Skip to main content

Posts

আমার আমি - হোসনে আরা কেরিন || কবিতার বই

কবি পরিচিতিঃ তার জন্ম ঢাকা জেলার সর্ব দক্ষিণের দোহার উপজেলাতে ১৯৬৩ সালের ২৬ অক্টোবর। গ্রামীন পরিবেশে বেড়ে উঠা কবির ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির সাথে সখ্যতা। ছোটকাল থেকেই চঞ্চল স্বভাবের ছিলেন। বাচ্চাদের সাথে সময় কাটাতে খুবি ভালোবাসেন। তার প্রথম লেখা শুরু হয় ১৯৭৭ সালের দিকে। প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় শাপলা শালুকের আসর পত্রিকায়। শত ব্যস্ততার মাঝেও কবিতা চর্চা করে থাকেন। এখানে তার বইমেলা ২০১৮-তে প্রকাশিত কবিতার বই 'আমার আমি' থেকে বেশ কিছু কবিতা প্রকাশ করা হবে।

কবিতা ১ আকাশভালোবাসার ডানায় উড়ে উড়ে যেতে চাইলাম তোমার কাছে মেঘ রোদ্দুর আপন করে আমায় দিয়েছো ঠেলে।
তুমি কি বিরোধী? দ্রুত শিখে নাও আবেগের সম্মতি! নিন্দুক শুধু ঘৃণা করে যায়। তোমার আমার প্রেম ভালোবাসা বাসি নেয়না মেনে দৃষ্টিতে দেয় অন্ধকারকে তুলে মানেনা বারণ আমার নয়ন তোমাতেই রয় মিশে।
ধিকি ধিকি এই আগুন জ্বলা রাত তুমি কাছে এলেই হবে শীতল জলে স্নাত। চুপ থাকো কেন?এখনো সময় আছে ভেবেছো তুমি চুপ থাকলেই সমাধান ওড়ার স্বপ্নে বিভোর আমি রাখিনি মাটির খোঁজ! আমাদের মাঝে নদী বয়ে যায় শান্ত শীতল রোজ।


কবিতা ২ দেশতুমি আমার আকাশে ওড়া রঙিন প্রজাপতি ঝিরিঝিরি হাওয়…

আমি সোদি আরব থাকি- রেজওয়ান খান || রম্য গল্প

রম্য গল্পঃ-
এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে আমায় দেখেই খালুর প্রথম প্রশ্ন,তোর মুখে দাড়ি নাই কেনো?
-দাঁড়ী,কমা বইয়ের মাঝে থাকে মুখে না।
-তোদের কারণেই ইসলামটা ডুবলো।
-আপনার মুখেও তো দাড়ি নাই
-এই যে রাখছি না হাল্কা হাল্কা দেখিস না
-খালু এটাতো ফ্রেঞ্চকাট।
-দাড়ি তো। চল্লিশ কদম দূর থেকে দেখা গেলেই হলো।
-কই থেইকা পান এইরকম বাকওয়াস হাদিস?
-আমি সৌদিআরব থাকি। আমারে শিখাবি তুই?

আমি আর কোন কথা না বলে খালুর ব্যাগটা হাতে নিয়ে বললাম," আসরের ওয়াক্ত হয়ে গেছে। এয়ারপোর্টের মসজিদে পড়ে নেন।
-এসি আছে মসজিদে?
-জানি না।
- তাহলে বাসায় গিয়ে কাজা পড়বো। আমি আবার এসি ছাড়া থাকতে পারি না।
কথাটা শুনে কিছু বিশুদ্ধ বাংলা গালি দিতে ইচ্ছে করছিলো। সম্পর্কে খালু হয়। তাই চুপ থেকে গেলাম। শুধু মনে মনে বললাম, "ফকিন্নির পুতের নাম মিয়া খাঁ।"

গাড়ীতে বসে আমিই প্রথম কথা বললাম। জিজ্ঞেস করলাম,
-খালু আপনার টয়লেটেও কি এসি আছে?
- আস্তাগফিরুল্লাহ! এটা কি ধরণের প্রশ্ন?
-জিগাইলাম আর কি। তবে টয়লেটে এসি থাকলে কিন্তু ভেতরটা পরিস্কার হয় না। কারণ গরমে শরীর ঘামে ; সেই সাথে পেটের ভেতরের সবকিছু হজম হয়ে টুক করে বের হয়ে যায়। তারপর শুধুই শা…

লজ্জা করে- সামিয়া ইসলাম সিফা || রোমান্টিক গল্প

রোমান্টিক গল্পঃ-
বিয়ের প্রায় মাস ছয়েক পরে বউ কে বললাম যে, আলো আমাকে তুমি প্রতিদিন টাই বেধে দিবে। ব্যাপার টা অনেক রোমান্টিক।
সে বললো, পারবো না। আমার লজ্জা করে।
ওকে নিয়ে কালকে ঘুরতে গিয়েছিলাম। মাঝ পথে বলেছিলো, খুব গরম লাগছে। ঠাণ্ডা পানি পাওয়া যাবে না? আমি তারপর প্রাণ জুস এনে বলেছিলাম, দুইটা পাইপ আনছি। চলো দুজনে মিলে একটা খাই।

ওমা সে নাকমুখ ফুলিয়ে জুস টা আমার হাত থেকে নিয়ে হাত ব্যাগে রেখে দিয়ে বলেছিলো, দরকার নাই, আমার লজ্জা করে
পরশু রাতে অনেক দিন পরে একটু টেলিভিশনের সামনে বসার সময় পেয়েছিলাম। আলো আমার পাশের সোফায় বসে চিপস খাচ্ছিলো। আমি বলেছিলাম, আমি কী হিংস্র একটা প্রাণী? আমার পাশে বসা যায় না?
সে আমার দিকে না তাকিয়েই বলেছিলো, তা না, কিন্তু আমার লজ্জা করে। এই কথা টা বলা শেষ না করতেই বাংলা সিনেমায় নায়ক নায়িকার একটু রোমান্টিক দৃশ্য এসে যায়। সাথে সাথে ও রুমে চলে যায় দৌড় দিয়ে! আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। রুমে গিয়ে দেখি কাঁথার নিচে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে!
ডাক দিয়ে বলেছিলাম, কী হলো? জ্বর আসছে না কী? ও কাঁথার ভেতরে থেকেই মাথা নাড়িয়ে বলেছিলো, না। আমার ওসব সিনেমা দেখতে লজ্জা লাগে!

মন চাচ্ছিলো খাট থেকে …

আতঙ্ক - অনিক আহমেদ || হরর গল্প

শূন্যকিছুক্ষণ আগেও সে জানত না আজই তার জীবনের সমাপ্তি রেখা টানা হবে। অথচ এখন অনুভব করছে মৃত্যু ক্ষণে ক্ষণে তার দিকে এক পা এক পা করে এগিয়ে আসছে। আর এর বিরুদ্ধে সে কিছুই করতে পারবে না। এখন সে ভাগ্যের হাতে বন্দি।

এই আধারের মধ্যেও সে প্রাণীগুলোকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। গড়গড় শব্দ করতে করতে সেগুলো তার দিকে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। সে আরেকটিবার চিৎকার করার চেষ্টা করল। তবে সামনে থাকা চারপেয়ে যমদূত সেই সুযোগ না দিয়ে তার কণ্ঠনালি লক্ষ্য করে ঝাঁপ দিল।

প্রথমগভীর রাত।

ফয়সাল আরেকবার ভাগ্যকে গালি দিয়ে একটি সিগারেট ধরালো। কিছুদিন যাবৎ তার এই বদ-অভ্যাসটা হয়েছে। অবশ্য তার রুমমেট সোহেলের ধারণা সিগারেট মোটেই বদ-অভ্যাস না। বরং এটা একটি আশ্রয়। পৃথিবী থেকে দূরে, এই সভ্য জগত থেকেও বহু দূরে, একটি নিরাপদ আশ্রয়। অবশ্য একথাও সত্য যে সোহেল সিগারেটে কিছু মাল-মশলা ঢুকিয়ে তারপর বেশ আয়েশ করে টান লাগায়।

আজ মনে হয় অমাবস্যা। ফোনের ফ্ল্যাশ লাইটটাই ফয়সালের একমাত্র ভরসা। ষোল হাজার দিয়ে কেনা ফোনটাও যে খুব ভাল সার্ভিস দিচ্ছে এমন নয়। ফ্ল্যাশ দেখে মনে হচ্ছে ফোনের জন্ডিস হয়েছে। কঠিন জন্ডিস। নিমগাছের বাকল বেটে না খাওয়ালে এই জন্ডিস সারবে না…

তোমার ভালোবাসার রং- এজাজ রিসান || ভালোবাসার গল্প

ভালোবাসার গল্পঃ-
বসুন্ধরা সিটির সামনে বসে যখন দুইজন মিলে প্লানটা করলো ছেলেটার মাথা তখন হ্যং হয়ে আছে পুরাই।এখনকার তরুনদের মত সব বাধা ডিঙানোর বাসনা মনের ভেতরে সুপ্ত থাকলেও তার পরে কি হবে সেটা তারা যেভাবে ভাবতে চায় না তবে ছোট বেলা থেকে চারিপাশকে ভালোভাবে পর্যালোচনা করে অনিকের সেটা বোঝার ক্ষমতা হয়ে গেছে।

মাহী নামের মেয়েটা ঢকঢক করে পানির বোতলটা খালি করে পাশে অনিকের হাতে দিয়ে বললো বাস্কেটে ফালায় দিয়ো ঢাকা শহরের সব জাগায় বোতল ফালায় নোংরা করা গেলেও এখানটা করা যায়না(মাহী অনিকের প্রেয়সি)
মাহীর আর অনিকের প্রেম ২ বছরের মাহীর পরিবার অনেক বড়লোক না হলেও বাবার বাংকের চাকরি আর ঢাকায় ৩ তালা বাসার নিচের দুই তালা অফিস স্পেস ভাড়া দিয়ে ভালোই আয় হয়। মোট কথা মাহী অভাব কাকে বলে বুঝেনা তাই অনিক কে বিয়ের জন্য বলাতে সে যখন ফ্যলফ্যল করে তাকালো ওর মনোভাব বুঝে নিলো নিমেষে।
আচ্ছা তুমি কি বিয়ের পরে আমাকে খাওয়াবা কিভাবে এ নিয়ে টেনশন করতেছো?
আরে না তুমি হঠাৎ বলাতে কেমন যেন লাগলো.. তুমি মাস্টার্স কমপ্লিট করে বসে আছো, কেন তুমি কি পারবে না কোন একটা ভালো জব ম্যনেজ করতে বিয়ের দুই এক মাসের ভেতরে এত চিন্তার কি আছে গাধা কোথ…

তাই তুমি নেই - অর্নব শাহীন || ভালোবাসার গল্প

ভালোবাসার গল্পঃ-
অরিন্তি আর আমার সম্পর্ক টা শুরু হয় আজ থেকে ৪ বছর আগে। আজকের দিনটার সাথে কাটিয়ে আসা ৪ টা বছরের কোন মিল নেই। পরিস্থিতি আর প্রেক্ষাপট সম্পূর্ন ভিন্ন। অরিন্তির সাথে পরিচয় হয় কলেজ ক্যাম্পাসে আমার। আমি কেন জানো বরাবর ই লেইট ছিলাম। স্কুল জীবন থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত কবে যে ঠিক টাইমে ক্লাসে ঢুকেছি আমার ঠিক মনে নেই। কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম প্রায় দেড় মাস। দেড় মাসে কোনদিন ও ঠিক টাইমে আমি ক্লাসে ঢুকতে পারিনি।

সেদিন ও লেইট করে ক্লাসে ঢুকলাম। প্রায় ২০ মিনিটের মতো লেইট। ক্লাসের দড়জার সামনে দাঁড়িয়ে ক্লাসে ঢুকার অনুমুতি চাইলে স্যার আমাকে আচ্ছা মতো বকুনি দিলো। আর সেই বকুনি শুনে ক্লাসের সবাই মুখ টিপে হাসছিলো। তবে ক্লাসে একটা নতুন মুখ খুজে পাই সেদিন। সেই মুখের হাসি টা আমার মনে গেথে যায়। কিছুক্ষনের জন্য আমার সব কিছু উলট পালট হয়ে গিয়েছিলো। কোনমতে ক্লাসে ঢুকে ডেস্ক এ বসেই সেই হাসি মুখের মেয়েটার ব্যাপারে খোজ নিওয়া শুরু করলাম। যতটুকু শুনলাম তা পুরোটাই অর্ক এর কাছ থেকে জানলাম। মেয়েটার নাম অরিন্তি। কলেজে অনেক আগেই ভর্তি হয়েছিলো তবে আজ থেকে ক্লাস শুরু করেছে। পুরো ক্লাসে শুধু মেয়েটাকে আর চোখে দ…

আমার বাবা - তাসফিয়া তানহা ঝুম || জীবনের গল্প

ম্যানেজার: স্যার আপনি ফোন ফেলে গেছিলেন অফিস রুমে অনেক বার রিং হচ্ছিল।

এজাজ সাহেব: ওহ মনেই ছিল না তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গেছিলাম। দিন ফোনটা দিন। দেখি কে কল করেছে।(ফোন হাতে নিয়ে এজাজ সাহেব)২১ বার একটা নাম্বার থেকে কল।অচেনা নাম্বার।কে হতে পারে।কল ব্যাক করে দেখি তো। (দুঃখিত সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না)যাহ অফ বলছে ১০ মিনিট আগের মিস কল এখনি অফ।কে ছিল কেন এতো বার কল করেছে।এটা তো আমার প্রাইভেট। নাম্বার আউট লোক তো জানেনা কেউ।একটা এসএম এস ও দিয়েছে দেখি।দেখিতো কি এসএমএস।

এজাজ সাহেব চেয়ারে বসে টেবিলের উপর থেকে চশমা পরে নিলো। ইনবক্সে ঢুকে এসএমএস সিন করলো।

(sms টা ছিল এমন) , আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছো বাবা।(বাবা কথাটা দেখে একটু অবাক আর বিরক্ত হলো এজাজ সাহেব) আমি জানি তুমি আমার কথা মনে রাখোনি আর মনে করতে চাও ও না।২১ বার কল দিয়েছি কিন্তু হয়তো অচেনা নাম্বার বা কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে তুমি রিসিভ করোনি।

আমার ২৫ বছর বয়সে এই ২ য় বার তোমার কাছে কিছু চাইবো আশা করি আগের বারের মতো তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিবে না বাবা।প্রথম বার যেদিন তোমার থেকে একটা স্যান্ডেল কিনে চেয়েছিলাম স্কুলে যাবার জন্য তখন আমার কেবল ১০ বছর বয়স…
SPONSORED ADS