্ত আমরা ৪৭/২ এর খোজে গেছিলাম! (তাহমিদ)

>হুম বুঝছি এই নে সব ফাইল এখানে আছে। (রনি)

আমি ফাইল গুলো হাতে নিয়ে দেখতে শুরু করলাম,প্রত্যেক টা মৃত্যুই আত্মহত্যার মতো। কোন ধরনের জখম নেই না আছে কোন প্রমান!

রনি? (আমি)

হুম?

ফাইল গুলো তোরা ঠিক মত চেক করেছিস? হুম করেছি! (রনি)

কোন কিছু আজব লাগে নাই তোর কাছে? না মানে ইয়ে... (রনি)

ও দেখবে কি? ও বাসায় এসে সারাদিন ওর গফ রে নি বিজি পরে একপেট খেয়ে মরা ঘুম দিছে! (রিদয়)

ও আমি ঘুমাইছি আর তুই কি জেগে ছিলি ? তুই ও তো ঘুমাইছিলি ব্যাটা রিদয় (রনি)

দ্যাখ আমি ঘুমাইছি কিন্তু..

হইছে চুপ কর তোরা! ঝগড়া থামা! রিদয় তোর কাছে কিছু অদ্ভুত লাগে নাই?

>তেমন কোন কিছু না তবে... অত্মহত্যা গুলো ঠিক ৫ দিন পর পর হইছে! (রিদয়)

> ওয়েল ডান দোস্ত!

>ডেট গুলো লক্ষ্য করলেই বুঝা যায় (রিদয়)

>কিন্তু খুনের কারন গুলো কী? (রনি)

>সেটাই আমাদের বের করা লাগবে! (তাহমিদ)

যারা ভিকটিম তাদের এড্রেস গুলো তো দেওয়া ই আছে।

ওদের ফ্যামিলর সাথে কথা বলা লাগবে! কাল সকালে সবাই এসে পরিস!

রিদয়,রনি চলে গেলো! আমার সাথে তাহমিদ থেকে গেছে! তাহমিদ বলতে গেলে আমার সাথেই থাকে! তবে মাঝে মাঝে ও ওর ফ্যামিলির কাছে গিয়ে সময় কাটায়!

দোস্ত (তাহমিদ)

>হুম?

>এগুলো আসলেই কি খুন? ফাইলের রিপোর্ট গুলো দেখলে তো মনে হয় নিছক আত্মহত্যা!

>সবাই এক বাড়িতে যেয়েই ক্যান আত্মহত্যা করবে রে গাধা?

>তাও ঠিক! কিছু তো একটা রহস্য আছেই! হুম!

রাতের খাওয়া শেষ করে আমি বসে আছি! তাহমিদ অনেক ক্লান্ত তাই ঘুমিয়ে পরেছে! কিছুই ভাবতে পারছি না!

৫ টা খুন, মাঝখানে সময়ের ফারাক মাত্র ৫ দিন! ২ টা মেয়ে ৩ টা ছেলে খুন হয়েছে! সাকিব,আহসান,রাফি,নীলা আর মেঘলা! সবাই কম বয়সী!

এই অল্প বয়সী ছেলে মেয়ে গুলোর কী ই বা দোষ? এদের সাথে কার বা কীসের শত্রুতা?

নাহ ঘটনা মাত্র ই শুরু কী হবে বুঝতে পারছি না। সিগারেট জ্বালিয়ে ধোয়া ছাড়লাম! কিন্তু কোন কিছু ভেবে কুল করতে পারলাম না!

ওই অর্নব? উঠ বেটা সকাল হয়ে গেছে (তাহমিদ)

আরে ঘুমাতে দে ভাই!

>সালা রিদয় আর রনি এসে বসে আছে আর তুই মরার মত ঘুমাচ্ছিস ক্যান রে!

আচ্ছা দাড়া দাড়া উঠতেছি!

ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে সবাই বের হলাম। আমরা প্রথমেই গেলাম আহসানের বাসায়! দরজায় বেল দিয়ে বেশ কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে ত্থাকার পর একজন দরজা খুলো দিলো! দরজার উপরে দেখলাম নিম পাতা ঝুলানো।

আমরা একটু আহসানের ফ্যামিলির সাথে কথা বলতে চাই! (তাহমিদ)

কারা আপনারা?

আমরা আহসানের খুনের ব্যাপারে তদন্ত করতে এসেছি!

আসুন ভিতরে আসুন,আমি ভাইয়াকে ডেকে দিচ্ছি!

১০ মিনিটের মত বসে থাকার পর এক লোক এসে আমাদের সামনে বসলো!

কে আপনারা? ( লোক)

গোয়েন্দা! (আমি)

লোক টি আমাদের দিকে ভ্রু কুচকে তাকালো! ঠিক জানো আমাদের উপর বিশ্বাস করতে চাইছে না বা অবাক হচ্ছে! তোমরা গোয়েন্দা?

জ্বি (রিদয়)

পুলিশের কী কোন কাজ নেই যে তোমাদের মত এত্ত অল্প বয়সী কয়েকটা ছেলেকে তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে?

দেখুন এসব বলে আমাদের সময় নষ্ট না করাই ভালো! আপনি আমাদের প্রশ্নের জবাব দিন! আপনার ছেলের খুনের আগে আহনাফের কোন কিছু কী আপনার কাছে অস্বাভাবিক লেগেছে? (রনি)

নাহ লাগেনি।

আমাদের কাছে লুকিয়ে লাভ নেই (রনি)

আমি লু... লুকাতে যাবো ক্যান!!!

কারন আপনি কারন ছাড়াই উত্তেজিত হচ্ছেন (রনি)

আমি ট্যিসু বের করে ভদ্রলোকের হাতে দিয়ে বললাম ঘাম মুছুন!

আহসানের বাবা আমাদের দিকে ভয়ের চোখে তাকিয়ে আছে!

এবার বলুন! (রনি)

ভুত! ভুত আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে!

বস করে নিয়ে গিয়েছিলো ওই বাড়িতে তারপর আমার ছেলেটাকে...

কবে থেকে শুরু হয় এসব? (রিদয়)

যেদিন ওরা ওই বাড়িতে যায় ভুত সত্যি আছে কি না দেখার জন্য!

ওরা বলতে? বুঝতে পারলাম না খুলে বলুন! (রনি)

আসলে আমার ছেলে আর ওর ফ্রেন্ড রা যায় ওই বাড়িতে! ভুত আছে কিনা তা প্রমান করার জন্য! কিন্তু তা প্রমান করতে যেয়েই...

আচ্ছা আমি কি আপনার বাড়িটা ঘুরে দেখতে পারি? (আমি)

না! এই পারমিশন আমি তোমাদের দিব না! ঠিকাছে আমরা ঊঠি আজ!

হুম।

সবাই বের হল ঘর থেকে একে একে! শুনুন আংকেল? (আমি)

বল?

এসব তাবিজ আর গাছপালা ঘরে ঝুলিয়ে রাখবেন না! আপনার গলায় যেই তাবিজ আছে সেটা খুলে ফেলবেন! ভুত আপনার কোন ক্ষতি করবে না! কারন আপনার সাথে ভুতের শত্রুতা নেই! (আমি)

কিরে কী বললি এসব? (তাহমিদ)

ভুতের ভয় বেচারার মধ্যে! হয়ত কোন ভাবে ওই ভুত নামক খুনি কোন কারনে আহসানের বাবাকেও ভড়কে দিয়েছেন! দেখলি না ঘর ভরা গাছ পালার ডাল নিজের গলায় তাবিজ ঝুলানো? (আমি)

হুম বুঝলাম! বেচারার মুখ দেখার মত ছিল! তোর কথা শুনে বেচারার মুখ পুরা ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছিলো! (রনি)

সবাই একসাথে হেসে ঊঠলাম আমরা! এরপর গেলাম আমরা সাকিবের বাসায়! দরজায় বেল দিতেই এক ভদ্র মহিলা গেইট খুললো!

কে আপনারা? (মহিলা)

জ্বি আমরা গোয়েন্দা! সরকার থেকে আমাদের ৫ খুনের তদন্তের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে! আমরা একটু সাকিবের আম্মুর সাথে কথা বলতে চাই! (রনি)

জ্বি আপনারা আসুন ভিতরে!

আমরা সবাই বসলাম ভিতরে।

আমিই সাকিবের আম্মু ,কিন্তু সাকিবের তো খুন হয়নি ও নাকি আত্মহত্যা করেছে!

সাকিবের মা আমাদের সামনেই কেদে দিলো!

আন্টি আসলে আমরা কিভাবে বলবো বুঝতে পারছি না,কিন্তু...(রিদয়)

আন্টি নিজেকে সামলান প্লিজ, আসলে আপনার ছেলে আত্মহত্যা করেনি ওর খুন হয়েছে! (আমি)

আমি জানি বাবা কিন্তু আমার কথা কেউ বিশ্বাস ই করে নয়া! কে আমার ছেলেটাকে মেরে ফেলেছে? আমি জানতে চাই!

হ্যা আন্টি খুনি কে বের করতেই আমাদের আপনার সাহায্য লাগবে!

হ্যা বলো বাবা,আমি সব ধরনের সাহায্য করতে রাজি আছি!

আন্টি ওর মৃত্যুর আগে কোন কিছু আপনার অদ্ভুত লাগতো?

না বাবা তেমন কিছু তো না সব ই ঠিক ছিলো কিন্তু...

কিন্তু কী আন্টি? ( রিদয়)

আসলে বেশ কিছু দিন ধরে ও আমাকে বলেছিলো যে ও নাকি ভুত দেখেছে!

ভুত নাকি ওকে মেরে ফেলবে! বেশ ভয় পেয়েছিলো সাকিব!

এই সমস্যা টা কবে থেকে শুরু হয় আন্টি? (আমি)

ও আর ওর ফ্রেন্ড গিয়েছিলো ৪৭/২ বাড়িতে ভুত আছে কি না তা প্রমান করতে! পরের দিন ওরা ফিরে আসে কিন্তু ওদের সব কিছুই কেমন জানো ওলট পালট লাগছিলো! আর বলে ছিলো সত্যি ই নাকি ওই বাড়িতে ভুত আছে! কাউকে নাকি ছাড়বে না!

হুম... আচ্ছা আন্টি ও যেই ফ্রেন্ড গুলোর সাথে গিয়েছিলো ওদের নাম আর ঠিকানা গুলো দিবেন একটা কাগজে লিখে? (আমি) হ্যা অবশ্যই বাবা,ওয়েট কর একটু বেশ কিছুক্ষন পর মহিলা ফিরে এসে আমার কাছে একটা কাগজ দিল!

আমি কাগজে চোখ বুলিয়ে পকেটে রাখলাম কাগজটি!

আচ্ছা আন্টি আমরা আসি আজ... (আমি) ঠিকাছে বাবা!

বাইরে বের হয়ে সিগারেট জ্বালিয়ে হাটা দিলাম আমি!

কিরে অন্যদের বাসায় যাবি না? (তাহমিদ)

নাহ দরকার নেই (আমি)

ক্যান?? (তাহমিদ)

আমি কাগজ টি ওদের হাতে ধরিয়ে দিলাম আরে এখানে তো যারা খুন হয়েছে তাদের ই নাম লিখা! সাকিব,আহসান,রাফি,নীলা আর মেঘলা আর...ঝুম! (রনি)

তার মানে ওরা সবাই ফ্রেন্ড আর ওদের টার্গেট করে খুন করা হচ্ছে! ( রিদয়)

হুম (আমি)

কিন্তু আমাদের অন্যদের বাসায় যাওয়া উচিত এখন! (তাহমিদ)

না তার কোন দরকার নেই!

আরে অর্নব শুন!!! (রনি)

বাসায় এসে সবাই চুপচাপ বসে আছি।সবার মুখে থম থমে ভাব কারন এতক্ষনে সবাই বুঝতে পেরেছে আসল ঘটনা!

আমাদের ঝুম নামের মেয়েটাকে বাচাতে হবে অর্নব! (রিদয়)

আমাদের হাতে একদম সময় নেই! শেষ খুন হয়েছে আজ ৩ দিন তার মানে হাতে আর মাত্র ২ দিন আছে! কারন প্রত্যেকটা খুন ৫ দিন পর পর হচ্ছে! আর এখন লাস্ট টার্গেট ঝুম নামের মেয়ে টা!

তাহমিদ তুই রনি কে নিয়ে ঝুমের বাসায় চলে যা এক্ষুনি! কাগজে ঠিকানা দেওয়া আছে!

আচ্ছা আমরা যাচ্ছি! (তাহমিদ)

অর্নব!!!

হুম বল রিদয়!

আমাদের এক্ষুনি ৪৭/২ বাড়ি টাতে যেতে হবে কোন ক্লু পাওয়া যায় কি না তার জন্য! আমিও এটাই বলতে চাচ্ছিলাম! বিকেল হয়ে গেছে! তারাতারি যাওয়া দরকার!

হুম চল!

বাইক ছুটি চলছে ৪৭/২ এর উদ্দেশ্যে!

যতক্ষনে আমার ৪৭/২ এ আসলাম ততক্ষনে সন্ধ্যা গড়িয়েছে! বাড়ি টা আজ আমরা প্রথম দেখলাম নিজের চোখে! ভুতুরে একটা ভাব আছে বাড়িটাতে! সামনে সদর দরজা! আমরা দরজা টেনে ভিতরে ঢুকলাম! বাড়ি টা বেশ অদ্ভুত! অনেক পুরানো বাড়ি বুঝা ই যাচ্ছে! দোতালা বাড়িটা বেশ অনেকটা জায়গা জুড়ে! চারদিকে গাছ গাছালিতে ভরা! বাড়ির দেয়ালে শ্যাওলার আস্তরন। সন্ধ্যা নামার কারনে অন্ধকারে বাড়িটাকে আরো ভুতুরে মনে হচ্ছে!সব চিন্তা বাদ দিয়ে বাড়ির মেইন গেইট ঠেলে ভিতরে ঢুকবো ঠিক তখনি খেয়াল করলাম রিদয় থমকে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির বাইরে।

>কিরে রিদয় ভিতরে আয়!

>না...মানে আমাদের ভিতরে যাওয়া টা...

>উফফ আয় তো বাজে প্যাচাল না করে!

রিতিমতো রিদয় কে ঠেলে বাড়িতে ঢুকালাম। মনে হচ্ছে অন্ধকার কবরে ঢুকে গেছি আমরা! চারদিকে ঘুট ঘুটে অন্ধকার। মোবাইল বের করে ফ্ল্যাশ অন করতে চারদিক পরিষ্কার দেখতে পেলাম! কিন্তু রিদয়ের ভিতরে কেমন এক অস্থিরতা দেখতে পাচ্ছি!

>রিদয়?

> বল

>ইজ এনিথিং রং?

>অর্নব এখানে ২য় কোন কিছুর অস্তিত্ব রয়েছে! তুই জানিস যে আমি এসব ব্যাপার আগে থেকেই বুঝতে পারি... আমাদের এখানে বেশীক্ষন তাকা উচিত হবে না! যা করার দ্রুত করতে হবে।

আমি রিদয় এর কথা হেসে উরিয়ে দিলাম।

চল কাজে লেগে পরি!

নিচ তলায় তেমন কিছুই নেই!শুধু মাকড়শার জালে ভরা! আমরা দোতালায় গেলাম! দোতালায় বেশ অনেক গুলো রুম, একে একে সব রুম খুজেই তেমন কিছু চোখে পড়লো না! আর মাত্র ২ টা রুম বাকি আছে! পাশের রুমে ঢুকেই আমরা বুঝতে পারলাম এখানে কেউ থাকে কারন বেশ কিছু জিনিস পরে আছে যা মানুষ প্রতিদিন ব্যাবহার করে! ওদিকে রদয়ের অস্থিরতা জেনো বেড়েই চলছে! আমি আর রিদয় রুম টা সার্চ করা শুরু করলাম। আমি কিছু না পেলেও রিদয় একটা ব্যাগ পেলো! ব্যাগ খুলতে যাবো ঠিক সে সময় ই পাশের রুম থেকে কি জানো ভাঙ্গার আওয়াজ পেলাম।

>রিদয়?

>কি জানো ভাঙ্গার আওয়াজ পেয়েছিস পাশের রুম থেকে?

>হুম... অর্নব আর এক মুহুর্তও না এখানে! চল বেড়িয়ে পরি!

>না রিদয় নিশ্চয়ই পাশের রুমে ক্রিমানল লুকিয়ে আছে! এখনি আমাদের পাশে রুমে যেতে হবে।

>অর্নব তুই বুঝতে পারছিস না ব্যাপার টা!

>এখনে না বুঝার আমি কিছুই দেখছি না!

রিদয় কে রেখেই আমি পাশের রুমের গেইট এ এসে দাড়ালাম কিন্তু গেইট এ বেশ পুড়ানো আমলের বড় এক লোহার তালা লাগানো!

রিদয় আমার পাশে এসে দাড়ালো,রিদয়ের চোখে ভয় স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে গেট ভাঙ্গার জন্য যখন ধাক্কা দিলাম ঠিক সেই মুহুর্তে কে জানো রুমের ভেতর থেকে মেয়েলি কন্ঠে কথা বলে উঠলো! আমি থমকে দাড়ালাম। আমি কি ভুল শুনেছি?

>রিদয়?কে জানো কথা বলছে ভিতর ত্থেকে!

>হ্যা আমি শুনতে পেয়েছি! মেয়ের কন্ঠ একটা!

>তারমানে ক্রিমিনাল একটা মেয়ে?

>না অর্নব! এটা অন্য কিছু! প্লিজ চল!

>উফফ রাখ তোর আজগুবি কথা রিদয়! বেশ পুরানো কাঠের দরজা হওয়াতে আরো কিছু ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে ভেঙ্গে পরলো!

আমি আর রিদয় রুমে দাড়িয়ে আছি! দুজন শুধু দুজনের দিকে বার বার তাকাচ্ছি! এবার আমার মনেও কেমন এক ভয়ের অনুভুতি হচ্ছে! এর যথেষ্ট কারন ও আচ্ছে!

রুমে কোন কিচ্ছু নেই পুরো ফাকা একটা রুম! অন্য সব রুমের মত এই রুমে কোন জানালাও নেই!

তাহলে ভেতর থেকে কে ক্তহা বললো? আমি কী ভুল শুনলাম.? নাহ আমি একা ভুল শুনতে পারি কিন্তু রিদয় ও তো শুনেছে! রিদয় আমাকে টেনে নিচে নিয়ে গেলো! বাড়ি থেকে বের হব ঠিক তখনি একটা গাড়ির হেডলাইটের আলো দেখলাম! এই বাড়িতেই গাড়ি টা ঢুকছে!

আমরা এখানে দাড়িয়েই অপেক্ষা করছিলাম! ৪ টা লোক গাড়ি থেকে বের হল! আমরাও বের হলাম বাড়ী থেকে লোক গুলো আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে! আমার কাধে সেই ব্যাগ টা ঝুলানো!

তারা নিজেদের মধ্যে কি জানো বলাবলি করছে!

একটা লোক আমার কাছে আসছে আমিও দাঁড়িয়ে গেলাম। ওদিকে রিদয় বাইক স্টার্ট দিয়েছে!

>আপনি ব্যাগ টা কোথায় পেয়েছেোন? (অপরিচিত লোক)

>যেখান থেকেই পাই আপনাকে বলবো ক্যান?

>এই বাড়ী থেকে পেয়েছেন?

>হুম।

>ব্যাগ টা আমার! এখানে অনেক জরুরী জিনিস আছে!

>আমি দিব না!

বাকি ৩ জন আমার দিকে সর্ট গান তাক করে দাঁড়িয়ে আছে!

কি করবো আমি?

ব্যাগ কি আমি দিয়ে দিব?

হঠাৎ করে রিদয় বাইক নিয়ে এখানে চলে আসলো! হঠাৎ এমন ঘটনায় সবাই চমকে গিয়েছে!

এই সুযোগ!

আমি বাইকে ঊঠে বসতেই রিদয় বাইক ছুটালো!

লোকগুলো তাদের গাড়ি স্টার্ট করে আমাদের পিছু করছে!

হাইওয়েতে বাইক ছুটিয়ে চলছে রিদয়! স্পিড ১০০ ছাড়িয়েছে!

ওদিকে অপরিচিত লোক গুলোও আমাদের পিছু করছে! হঠাৎ তারা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লো...

কিন্তু রিদয় বাইক চালাতে ওস্তাদ! সময় মতো বাইক ঘুড়িয়ে ফেলায় টার্গেট মিস হয়ে যায়! কোন মতে সে রাতে প্রান হাতে নিয়ে আমরা বাসায় ফিরে আসি! কিন্তু সেই গাড়ি টা আর আমাদের পিছে দেখতে পারিনি আমরা! বাসায় ফিরে আমাদের কাহিল অবস্থা দেখে তাহমিদ আর রনি অবাক!

রনি> কিরে তোদের কি হইছে?

রিদয়> কি হয়নি তাই বল!

তাহমিদ> ঘটনা খুলে না বললে কি ভাবে বুঝবো?

রিদয় ওদের সব কিছু খুলে বলছে! আমার মাথা পুরো জ্যাম হয়ে আছে! নিকোটিনের অভাব বোধ করছি! একটা সিগারেট জ্বালিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি! আজ নাকি সুপার মুন দ্যাখা যাবে তাই চাদের দিকে তাকিয়ে আছি! পাশের রুম থেকে রিদয়ের কথা বার্তা শুনা যাচ্ছে! আজকের ব্যাপার টা আমাকে বেশ ভাবাচ্ছে! পাশে রুমে কে ছিলো?আর কেউ থেকে থাকলে পালালো কীভাবে? সত্যিই কী তাহলে...

রিদয়>অর্নব? ওই অর্নবইব্বা!! এদিক আয়! দাড়া আসছি।

সিগারেট ফেলে ওদের কাছে যেয়ে বসলাম!

রিদয় আমাকে জিজ্ঞাস করলো, ব্যাগ টা কই?

আমার রুমে,তাহমিদ একটু এনে দে তো!

তাহমিদ যেয়ে ব্যাগ আনলো!

ব্যাগ খুলে যা পেলাম তাতে অবাক না হইয়ে পারলাম না! ৪ টা নাইন এম এম! আর প্রায় ৬ টা ব্যাগ ভর্তি কোকেন যার মুল্যা প্রায় ৮০ লাখ টাকা!

আমাদের কারো মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না!

সবাই চোখা চোখি করলাম যার ভাষা এমন যে যার কাজে লেগে যাও এটা নিয়ে ঘাটা ঘাটির দরকার নেই! কিন্তু লক্ষ করলাম তাহমিদ অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে আছে কোকেনের দিকে!

কেউ আজ আর আমার বাসা থেকে যায়নি!

যে যার মতো খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে পরলাম। বেশ ক্লান্ত থাকায় চোখ বন্ধ করার সাথে সাথে ঘুমিয়ে পরলাম!

রাত ২ টা বেজে ১৩ মিনিট! রিদয় কোন ভাবেই ঘুমাতে পারছে না! রিদয় ঠিক বুঝতে পারছে আমরা বাদেও কেউ আমাদের এখানে আছে! রিদয়ের সিক্সথ সেন্স বেশ ভালো! প্যারানরমাল ব্যাপার নিয়ে রিদয়ের বেশ গবেষনা! ও ঠিক অনুভব করছে দ্বিতীয় কারো অস্তিত্ব! রিদয় আস্তে করে উঠে বসলো! কে জানো আমাদের মেইন গেইট নারাচ্ছে! রিদয় আস্তে আস্তে গাটের কাছে যাচ্ছে ঠিক তখনি রিদয় স্পষ্ট দেখলো দরজা খুলে কে জানো ভিতরে আসলো! কিন্তু এটা কী করে সম্ভব? দরজা তো ভেতর থেকে লাগানো! বাইরে থেকে খুলে ভিতরে আসা অসম্ভব! রিদয় এসব ব্যাপারে কখন কী করতে হয় বেশ ভালো ভাবেই জানে! চুপ চাপ রুমে এসে শুয়ে পরলো! ভাবছে সবাইকে বলবে কিনা! কিন্তু অর্নব যেই ছেলে ভুত প্রেতে ওর বিশ্বাস একদম ই নেই! বললে উলটো আমাকেই কথা শুনিয়ে দিবে! তার থেকে ভালো দি প্রমান করতে পারে! এসব ভাবতে ভাবতে রিদয় ঘুমিয়ে পরলো!

সকাল সকাল ঘুম ভেঙ্গে গেলো আমার। কারন আমাদের বাসায় বেশ চিল্লা চিল্লি করছে রনি আর রিদয়! মনে হচ্ছে ওদের ভিতর ঝামেলা হয়েছে! রনি যেই ছেলে রেগে গেলে মারামারি বাধিয়ে দেয়! আর রিদয় ও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র না! তারাতারি বিছানা থেকে উঠে পাশের রুমে গেলাম!যেয়ে যা দেখলাম তাতে মনে হলো কিছুক্ষনের জন্য পুরো পৃথিবীর সময় থেমে গেছে! টেবিলে তারাতারি তাহমিদের পাশে যেয়ে দাড়ালাম! তাহমিদ সোফায় বেহুশের মত পড়ে আছে!

তাহমিদ! এই তাহমিদ কি হইছে তোর? কথা বল?

তাহমিদের চোখের দিকে তাকিয়ে আমি ভড়কে গেলাম! চোখ রক্তের মত লাল! কোন কথা ই বলছে না তাহমিদ! ঐ তোরা তো বল কি হইছে ওর? রিদয় শুধু ইশারা দিলো আমাকে টেবিলের দিকে! টেবিলে পরে আছে খোলা একটা কোকেনের প্যাকেট! তারমানে????? কিরে রনি ও কোকেন...

হ্যা ও কোকেন ব্যাবহার করেছে!

আমার মাথা হঠাৎ করে চড়ে গেলো!

তাহমিদ কে টেনে উঠিয়ে কত গুলো থাপ্পর দিলাম!

রিদয় আর রনি আমাকে ঠেকালো কোন মতে!

রিদয়> আরে কী করছিস তুই? পাগল হইয়ে গেছিস? এমনিতেই ওর অবস্থা খারাপ! তার মধ্যে মারামারি!!

চোখের সামনে থেকে নিয়ে যা এই নেশাখোর কে!

নিজের রুমে দড়জা লাগিয়ে বসে আছি!

তাহমিদ এমন ক্যান করলো? ভালো লাগছে না কিছু! ওরে মারা টা ঠিক হয় নাই আমার! খুব খারাপ লাগছে! তাহমিদের কাছে আমার মাফ চাওয়া উচিত! উঠে দাড়ালাম ঠিক তখনি দড়জায় টোকা পরলো! দড়জা খুলতেই দেখলাম তাহমিদ রনি দাঁড়িয়ে আছে! আমি তাহমিদ কে জড়িয়ে ধরলাম! ওর কাছে মাফ চাবো তখনি তাহমিদ বললো, দোস্ত মাফ চাওয়ার কিছু নাই! ভুল টা আমি ই করেছি আমার এমন করা উচিত হয়নি!

সরি রে দোস্ত তুই এমন একটা কাজ করবি আমি ভাবতেও পারিনি রে,মাথা গরম হয়ে গিয়েছিলো তাই আর কি...

বাদ দে দোস্ত! চল কাজে লেগে পরি!

আচ্ছা মামু রিদয় কই?

ও তো কি জানো কিনতে গেছে! (রনি)

বলে যায়নি?

না রে (রনি)

ওর এভাবে রিস্ক নিয়ে একা বের হওয়া উচিত হয়নি! আমাদের পিছে ওরা লেগে আছে!

হুম তো এখন কি করা যায়?

তার আগে বল তোদের কি ঝুমের সাথে কথা হয়েছে?

নারে তা তো হয়নি! ওরা বাসায় ছিলো না! আগে ক্যান বলিস নি?

বলার সুযোগ ই পেলাম না তাই আর কি... বেল বাজছে! মনে হয় রিদয় এসে পরেছে!

যা ভেবে ছিলাম! রিদয় ই এসেছে! কিন্তু ওর হাতে সিসি ক্যামেরা!

কিরে সিসি ক্যামেরা দিয়ে কি করবি?

ভুত ধরবো (রিদয়)

উফফ ফাজলামি বাদ দে...

হুম আসলে আমাদের সেফটির জন্যা আর কি আনলাম!

আচ্ছা তুই সেটাপ করার ব্যাবস্থা কর!

আচ্ছা!

রিদয় ঘটনা শুনেছিস? ওদের নাকি কাল ঝুমের সাথে কথা হয়নি!

মানে কী?

হ্যা! আমাদের অতি দ্রুত মুভ করতে হবে! হুম চল সবাই!

সবাই ঝুমের বাসায় বসে আছি!

ঝুমের আম্মুকে সব খুলে বললাম! কিন্তু সে কথা হেসে উড়িয়ে দিলো! ঝুমের মধ্যে নাকি কোন ধরনের পরিবর্ত্ন ই নেই!

আচ্ছা আন্টি ঝুম এখন কোথায়? (তাহমিদ)

বাবা ও তো কলেজে গেছে!

কোন কলেজ? (রিদয়)

কলেজের নাম শুনেই আমরা আর বিন্দু মাত্র অপেক্ষা না করেই রওনা দিলাম! আজ সবাই বাইক নিয়ে বের হয়েছি! কারন হাতে সময় নেই! ঝুম কে বাচাতেই হবে আমাদের... কলেজে যেয়ে খোজ নিয়ে জানলাম আজ নাকি ঝুম কে কেউ কলেজেই দেখে নি! তাহলে মেয়েটা গেলো কোথায়?

রিদয়?

বল অর্নব!!

তোরা এক্ষুনি ৪৭/২ এ রওনা দে... তুই যাবি না?

আমি যাবো,তবে বাসায় যেতে হবে আমার কাজ আছে।আমি কাজ সেরেই আসছি! আচ্ছা যা তাহলে!

ওরা ৩ জন রওনা দিলো!

বাসায় ফিরে কাজ সেরে আবারো ৪৭/২ এর দিকে বাইক ছুটালাম! ওখানে যেয়েই রনি কে কল দিলাম!

কই তোরা? (আমি)

আমরা ২য় তলায় খুজছি!

আচ্ছা আমি আসছি দাড়া!

দোতালায় উঠেই সবাইকে পেয়ে গেলাম!

ওই রিদয়!

ঝুমের খোজ পেয়েছিস?

না রে! এখনো অন্য রুম গুলো বাকি আছে খুজা!

তাহলে শুরু করা যাক! প্রত্যেক টা রুম সার্চ করবো! আমরা!

প্রত্যেক টা সার্চ করার দরাকার নেই! কোন রুমে আছে আমি এখন বুঝতে পারছি!

কোন রুমে?

সেই খালি রুমটায়!

আমরা খালি রুমে যাচ্ছি! কিন্তু বেশ ভারি নিশ্বাসের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে!

রিদয় রনি আর তাহমিদ আগে আমি পিছে দাড়িয়ে আছি! রুমের সামনে যেতেই দেখলাম ঠিক রুমের মাঝে একটা মেয়ে বসে আছে! মেয়েটা ঝুম কিনা তা বুঝা যাচ্ছে না! তবে ওর পিছেই ছায়ার মত কে যানো দাঁড়িয়ে আছে!! সবাই রনি আর তাহমিদ রুমের ভিতর ঢুকতে গেলে রিদয় ওদের বাধা দেয়!

ঠিক তখনি পকেট থেকে সর্ট গান টা বের করে সেই অবয়ব টাকে লক্ষ করে গুলি করলাম! কিন্তু আস্তে করে জানো সেই অবয়বটা উধাও হইয়ে গেলো..

আমরা সবাই স্তব্দ! মেয়েটার পিছে যে ছিলো সে গেলো টা কোথায়? পালিয়ে যাওয়ার তো কোন উপায় ই নেই! তাহলে কি সত্যি ওটা অন্য কিছু ছিলো? দ্বিতীয় জগতের কিছু?ঃ এর ই মধ্যে রিদয়,রনি আর তাহমিদ মেয়েটার কাছে গিয়েছে! কিন্তু রদয় মেয়েটার কাছে যেতে দিচ্ছে না! নিজের পকেট থেকে কি জানো একটা বের করে মেয়েটার হাতে চেপে ধরলো সাথে সাথে মেয়েটা চিৎকার করে উঠলো! আমি এবার মেয়েটার পাশে যেয়ে দাড়ালাম! ফ্ল্যাশ অন করে মেয়েটার মুখের দিকে তাকাতেই বুঝতে পারলাম এটাই ঝুম!

আত্মা টা পারে নি ওর কোন ক্ষতি করতে (রিদয়)

আত্মা? (তাহমিদ)

মানে কি!!!! (রনি)

আমরা ঠিক সময়ে এসে গেছি! নাহলে ঝুম কে মেরেই ফেলতো! (রিদয়)

তুই কি এখন আমাকে বিশ্বাস করতে বলছিস যে একটা আত্মা দাঁড়িয়ে ছিলো? (আমি)

রিদয় আমার দিকে এমন ভাবে তাকালো যার ভাষা বুঝতে আর আমার সমস্যা হলো না!

আচ্ছা বাদ দে তোরা আমদের এখান থেকে এখন ই বের হতে হবে (রনি)

ঝুম? (আমি)

ঝুম তুমি কথা শুনতে পারছো?

হটাৎ করেই ঝুম দাঁড়িয়ে রিদয়ের হাত ধরে কান্না শুরু করে।

ভাইয়া আমাকে বাচান,নাহলে আমাকে ও মেরে ফেলবে!

তোমার কিচ্ছু হবে না ঝুম! আমরা আছি তো! (রিদয়)

কিন্তু ঝুম এর কান্না আর ভয় কোনটাই কমাতে পারলাম না আমরা! ভয়ে ঝুম সেন্সলেস হয়ে গেছে!

আমরা ঝুম কে ৪৭/২ থেকে বের করে আনলাম,ইতিমধ্যে তাহমিদ হাসপাতালে কল দিয়েছে! এম্বুলেন্স কিছুক্ষনের মধ্যেই এসে পরলো! ঝুমের সাথে তাহমিদ কে পাঠিয়ে দিলাম হাসপাতালে!

সবাই বেশ ক্লান্ত ছিলাম! কোন মতে লাঞ্চ করেই হাসপাতালের উদ্দেশ্যে ছুটলাম আমি রনি আর রিদয়!

ঝুমের জ্ঞান ফিরেছে! কেবিনে দেওয়া হয়েছে ওকে! কেবিনে যেতেই দেখলাম ঝুমের বাবা,আম্মু রনি আর ASP আদিত্ত রায় দাঁড়িয়ে আছে!

আমাকে দেখে ASP আদিত্ত রায় ডাকলো অর্নব?

জ্বি বলুন?

ক্রিমিনাল কে কি আপনি দেখেছেন?

দেখেছি,কিন্তু অন্ধকার থাকায় পরিষ্কার দেখতে পাইনি!

হুম খুব বাচা বাচিয়েছেন আপনারা সময় মতো না গেলে হয়তো ঝুম কে আর জীবিত পাওয়া যেতো না! থ্যাঙ্কস!

......(আমি)

আচ্ছা ক্রিমিনালের ব্যাপারে কিছু জানা গেছে?

না তেমন কিছু না তবে একটা ব্যাগ পাওয়া গেছে কোকেন আর নাইন এমএম সহ! ওগুলো থানায় হ্যান্ড ওভার করে দিয়েন প্লিজ!

হুম...

আচ্ছা খুনি ক্যান এমন করতেছে কিছু বুঝতে পারছেন আপনি?

নাহ সিওর না!

ওদের বড় কো টার্গেট আছে নাকি?

হতে পারে,তবে এই ছেলে মেয়ে গুলোর ক্ষতি অন্যকেউ করেছে!!

মানে?

নাহ কিছু না...

আর কিছু না বলে আমরা চলে আসছিলাম তখনি ঝুমের বাবা আমাকে জরিয়ে ধরে কান্না ধুরু করে দিলেন।

বাবা তোমারা না থাকলে আজ আমার মেয়েটা আর থাকতো না!

আংকেল নিজেকে কন্ট্রল করুন! আর ঝুম কে কোণ ভাবেই একা রাখবেন না!ঝমের ক্ষতি কোন মানুষ করেনি!

তাহলে? মানে কি? কি বলছো!!!!

আমরা ওখান থেকে চলে আসলাম সবাই।বাসায় বসে ব্লাক কফি খাচ্ছি সবাই!

দোস্ত? (রিদয়)

হুম?

এখানে এখন দুটা কেইস! একটা ক্রাইম আর একটা...

তুই আমাকে বিশ্বাস করতে বলছিস যে ভুত এসব করেছে?

আর বিশ্বাস না করেও উপায় নেই কারন সত্যি ই তো ওই রুম টায় মানুষ ছিলো না! কি এমন থাকতে পারে বল তো! ক্যান এত রহস্য! কি চায় ক্রিমিনাল গুলো?

আচ্ছা ব্যাগ টা ভালো মতো দেখেছিস?

হ্যা দেখেছি! (তাহমিদ)

রনি তুই ব্যাগ টা আবার ভালো মতো সার্চ কর!

রনি ব্যাগ সার্চ করতে পাশের রুমে গেলো।আম্রা ৩ জন থ হইয়ে আছি! কারন বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে যে এখনো আত্মা আছে,ভুতের অস্তিত্ব আছে।

আমি একটু বাইরে যাচ্ছি! তোরা থাক! (রিদয়)

কই যাবি তুই?

কাজ আছে ...

আচ্ছা যা...

এর মধ্যেই রনি আসলো!

দোস্ত দেখ ব্যাগে কি পেয়েছি (রনি)

রিদয় থমকে দাড়ালো!

কি পেয়েছিস?

পেপার টা পড়!

পেপার টা পরে দেখলাম কোকেন ডিলিং এর! তারমানে আরো কোথাও কোকেন রাখা হয়েছে! ডিলের জায়গার নাম ও দেওয়া! ডীলের পেপার অনুযায়ী কাল ৭ টায় এক ট্রাকে করে কোকেন ডিল হবে!

তাহমিদ তুই আদিত্ত রয় কে কল দিয়ে এখনি বল প্রত্যেক টা রোড এ চেইক পোষ্ট বসাতে!

ঠিকাছে!(তাহমিদ)

রিদয় বাইরে থেকে প্রায় ঘন্টাখানেক পরে আসলো! হাতে ব্যাগে কি কি জানো! সোজা ও ব্যাগ টা আলমারিতে রেখে তালা মেরে দিলো আমরা ভাবলাম ওর পারসোনাল কিছু তাই আর কিছু জিজ্ঞাস করলাম না!!

খাওয়া শেষে রিদয় আমাদের সবাই কে ডাকছে!

ডাকছিস ক্যান? (রনি)

তোদের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখাবো!

ধুর ঘুমামু! (আমি)

আরে দ্যাখ...

রিদয় প্লে করলো......

আধার আলো...দড়জার ফ্রন্ট সাইড... কিছুই হচ্ছে না ঠীক ১.২৭ সেকেন্ডে কি জানো গেটের ভিতর থেকে ঢুকে গেলো!

রিদয় থামা ১.২৭ এ থামা!

আমরা সবাই থ হয়ে আছি! নিজের চোখে দেখলাম যে অন্য জগতের কিছু্‌,দড়জা ভেদ করে ঢুকলো!বিশ্বাস হচ্ছে না কিচ্ছু ভয়ে আমরা ঘেমে গেছি!

এর ই মধ্যে আদিত্ত রায় এর কল আসলো হ্যালো?

হু অর্নব,একটু কথা ছিলো!

জ্বি বলুন ভাই!

আমরা চেইক পোষ্ট বসিয়েছি! আমার লোক তোমার বাসার নিচে আছে ডিলিং পেপার এর একটা কপি ওর কাছে দিয়ে দাও!

আচ্ছা ঠিকাছে!

তাহমিদ?

হু?

এই পেপার নিয়ে যা,দেখ আদিত্ত রায় এর লোক দাঁড়িয়ে আছে নিচে,তুই অরিজিনাল কপি টা রেখে দিবি আর একটা কপি তাকে দিয়ে দিস!

মানে...আমাকেই যেতে হবে? (তাহমিদ) এত্ত ভয় পেলে হবে না! যা এখন!

তাহমিদ চলে গেলো!

আমরা সবাই ভাবছি কী করবো! যা দেখলাম ফুটেজ এ তা এখগ্নো বিশ্বাস করতে পারছি না!

দোস্ত?(রিদয়)

হুম...

আমাদের ঝুম কে বাচাতে হবে! কারন যেই এ কাজ করুক না ক্যানো ঝুম কে আবারো এট্যাক করবে...

আচ্ছা ঠিকাছে দেখা যাবে...

আমরা সবাই ডিনার করছিলাম এর মধ্যেই আমাদের গেইট ই প্রচুর জোড়ে বারি পরলো! মনে হচ্ছে গেট ভেঙ্গে ফেলবে!

সবাই সবার দিকে তাকিয়ে আছি... কে হতে পারে? ক্রিমিনালদের মধ্যে কেউ?

সবাই সতর্ক হয়ে গেলাম,দরজা রীতিমতো ভাঙ্গার মত অবস্থা। সর্ট গান টা বের করে দরজার দিকে গেলাম পিছে রনি আর রদয়! আমি পিছে সরে গেলাম আর রিদয় গেট খুলে দিলো! দেখলাম তাহমিদ দাঁড়িয়ে আছে! আমরা পুরো বোকাবনে গেলাম! . তাহমিদ ঠিক জেনো রবোটের মত ঘরে ঢুকলো! রনি রেগে চিৎকার করে বললো কিরে তাহমিদ সবাই কে ভয় দেখালি ক্যান? এটা কী মজা করার সময়?

তাহমিদ চুপ করে আছে! চোখে পলক না ফেলে তাকিয়ে আছে! আমরা আর কিছু বললাম না! তাহমিদ কে খাবারের টেবিলে ডাকলাম! আমাদের খাওয়া প্রায় শেষ দিকে! কিন্তু তাহমিদের খাওয়া দেখে আমরা অবাক! আমাদের ৪ জনের খাবার পরিমান ও একাই খেয়ে ফেলেছে! ভাবলাম হয়তো ওর ক্ষুদা পেয়েছে! শুধু রিদয় কে দেখলাম ছটফট করছে!

গভীর ঘুমে ছিলাম! বেশ ক্লান্ত থাকায় তারাতারি ঘুমিয়ে পরেছিলাম আমরা! কিন্তু রিদয় এর ধাক্কায় ঘুম ভেঙ্গে গেছে! এক কোনায় তাহমিদ ছুড়ি হাতে দাড়িয়ে আছে! চোখ টকটকে লাল! রিদয় আমার হাতে একটা সুতার মতো পড়িয়ে দিলো! তাহমিদ আমাদের দিকে আসতে নিয়েও অন্যকিছুর শক্তির কারনে ছিটকে যাচ্ছে!

রিদয় কালো টাইপের একটা বোতল থেকে পানি বের করে তাহমিদের দিকে ছুড়ে দিতেই তাহমিদ চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারালো!

আমার আর বুঝতে বাকি নেই কি হয়েছে! এর মধ্যে রনিও এসে পরেছে পরিস্থিতি সামলানোর জন্য আমারা তাহমিদ কে বেডে শুইয়ে দিলাম!

ওই অশরীরি তাহমিদ কে আছড় করেছিলো! (রিদয়)

হুম বুঝতে পারছি(রনি)

...... (আমি)

এখন তাহমিদের কি আরো ক্ষতি হবে? (রনি)

না আর কিছু হবে না! ওর সাথে আমি পবিত্র সুতা বেধে দিয়েছি!

বাকি রাত টা আমরা জেগেই কাটালাম! ৬ টার দিকে তাহমিদের ঘুম ভাংলো ! তখন আমরা কফি খাচ্ছি! তাহমিদ আমাদের কাছে এসে বসলো!

দোস্ত শরীর ব্যাথা করতেছে অনেক!(তাহমিদ)

করবেই তী রাতে তো গিয়েছিলো অর্নব কে খুন করতে!যেই ধস্তা ধস্তি হয়েছে রদয়ের সাথে! (রনি)

মানে কী? ( তাহমিদ)

রিদয় সব খুলে বললো তাহমিদ কে!

তাহমিদের নাকি শরীর ভালো লাগছে না! ব্যাপার টা ঠিক ও মেনেও নিতে পারছে না! হঠাৎ তাহমিদ জ্ঞান হারালো! শরীরে হাত দিয়ে দেখলাম বেশ জ্বর! রনি হাসপাতালে কল দেওয়ার সাথে সাথে এম্বুলেন্স আসলো!

তাহমিদ কে হাসপাতালে ভর্তি করে আমরা চলে গেলাম স্পটে! যেখানে পাচার হবে কোকেন সহ অস্ত্র!

আমি রনি রদয়! সাথে ASP আদিত্ত রায়! আর তার ফোর্স! আমি আর রনি রিদয় দূরে গাড়ী নিয়ে বসে আছি! ৩ টা রাস্তা ৩ টা তেই চেকপোষ্ট!

৭ টা বেজে গেছে আদিত্ত রায় তার ফোর্স নিয়ে রেডি!

লাল কালারের এক মালবাহী ট্রাক এদিকে আসছে! সাথে সাথে ফায়ার করলো! ট্রাক ড্রাইভার ভয়ে ট্রাক থামিয়ে নেমে গেলো! এর ট্রাক ড্রাইভারের হেল্পারের গায়ে গুলে লেগেছে বেশ হইচই! এরমধ্যে ট্রাক সার্চ করা শুরু হলো! পাশ থেকেই একটা মাইক্রোবাস ক্রস করলো! ট্রাক নিয়ে হইচইয়ের জন্য কেউ মাইক্রোবাস কে আটকায়নি!

হঠাৎ আমি গাড়ী ফুল স্পিডে ছুটালাম! ওরা আমাদের থেকেও ভালো চাল দিয়েছে! কিন্তু আমাদের থেকে বেশী বুদ্ধি খাটাতে পারবে না! খালি ট্রাক পাঠিয়ে আমাদের বোকা বানাতে চেয়েছিলো! মাইক্রোবাসেই আছে কোকেন আর অস্ত্র! পিছু করছিলাম আমি আর রনি! বার বার ওভার টেক করছিলাম! কিন্তু কাজ হচ্ছে না! উল্টো দিক থেকে রদয় গাড়ি নিয়ে পাচারকারীর গাড়ীর পথ আটকালো! রিদয় গাড়ীতেই বসে আছে আমি আর রনি পিছনের গাড়িতে মাঝে সেই পাচারকারীদের গাড়ী! হঠাৎ ওরা গুলি ছুড়া শুরু করলো! ৬ জন নেমে আমাদের দিকে অবিরত গুলি ছুড়ছে! আমি নেমে সর্ট গান বের করে ফায়াড় করলাম! একজনের হাত থেকে গুলি পড়ে গেলো! এর মধ্যেই আদিত্ত রায় আর আর তার টিম এসে গেছে!

আদিত্ত রায় আর তার ফোর্স সবাই কে এরেস্ট করলো! রিদয় ঠিক সময় মত না আসলে কি হতো সেটা জানতাম না! আমরা সবাই বের হলাম! রিদয় আমি আর রনি দাঁড়িয়ে আছি!

আপনারা আমার সাথে একটু থানায় যাবে প্লিজ! (আদিত্ত রয়)

জ্বি আপনি যান! আমাদের একটু কাজ আছে! (আমি)

আমরা বাসায় ফিরলাম! ভাবছি আজ প্রথম আমরা কোন কেস সল্ভ করার পথে! কিন্তু ওরা তো খুনের সাথে জড়িত না! খুনের সাথে জড়িত অন্যজগতের কিছু!

রনি?

হুম বল (রনি)

আমরা কীভবে তাদের বিশ্বাস করাবো যে খুনের সাথে অন্যকিছু জড়িত?

ওটা আমার উপর ছেড়ে দে অর্নব! চল থানায় যেতে হবে! (রিদয়)

হুম চল(আমি)

ব্যাগ টা নিয়ে নে (রনি)

ওহ হ্যা দাড়া নিয়ে আসি!(আমি)

আমরা এখন থানায়! সামনে আদিত্ত রায় বসে আছে!

আচ্ছা এখন এই ব্যাগ টা রাখুন! কোকেন আর কিছু নাইন এমএম আছে! (আমি)

আপনারা না থাকলে আজ আমাদের কি যে হতো... (আদিত্ত রায়)

...... (আমি)

আপনারা খুনিদের যে শুধু খুজে বের করেছেন তা না সাথে বড় একটা চক্র কেও ধরিয়ে দিয়েছেন! (আদিত্ত রায়)

খুনের সাথে ওরা জড়িত না! ( আমি)

মানে? তাহলে কারা জড়িত? (আদিত্ত রায়)

আসলে ব্যাপার টা অনেক কমপ্লিকেটেড! (আমি)

তাহলে ওরা খুনি না?

না,শুনুন আহসানের বাসায় আমরা গিয়েছিলাম! ওর বাবা আমাদের সাথে শুধু শুধুই খারাপ ব্যাবহার করেছে! আসলে ঘটনা ছিলো ওরা ৪৭/২ এ গিয়েছিলো ঠিক ই! কিন্তু ওখানে ওই বড় গ্যাং বাড়িটা বেছে নেয়!কারন সবাই জানে ওটা ভুতের বাড়ী! ওদের ডিলিং এর টাইমে ছেলে মেয়ে গুলো ওখানে ক্যাম্প করে! আর ওদের দেখে একমাত্র আহনাফ! তাই আহনাফ কে ওরা ওনেক টাকা দেয়! আহনাফ ও চুপ হয়ে যায় টাকা পেয়ে! ওরা ওখান থেকে বাড়ি ফিরার পর আহনাফ তার বাবাকে সব কিছু জানায়! টাকার অংক টা একটু বেশীই বড় তাই ওর বাবাও চুপ করে যায়! আমরা যখন ওদের বাসায় যাই ওর বাবা ভয় পেয়ে যায়!

এতটুকু বলে আমি থামলাম!

ওর বাবা ভয় ক্যান পেলো?? (আদিত্ত) কারন খুনের সাথে ওই গ্যাং জড়িত ছিলো না! কিন্তু গ্যাং মেম্বারস রা যখন খুন না করেও দেখলো ফেসে যাচ্ছে তখন আহনাফের বাবা কে ভয় দেখায় ওরা! হুমকি দেয়! তাই ওর বাবা আমদের সাতেহ এমন করেছিলো! (আমি)

কিন্তু আপনারা এগুলো জানলেন কীভাবে? (আদিত্ত)

তাহমিদ হাসপাতালে থাকলেও ও বসে থাকে নি! বাকি কাজ টা ও ই সেরেছে! তাহমিদ ও আসছে! এখানে! কিছুক্ষনের মধ্যে এসে পরবে!

কিন্তু খুন কারা করলো?(আদিত্ত)

রিদয় একটা পেন ড্রাইভ আদিত্ত রায়ের কাছে দিলো!

আপনি ভিডিও ফুটেজ গুলো দেখবেন আর আপনাকে কল দিলে সাথে এসে পরবেন প্লিজ! আমরা এখন উঠি ঝুম মেয়ে টাকে বাচাতে হবে!

আমরা ওখান থেকে চলে আসলাম!

যেভাবেই হোক ঝুম কে বাচাতে হবে! আমরা ঝুমের বাসায় গেলাম! রিদয় ক্যান আমাদের ওদের বাসায় নিয়ে আসলো এখনো জানি না!

এখানে কি করবি তুই? (আমি)

প্লানচেট (রিদয়)

কীহ পাগল তুই? (আমি)

ঝুমকে বাচাতে হলে ওই আত্মা কে ডাকতে হবে,কী চায় সেটা জানতে হবে! (রিদয়)

কিন্তু প্লানচেট কীভাবে কি করতে হয় আমরা কিছুই জানি না! (রনি)

তোদের জানা লাগবে না, দ্যা গ্রেট প্যারানরমাল রিসার্চার আসাদুর রহমান শিপন ওরফে প্রেতাত্তা কে আমি আসতে বলেছি! কিছুক্ষন বস ঝুমের মা কে খুলে বলতে হবে আগে সব কিছু! আর আদিত্ত রায় কে কল করে আসতে বল!

শিপন ওরফে প্রেতাত্তা এসে পরেছে! ঝুমের মাকের বুঝানো হয়েছে সব!আদিত্ত রায় আমার সাথে দাড়িয়ে আছে!

প্রেতাত্তা রিদয় আর তাদের দুজন ফ্রেন্ড প্ল্যানচেট এর আসরে বসে গেছে! আমাদের নিষেধ করেছে যা কিছুই হয়ে যাক আমরা যাতে আতংকিত না হই!

কি সব বিরবির করছে প্রেতাত্তা! তার কিছুক্ষন পরেই রিদয় কেমন কেপে উঠলো! ঘরের জানালা গুলো জানো ভাঙ্গার অবস্থা! রিদয়ের উপর সেই আত্মা ভর করেছে! শিপন>ক্যান তুমি সবাই কে খুন করলা? কাউকে ছারবো না আমি,ঝুমকেও মেরে ফেলবো! সাথে তোদের কেও!~!

শিপন>কী ভুল করেছে ওরা?

ওরা আমার ঘরে ঢুকে আমার সন্তান দের কবরে আগুন জালিয়েছে! আমি ছারবো না কাউকে!

শিপন>ওরা না বুঝে এটা করেছে! তুমিও তো কত গুলো মায়ের কোল খালি করেছো! ছেড়ে দেও ঝুম কে!

না আমি ছাড়বো না!

শিপন>অর্নব তুমি এই কালো বোতল থেকে পানি বের করে রিদয়ের শরীরে ছুড়ে দেও! আমি কোন মতে পানি রিদয়ের শরীরে পানি ছিটালাম সাথে সাথে প্রচন্ড চিৎকার করে উঠলো!

আমাকে ছেরে দে তোরা! আমি চলে যাবো! শিপন>তুই যদি ঝুমের কিছু করার চেষ্টা করিস তাহলে তোকে সারাজীবনের জন্য বন্ধি করে দেব!

হঠাৎ রিদয়ের মুখ থেকে ছলকে রক্ত পরলো! রুমে নিরাবতা বিরাজ করছে! শিপন ওরফে প্রেতাত্তা বললো এখন নাকি আর ভয় নেই! ঝুমকেও এখন একদম নরমাল লাগছে!

প্রেতাত্তার সাথে আমরা সবাই পরিচিত হলাম! আমাদের সাথে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করলাম! প্রেতাত্তা ভাই ও না করলো না!

তার আগে আমরা আদিত্ত রায়ের সাথে গেলাম থানায়! সাংবাদিকদের সা্থেকথা বলার জন্য!

ভোর বেলা আমরা সবাই কফি খাচ্ছি! আর প্রেতাত্তা ভাইয়ের ঘটনা শুনছি! রনি হঠাৎ চিৎকরে করলো!

কিরে কি হয়েছে!? (রিদয়)

খবরের কাগজ আমাদের দিকে বাড়িয়ে দিলো রনি! প্রথম পেইজে বড় হেডলাইন "৫ খুনের রহস্যের সমাধান করলো গোয়েন্দারা" সাথে আমার,রিদয়,রনি আর তাহমিদের ছবি!

আমরা সবাই বেশ খুশি ছিলাম!তবে আরো খুশি হলাম যখন নিউজ দেখলাম! বলা হয়েছে সরকার থেকে এই খুনের রহস্যের সমাধানের জন্য আমাদের সম্মাননা দেওয়া হবে!
সমাপ্ত
ভিজিটর আমাদের ব্লগে খুঁজে থাকে

রহস্য গল্প

ভালোবাসার গল্প

রোমান্টিক গল্প

প্রেমের কাহীনি

ভালবাসার গল্প

বাংলা গল্প

হরর ও ভৌতিক

ভালোবাসার কবিতা

ইবুক

বাংলা ইবুক
Ads:

COMMENTS

Name

অন্য বিষয়ের উপর লেখা ইবুক কবিতা গল্প/কবিতা লেখার প্রতিযোগিতা জীবনের সত্য ঘটনা থ্রিলার গল্প দেশের গল্প পিশাচ কাহিনী ভালোবাসার গল্প ভৌতিক গল্প রম্য গল্প রহস্য গল্প সায়েন্স ফিকশন হরর গল্প
false
ltr
item
Bengali pdf and story blog: অন্ধকারের যাত্রী - অর্নব শাহীন || রহস্য গল্প
অন্ধকারের যাত্রী - অর্নব শাহীন || রহস্য গল্প
https://2.bp.blogspot.com/-DUQdbL0Z_Jk/WnoRL7oI6WI/AAAAAAAAAkc/SQzyVz4LM7M2BBhPhGwIxCyETzN-4DlEQCLcBGAs/s320/1517949179868.jpg
https://2.bp.blogspot.com/-DUQdbL0Z_Jk/WnoRL7oI6WI/AAAAAAAAAkc/SQzyVz4LM7M2BBhPhGwIxCyETzN-4DlEQCLcBGAs/s72-c/1517949179868.jpg
Bengali pdf and story blog
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2018/02/blog-post_44.html
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2018/02/blog-post_44.html
true
7257552463787474279
UTF-8
Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy