স্বপ্নময়ী - লতামনি আক্তার রিয়া || ভালোবাসার গল্প

ফাইনালি ভালো একটা জব পেলো রাদিত, খুবই ভালো। ঠিক এই সময়ে এতো ভালো পজিশনে জব পাওয়াটা খুবই জরুরী ছিলো। নিতুকে বউ করে ঘরে উঠাবে বলে প্রতিশ্রু...



ফাইনালি ভালো একটা জব পেলো রাদিত, খুবই ভালো। ঠিক এই সময়ে এতো ভালো পজিশনে জব পাওয়াটা খুবই জরুরী ছিলো। নিতুকে বউ করে ঘরে উঠাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাদিত। নিতু যে অপেক্ষা করে আছে তার জন্য।

বাবা-মা আজ অনেক খুশি, ছেলে বড় চাকরি পেয়েছে বলে কথা। এতদিনে তাদের কষ্টের অবসান হলো। রাদিতের ভরসাতেই তাকিয়ে ছিলো পরিবার।

অফিস শেষে বিকেলে নিতুকে ফোন দিলো রাদিত, উদ্দেশ্য দেখা করা।

হ্যালো, হ্যাঁ রাদিত কি অবস্থা?

এই তো, তুমি কেমন আছো?

জানোই তো কেমন আছি।

হুম, আচ্ছা দেখা করতে পারবা আজ?

আজ? কখন?

এখনই, খুব দরকার।

আচ্ছা তুমি থাকো আমি আসছি।

ওকে ডিয়ার, আসো।

নিতু রেডি হয়ে রওয়ানা দেয় পার্কের উদ্দেশ্যে, গত ফেব্রুয়ারির ১৪তারিখে এই পার্কেই দেখা হয়েছিলো রাদিত আর নিতুর। প্রথম দেখায় রাদিতের ভালো লাগে নিতুকে। সেদিনই ডিরেক্টলি প্রপোজ করে বসেছিলো রাদিত। নিতু অবাক হয়েছিলো অনেক, হুট করে অপরিচিত একটা ছেলের থেকে এভাবে প্রপোজ কে বা এক্সপেক্ট করে?

সে যাই হোউক, এরপর থেকে নিতুকে ফলো করতো রাদিত, একসময় নিতুও রাজি হয়ে যায়। এরপর থেকেই রিলেশনের শুরু। দুজন দুজনকে খুব ভালো করেই বুঝতে পারে, আর তাই হয়তো প্রেম টা বিয়েতে গিয়ে গড়াবে।

a পার্কে এসে বসে আছে রাদিত, নিতুর অপেক্ষায়। হঠাৎই সামনে একটা মেয়েকে দেখে বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায় রাদিত।

জান্নাত তু তু তুমি?

হ্যাঁ আমি, তো আজ কার জন্য পার্কে?

না মানে এমনি এসেছি।?

ওহ, তুমি তো একটা প্রতারক।

তাই?

হুম।

সত্যি কি আমি প্রতারক?

তা নয়তো কি?

তুমি আজও বুঝলেনা জান্নাত।

বুঝতে আর বাকি নেই কিছু।

তো তুমি পার্কে কিভাবে? কিভাবে সম্ভব?

আমিনের সাথেই এসেছি, ওর দরকারি কাজে তাড়া ছিলো তাই চলে গেছে আগেই।

আমিনকে খুব ভালোবাসো তাইনা?

অবশ্যই, ওর মতো ভালো ছেলেকে ভালোবেসে মরণ ও গ্রহণ করা যায়। আসি, ভালো থেকো

রাদিতের চোখ দুটো ভিজে গেছে, গাল গড়িয়ে লোনাজল পড়ছে। আজ জান্নাতের কাছে রাদিত প্রতারক, শুধুমাত্র পরিবারের কথা ভাবতে গিয়ে।

নিতু প্রায় ১০মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছে রাদিতের পেছনে, বাচ্চামানুষের মতো কান্না করছে রাদিত।

-রাদিত কি হয়েছে তোমার?

-ওহ তুমি এসেছো, বসো এখানে।

-কি হয়েছে বলবে তো, কান্না করছিলে কেন?

-নিতু জান্নাতকে দেখেছি আজ, ও কথা বলেছে আমার সাথে।

-পাগল হয়ে গেছো? জান্নাতকে দেখেছো?

-হ্যাঁ নিতু আমি দেখেছি, কথা বলেছি। ও এসেছিলো, ওর বর ও এসেছিলো নাকি!

নিতু আর কিছু না বলে মিস্টার আমিনকে কল দিলো।

-কে বলছেন?

-নিতু শিকদার।

-ওহ আপনি? কেমন আছেন?

-জি ভালো, আমিন সাহেব আমি আপনার সাথে দেখা করতে চাই। সময় হবে আজ?

-আজকে? হ্যাঁ ঠিকাছে কোথায় আসবো বলুন।

-অমুক পার্কেই আসুন।

-ওখানে! আচ্ছা আসছি।

নিতু রাদিতের আচরণে অনেক অবাক হচ্ছে, আজ এতোদিন পর রাদিতের এমন কেন মনে হলো? কিছুদিন আগেও তো রাদিত জান্নাতের কবর জিয়ারত করে এলো। এখন কেনো ওর মনে হচ্ছে যে ও জান্নাতকে দেখেছে? নিতু চমকে উঠছে বারবার, রাদিতের ব্রেইন প্রব্লেম হলো নাকি আবার?

মিস্টার আমিন চলে এসেছেন, রাদিতকে দেখে একটু রেগে গেলেন। নিতু মিস্টার আমিনকে কুল হতে বলে সব ক্লিয়ার করে বলল। কিন্তু আমিন সাহেব কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না।

-দেখুন মিস নিতু, মৃত মানুষ কখনোই ফিরে আসতে পারেনা। আপনার বফ হয়তো পাগল হয়ে গেছেন, তাই এইসব আজগুবি কথা বলছেন।

-কিন্তু আমিন সাহেব, একটু আগেও রাদিত ঠিক ছিলো। আর রাদিত কখনোই সহজে কান্না করেনা।

-তো আপনি কি বলতে চাচ্ছেন? জান্নাত ফিরে এসেছে? নাকি জান্নাতের আত্মা উঠে এসেছে!!

-হতে পারে জান্নাতের আত্মাই এসেছে।

-আপনি এটা বলছেন মিস নিতু?

-হ্যাঁ, হতেও পারে।

-তাহলে আমাকে দেখা দিলোনা কেনো?

-আমি জানিনা, কিন্তু কেনো যেনো মনে হচ্ছে জান্নাত আছে। রাদিতের আশেপাশেই আছে।

-তো এখন কি করবেন?

-আচ্ছা মিস্টার আমিন, জান্নাতের মৃত্যুর কারণ টা জানতে পারি?

-রাদিত আপনাকে বলেনি?

-নাহ, শুধুমাত্র জান্নাতের সাথে কাটানো কিছু সময়ের কথা বলতো। আর এটা জানতাম যে জান্নাত মৃত।

-শুনুন তাহলে, প্রায় ২বছর হয়ে গেছে আজ। সেদিন বাবা-মা বিয়ের জন্য অনেক প্রেশার দিচ্ছিলো আমাকে। তাদের জন্য মেয়ে না দেখেই, কথা না বলেই বিয়েতে রাজি হয়ে যাই। আনুষ্ঠানিক ভাবেই বিয়ে সম্পন্ন হয় আমাদের। গাড়িতে যখন জান্নাতকে দেখলাম তখন জান্নাত কান্না করতে করতে অস্থির। আমি রুমাল দিয়ে জান্নাতের চোখের জল মুছে দিতে গেলে জান্নাত হাত দিয়ে সরিয়ে দিলো। আমি একটু ঘাবড়ে যাই, ভাবলাম আমি তো ওর অপরিচিত আছি এখনো। তারউপর ফ্যামিলি ছেড়ে এসেছে, এখন একটু এরকম ব্যবহার তো করবেই।

রাত তখন ১১:০০, জান্নাত বসে আছে আমার বিছানায়। আমি লাল গোলাপ হাতে জান্নাতের পাশে গিয়ে বসলাম, জান্নাত চুপচাপ কান্না করেই যাচ্ছে। আমি জান্নাতের দিকে ফুলগুলো এগিয়ে দিয়ে অপেক্ষা করছিলাম ও কখন নিবে। কিন্তু না, ১০মিনিট কেটে যাওয়ার পরও জান্নাত ফুলগুলো নিলো না।

এরপর আমি জান্নাতের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু জান্নাত একটা কথাও বললো না। জান্নাত নিজেই উঠে বারান্দায় গিয়ে বারান্দার দরজা বন্ধ করে দিলো।

আমি কিছুক্ষণ ডেকে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বারান্দার দরজা খোলা, রুমের দরজাও খোলা। বাহিরে এসে দেখি আমার ছোটো বোনের সাথে বসে আছে জান্নাত। বাসায় তখনও অনেক মেহমান ছিলো।

সারাদিন শত চেষ্টা করেও কথা বলতে পারি নি জান্নাতের সাথে। রাত্রিবেলা আবারো জান্নাতের সাথে কথা বলতে চাইলাম, কিন্তু জান্নাত যা বলেছিলো সেদিন......"!!!

-কি বলেছিলো?

-বলছি মিস নিতু, তবে প্লিজ রাদিত জেনো এসব না জানে।

-ঠিকাছে আপনি বলুন।

-সেই রাতে জান্নাত রাদিতের কথা বলে আমাকে। এরপর এটাও জানায় যে রাদিতের ফাইনাল এক্সাম শেষ হলে জান্নাত রাদিতকে অনুরোধ করবে পালিয়ে যাওয়ার জন্য।

তখন আমার কিছুই বলার বা করার ছিলো না, আমি জান্নাতকে বললাম পালিয়ে যেতে হবেনা। রাদিত যদি চাকরি পায় তো তোমরা আনুষ্ঠানিক ভাবেই বিয়ে করতে পারো। আমি বাধা দিবো না।

তখন জান্নাত বলল যে, কিন্তু সমস্যা হলো রাদিতের তো অতো টাকাপয়সা নেই। কিভাবে যে ও ফি দিবে? আমি ওরে আগেই বলেছিলাম পালিয়ে যাওয়ার জন্য, কিন্তু ও আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। কত নিষ্ঠুর ও, এতো সহজে আমকে ফিরিয়ে দিলো।

আমি তখন জান্নাতকে বললাম, তুমি চাইলে রাদিতের জন্য আমি টাকা দিবো। আমার জন্যই তো আজ তোমরা দূরে, আমার উচিৎ ছিলো তোমার সাথে কথা বলে নেওয়া।

জান্নাত সে রাতে আর কিছুই বলেনি আমায়, একপাশে শুয়ে ঘুমিয়ে গেছিলো।

পরদিন বিকেলের দিকে জান্নাতের বাড়ি আসি আমরা, এসেই জান্নাতকে আর খোঁজে পাচ্ছিনা। ভাবলাম হয়তো রাদিতের সাথে দেখা করতে গেছে।

সন্ধ্যার দিকে জান্নাত বাসায় আসে, জান্নাতের ভাবী জিজ্ঞেস করলে বলে যে বান্ধুবিদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলো। আমিও ভাবীকে গিয়ে বললাম, হুম জান্নাত তো আমাকে বলেই গিয়েছে।

রাতে খাওয়ার জন্য যখন দুজন রুম থেকে বের হবো তখন দেখলাম জান্নাত দাঁড়াতেই পারছেনা।

-কি হয়েছে জান্নাত, অসুস্থ

-তেমন কিছুই না, আপনি খেয়ে আসুন।

-খেয়ে আসবো মানে? তুমি খাবেনা?

-আমার ভালো লাগছেনা।

-ঠিকাছে তাহলে, আমিও খাবো না।

-বুঝার চেষ্টা করেন, ভালো লাগছেনা।

-বুঝলাম, আমারো ভালো লাগছেনা।

-দয়া করে খেয়ে আসুন, প্লিজ।

-ঠিকাছে।

খাওয়া শেষে ফোনে একটা কল আসলো।

-কে বলছেন?

-আমিন আমি সোহেল।

-ওহ, কেমন আছিস?

-ভালো, তুই?

-ভালো। দোস্ত......?

-হ্যাঁ বল।

-ভাবী.....।

-কি ভাবী?

-দোস্ত, ভাবী আজকে কেনো হাসপাতালে এসেছে?

-হাসপাতালে?

-হ্যাঁ, তুই জানিস না?.

-না তো। কেনো গিয়েছে

-আচ্ছা আমি জেনে তোকে জানাচ্ছি।

-ওকে, তাড়াতাড়ি জানা দোস্ত।

আমি তখন চিন্তায় অস্থির, জান্নাত কেনো যাবে হাসপাতাল? কোনো সমস্যা হলে তো কাউকে নিয়েই যেতে পারতো। কিন্তু কাউকে কিছু না বলে একা একা যাওয়ার কি মানে?

আবারো সোহেলের ফোন এলো

-হ্যাঁ দোস্ত কিছু জেনেছিস?

-আমিন? আমি তো বিশ্বাস করতে পারছিনা। ভাবী কেনো.....।

-আরে বল আগে, কি হয়েছে?

-কিডনি বিক্রি করেছে।

-কি? অসম্ভব, তোর কোথাও ভুল হচ্ছে। -নাহ, আমি ভুল জানি নি।

-দোস্ত পরে ফোন দিচ্ছি তোকে।

রুমে এসে দেখি জান্নাত কান্না করতেছে, আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম

-কি ব্যাপার জান্নাত? কান্নাকাটি করছো কেনো

-নাহ এমনি।

-এমনি?

-আমিন আমি মনে হয় আর বাঁচবোনা।

-মানে? কি বলছো এসব?

-ঠিকই বলছি আমিন।

-তুমি হাসপাতালে কেনো গিয়েছিলে?

-তু তুমি কিভাবে জানলে?

-যেভাবেই জানিনা কেনো, বলো কেনো গিয়েছিলে?

-আমিন আমি তোমাকে সব বলতেছি, আমাকে একটু বসিয়ে দিবে?

-এই তো, হুম এবার বলো।

-রাদিতের খুব টাকার দরকার ছিলো, ওর ফ্রেন্ড সাব্বির বলেছে আমাকে। আমি তোমার কাছ থেকে টাকা চাইতে পারি নি, কেমন অস্বস্তি লাগছিলো। এরপর জানলাম কারো কিডনি দরকার, বিনিময়ে অনেক টাকা দিবে। চুপিসারে গিয়ে কিডনি দিয়ে আসলাম। ডাক্তার রা কিছুতেই আসতে দিচ্ছিলো না, এরপরেও আমি চলে আসি। সাব্বির বাসার গেইটে নামিয়ে দিয়ে গেছে।

-জান্নাত আমি কি এতোটাই খারাপ লোক যে আমার থেকে টাকা নিতে পারলেনা?

-সেটা না, তাও কষ্ট হতো না যদি রাদিত টাকা টা নিতো। সাব্বির একটু আগে ফোন করে বলল যে রাদিত টাকা নেয়নি।

-জান্নাত? তুমি কি মানুষ?

-জানিনা, যাই হোক। মনে হচ্ছে আর বাঁচবো না, আমাকে ক্ষমা করে দিও। রাদিতের দেওয়া এতো কষ্ট আমাকে আর বাঁচতে দিলো না আমিন। আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও।

সে রাতে জান্নাত অনেক কেঁদেছে, কিন্তু তারপর আর সকালের সূর্য উঠা দেখেনি জান্নাত। ভোর রাত্রে আমার বুকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে।

-কি হলো মিস নিতু? কাঁদছেন যে

-কেউ কাউকে এতো ভালোবাসতে পারে?

-আপনি রাদিত কে বাসেন না?

-হুম, কিন্তু জান্নাতের মতো হয়তো না।

-রাদিত আপনার সাথে কেমন আচরণ করে?

-হুম ভালোই, যথেষ্ট কেয়ার করে।

-ওহ, জানেন আমি আজও জান্নাতকে ভুলি নি।

-বিয়ে করেছেন?

-নাহ, জান্নাতের দুইদিনের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছি।

-আপনিও বুঝি জান্নাতকে খুব ভালোবাসেন?

-হুম অনেক, ও যদি বেঁচে থাকতো।

-আচ্ছা রাদিতের কি আসলেই ব্রেইন প্রব্লেম নাকি সত্যি....।

-আমি অলৌকিক কিছুতেই বিশ্বাসী নই।

তবে মিস নিতু, আমি কিন্তু আজ এসেছিলাম এই পার্কে।

-কি বলছেন?

-হ্যাঁ ঠিকই বলছি, বাসায় ম্যানেজার আসাতে চলে গিয়েছিলাম।

-তারমানে.......!!!

-হ্যাঁ মিস নিতু, জান্নাত এসেছিলো?

-হুম হয়তো।

-শুনুন আমার পরিচিত এক চাচা আছেন। উনি হয়তো এই ব্যাপারে জেনে আমাদের কিছু জানাতে পারবে।

-ঠিকাছে, আগামীকাল যাওয়া যায়

-হুম, ৩টার দিকে যাবো। আপনাকে ফোনে জানিয়ে দিবো আমি।

-ওকে।

রাদিতকে বাসায় দিয়ে নিজের বাড়িতে চলে আসে নিতু। সারা রাতে একটুও ঘুমাতে পারেনি। বারবার জান্নাতকে দেখার খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই রেডি হয়ে বসে রইলো নিতু, রাদিত ফোন করেছিলো। রাতেও নাকি জান্নাত এসেছিলো।

নিতু আর অপেক্ষা করতে পারছেনা, অনেক কষ্টে সময় পার হয়ে ৩টা বাজলো। এরপর নিতু আমিনের সাথে রওয়ানা দিলো সেই চাচার বাসার উদ্দেশ্যে।

বাসার সামনে এসে গাড়ি থামলো আমিনের। কলিংবেল বাজানোর পর দরজা খুলে দিলো পিচ্চি একটা ছেলে।

মধ্যবয়সী এক মহিলা জিজ্ঞেস করলো,

-কাকে চাই?

-জি চাচাজি কি বাসায় আছেন

-হ্যাঁ আছে, তোমরা বসো। আমি ডেকে দিচ্ছি উনাকে।

-জি ঠিকাছে।

-আরে আমিন যে, কেমন আছো বাবা?

-ভালো আছি চাচা, আপনি?

-ভালোই, সাথে মেয়েটি কে বাবা?

-জি ও হচ্ছে নিতু, একটা সাহায্যের জন্য এসেছে।

-সাহায্য? বলো তাহলে, কি সাহায্য করতে পারি

এরপর নিতু চাচাজিকে সব বুঝিয়ে বলল। চাচাজি শুনবার পর কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। এরপর বললেন, আমাকে এখুনি ঐ ছেলেটার কাছে নিয়ে চলো।

নিতু আর আমিন চাচাজিকে নিয়ে আসলেন রাদিতের বাসায়। রাদিত আজ অফিসে যায়নি।

রাদিত নিতুকে দেখে অবাক হলো, নিতুকে বলল তুমি বাসায় এসেছো কেনো?

-রাদিত আমি তোমার বাসায় আসতে পারিনা?

-না বলে আসছো কেনো?

-মানে? আগেও তো কতবার এসেছি, তখন তো কিছু বলো নি।

চাচাজি নিতুকে থামিয়ে দিয়ে রাদিতকে উদ্দেশ্য করে বলল,

-জান্নাত এসে কি বলে তোমাকে

-আপনাকে বলবো কেনো?

-মাথা ঠান্ডা করো, তুমি কি চাওনা যে এই রহস্য আমরা জানতে পারি?

-রহস্য?

-হ্যাঁ রহস্য, তুমি কি আসলেই জান্নাতকে দেখতে পাও নাকি তোমার কল্পনা সেটাই জানার চেষ্টা করবো আজ। তুমি মাথা ঠান্ডা করে বলো জান্নাত তোমাকে কি বলে?

-ও বারবার আমাকে প্রতারক বলে, আমি নাকি ওরে ঠকাইছি। কিন্তু আমি তো ওরে ঠকাই নাই। ওর ভালোর জন্য, পরিবারের ভালোর জন্য আমি নিজেকে পাথর করেছিলাম।

চাচাজি রাদিতের রুমে কিছুক্ষণ ঘুরলেন, এরপর মেঝেতে ছক এঁকে আমিনকে বসালেন। এরপর আমিনকে বললেন রাত ১১টা পর্যন্ত এই ছকের ভেতর বসে থাকার জন্য। আমিন চুপচাপ বসে রইলো। রাদিত, নিতু আর চাচাজি রুমের বাহিরে বসে রাত ১১টার অপেক্ষা করতে লাগলো।

রাত ঠিক ১১টায় আমিন চিৎকার করে উঠলো, সবাই রুমে এসে দেখলো আমিন নেই। নিতু আর রাদিত ভয় পেয়ে গেলো, চাচাজি ওদের অভয় দিয়ে বলল কিছুক্ষণ অপেক্ষা করো, ফিরে আসবে ওরা।

নিতু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

-ওরা মানে?

-জান্নাত ঠিকই দেখা দিতো রাদিতকে।

-ওহ আল্লাহ, এখন কি হবে

-চুপ থাকো, ওরা আসছে।

হঠাৎ উদয় হলো আমিন, ছকের মধ্যে বসা। চাচাজি ছকের সামনে রাদিতকে বসালো, এরপর নিজেও বসলো। নিতু দাঁড়িয়ে থেকে সব দেখছিলো।

এরপর চাচাজি কার উদ্দেশ্যে যেনো বলল,

-কে তুমি? কেনো এসেছো?

-আমি জান্নাত, আমি রাদিতের পাশে থাকতে এসেছি।

-নাহ তুমি চলে যাও।

-আমি যাবো না, আমি রাদিতের কোনো ক্ষতি করবো না।

চাচাজি নিতুকে ইশারায় পাশে বসতে বললেন, নিতু রাদিতের পাশে গিয়ে বসলো।

-দেখো জান্নাত, রাদিত নিতুকে ভালোবাসে। তুমি ওদের মুক্তি দাও।

-নাহ, রাদিত আমাকে ভালোবাসে। রাদিত তুমিই বলো তুমি কাকে ভালোবাসো।

চাচাজি রাদিতের কানেকানে বলে দিলো যেনো নিতুকে ভালোবাসার কথা বলে।

-আমি নিতুকে ভালোবাসি জান্নাত, তুমি প্লিজ চলে যাও।

-কি বলছিস বেইমান? তোর জন্য নিজের জীবন দিয়েছি, তোর জন্য কিডনি বিক্রি করেছি।

-আমার জন্য জীবন দিয়েছো মানে? আর তুমি আমার জন্য কিডনি বিক্রি করবে কেনো?

-তোর মনে নেই? তোর যে টাকার খুব দরকার ছিলো, আমি সাব্বিরের কাছে তোর জন্য টাকা দিয়েছিলাম। তুই সেই টাকা না নিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিস।

-কি বলছো এসব? সাব্বির তো আমাকে বলেছে এই টাকা তুমি তোমার বরের থেকে নিয়ে দিছো। আমি সেদিন অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। তাই টাকা নেয়নি।

-সাব্বির তোমাকে বলেছে এ কথা?

-হ্যাঁ।

-ও কেনো মিথ্যে বলল?

-আমার তো সেদিন টাকা ম্যানেজ হয়ে গেছিলো। সাব্বিরের ও টাকার দরকার ছিলো। ও হয়তো বিপদে পরে.....। আমি যদি সেদিন জানতাম তুমি এই কাজ করেছো তো নিজেকে ঠিক রাখতে পারতাম না জান্নাত। তবে আজ বলছি, আমি এখন নিতুকে ভালোবাসি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও জান্নাত।

-রাদিত আমি তোমাকে ভালোবাসি।

-যদি ভালোবেসে থাকো তাহলে প্লিজ আমাকে সুখে থাকতে দাও।

-আমি চলে গেলে তুমি সুখী হবে?

রাদিত সমস্ত কষ্টগুলো চেপে রেখে অনেক কষ্টে বলল, হ্যাঁ।

এরপর জান্নাত তার নিজের রুপে ফিরে আমিনের শরীর থেকে বেরিয়ে এলো। আমিন জান্নাতকে দেখে চিৎকার করে বলল,

-জান্নাত আমি তোমাকে অনেক মিস করি। তুমি তো আমাকে একবারের জন্যও বুঝলেনা। সেদিন যদি তুমি এরকম ভুল না করতে তাহলে হয়তো বেঁচে থাকতে। তোমাকে পেতাম বা না পেতাম, দেখতে তো পারতাম। জান্নাত তুমি কেনো এমন ভুল করলে? সে রাতে আমার বুকে শুয়ে যখন কান্না করেছিলে তখন আমার বুকের ভেতরটা ছিঁড়ে যাচ্ছিলো। ভেবেছিলাম সকালে তোমাকে নিয়ে হসপিটাল যাবো। সুস্থ করে তুলবো তোমায়। ভালোবাসা দিয়ে তোমার মন জয় করে নিবো, কিন্তু তুমি তো সে সুযোগ না দিয়েই....।

-আমিন? তুমি অনেক ভালো মানুষ, তোমাকেও ভালোবাসি আমি, হয়তো রাদিতের থেকে কিছুটা কম। মৃত্যুর পর থেকেই তোমার পাশাপাশি ছিলাম আমি। সেদিন তোমার কান্না দেখে অনেক আফসোস করেছিলাম আমি। সেদিন বুঝেছিলাম আমার প্রতি অনেক ভালোবাসা ছিলো তোমার। তুমি আমাকে মাফ করে দিও আমিন, খুব অন্যায় করেছি তোমার প্রতি। আর একা থেকো না, রাদিতের বোন ইরিনকে আমার অনেক ভালো লাগে। তুমি ইরিনকে বিয়ে করবে, এটাই আমার শেষ চাওয়া।

-জান্নাত আমি তোমার স্মৃতি নিয়েই বাঁচতে চাই।

-আমার শেষ চাওয়া, ইচ্ছে হলে পূরণ করো। আর ৭দিন পর তো ভালোবাসা দিবস, সেদিনই তুমি ইরিনকে প্রপোজ করবে। আমি চাই তুমি ভালো থাকো, সুখে থাকো। আমি চলে যাচ্ছি, শেষ ইচ্ছেটা রেখো প্লিজ।

আর রাদিত? তোমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম, অনেক স্বপ্ন বুনেছিলাম। স্বপ্নগুলো সত্যি হলো না। তোমার দেখা নতুন স্বপ্ন গুলো পূরণ হোক এই কামনাই করি। নিতু নিশ্চয় তোমার পাশে থেকে স্বপ্নগুলো রাঙিয়ে দিবে। স্বপ্নময়ী আমার আজ স্বপ্ন দেখতে মানা।

ভালো থেকো সবাই......।

ধোয়ায় মিশিয়ে গেলো জান্নাত, আমিন চিৎকার করে কান্না করছে। এদিকে সবার আড়ালে রাদিতের চোখ দুটোও ভিজে গেছে, ভালো তো সে ও বেসেছিলো। পরিস্থিতি আজ এতদূর নিয়ে এসেছে।

নিতু রুমালটা এগিয়ে দিলো রাদিতের দিকে, রাদিতের হাত টা নিজের হাতে নিয়ে আশ্বাস দিলো নিতু। সে পাশে থাকবে, পরিস্থিতি আর আলাদা করতে পারবে না তাদের। ভালোবাসাময় হবে প্রতিটি দিন, ভালোবাসা ঘিরে থাকবে তাদের। নিতু মনে মনে ভেবে নিলো, ১৪ই ফেব্রুআরিতেই রাদিতের বউ হয়ে আজীবন পাশে থাকার শপথ করবে, স্বপ্নগুলো সত্যি করবে।

ভিজিটর আমাদের ব্লগে খুঁজে থাকে

ভালোবাসার গল্প

রোমান্টিক গল্প

প্রেমের কাহীনি

ভালবাসার গল্প

বাংলা গল্প

হরর ও ভৌতিক

ভালোবাসার কবিতা

ইবুক

বাংলা ইবুক
Ads:

COMMENTS

Name

অন্য বিষয়ের উপর লেখা ইবুক কবিতা গল্প/কবিতা লেখার প্রতিযোগিতা জীবনের সত্য ঘটনা থ্রিলার গল্প দেশের গল্প পিশাচ কাহিনী ভালোবাসার গল্প ভৌতিক গল্প রম্য গল্প রহস্য গল্প সায়েন্স ফিকশন হরর গল্প
false
ltr
item
Bengali pdf and story blog: স্বপ্নময়ী - লতামনি আক্তার রিয়া || ভালোবাসার গল্প
স্বপ্নময়ী - লতামনি আক্তার রিয়া || ভালোবাসার গল্প
https://3.bp.blogspot.com/-BObQewsu6gs/WnvSYWB0feI/AAAAAAAAAks/jmMa6RI4qDMixvkUfx0QDZSrVWmhSyzVgCLcBGAs/s320/1518063154750.jpg
https://3.bp.blogspot.com/-BObQewsu6gs/WnvSYWB0feI/AAAAAAAAAks/jmMa6RI4qDMixvkUfx0QDZSrVWmhSyzVgCLcBGAs/s72-c/1518063154750.jpg
Bengali pdf and story blog
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2018/02/blog-post_7.html
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2018/02/blog-post_7.html
true
7257552463787474279
UTF-8
Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy