তাই তুমি নেই - অর্নব শাহীন || ভালোবাসার গল্প

ভালোবাসার গল্পঃ- অরিন্তি আর আমার সম্পর্ক টা শুরু হয় আজ থেকে ৪ বছর আগে। আজকের দিনটার সাথে কাটিয়ে আসা ৪ টা বছরের কোন মিল নেই। পরিস্থিতি আ...


ভালোবাসার গল্পঃ-
অরিন্তি আর আমার সম্পর্ক টা শুরু হয় আজ থেকে ৪ বছর আগে। আজকের দিনটার সাথে কাটিয়ে আসা ৪ টা বছরের কোন মিল নেই। পরিস্থিতি আর প্রেক্ষাপট সম্পূর্ন ভিন্ন। অরিন্তির সাথে পরিচয় হয় কলেজ ক্যাম্পাসে আমার। আমি কেন জানো বরাবর ই লেইট ছিলাম। স্কুল জীবন থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত কবে যে ঠিক টাইমে ক্লাসে ঢুকেছি আমার ঠিক মনে নেই। কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম প্রায় দেড় মাস। দেড় মাসে কোনদিন ও ঠিক টাইমে আমি ক্লাসে ঢুকতে পারিনি।

সেদিন ও লেইট করে ক্লাসে ঢুকলাম। প্রায় ২০ মিনিটের মতো লেইট। ক্লাসের দড়জার সামনে দাঁড়িয়ে ক্লাসে ঢুকার অনুমুতি চাইলে স্যার আমাকে আচ্ছা মতো বকুনি দিলো। আর সেই বকুনি শুনে ক্লাসের সবাই মুখ টিপে হাসছিলো। তবে ক্লাসে একটা নতুন মুখ খুজে পাই সেদিন। সেই মুখের হাসি টা আমার মনে গেথে যায়। কিছুক্ষনের জন্য আমার সব কিছু উলট পালট হয়ে গিয়েছিলো। কোনমতে ক্লাসে ঢুকে ডেস্ক এ বসেই সেই হাসি মুখের মেয়েটার ব্যাপারে খোজ নিওয়া শুরু করলাম। যতটুকু শুনলাম তা পুরোটাই অর্ক এর কাছ থেকে জানলাম। মেয়েটার নাম অরিন্তি। কলেজে অনেক আগেই ভর্তি হয়েছিলো তবে আজ থেকে ক্লাস শুরু করেছে। পুরো ক্লাসে শুধু মেয়েটাকে আর চোখে দেখছিলাম। মেয়েটা খেয়াল করেছিলো কি না জানি না। তবে ক্লাস শেষে মেয়েটার সাথে কথা বলার চেষ্টা করি। কিন্তু মেয়েটার তেমন সারা না পেয়ে সেদিনের মতো চলে আসি বাসায়। বিকেলে বাইরে বের হয়ে অর্ক কে কল দিলাম

>হ্যালো অর্ক কই তুই ?

> করিম চাচার টং এ আড্ডা দিচ্ছি। আসবি তুই?

>আচ্ছা আসছি। রাখ।

>আচ্ছা আয়।

চলে গেলাম করিম চাচার টং এ।

আচ্ছা অর্ক মেয়েটা কই থাকে রে? কার কথা বলছিস? অরিন্তি?

হুম জানিনা রে,কিন্তু এত্ত ইন্টারেষ্ট কেন ওর প্রতি তোর??

নাহ নাহ,তেমন কিছু না। বলেই হেসে ফেললাম। অর্ক যা বুঝার বুঝে নিয়েছিলো।

"আচ্ছা ঠিকাছে খোজ খবর নিয়ে আমি তোকে জানাবো" বললো অর্ক।

আচ্ছা আচ্ছা ঠিকাছে। তো মেয়েটাকে তোর পচ্ছন্দ হয়েছে? (অর্ক)

না মানে ইয়ে... হিহিহি (আমি)

গাধার মতো হাসিস না। চল বের হই। হুম ঠিকাছে। চল...... ।

সেদিন রাতে আমার ঘুম হারাম করে দিয়েছিলো অরিন্তির হাসি। বিছানায় শুয়ে এদিক ওদিক করতে করতে ওর কথা ভাবছিলাম; ঘড়ির কাটা তখন ৩ টা ছুই ছুই। কখন ঘুমিয়ে পরেছি মনে নেই।

ঘুম ভেঙ্গেছে তখন ৭ টা বাজে। ক্লাস শুরু ৮.৩০ এ। এত্ত তারাতারি কীভাবে উঠলাম ঘুম থেকে তা অবশ্য ভাবার বিষয়। ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং রুমে গেলাম তখন মা নাস্তা করছিলো। আমাকে দেখে মা এমন ভাবে তাকিয়েছিলো যেনো পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য তার সামনে দড়িয়ে। নাস্তা খেতে খেতেও অরিন্তির কথা ভাবছিলাম। এত্ত ভাবার কারন নিজেরও জানা নেই আমার। নাস্তা শেষ করে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

ক্লাসে যখন ঢুকলাম তখন ৭টা বেজে ৪০ মিনিট। ডেস্কে বসে অরিন্তিকে খুজার জন্য চারদিকে তাকাচ্ছিলাম। তখন ওকে খুজে পেলাম না। হয়তো ক্লাসের বাইরে ও। ভাবলাম আজ যে করেই হোক ওর সাথে কথা বলবো। না হলে বেহায়া মন যে শান্তি পাবে না।ক্লাসের বাইরে এসেই অরিন্তির দেখা পেলাম। মনে মনে বেশ সাহস জুগিয়ে অরিন্তি কে ডাক দিলাম। ডাক শুনে অরিন্তি আমার দিকে ঘুরে তাকালো। এক নিমিষেই সব সাহস কোথায় জানো হারিয়ে গেলো।

এক পা এক পা করে অরিন্তি আমার দিকে আসছিলো আর আমিও এত্ত করে ঘাবরে যাচ্ছিলাম। কি বলবো আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না। ঠিক তখনই অরিন্তি আমার সামনে এসে হাজির।

আমাকে ডাকছিলে কেনো? (অরিন্তি)

না মানে... আসলে পরিচিত ইয়ে মানে...

আমি বাঘ না যে তোমাকে খেয়ে ফেলবো। ঠিক মতো কথা বলো।

না আসলে তুমি নতুন তো। ভাবছিলাম একটু পরিচিত হয়ে যাই তোমার সাথে,এর জন্যই তেমন কিছু না।

আমার নাম তো জানোই,পরিচিত হবার কি আছে আর?

হ্যা তাই তো। আচ্ছা তাহলে যাই। (আমার বেশ ভয় করছিলো,কোন মতে ওখান থেকে চলে আসতে চাচ্ছিলাম)

না যাবে ক্যান। তোমার নাম বলো। পরিচিত হতে এসেছ পরিচয় না হলে কীভাবে হবে।

হুম আমি অর্নব।

আমি অরিন্তি।

হ্যা আমি জানি তোমার নাম।

জানবেই তো। কাল তো পুরো ক্লাস আমার দিকেই তাকিয়েছিলে। ক্যান বলো তো?

নাহ মানে,এমনি এমনি?

হ্যা হ্যা,এমনি।।

তেমন কিছু না আর। বিশ্বাস করো।

অরিন্তি সেদিন হেসে ক্লাসে ঢুকে যায়।

আস্তে আস্তে আমাদের মধ্যে ফ্রেন্ডশিপ হয়ে যায়। একে অপরের বেষ্ট ফ্রেন্ড হয়ে যাই। একদিন কেউ ক্লাসে না আসলে জানো অন্যজনের কলেজ আসাটাই মাটি হয়ে যেতো।

এর মধ্যেই প্রায় এক বছর কেটে যায়। তারপরও আমি কখনো অরিন্তি কে বলিনি যে ওকে আমি কত্তটা ভালোবাসি। কারন আমি ওকে হারানোর ভয় পেতাম। ফ্রেন্ড হয়ে ও আমার পাশে ছিলো। এটাই আমার জন্য অনেক বড় কিছু ছিলো।

সেকেন্ড ইয়ারে ক্লাস শুরু হয় আমাদের। রুটিন মাফিক চলে আমাদের ঘুরা ফিরা,আড্ডা,ছুটির দিনে একসাথে ঘুরতে যাওয়া। সেদিন ক্লাসে ঢুকেই অরিন্তি কে খুঁজতে শুরু করলাম কিন্তু কোথাও পেলাম না। সেদিন অরিন্তি আর ক্লাসে আসেনি। আমারও যে আর সমইয় কাটতে চায় না।

ক্লাস থেকে বের হয়ে অরিত্নি কে কল দিলাম। কিন্তু কলও রিসিভ করছে না। ফেবু তে ঢুকে দেখলাম ও এক্টিভ ছিলো রাতের বেলা। বাসায় ফিরে বার বার অরিন্তি কে কল করছিলাম। কিন্তু ওকে কোনভাবেই পাচ্ছিলাম। রাতের বেলাও ওকে পেলাম না কলে। না পেলাম ফেবুতে। কেমন জানো সব ঝাপসা হতে শুরু করলো চোখের সামনে। বুঝতে পারলাম চোখের কোন গড়িয়ে পানি পরছে। নানান কিছু ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরেছিলাম। মোবাইলের রিং এর আওয়াযে ঘুম ভাংলো আমার। আর কেউ না। অরিন্তি কল দিয়েছে। সাথে সাথে রিসিভ করলাম।

>কই ছিলি তুই অরিন্তি? কি হিইছে তোর?

> তেমন কিছু না রে অর্নব। এই একটু শরীর খারাপ করেছে। >কি হয়েছিলো তোর?

>জানি না রে। ইদানিং মাথা বেশ ব্যাথা করে। জানিস ই তো আমার মাথা ব্যাথা আছে। আজ তীব্র মাথা ব্যাথা শুরু হয়। আর এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি...

>কি বলিস এসব। ডক্টর এসেছিলো?

>হুম এসেছিলো। চিন্তা করিস না রে...সব ঠিক হয়ে যাবে।

>হুম

>কাদছিস ক্যান অর্নব?

>কই না তো। আচ্ছা শুন? আজ ক্লাসে আসবি?

>নাহ রে। কাল থেকে আসবো।

>আচ্ছা ঠিকাছে অরিন্তি। আমি কি তোকে নিতে আসবো কাল?

>আসবি?

>হুম আসবো।

>ঠিকাছে আসিস।

>হুম বাই।

>বাই।




আমিও আজ আর ক্লাসে গেলাম না। উঠে ফ্রেশ হলাম। বাসা থেকে বের হয়ে রোড ধরে হাটা শুরু করলাম। এত্ত ভোরে কোন চায়ের দোকান খুলেছে কিনা ভাবার বিষয়। কিছু দূর আগাতেই চায়ের দোকান পেলাম। একটা সিগারেট কিনে ধোয়া ছাড়ছি সাথে এক কাপ গরম চা। নানান জিনিস নিয়ে চিন্তা করছি,মনে হচ্ছে অরিন্তিকে সব কিছু এখন না বললে হয়তো আর বলা হবে না। কিন্তু কীভাবে বলবো?

ও যদি ব্যাপার টা না বুঝে,যদি ফ্রেন্ডশিপ টাও শেষ করে দেয়,তাহলে তো আর কোন কিছু করার থাকবে না।

পরদিন সকালে তারাতারি ঘুম থেকে উঠেই অরিন্তির বাসার নিচে গেলাম। দাঁড়িয়ে আছি,ইচ্ছা করলেই কল দিয়ে নিচে নামতে বলতে পারি ওকে,কিন্তু তাহলে আর অপেক্ষা করাটায় মজা থাকবে না। ও আজ যাবে কি না তাও সিওর না,তারপরও অপেক্ষা করছি। আমার হাতে একটা সাদা গোলাপ। আজ যা হবার হবে,যা বলার আজ ই বলে দিব ওকে। কিন্তু... ভাবতে ভাবতে অরিন্তির ডাকে ঘোর কাটলো। অরিন্তি আমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। অরিন্তির চাহনি দেখে আমি আর কোন কথাই বলতে পারছিলাম না। কোন মতে ওকে নিয়ে হাটা শুরু করলাম। অরিন্তি হঠাৎ হাটা বন্ধ করে আমাকে বললো "অর্নব মনে হচ্ছে তুই অনেক চিন্তিত,কিছু বলবি আমায়?"

আমি বলবো বলবো করেও বলতে পারছি না,আমার মুখ থেকে কথাই বের হচ্ছে না,কি করবো ভাবছি,অরিন্তির দিকে শুধু গোলাপ টা বাড়িয়ে দিলাম। অরিন্তি ফুল নিয়ে নিল ও হাসছে,আমি ওর হাত ধরে হাটা শুরু করলাম। অরিন্তি সেদিন আমার হাত টা আরো বেশী শক্ত করে ধরে আমার সাথেই হাটা শুরু করেছিলো। এভাবেই আমাদের জীবনে নতুন একটা অধ্যায় শুরু হয়।

মায়া,ঝগড়া,রাগ-অভিমান,ভালোবাসা নিয়ে আমাদের সম্পর্ক টাও সুন্দর ভাবেই আগাচ্ছিলো। দুজন ই বেশ খুশি ছিলাম। প্রায় দেড় বছর কেটে যায় আরও।

তখনও সবই ঠিক ছিলো,কিন্তু অরিন্তির সেই মাথা ব্যাথা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছিলো,ব্যাথায় ও জ্ঞান হারিয়ে ফেলতো।

হঠাৎ একদিন অরিন্তির কোন খোজ পাচ্ছিলাম না,অনেক ট্রাই করার পর ওর ফ্রেণ্ড এর কাছ থেকে জানতে পারি ও হাসপাতালে ভর্তি। গতকাল রাতে নাকি ও জ্ঞান হারিয়ে ফেলে,জ্ঞান আর ফিরেনি বলে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। হাসপাতালের ঠিকানা জেনে আমিও সেখানে চলে গেলাম।

আমি যাওয়ার সাথে সাথেও দেখলাম ডক্টর অরিন্তির বাবা মায়ের সাথে রিপোর্ট নিয়ে কথা বলছে; আমি সেখানে যেয়ে দাড়িয়ে রিপোর্ট টা ডক্টরের হাত থেকে নিয়ে রিপোর্ট পড়লাম। আমার পৃথিবী জেনো তখন থমকে দাড়িয়েছে,চারদিক মনে হচ্ছে ফাকা হয়ে গেছে,মনে হলো শরীরে বার বার ঠান্ডা এক বাতাসের শিহরন বয়ে যাচ্ছে।

ব্রেইন ক্যান্সার। হ্যা অরিন্তি ব্রেইন ক্যান্সার হয়েছে। অরিন্তির বাবা মা কাদছে। আমার চোখ কি পাথর হয়ে গেছে? আমার চোখ থেকে পানি পরছে না কেনো? ডক্টর বললো এই স্টেজ থেকে নাকি কোন ভাবেই মানুষ কে বাচানো সম্ভব না। অরিন্তি বড় জোড় আর ৩ মাস বাচবে।

আমি অরিন্তির কাছে গেলাম। অরিন্তি শুয়ে আছে। ওর চোখ বন্ধ তাহলে কী ওর জ্ঞান ফিরে নি এখনো? আমি ওর পাশে যেয়ে বসে ওর হাত ধরলাম। অরিন্তি চোখ মেলে তাকিয়ে উঠে বসলো।

'অর্নব আমাকে ক্ষমা করে দিস রে,আমি পারলাম না তোর সাথে থাকতে,আমাকে সে থাকতে দিলো না রে'

আমি অরিন্তি কে জড়িয়ে ধরলাম। চোখ থেকে অঝড়ে পানি পরছে,অরিন্তিও কাদছে। আমি ওকে সরিয়ে দিয়ে ওখান থেকে চলে আসলাম বাসায়। ইতি মধ্যে অর্ক কেও জানিয়েছি আমি। ও আমার বাসায় বসে আছে। অর্ক কে জড়িয়ে ধরে কান্না করেছিলাম সেদিন।

অর্ক বললো "দেখ ভেঙ্গে পরিস না,কিছু তো করার নেই,কান্না না করে এ ক'দিন তুই অরিন্তি কে নিজের কাছে এনে রাখ। অরিন্তি নিশ্চয় এটাই চায়। তুই তোর বাবা মাকে বুঝা। ওর বাবা মাকে বল। তারপর অরিন্তি কে নিয়ে আয় তোর কাছে,ওকে বুঝতেই দিস না যে ওর হাতে এত্ত অল্প সময় আছে।"

অর্ক এর কথা মতো আমি আমার বাবা মা কে সব বলি,অনেক বুঝানোর চেষ্টা করি,অর্কও অনেক বুঝানোর চেষ্টা করলো কিন্তু আমার বাবা মা কোন মতেই রাজি না,তাদের একটাই কথা "বাবা মা হয়ে নিজের ছেলেকে অনিশ্চিৎ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে পারবে না।"

অরিন্তির বাসায় যেয়ে ওর বাবা মাকেও বুঝানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু তারাও রাজি না। অরিন্তি পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে কাদছিলো কিন্তু আমি সেদিন কিচ্ছু করতে পারিনি।

সেদিনের মতো বাসায় চলে আসলাম। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়,রুমে ঢুকে অরিন্তি কে কল দিয়ে বলে দিলাম কাল আমার সাথে দেখা করতে সকাল বেলা। পরদিন সকাল বেলা আমি অরিন্তির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। সময় মতো অরিন্তি আসলো। ওকে নিয়ে চলে গেলাম সোজা কাজি অফিসে। বিয়ে করলাম আমরা। অরিন্তি খুব কেদেছিলো সেদিন। তবে সেটা কষ্টের কান্না না। অনেক বেশী সুখের কান্না। যা করার এখন আমাদের ই করতে হবে। যে ক'দিন বেচে থাকবো একসাথে থাকবো। অরিন্তির হাত ধরে শুরু করলাম নতুন এক গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা।

অনেক দূরে চলে গেলাম আমরা। সেখানে বাসা ভাড়া করে দুজন থাকা শুরু করলাম। একসাথে সময় গুলো যেনো রঙ্গিন হতে শুরু করলো। অরিন্তির অনেক ভোরে উঠার অভ্যাস আর আমার ঘুম অনেক গভীর যার কারনে দুপুরের আগে ঘুম থেকে উঠতে পারতাম না কখনোই। অরিন্তি ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে আমাকে উঠাতো।

একদিন ভোরবেলা অরিন্তি আমাকে ঘুম থেকে ডাকছে কিন্তু আমি ঘুমের ঘোরের জন্য কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। অতপর পানির ঝটকায় ঘুম থেকে উঠে বসলাম। অরিন্তির সে কি হাসি আমার অবস্থা দেখে।

অরিন্তি বললো 'তুমি ফ্রেশ হও অর্নব,আমি নাস্তা বানাচ্ছি' আমি উঠে গিয়ে ফ্রশ হলাম। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকাচ্ছিলাম। নরম আলো ঠান্ডা বাতাস অন্য সময় হলে নিশ্চয় উপভোগ করতে পারতাম।

কিন্তু... অরিন্তি নাস্তা করার জন্য ডাকছে আমাকে,আমি যেয়ে বসলাম,অরিন্তি কে খাইয়ে দিচ্ছি আর আমিও খাচ্ছিলাম। খাওয়া শেষে অরিন্তি আমার দিকে অপলক তাকিয়ে ছিলো। অরিন্তি হঠাৎ উঠে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলো। "আচ্ছা অর্নব আমাকে কেনো তোমার কাছ থেকে নিয়ে যাবে? আমি তো তোমার সাথে সারা জীবন থাকতে চাই,আমি চাই না তোমার কাছ থেকে যেতে,প্লিজ আমাকে নিয়ে যেতে দিও না" অরিন্তির কথার জবাব আমি দিতে পারছিলাম না। কি উত্তর দিব আমি ওকে? আমার কাছে যে কোন উত্তর নেই।

(সমাপ্ত)
ভিজিটর আমাদের ব্লগে খুঁজে থাকে

ভালোবাসার গল্প

রহস্য

রোমান্টিক গল্প

প্রেমের কাহীনি

ভালবাসার গল্প

বাংলা গল্প

হরর ও ভৌতিক

ভালোবাসার কবিতা

ইবুক

বাংলা ইবুক

COMMENTS

Name

অন্য বিষয়ের উপর লেখা ইবুক কবিতা গল্প/কবিতা লেখার প্রতিযোগিতা জীবনের সত্য ঘটনা থ্রিলার গল্প দেশের গল্প পিশাচ কাহিনী ভালোবাসার গল্প ভৌতিক গল্প রম্য গল্প রহস্য গল্প সায়েন্স ফিকশন হরর গল্প
false
ltr
item
Bengali pdf and story blog: তাই তুমি নেই - অর্নব শাহীন || ভালোবাসার গল্প
তাই তুমি নেই - অর্নব শাহীন || ভালোবাসার গল্প
https://2.bp.blogspot.com/-BfGhoaAMaN4/WrYvmW3_QeI/AAAAAAAAApY/KqgVJRxT6N4nbP5o0sSZhGaApwrXEbwZgCLcBGAs/s320/1521887863109.jpg
https://2.bp.blogspot.com/-BfGhoaAMaN4/WrYvmW3_QeI/AAAAAAAAApY/KqgVJRxT6N4nbP5o0sSZhGaApwrXEbwZgCLcBGAs/s72-c/1521887863109.jpg
Bengali pdf and story blog
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2018/03/blog-post_79.html
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/
http://bhootgoyenda.blogspot.com/2018/03/blog-post_79.html
true
7257552463787474279
UTF-8
Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy